লালু ও কাঠবিড়ালী -পান্থজন জাহাঙ্গীর

120
lalu_o_kathbirali

লালু ও কাঠবিড়ালী- পান্থজন জাহাঙ্গীর রচিত ছোটগল্প।

পান্থজন জাহাঙ্গীর, তরুন কবি, ব্লগার এবং গল্পকার। জন্ম: ১৫ ইঅক্টোবর, ১৯৮২,বাঁশখালীতে। লেখাপড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিলোসফিতে স্নাতকোত্তর। শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখি করেন। একজন মননশীল লেখক হিসেবে ইতিমধ্যে কুঁড়িয়েছেন প্রশংসা। স্বনামধন্য সংবাদপত্র ও লিটলম্যাগে প্রকাশিত হয়েছে অসংখ্য কবিতা, ছোটগল্প। বর্তমানে সক্রিয়  আছেন অনলাইন, নিউজ পেপার এবং ব্লগে। তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্প ” স্বপ্নগুলির মৃত্যু।”( দৈনিক পূর্বকোণ), প্রথম প্রকাশিত কবিতা “ফিরে থাকা”(লিটল ম্যাগ, মালঞ্চ), প্রথম প্রকাশিত অনুবাদ গল্প “রাজা” ( দৈনিক প্রথম আলো) ও রথম গ্রন্থিত কবিতার বই ( সম্মেলিত) : শূন্যের কবিতা( প্রকাশনায়: বাঙলায়ন, ঢাকা) — সম্পাদক।

লালু ও কাঠবিড়ালী – এক

শালা আসুক এবার এমন মারা মারা মারমো যেন একটা কান বাতাসে উইড়া যায়। আয় বইসা রইছি তোর জন্য। একেবারে গাছের গোড়ায়। আয় কবে আবি আয়। ঐ তো আইতাছে চুপিচুপি শালা। কি নিমু কি নিমু ঐ তো পাইছি একটা পাথর। নারে পাথর না পাকা ইট। আছে। শক্ত আছে। ঠিক ঠিক হ্যাঁ। উপ! পড়ল না।একেবারে কানের গোড়া দিয়ে চলে গেল। না এটা দিয়ে হবেনা। এবার একটা লাঠি নিমু।শক্ত লাঠী। উচা। একটা বারি মারবো শুধু। ঢিল ছুড়বো না আর। এটা মাইয়া মাইনশের কাজ। আয় আবার আয়। মাইরা বহুত দিনের জমানো মনের খাইশ মিঠাবো। ঐ তো আবার লাফ দিল। জামগাছের মগডালে। একটা বরইও রাখবে না। সব খাইয়া ফালাইবো। মা কইছে বাপ- দাদার ভিটে। ফল ফলাদি গাছে ভরা। খাইতি জানলে চদ্দিপুরুষ খাইতি পারবি। কিন্তু কই আর খামু। সব তো এই চোরকাটা খাইয়া ফালাইতেছে। এই এই আবার আইলি? উফ আবারো চুইটা গেল। না এই লাঠি দিয়েও হবেনা।

ইসরে, একটা বরইও রাখবেনা। কও তো মা এমন মজার বরই কোন দেশে আছে? দশপাড়ায় খোঁজ কইল্লেও পাবেনা। এই জন্যি এই বরই হই হই করে বাজারে বেঁচা হয়ে যায়। এবার তো মনে অয় সবি তার পেটে যাইবো। না এবার প্রতিশোধ নিবই। আগেকার মৌসুমেও সে অনেক পেয়ারা খাইছে। আর ডাব তো নারকেলও হতে দেয়না। ডাব থাইকতেই পুল কইরা খায়া শেষ করে দেয় আর সামনে কাঠাল ও আম তো আয়েশ কইরা খাইবো। না এবার লাঠির মাথায় সুচাগ্র বাঁধবো। তাপর তোরে গ্যাচাং কইরা মারবো। যাই একটু পানি খেয়ে আসি। রুহুটা একবারে শুকাই গেছে। বুঝছি। মনে হয় চুপিচাপি আমারে পাহারা দিচ্ছিস। ঠিক আছে আইতাছি।

লালু ও কাঠবিড়ালী – দুই

আরে হায়! হায়! উফ! এতো জোরে মারলাম পড়না। গাছ বিধেছে বর্শার ফলায় কিন্তু বেটার গায়ে তো পড়না। আবার ব্যর্থ।এক মুহূর্তের মধ্যে নিয়া গেল। ওই ঠিক পাকা ডাসা বরই টা। না অইতো না একটা উপায় বের করতে হইবো।

“ওরে আমার লালু কই গেলিরে? চুলায় যে ভাত পুইড়া যায়। তুই হারাদিন এ পশু পক্ষি নিয়া থাকবি। আর পশু পাখি মারিস নারে। আল্লাহ র গজব পইরবোরে ওরে আমার যাদু। আয় কথা শোন চুলার জ্বলছে।জ্বাল টা কমাও। অনেক গোলা গালা পইড়া আছে। বেইচা আয়রে। ” যাইবোরে মা তারে আমি মারমোই মারমো কইলাম। “ওরে ওই লালমিয়া কারে মারবি? হারাদিন চাইলে পারতিনা । না মাইরা ধরতি পারস কিনা দেখ। তাইলে মজা দেখাই চাড়তি পারবি। শোন। হ খুলু কও। একটা ইদুর মারার ঝাপিকল পাস কিনা দেখ। যদি পাস তাহেল ভিতরে একটা কলা বেধে গাছের ডালে যে পথে হে আসে সে পথে ভাল করে বেধে রাখ। যেইমাত্র কলা ধরে টান দিবে অমনি আটকা পরবো। তারপর দেখাবি খেলা। কেমনে খুলু? এদিকে আয় কানে কানে বলি। তোর মা শুনলে মোরে বেয়াদব ডাইকবো। একটা কাপড় নিয়ে আগে বেটার মুখটা বানবি। তারপর একটা মোটা সুইচ নিয়া পাছা….. ” হ খুলু বুঝছি, সেলাই করে ছাইড়া দিমু। তারপর হাগামুতা বন্ধ হইবো।গাছে গাছে চিল্লাই চিল্লাই দশপাড়া চাওর কইরবো। হের চিল্লানি তে অন্যরাও পালাবে। দারুন মজা হইবো খুলু। হেই বেটা চুপ! আমি কি তোরে চিল্লাই কইতে কইছি?

লালু ও কাঠবিড়ালী – তিন

হ্যাঁ বহুতদিন ফাঁকি দিছস। আজ পালাইতে পারবিনা রে যাদু। ওরে কি নাদুস নুদুস লেজটা। বেশ মায়া লাগতাছে। শালা তুই যে কত ধূর্ত। জানি জানি আমি জানি। বহুদিন শত্রু শত্রু খেলছস। একটু পরে বুঝবি মজা। দশ নম্বর মহা বিপদ সংকেত। তোরে হাতে মারবো না ভাতে মারবো। যা! এবার ছাড়ি দিলাম। কি করবি এবার? যা পাবি খা
বাতাবিলেবু,বরই,পেয়ারা,ডাব,নারকেল,আম,আমরা,গাব কামরাঙা তোর জন্য সব ফিরি। যা দূর হ এবার, সারা দুনিয়া ঘুইরা বেড়া। খুলুর ভালো বুদ্ধি। এবার তোর খেল দেখবো।

“ওরে আমার লালুরে তোর গা খানি তো পুইড়া ছাই হয়ে যাচ্ছেরে। এত জ্বর কেন বাবা হঠাৎ। কিছুইতো বুঝতাছিনা। এতো রাতে নিমু কোথায়?” আহ,আহ। কিচ্ছু খামুনা মা। শুধু পানি দাও। রুহু টা শুকিয়ে যাচেছ মা। এত রাতে এইডা কি ডাকে মা? “আরে আমার যাদু এইডা তুই কি কাম করলি। সারা রাত ঘুমাইতিই পারিনাই হের ডাকে। একবার আম গাছ,একবার জাম গাছ,একবার কাঠাল গাছে শুধুই ডাকিই যাচ্ছে। তুই এই কাম কি আর করবি কিনা কওরে বাপ।” নারে মা আমারও খুউব কষ্ট হচ্ছে। আমি আর কোনদিন এই কাম করুম না মা। আমাকে বাঁচাও মা।

পান্থজন জাহাঙ্গীর


লেখক, গল্পকার

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন