সেফার ইন্টারনেট ডে নিরাপদ থাকতে জেনে রাখুন কিছু নিয়ম । ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় মেনে চলা অপরিহার্য ।

সেফার ইন্টারনেট ডে উপলক্ষ্যে কিছু তথ্য ।ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় মেনে চলা অপরিহার্য।

83
safer_internet_day_2017

সেফার ইন্টারনেট ডে (Safer Internet Day) ৯ ফেব্রুয়ারী সারা বিশ্বে পালন করা হয় । কিন্তু কি এবং কেনো এই সেফার ইন্টারনেট ডে?

আমাদের কর্মব্যস্ত জীবনধারায় সামান্য বৈচিত্র আনতে বিশেষ কোনো বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে নিদ্দিষ্ট কোন দিনকে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। যেমন ভ্যালেন্টাইন ডে, মা দিবস, বাবা দিবস ইত্যাদি। প্রযুক্তিবিশ্বেও এর ব্যতিক্রম থাকবে কেন? বিগত ১৩ বছর ধরে সারা বিশ্বের সাইবার এ্যাডভোকেট ফেব্রুয়ারী মাসের দ্বিতীয় মঙ্গল বার ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে সতর্ক থাকার কথা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য পালন করা হয়। বর্তমানে এ দিনটি বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশে পালন করা হয়। মুলত: দিবসটি পালনে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুই হলো শিশুদেরকে ইন্টারনেটের ক্ষতিকর সাইট থেকে নিরাপদ রাখা। ইন্টারনেট সেফটি প্রসঙ্গটি মুলত নিজেকে সাইবার অপরাধী তথা সাইবার ক্রিমিনাল, সনুপ, ক্রিপ এবং ইন্টারনেটের অন্যান্য ডার্ক সাইট থেকে নিরাপদ থাকাকেই গুরুত্ব দেয়।

সেফার ইন্টারনেট ডে উপলক্ষ্যে কিছু পরামর্শ, যা আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় মেনে চললে নিরাপদ থাকবেন।

১। নিয়মিত আপডেট করা:

২। অ্যান্টিভাইরাস আপডেট রাখা:

৩। কোনরকম স্ক্যামে আকৃষ্ট না গওয়া:

৪। না জেনে কোন ফাইল স্পর্ষ না করা:

৫। ইউটিউব সম্পর্কে ভুল না করা:

৬। নতুন ভিডিও প্লেয়ার ইনষ্টল না করা।

৭। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা:

৮। লগইন প্রোটেক্ট করা:

৯। ফেসবুকে সিকিউরিটি চেকআপ পেজ:

১০। সব ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড কে নিরাপদ রাখা:

১১। পাবলিকপ্লেসে এনক্রিপটেড পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা:

১২। ফেক বা ভুয়া ওয়াইফাই হটস্পটের মাধ্যমে বোকা না হওয়া।

সেফার ইন্টারনেট ডে । ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় মেনে চলা অপরিহার্য

১। নিয়মিত আপডেট করা: আপনার অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজার অথবা অন্য কোন সফটওয়্যারে যদি ভলনিয়ারিবিলিটি থাকে, তাহলে নিশ্চিত থাকতে পারেন যখন-তখন আপনার সিস্টেমটি দুষ্টুচক্রের দখলে চলে যেতে পারে। তবে এতে উদ্বিগ্ন থাকার কোনো কারন নেই। কারন সফটওয়্যার প্রস্তুতকারকেরা সফটওয়্যারের ওইসব হোল খুব শিগগিরই মেরামত করে এবং এর আপডিট উন্মুক্ত করে। এই আপডেট ততক্ষন পর্যন্ত কোন কাজেই লাগবে না যতক্ষন পর্যন্ত না সেটি আপনার সিস্টেমে ইনষ্টল না করছেন। সুতরাং কোনো সফটওয়্যারের আপডেট অবমুক্ত হওয়ার সাথে সাথে সিস্টেমের নিরাপত্তার স্বার্থে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা ইনষ্টল করে নিন। সবচেয়ে ভালো হয় ওএস এবং অ্যাপসকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হওয়ার জন্য সেট করে নেয়া। এক কথা সত্য যে, জাভা এবং এডোবি এ্যাক্রোবেটকে আাপডেট করা বেশ ঝামেলা। আবার কোনো কোনো আপডেট মাঝে মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

২। অ্যান্টিভাইরাস আপডেট করে সর্বশেষ ভার্সন রাখা: এখনকার অ্যানিভাইরাস সফটওয়্যারগুলো আগের ইনস্টল করা সফটওয়্যারগুলোর মতো তেমন নিরাপদ নয়। ফলে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইনস্টল করা মানেই যে আপনি ব্যবহৃত ইন্টারনেটে নিরাপদ থাকবেন এমন কোনো কথা নেই। জিরো ডে থ্রেডের ক্রমবৃদ্ধির আগে অ্যান্টিভাইরাস কোম্পানীগগুলো তাদের সফটওয়্যারকে নিয়মিতভাবেই আপডেট আপডেট করে আসছে। এসব সফটওয়্যার ৯০ শতাংশের বেশি থ্রেডকে মোকাবেলা করতে পারে। যদি আপনি কিছু অর্থ খরচ করে বিটডিফেন্ডার বা ইন্টেলের ম্যাকাফি কিনতে অনাগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে ফ্রি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এভিজি বা অ্যাভাস্ট নামের এন্টিভাইরাসটি, যা হবে যথার্থ সমাধান।

৩। কোনরকম স্কামে আকৃষ্ট না হওয়া: ম্যালওয়্যার অথার এবং সাইবার ক্রোকসের চেয়ে বেশি বড় কিছু হতে পারে কি? আপনার লগেইনে হামলাকারীদের পক্ষে এ্যাক্সেস করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আপনাকে বোকা বানানো, যাতে আপনি নিজেকে তাদের কাছে সঁপে দেন। এটি সাধারনত অর্জিত হয়ে থাকে ফিশিং ই-মেইলের মাধ্যমে, যা দেখে মনে হবে ই-মেইলটি এসেছে আপনার ব্যাংক, অ্যামপ্লয়ি বা আইআরএসের কাছ থেকে। এই ই-মেইলের মূলে হলো বাজে সাইটে অ্যাক্সেস করার জন্য আপনাকে প্রলোভিত করা, যেখানে আপনি লগইন নেম এবং পাসওয়ার্ড এন্টার করে থাকেন। হামলাকারীরা যদি একবার আপনার তথ্য পেয়ে যায়, তাহলে তারা আপনার এ্যাকাউন্টে অনায়াসে অ্যাক্সেস করতে পারবে এবং চুরি করে নিতে পারবে।

৪। না জেনে কোন ফাইল স্পর্শ না করা: স্কামারেরা আপনার সিস্টেমে অ্যাক্সেস পেতে পারে ইনভয়েস বা কোনো কিছুর জন্য কন্ট্রাক্ট অর্ডারের বাজে অ্যাটাচমেন্ট পাঠিয়ে। এ ধরনের অ্যাটাচমেন্ট ডকুমেন্ট সাধারনত আপনার কম্পিউটারকে সংক্রমিত করে থাকে। যদি আপনি অ্যাটাচ প্রেরনকারীকে শনাক্ত করতে না পারেন, তাহলে সেই ই-মেইলকে ডিলিট করে দিতে পারেন। যদি মনে করেন, মেসেজটি এসেছে আপনার বন্ধু বা সহকর্মীদের কাছ থেকে, তাহলে ই-মেইল অ্যাটাচমেন্টটি ওপেন করার আগে সুনিশ্চত হয়ে নিন সেগুলো সত্যি সত্যি আপনার বন্ধু বা সহকর্মীদের কাছ থেকে এসেছে কিনা।

৫। ইউটিউব সম্পর্কে ভুল না করা: মনে করুন আপনি বা আপনার শিশু সন্তান ঘন ঘন অনলাইনে বিচরন করে থাকে, তাহলে ধরে নিতে পারেন তারা অনলাইনে বেশিরভাগ সময় ব্যয় করে থাকে ইউটিউব এবং অন্যান্য ভিডিও গেমস সাইটে । এসব কন্টেন্টের বেশিরভাগই নিরীহ এবং নিস্পাপ ধরনের, আবার কোনটি এমন নিস্পাপ হয় না। আপনার সন্তান ইউটিউবে কি দেখছে, সে ব্যাপারে আপনাকে সবসময় সচেতন থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে কিছু কন্ট্রোল সেট করে রাখতে পারেন।

৬। নতুন ভিডিও প্লেয়ার ইনস্টল না করা: আমাদের বাস্তব জীবনের মতো ইন্টারনেটেও খারাপ প্রকৃতির লোকেরা বেশিরভাগ সময় বিচরন করে থাকেন খারাপ সাইটে । যেমন: অ্যাডাল্ট সাইট, বিট টরেন্ট সার্চ ইন্জিন এবং চুরি করা ইন্টারনেট টিভি স্টেশন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রায় একটি মেসেজ সেটআপ করে, যেখানে বলা হয়- আপনার ফ্লাশ প্লেয়ার সেকেলের হয়ে গেছে। এজন্য আপনার দরকার নতুন ভিডিও প্লেয়ার ইনস্টল করা, যাতে আপনার কাঙ্খিত সব ভিডিও উপভোগ করতে পারবেন। এধরনের মেসেজে বিভ্রান্ত হয়ে ভুলেও কাজটি করবেন না।

৭। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা: ডাটার সুরক্ষার জন্য আমরা সাধারনত পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকি। ডাটার সুরক্ষার জন্য যতক্ষন পর্যন্ত না পাসওয়ার্ডের ভালো প্রতিস্থাপন আমাদের কাছে থাকছে, ততক্ষন পর্যন্ত পাসওয়ার্ডের ওপর আমাদেরকে নির্ভর করতে হচ্ছে। সুতরাং নিজের প্রতি সুবিচার করুন এবং একটি ভালো পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন। যেমন- ওয়ান পাসওয়ার্ড, ড্যাশল্যান বা লাস্টপাস। এ দুটিই পাসওয়ার্ড ভোল্ট হিসাবে কাজ করবে, যা বিভিন্ন সাইটের জন্য হাজার হাজার লগইন যেমনি স্টোর করবে, তেমনি অটোজেনারেট করবে খুব কঠিন পাসওয়ার্ড, যা আপনার পক্ষে হ্যাক করা অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রধান করনীয় হলো আপনার ভোল্টের মাস্টার পাসওয়ার্ডকে কোনোভাবে ভুলে না যাওয়া।

৮। লগইন প্রোটেক্ট করা: যদি আপনার পাসওয়ার্ড চুরি হয়ে থাকে, তাহলে বোঝার জন্য অন্যতম এক উপায় হলো, খেয়াল করে দেখুন অপরিচিত কোনো মেশিন থেকে আপনার এ্যাকাউন্টে কেই লগইন করেছে কিনা। আপনার কাছে প্রমান করানোর একটি উপায় হিসেবে বর্তমানে বেশি থেকে বেশি সাইট ফেসবুক এবং টুইটার ব্যবহার করছে, যা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ন।

সেফার ইন্টারনেট ডে উপলক্ষ্যে আপনার ইন্টারনেট ব্যবহারের পথ মসৃন হোক এই প্রত্যাশায়। ভালো ও নিরাপদ থাকুন সবসময়, প্রযুক্তির সাথেই থাকুন।

শহিদুল ইসলাম


শিক্ষার্থী, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চবি ।

ফোবানি/হামিদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন