হ্যাপি যখন আল্লার দাসী

36
happy_news

বার্তা সংস্থা এএফপি কেন হ্যাপিকে নিয়ে নিউজ করতে গেলো? এএফপি কি মানসিক ভারসাম্যহীনতা নিয়ে নিউজ করতে চেয়েছে নাকি মডেলিং অভিনয় নাচকে ভয়ংকর পাপ মনে করা একটা দেশের কথাই বলতে চেয়েছে? পড়ুন হ্যাপি যখন আল্লার দাসী

ক্রিকেটার রুবেলের সঙ্গে কেলেংকারিতে জড়িয়ে দেশব্যাপী পরিচিতি পাওয়া অখ্যাত এক মডেল হ্যাপি তারপর থেকেই মিডিয়ার কভারেজ তার দিকে নিয়মিত টানতে থাকে নানা ঘটনায়। হঠাৎ তার প্রবল মুমিনা হয়ে উঠার গল্প এখন দেশের সবাই জানে। তাকে নিয়ে সম্প্রতি যে বইটি প্রকাশ পেয়েছে ‘হ্যাপি থেকে আমাতুল্লাহ’ সম্ভবত বাংলাদেশের মিডিয়া অটোবায়োগ্রাফির ইতিহাসে একটা ঝড় তুলে ছাড়বে।

এই বইতে স্থান পেয়েছে কি করে হ্যাপি তার ‘ভুল জীবন’ থেকে সত্য সুন্দর পথে এসে আমাতুল্লাহ (আল্লার দাসী) হয়ে উঠেছে। এএফপির রিপোর্টে এই বইটি ফোকাস করা হয়েছে। কাশেম বিন আবু বকর আর হ্যাপির আমাতুল্লাহ হয়ে উঠার গল্প বিশ্ব মিডিয়াতে আনার উদ্দেশ্য তো আছেই। তবে যে উদ্দেশ্যই থাক, নিজেদের দিকে তাকানোটাই জরুরি।

এ দেশের তরুণ-তরুণীদের মানসিক স্বাস্থ্য কোন অসুস্থতার পর্যায়ে পৌঁচ্ছে গেছে, সেটা জানতে ফেইসবুকের নিউজ পেইজের কমেন্ট সেকশনে গেলেই টের পাওয়া যায়। কয়েক হাজার কমেন্টের সবগুলো হ্যাপিকে তার ‘পাপের জীবন’ ছেড়ে আসার জন্য অভিনন্দন, নয়ত হ্যাপি তার আগের অভিনয় জগতের জন্য ‘বেশ্যা’ গালি খেয়েছে…।

আমার ঠিক জানা নেই, পৃথিবী আর কোন দেশে সিনেমা, টেলিভিশন মিডিয়ায় কাজ করাকে চরম ক্ষমাহীন পাপ বলে মনে করে কিনা। একটা দেশের তরুণদের মানসিকতা এরকম হলে সে দেশের আধুনিক প্রগতিশীলতার অবস্থা যে কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে সেটা জানতে বিশেষজ্ঞ হওয়া লাগে না।

এই এক মাসের রোজার সময় আমাদের মেইন গণমাধ্যমগুলোতে কি পরিবেশন হয়েছে তা থেকে আমাদের সামনের দিনগুলো আঁচ করা যাবে।

‘বলিউডের কোন কোন অভিনেতা-অভিনেত্রী ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন’ –এই জাতীয় নিউজ পরিবেশন করা হয় রমজান মাসকে কেন্দ্র করে! একটা দেশের ভবিষ্যত কোন দিকে তা নির্ভর করে তরুণরা কোন চিন্তা আর মতবাদের উপর ভর করে আছে।

আপনি যদি ফেইসবুকের ‘লাইক সেলিব্রেটিদের’ পোস্টের বিষয়বস্তু দেখেন, তো বুঝতে পারবেন তারা পাবলিকের মানসিকতা জেনেই পোস্ট লেখেন। তাতে এক ঘন্টার মধ্যেই ৬ হাজার লাইক। সাড়ে চারশো শেয়ার আর হাজার খানেক কমেন্ট!

কি বিষয়বস্তু? “এখন যতই প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে হাউকাউ করি… সেদিন কবরে যে ৩ টা প্রশ্ন করা হবে, সেগুলো বেঁচে থাকা অবস্থায় ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরেও, আমরা অনেকেই ঠিক মতো উত্তর দিতে পারব না…”।

মানুষকে তার বিশ্বাসের জায়গায় সুড়সুড়ি দিয়ে লাইক-শেয়ার কামাই করে যিনি সেলিব্রেটি হচ্ছেন তিনি গুরুত্বপূর্ণ নন। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, একটা বিপুল জনগোষ্ঠি মানসিকভাবে বৃদ্ধদের মত অবস্থান নিয়ে রেখেছে! এটা অশনি সংকেত।

যেখানে এইসব ঘুণে ধরা চিন্তার গোড়ায় কুঠার চালানো দরকার, তখন গোটা দেশের সেলিব্রেটি, বুদ্ধিজীবীরা জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সেই গোঁড়াতেই জল দিয়ে যাচ্ছে…।

কাশেম বিন আবু বকর কিংবা হ্যাপি থেকে আমাতুল্লাহকে বর্হিবিশ্বে প্রচার করে এএফপি’র গুষ্ঠি উদ্ধার করার আগে ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখুন তো- এ রকম দুইটা অসুস্থ সেলিব্রেটি কি সত্যিই আমাদের বিপুল আমজনতার সমর্থন পায়নি?

হ্যাপি সমাচার। পাঠক প্রতিক্রিয়া: কঠিন কথা লিখতে মানা, চেতনাবাজদের পড়তে মানা !

পিয়ন থেকে প্রধানমন্ত্রী, সবাই, এই ব্যান্ডওয়াগনে জাম্প করেছিলেন । মেয়েটার চরিত্রের চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার হয়েছিলো, পুরো দস্তর চরিত্রের পোস্ট মর্টেম ।

বদলে দাও জাতীয় শ্লোগানের পাইকারি ডিলারেরা, অনেক কিছুই বদলে দিতে পারঙ্গম ! শালীন জীবনের চৌহদ্দি থেকে, টেনে বের করে আনা, চরিত্রহীন বদমাইশ দেরকে বাংলাদেশী সমাজে পুনর্বাসন করে সেলেব্রেটি বানিয়ে সমাজে গ্রহণযোগ্য করে তুলা তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য । আসাদুজ্জামান নুর আর তারানা, সুবর্ণা, রেজওয়ানাদের প্রণীত সাংস্কৃতিক স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই প্রথম কালোর মত প্রপাগান্ডা মাধ্যমের কাজ তাতে সন্দেহ করিনা ।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইন্ডাস্ট্রি যে পতিতা আর বদমাইশ তৈরির কারখানা তা প্রমানের জন্য পণ্ডিত হওয়ার দরকার নেই । যে কয়জন চায়-চরিত্র ঠিক রেখে এখানে কাজ করতে বা টিকে থাকতে চান, তাদের কাছ থেকে নিজ কানে না শুনলে বিশ্বাস করা যাবেনা, কি এক ভয়ংকর সিন্ডিকেটের দখলে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইন্ডাস্ট্রি ।

হ্যাপি-রুবেলের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে চাইনা । যখন একটা মেয়ে তার অতীতকে পিছনে ফেলে, সুন্দর শালীন জীবনে ফিরে যেতে চায়, তখন সেই কায়েমি স্বার্থান্বেষীরা আর সহ্য করতে পারেনা, তাদের নোংরা প্রোপ্যাগান্ডা মেশিন ডবোল স্পীডে সচল হয়ে উঠে ।

ইসলামী মূল্যবোধের ধ্বজাধারী এন টি ভি ও সেই কুরু ক্ষেত্রের আরেক পান্ডবের ভুমিকায় দেখছি । হ্যাপি’র ট্রান্সফরমেশন নিয়ে যখন পশ্চিমা প্রচারমাধ্যম প্রচার দিলো (মনে রাখা দরকার কাশেম বিন আবু বকর বা হ্যাপিদেরকে হাইলাইট করার পিছনে যে উদ্দেশ্য তা কিন্তু প্রথম আলোদের চেয়ে ভিন্ন নয়) ওমনি দেশিয় এজেন্টরাও জাম্প করলো ।

তারা মন্দকে ভালোর দিকে টানতে পারে না, অশ্লীলকে শ্লীলতার দিকে টানতে চায়না, মন্দই যে তাদের কাছে ভালো, যারা সত্য সুন্দরের পথে ফিরে আসতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে লেগে থাকে । ডিসেপ্টিভ আলখেল্লা পরা এন টি ভি’রাও কায়েমি স্বার্থের দাস বই কিছুই নয় ।

যারা এই সাংস্কৃতিক যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে চায়, যুদ্ধ তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে, সাংস্কৃতিক যুদ্ধের এখনই প্রকৃষ্ট সময়, ঝাঁপিয়ে পড়ার উত্তম সময় ।

ইন্টারনেট অবলম্বনে