শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আইনের আওতায় আনার দাবী-ক্যাব

65
education_institution_business

ভর্তি নীতিমালা না মেনে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় করায় শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক অভিযুক্ত ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছে কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব)। এ সম্পর্কিত বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়,

রাজনৈতিক দল, সন্ত্রাসী বাহিনী, সিবিএ ও পেশাজীবি সংগঠনের ন্যায় সরকারী নির্দেশাবলীকে বার বার বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ভর্তি নীতিমালা ’১৬ না মানতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের ঔদ্যত্ত্যপূর্ণ আচরণ সরকারী নির্দেশ না মানলে কি হয়? জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ড আমাদের কিছুই করতে পারবে না! প্রয়োজনে হাইকোর্টে রিট করবো! এ ধরনের আচরণ করে চট্টগ্রামে ভর্তি নীতিমালার ১১নং ধারা লংগন করে নামে-বেনামে বিপুল পরিমান অর্থ আদায়ে অভিযোগ প্রমানিত ০৬টি প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে মেরন সান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চকবাজার, মেরিট বাংলাদেশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চিটাগাং আইডিয়াল স্কুল, জামালখান, চিটাগাং ন্যাশনাল ইংলিশ স্কুল, মির্জা আহম্মেদ ইস্পাহানী উচ্চ বিদ্যালয়, পাহাড়তলী, এলিমেন্টারী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দামপাড়া বেসরকারী স্কুলকে শিক্ষা বোর্ডের একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল এবং চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চিটাগাং ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল, হালিশহর ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজকে স্বীকৃতি কেন বাতিল হবে না তার ব্যাখ্যা চাওয়ায় এখন অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের কথা বলে সাধারন জনগনের কাছে মানবিকতার ধুঁয়া তুলে সহানুবুতি সঞ্চারে কোমলমতি শিশুদের পুনরায় ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে অপকর্মকে জায়েজ করার জন্য নানা ফন্দি ফিকির ও ছলচাতুরীর আশ্রয় গ্রহন করছে।

কিছু কিছু পত্র পত্রিকা বিশেষ করে প্রথম আলো শিরোনাম করে “চট্টগ্রামের ছয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল, স্কুল কর্তৃপক্ষের ‘গোঁয়ার্তুমি’, বিপাকে ৮ হাজার শিক্ষার্থী”

এছাড়া ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার সূত্রের বরাত দিয়ে নিউজরুম প্রকাশ করে একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল হলো চট্টগ্রামের ৬টি স্কুলের” ‌

ও মিডিয়াকে ব্যবহার করে সহানুভুতি আদায় এবং উচ্চ আদালতকে বিভ্রান্ত করার জন্য নানা প্রক্রিয়া শুরু করে শিক্ষা প্রশাসনে অনিয়ম, বিশৃংখলা ও গলাকাটা ফিস আদায়ের মহোৎসবকে অব্যাহত রাখার জন্য বিভিন্ন অপকৌশল গ্রহনের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিথ্যাবাদী ও গুটিকয়েক জাতি গঠনের নামে কলংক এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের অপকর্মকে কোন ভাবে সহানুবুতি ও কোমলমতি শিশুদেরকে যেন ঢাল হিসাবে ব্যবহার করতে সে ব্যাপারে সজাগ থাকার জন্য অভিভাবকসহ, বিচার বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি। শিক্ষা বোর্ডের স্বীকৃতি বাতিলকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহের নানা অপপ্রচার ও ছলচাতুরী আশ্রয় নিয়ে পুরো জাতিকে বিভ্রান্ত করার প্রতিবাদে এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ এ আহবান জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন শুধুমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিল এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা পর্ষদকেও আইনের আওতায় আনা দরকার এবং তাদের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দরকার। ইতিপূর্বে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে শিক্ষা বাণিজ্যে জড়িত এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে বয়কটের আহবান জানানোর আহবানও জানানো হয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন ভর্তি বানিজ্যে অভিযোগ তদন্তে জেলা প্রশাসনের তদন্ত টিম ১৫০টির অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পরিদর্শন করে ৪৬টিতে অভিযোগের সত্যতা পান এবং এই ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশই জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত প্রদান করলেও মাত্র ১১টি প্রতিষ্ঠান গোঁয়াতুর্মি করে অর্থ ফেরত প্রদান না করে সন্ত্রাসী কায়দায় কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা জীবনকে নিয়ে ছিনি মিনি খেলছে এবং তাদেরকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে অপকর্মকে জায়েজ করার জন্য নানা কুটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। আর এখন শিশুদের জন্য মায়া কান্না হিসাবে মানবিকতাকে সামনে নিয়ে আসছে। যা খুবই দুঃখজনক ও নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। একই সাথে এসমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও পরিচালনা পর্ষদকে কোমলমতি শিশুদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগে মানবতা বিরোধী অপরাধে মামলা করা উচিত বলে মন্তব্য করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিল যথেষ্ঠ নয়। একই সাথে এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য/সদস্যাদের ও আ্ইনের আওতায় আনা উচিত। সে কারনে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বিদ্যমান আইনেরও সংস্কার প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করা হয়।

নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলি সরকার থেকে কিছু নেন না বলে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি সরকারের দেয়া বই, উপকরণ, শিক্ষা বোর্ডের সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশগ্রহন, পাঠদান অনুমতি, শিক্ষক প্রশিক্ষনসহ নানা সুবিধা নিয়ে থাকলেও ঢালাও ভাবে অসত্য কথা বলে বিভ্রান্ত করছে। যা একটি চরম বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অসত্য কথা। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন ভর্তি নীতি মালায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি ফিস, পুনঃ ভর্তি ফিস, সেশন ফিস নির্ধারনে অভিভাবকদের সাথে প্রথমেই মতামত নেয়া, সংখ্যাগরিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত প্রস্তাবনা পাঠানোর বিধান থাকলেও কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই নিয়ত তোয়াক্কা না করে যে যার ইচ্ছামতো সেশন ফিস নির্ধারন ও আদায় করছে। এখানে জেলা শিক্ষা অফিস বা শিক্ষা বোর্ড এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোন তদারকি ছিল না।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক এ এম তৌহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ফোবনি/হামিদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন