এসএসসি পাশ করলো মা মলি রানী, মা-ছেলের জিপিএ ব্যবধান ১০ পয়েন্ট

90
ssc_examination_2017

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মা মলি রাণীকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছে ছেলে মৃন্ময় কুন্ডু। এ বছর একই সেশনে পাশাপাশি সিটে বসে নাটোরে ছেলে মৃন্ময় কুমার কুন্ডুর সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তার মা মলি রাণী।

গতকাল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তা চমকে দিয়েছে এলাকাবাসীকে। মেধাবী শিক্ষার্থী মৃন্ময়ের চেয়ে তার মা-ই বেশি ভালো ফল করেছেন।

মৃন্ময় ও তার মা মলি রাণীর বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার গালিমপুর এলাকায়। গৃহিণী মলি রাণী এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন বাগাতিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং ট্রেড থেকে। আর ছেলে মৃন্ময় কুমার কুন্ডু বাগাতিপাড়া মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিল্ডিং মেইনটেনেন্স ট্রেডের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন মা মলি রাণী ও ছেলে মৃন্ময় কুন্ডু।

বৃহ:স্পতিবার (৪ মে) দুপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বের হওয়ার পর জানা যায়, মলি রাণী পেয়েছেন এ গ্রেড, তার জিপিএ ৪.৫৩। মৃন্ময় কুন্ডুও এ গ্রেড পেয়েছে। তবে তার জিপিএ মায়ের চেয়ে কম— ৪.৪৩। ব্যবধান ১০ পয়েন্ট।

এসএসসি পরীক্ষার এই ফলাফলে কেবল মলি রাণীর পরিবারেই নয়, গোটা এলাকাতেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। বাগাতিপড়ার গালিমপুর গ্রামের এই ঘটনা এখন ‘টক অব দ্য নাটোর’ পরিণত হয়েছে।

মলি রাণীর বাবার বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর গ্রামে। স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পিতা অসিত কুন্ডু তার বিয়ে দেন। বাগাতিপাড়া উপজেলার গালিমপুর গ্রামের মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবব্রত কুমার ওরফে মিন্টুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সংসারে এসে আবারও পড়ালেখা করবেন, এমন স্বপ্ন থাকলেও তা আর হয়নি। দুই সন্তানের লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দিন ফুরোয় তার। একদিকে বড় ছেলে মৃন্ময় ও ছোট ছেলে পাপন কুন্ডুর দেখাশোনা, অন্যদিকে স্বামীর দোকানে মিষ্টি সরবরাহে সহযোগিতা করতে করতে সময় চলে কখন যে পালিয়ে যায় টেরই পানটি মলি রানী। পারিবারিক জীবনের এত ব্যস্ততার মধ্যেও স্বামী ও সন্তানদের উৎসাহে আবার স্কুলে ভর্তি হন মলি রানী।

মলি রানী’র এমন ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে মলির স্বামী মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবব্রত কুমার মিন্টু তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘মলি ও মৃন্ময়ের এমন ফলে আমি ও আমার পরিবারের সবাই খুব খুশি।দোকানে এসে অনেক ব্যবসায়ী বন্ধু- স্বজন-ক্রেতা মলির জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছে। মলির পড়ালেখাটা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন অনেকে। মলি যদি পড়া চালিয়ে যায়, তাহলে আমিই সবচেয়ে বেশি খুশি হবো।’

ফোবানি/মৃত্তিকা

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন