৫৭ ধারায় মামলা প্রত্যাহার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারী

41
57_condition

প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে বিডিনিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক গোলাম মুজতবা ধ্রুব`র বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় এক বিচারকের মামলা দায়েরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন।রোববারের মধ্যে ধ্রুব`র মামলা প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

 

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে `সাধারণ সাংবাদিকবৃন্দ`র ব্যানারে `সাংবাদিক ধ্রুবর বিরুদ্ধে বিচারকের দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে` আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

 

এ ছাড়া মানববন্ধন থেকে আগামী রোববার তথ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সাংবাদিক নির্যাতন বেড়েই চলেছে, ঝুঁকির মুখে সাংবাদিকতা। বিশেষ ট্রাইবুন্যাল গঠন এখন সময়ের দাবী

 

মানববন্ধনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশাহ বলেন, এটি সাংবাদিক সমাজের বিরুদ্ধে মামলা। ৫৭ ধারা বাতিল না হলে কলম পেশা হুমকির মুখে পড়বে। অবিলম্বে এই কালো আইন বাতিল করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা অনেকদিন ধরেই ৫৭ ধারা বাতিল করার দাবি জানিয়ে আসছি। ধ্রুব`র মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি তার পাশে থাকবে।

 

“এখন সবশেষে বিচারকও এই কালো আইনে মামলা দিলেন। তাহলে সাংবাদিকেরা কোথায় যাবে  ”

এ সময় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, গত চার মাসে তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ৫৭ ধারা শুধুমাত্র সাংবাদিকদের নিপীড়ন-নির্যাতন করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে এই ধারা রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, মাদক ব্যবসায়ীরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করেছে। মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আবু সালেহ আকন বলেন,`এখন সবশেষে বিচারকও এই কালো আইনে মামলা দিলেন। তাহলে সাংবাদিকেরা কোথায় যাবে!

 

হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আগামী দু`দিনের মধ্যে এই মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে সাংবাদিক সমাজ রাজপথ নামতে বাধ্য হবে। আর এ জন্য যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার সংশ্লিষ্ট বিচারককেই নিতে হবে।

 

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ ও ক্র্যাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন-উর রশীদ বলেন, সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও মামলা করা যায়। তবে সেটা ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক হতে হবে। ৫৭ ধারায় মামলা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা। ৫৭ ধারা কালো আইন। এ আইনে একজন বিচারক কীভাবে মামলা করেন!

 

মানববন্ধনে ৫৭ ধারা বাতিল, ধ্রুব`র বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা নিঃশর্ত প্রত্যাহার করে বিচারককে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়।

 

মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক সালিম সামাদ, মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক খায়রুজ্জামান কামাল, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু, ৭১ টিভির সাংবাদিক নাদিয়া শারমিন, চ্যানেল২৪-এর সিনিয়র রিপোর্টার রাশেদ নিজাম, নতুন সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার ইমরান আলী, যমুনা নিউজের ক্রাইম রিপোর্টার সুশান্ত সাহা, ইউথ জার্নালিস্ট ফোরামের রাহাত হুসাইন, বাংলা ট্রিবিউনের রিপোর্টার রশিদ আল রুহানী, অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিবর্তন-এর স্টাফ রিপোর্টার ফররুখ বাবু, আশিক মাহমুদ, প্রীতম সাহা সুদীপ প্রমুখ।

 

ফোকাস বাংলা নিউজ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন