মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের বিজয় দেখে যেতে পারেন নি! স্বপ্ন পুরনে এগিয়ে আসবে নব প্রজন্ম

115
mohiuddin_chowdhury

ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন ১২টা। চট্টগ্রামের ম্যাক্স হসপিটালের দিকে নজর ছিল সবার। অনেকেই সোস্যাল মিডিয়ায় মহিউদ্দিন চৌধুরী পুনরায় অসুস্থ হয়ে ম্যাক্স হসপিটালে ভর্তির সংবাদটি শেয়ার করছিলেন। তাঁর শারিরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সংবাদ পূর্বাপর অনেকেরই জানা ছিলো। তাই হয়তো একান্ত ঘনিষ্টজনরা সংবাদটি শুনে গুরুত্ব দিয়ে খোজ-খবর নিচ্ছিলেন। কি খবর, কেমন আছেন এখন? কিন্তু না! সবাইকে ফাঁকি দিয়ে তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে! এভাবেই চলে গেছেন প্রিয় মানুষ ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক, যিনি মতিয়া চৌধুরী হতে চেয়েছেন।

কে ছিলেন এই  এ,বি,এম,মহিউদ্দিন চৌধুরী?

ইনি সেই মহিউদ্দিন চৌধুরী! বঙ্গবন্ধু যখন চট্টগ্রামে আসতেন।ট্রেন এসে থামতো চট্টগ্রামের বটতলী ষ্টেশনে। ট্রেন  থেকে নেমেই বঙ্গবন্ধু প্রথম যেই লোকটিকে খুজতেন এবং জিজ্ঞেস করতেন

—আমার মহিউদ্দিন কই?

তিনি সেই মহিউদ্দিন চৌধুরী। ১৯৮১ সালে জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশে আসলেন তখন সবাই বাকশাল নিয়ে ব্যস্ত। এমনকি পার্টি অফিসও বেদখল,তালা মারা। কেউই ঢুকতে পারছেন না। তখন এই মহিউদ্দিন চৌধুরী,চট্টগ্রাম থেকে দলবল ও লাঠিসোটা নিয়ে পার্টি অফিসের তালা ভেঙে অফিস দখল করেছিলেন এবং নেত্রীকে অফিস বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি সেই মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু কে সপরিবারে হত্যার পর সব নেতা যখন আত্নগোপনে! উনি তখন মৌলভী ছৈয়দ, ফণীভূষণ, এস এম ইউসুফ সহ উনার বিশ্বস্ত দলবল নিয়ে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে মোস্তাক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিবাদ সংগ্রাম করেছিলেন। চট্টগ্রাম শহরের রাস্তায় রাস্তায় গ্রেনেড চার্জ করা তো তাদের নিত্যদিনের কাজ ছিলো। আজকের এই ছাত্রলীগ নেতারা আপনারা মনে হয় মৌলভী ছৈয়দ,ফণীভূষণ সহ উনাদের কে চিনেন বলে মনে হয় না। নামই শোনেন নি মনে হয়!!! অথচ উনাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আজকের চট্টগ্রাম ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগ।

তিনি সেই মহিউদ্দিন, যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি ক্যাম্পে শত নির্যাতনের মুখেও নতি স্বীকার করেননি। নির্যাতনের সময় পিপাসায় পাকিস্তানি মেজরের কাছে যখন পানি চেয়েছিলেন তখন ঐ পাকিস্তানি মেজর বোতলে করে নিজের প্রস্রাব দিয়েছিলেন। ঐ পরিস্থিতি আপনারা কল্পনা করতে পারেন? তবুও মহিউদ্দিন চৌধুরী মুখ খোলেন নি।

১৯৭৬/৭৭ সালে তৎকালীন সামরিক সরকারের হাতে মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেফতার হন। ছয় মাস পর মুক্তি পেয়ে দেখেন সংগী-সাথীরা সবাই ভারতে আত্মগোপনে। তিনিও ভারত গিয়ে সবার সাথে যোগ দেন। ঐ সময়ে ভারতেও রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়। বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁদের। নেতা হিসেবে সহকর্মীদের থাকা-খাওয়ার দায়িত্ব এসে পড়ে মহিউদ্দিনের উপর। কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনে পত্রিকা বিক্রি শুরু করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। সেটা জানাজানি হয়ে গেলে পেশা পরিবর্তন করেন তিনি। সাঙ্গু ভ্যালি নামে একটি রেস্টুরেন্টে বয় হিসেবে চাকুরি নেন।

পাশাপাশি আরেকটি হোটেলে ভাত রান্নার চাকুরি নেন। কিন্তু মহিউদ্দিন চৌধুরী মুসলমান হওয়ায় তার রান্না করা ভাত খেতে আপত্তি ছিল অনেকের। ব্রাক্ষ্মণ সেজে আরেকটি হোটেলে ভাত রান্নার কাজ নেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। এরপর পরিচয় গোপন করে মহিউদ্দিন, অমল মিত্র, অমলেন্দু সরকারসহ কয়েকজন মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের সাব-কন্ট্রাক্টরের অধীনে আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ নেন। মোটর ওয়ার্কশপেও কাজ করেন কিছুদিন।

উনি চাইলে হয়ত এসব এড়িয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু নেতাকর্মীদের ভালবাসা দায়িত্ববোধ এড়াতে পারেননি বিবেকের কারণে, সংগঠনের প্রতি ভালবাসার কারণে।

১৯৭৮ সালে মৌলভী সৈয়দ দেশে ফেরার সময় সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে যান। তাকে নির্মমভাবে গুলি করে খুন করা হয়। ফিরতে গিয়ে অমল মিত্র গ্রেপ্তার হন। হুলিয়া মাথায় নিয়ে ১৯৭৯ সালের দিকে গোপনে দেশে ফেরেন মহিউদ্দিন। জিয়া সরকার শুরু থেকেই তাদের প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নিয়ে সেনাবাহিনী লেলিয়ে দেন। এর মধ্যেই একদিন ছদ্মবেশে মহিউদ্দিন যান টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে।

মাজার বলতে তখন কিছুই ছিল না। বাঁশের সীমানাও ভালোভাবে ছিল না। যখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়, তখন উনি চট্টগ্রাম থেকে নির্মাণ শ্রমিক নিয়ে যান। গোপালগঞ্জ তো তখন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো ছিল। ফরিদপুর থেকে ইট আর সিমেন্ট সংগ্রহ করেন। বঙ্গবন্ধুর কবর ঘিরে পাকা দেয়াল তুলে দেন। দক্ষিণ কাট্টলী থেকে শ্বেতপাথরে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ লিখে নিয়ে সেটা কবরে লাগিয়ে দেন।

সবার মনে থাকার কথা ১৯৯১ সালের ঘুর্ণিঝড়ের কথা!বন্দরটিলায় তখন লাশের পর লাশ। লাশপচাঁ গন্ধে বাতাস তখন ভারী। চট্টগ্রামের অন্যান্য নেতারা যখন নাকে রুমাল বেধে মায়াকান্নায় ব্যস্ত তখন একমাত্র উনিই কোমর বেধে একের পর এক লাশ দাফন করেছেন। পার্টির সাধারণ সম্পাদক ইনামুল হক দানু যখন মারা যান তখন উনি নিজ হাতে দানু ভাইকে গোসল করিয়ে নিজে কবরে নেমে তার দাফনকার্য সম্পন্ন করেছিলেন। চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণ ও নেতাকর্মীর প্রতি উনার মমত্ববোধ প্রশ্নাতীত।

নালার উপর যখন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করেছিলেন তখন অনেকেই ওনার সমালোচনা করেছিলেন। আজ সেই শিক্ষাপীঠে ২০ হাজারের অধিক ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা করছেন। যারা এই শহরেরই নাগরিক, আপনার আমার ভাই- বোন, সন্তান।যখন মেয়র ছিলেন তখন সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে কতগুলো স্কুল -কলেজ নির্মাণ করেছিলেন আপনারা কি ভুলে গেলেন?

এক-এগারো সরকার যখন ক্ষমতায় তখন আওয়ামীলীগের প্রত্যেক নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক মামলা হয়েছিল।সবাই দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল । একমাত্র উনিই চট্টগ্রাম ছেড়ে কোথাও যাননি।পরে দল সরকার গঠন করলে সবাই রাজনৈতিক বিবেচনায় সব মামলা প্রত্যাহার করেছিলেন।একমাত্র ব্যতিক্রম উনি। চাইলে উনিও পারতেন কিন্তু উনি উনার মামলা প্রত্যাহারের কোন আবেদন করেননি।

অন্তত গত ২০ বছরে উনাকে মুজিব কোট ছাড়া আওয়ামীলীগের কোন মিটিং সমাবেশে কেউ দেখেছেন বলে মনে করতে পারেন?(ঘরে ছাড়া)। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ শুধু বুকেই নয় পোশাকেও ধারণ করেছেন তিনি। চাইলে অন্য সবার মত শার্ট প্যান্ট , স্যুট বুট উনিও পরতে পারতেন। এমপি লতিফ সাহেবের উপর ক্ষেপার অন্যতম কারণ বঙ্গবন্ধু র পোশাকের অবমাননা, বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালবাসা ।

দীর্ঘদিন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। চাইলে হাজার কোটি টাকার মালিক হতে পারতেন । কিন্তু বলতে পারবেন কোটিপতি তালিকায় কত নম্বরে ওনার নাম ?

আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী

১৯৪৪ সালের পহেলা ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জন্ম। পিতার নাম মরহুম হোসেন আহমদ চৌধুরী, আর মাতা মরহুমা বেদৌরা বেগম। আট ভাইবোনের মাঝে এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেঝ। পিতা চাকুরী করতেন আসাম বেঙ্গল রেলওয়েতে। পিতার চাকরির সুবাদে মহিউদ্দিন চৌধুরী পড়াশুনা করেছেন মাইজদি জেলা স্কুল, কাজেম আলি ইংলিশ হাই স্কুল, আর প্রবর্তক সংঘে। স্কুল জীবনেই জড়িয়ে পরেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। মাধ্যমিক শেষে বাবার আদেশে ভর্তি হয়েছিলেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোর্সে। সেখানের পাঠ না চুকিয়ে ভর্তি হন চট্টগ্রামের অন্যতম বিদ্যাপিঠ চট্টগ্রাম কলেজে এ। বছর না ঘুরতেই কমার্স কলেজ, আর শেষমেশ সিটি কলেজ। সিটি কলেজেই তার বিপ্লবী রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই সান্নিধ্যে আসেন জননেতা মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরীর। বঙ্গবন্ধুর ডাকে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে পাক বাহিনীর কাছে গ্রেফতার হন অসংখ্যবার। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে আই.এস.আই এর চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমী সদরদপ্তরের কাছে গ্রেফতার হয়ে অমানষিক নির্যাতনের শিকার হন দীর্ঘ চার মাস। পাক বাহিনীর নির্যাতনের চিহ্ন মহিউদ্দিন চৌধুরী আজও তাঁর শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁর গ্রেফতারের খবরে ততদিনে ভারতের একটি মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে শহীদ মহিউদ্দিন ক্যাম্প খোলা হয়েছিলো। বেচে থাকার কথা ছিলোনা তাঁর। শহীদ ভেবে বাবা ছেলের নামে দিয়েছিলো ফাতেহা। এর মাঝে একদিন মানসিক রোগীর নাটক করে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে পালিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী পাড়ি জমান ভারতে। সেখানে সশস্ত্র প্রশিক্ষন শেষে সক্রিয়ভাবে সম্মুখ সমরে অংশ নেন। ছিলেন ভারত-বাংলা যৌথবাহিনীর মাউন্টেন ডিভিশনের অধীনে।

দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জহুর আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ঝাঁপিয়ে পড়েন নতুন সংগ্রামে। বঙ্গবন্ধুর খুবই কাছের আর আদরের ছাত্রনেতা ছিলেন মহিউদ্দিন। কিন্তু তৎকালিন সময়ে প্রবল ক্ষমতাশালী হয়েও ক্ষমতার মোহ একচুলও স্পর্শ করেনি তাকে।

কিছুদিন না যেতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে নিহত হন বঙ্গবন্ধু। অল্পের জন্য মহিউদ্দিন ধরা পরা থেকে বেঁচে যান, মৃত্যুবরন করেন সাথী মৌলভি সৈয়দ। পালিয়ে গিয়ে ভারতে প্রতি বিপ্লবীদের সাথে যোগ দেন। লক্ষ্য সামরিক জান্তা, খুনি মোশতাককে সামরিক ভাবেই পরাস্থ করা। কিছুদিন পরেই দলের নির্দেশে পন্থা পরিবর্তন করে আবার সক্রিয় হন প্রকাশ্য রাজনীতিতে।

দেশে এসেই একের পর এক হুলিয়া, সামরিক বাহিনির হাতে নিষ্পেষন, নির্যাতন, আর একের পর এক কারাভোগ। তখন স্বৈরাচার জিয়া ক্ষমতায়। মুক্তিযোদ্ধাদের উপর জিয়ার দমন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে গোপন ষড়যন্ত্রে ভুমিকা, প্রতিবাদী করে তোলে মহিউদ্দিন কে। দলের নির্দেশে চলে বৈপ্লবিক প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ। তরুন ছাত্রনেতা মহিউদ্দিনের জুজু তে সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা তটস্থ হয়ে পরেন। মাঝে আওয়ামীলীগ এর ভেতরেই ষড়যন্ত্রকারীরা তৎপর হয়ে উঠলো। বঙ্গবন্ধু কন্যা আজকের জননেত্রী শেখ হাসিনার ভুমিকাকে নগণ্য করতে তাকে ঠেকাতে শত্রুরা উঠেপরে বসলো। অদম্য সাহসী মহিউদ্দিন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় গিয়ে দলবল নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্য ঝাপিয়ে পরলেন। সব বাধা অতিক্রম করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দলের কান্ডারীর দায়ীত্ব নিতে সহয়তা করলেন।

তারপর আসলো স্বৈরাচারি সামরিক জান্তা এরশাদ। তারই শাসনামলে চট্টগ্রামে স্বয়ং জান্তা প্রধানকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করে চক্ষুশূল হন সরকারের। ফলে আবারও রাজনৈতিক বন্দি। ততদিনে চট্টগ্রামের আপামর জনতার নয়নমনি হয়ে উঠেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

পরবর্তীতে নব্বইয়ের গণআন্দোলনে অগ্রণী ভুমিকা রেখে গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল শক্তির অন্যতম সুপুরুষ বলে বিবেচিত হন সর্বমহলে। রাজাকার আর সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ক্রমাগত পরাস্হ করে, একানব্বইয়ের ঘুর্নিঝড়ে দুস্হ জনতার পাশে দাড়িয়ে, অসহযোগ আন্দোলনে খালেদার সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, গরীব-দুঃখী-শ্রমিকের অধিকারের কথা বলে মহিরুহে পরিনত হন আজকের মহিউদ্দিন চৌধুরী।

এতকিছুর পরও থেমে থাকেননি এই উদ্যমী জননেতা। গণমানুষের তথা চট্টগ্রামের উন্নয়নের লক্ষ্যে ক্রমাগত ছুটে চলেছেন। উপেক্ষা করেছেন রক্তচক্ষু। চালিয়ে গেছেন উন্নয়নের চাকা। উড়িয়ে চলেছেন অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল রাজনীতি আর মুল্যবোধের পতাকা।

সর্বশেষ নির্যাতিত হন রাজনীতি পরিশোধনের নামে নেমে আশা সামরিক শকুনের ওয়ান ইলেভেনের শাসনামলে। ষাটোর্ধ বয়সে কারান্তরিন ছিলেন দীর্ঘ দুই বছর। এরমধ্যেই নির্মম ভাবে ইন্তেকাল করেন আদরের মেয়ে ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পা। নানান টালবাহানা করে টুম্পাকে মৃত্যু অবধারিত জেনেও দেখতে দেয়নি অনির্বাচিত সরকার নামক ভদ্রবেশি আরেক নব্য সামরিক জান্তা। শতচেষ্টা আর মানসিক নির্যাতন করেও টলাতে পারেননি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে। দুর্নীতিবাজদের সাথে এক করেও পারেনি দোষী সাব্যস্ত করতে। বারবার তারা পরাজিত হয়েছে এই সংগ্রামী মানুষের পাহাড়সম ব্যক্তিত্বের কাছে।

জনগনের ভোটে তিন তিন বারের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন মহিউদ্দিন। জনতার রায়ে, তাদের ভালবাসায় স্নিগ্ধ হয়েছেন বার বার। গণমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে, শত কষ্ট, বেদনা, অসুস্হতায় ভুগে, নির্যাতন সহ্য করে, পরিবার পরিজন কে সময়-অসময়ে, ঘটনা-দুর্ঘটনায় হারানো এই মানুষটি আজো দলের জন্য জনগনের জন্য অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে যাচ্ছেন।

দীর্ঘদিন ধরে নগর আওয়ামী লীগ এর দায়িত্ব পালন করছেন।। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাধিক প্রস্তাব পেয়ে ও ফিরিয়ে দিয়েছেন। শুধু বীর চট্টলার মানুষের পাশে সার্বক্ষনিক থাকবেন বলে। কারন, তিনি ছাড়া যে এই চট্টলার মানুষকে দেখার মত আর কেউ নাই।। হাজার প্রলোভনে কখনো বিন্দুমাত্র টলেননি। সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষায় প্রতিনিয়ত প্রভাবশালীদের চক্ষুশূল হয়েছেন। কিন্তু নিজের আদর্শ, নীতি থেকে একবিন্দু সরে আসেননি। শরীরের দুইটি কিডনী ই নষ্ট। একাধিকবার হার্ট এর অপারেশন হয়েছে।। শরীর যেন মানতে চায় না। তবুও অদম্য মানসিকতা আর সংগ্রামী চেতনায় নিজের বলিষ্ঠ পদচারণা রেখে চলেছেন।।

গত ১১ই নভেম্বর ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এর ৪৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, অংশগ্রহণ করেছেন আনন্দ র‌্যালীতে। বিকেলে উদ্ভোধন করেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ এর কার্যক্রম।

সব কিছুই ঠিক ঠিক চলছিল…………….

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন বীর চট্টলার অবিসংবাদিত অভিভাবক। মৃত্যুকে সারা জীবন ভয় না পাওয়া চট্টগ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা এ,বি,এম,মহিউদ্নি চৌধুরী আর নেই! তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে!!কিন্তু তিনি বেঁচে থাকবেন আজীবন চট্টগ্রামবাসীর হৃদয়ে।

মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের উন্নয়ন চেয়েছেন। স্বপ্নের চট্টগ্রাম নগরী গড়তে চেয়েছেন। জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম শহর উপহার দিতে চেয়েছেন। গ্রিন সিটি চট্টগ্রামের স্বপ্ন দেখেছেন। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আধুনিক চট্টগ্রাম গড়তে চেয়েছেন। ব্যবসা-বানিজ্যে, সাহিত্য-সংস্কৃতিতে, শিক্ষা-দীক্ষায় চট্টগ্রাম নগরকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। মহিউদ্দিনের স্বপ্নের বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে নবপ্রজন্ম!

হে রাব্বুল আলামিন, উনার আত্মার শান্তি কামনা করছি।
আমিন।।

ফোকাস বাংলা নিউজ

( পুনশ্চ: লেখাটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত ও সম্পাদিত)

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন