সেতু আছে খাল নেই, দরবেশবাজার-থানারহাট সড়কে উপর্যুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনহীন সেতু সরকারের আর্থিক ক্ষতি

59
khal_ashe_setu_nai

সেতু আছে খাল নেই, দরবেশবাজার-থানারহাট সড়কে উপর্যুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে সেতুটি নির্মান করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকা সংশ্লিষ্ট লোকজন। নোয়াখালী জেলার সুবর্নচর ও হাতিয়া উপজেলার  সীমান্তবর্তী দরবেশ বাজার-থানারহাট সড়ক সংলগ্ন এলাকা ঘুরে রিপোর্ট করেছেন দ্বীপ আজাদ।

সেতু আছে খাল নেই

গত ২০ বছর পূর্বে হাতিয়ার মেঘনা নদীর গর্ভ থেকে জেগে ওঠে নঙ্গলীয়া ও নলের চর। নদী দুরে সরে গেলেও এ দুই চরের বুকে থেকে যায় মেঘনার রেখে যাওয়া ছরি (খাল)। স্থানীয়রা এ খালটির নাম করণ করে মামুর খাল বলে। খালে জেলেরা মাছের নৌকা ভিড়াত। নৌকায় চড়েই স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচল করতো। একসময় খালের পাশে গড়ে উঠতে থাকে বসতি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কল্পে প্রায় দুই বছর পূর্বে বাঁশখালি সড়কের সাথে সংযুক্ত হাতিয়ার দরবেশ বাজার হয়ে থানারহাট পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করা হয়। ওই সময় মামুর খালে একটি সেতুও নির্মিত হয়। যার পর থেকে গত এক বছরে পুরো খালটিই মরে যায়। এখন আর নৌকাতো থাক দুরের কথা বর্ষায়ও খালের চিহ্ন দেখা যায় না। দুই পাশে হচ্ছে আবাদ হয়।

মামুর খালটি শুকিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি উপরোক্ত তথ্যগুলো দেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের নলের চরের ইসলাম সমাজের ষাটোর্দ্ধ বাসিন্দা আবদুর রহিম।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী দরবেশ বাজার-থানারহাট সড়কের উপর একটি সেতু। পূর্ব-পশ্চিমের সেতুটির উত্তর পাশে নঙ্গলিয়া এবং দক্ষিণে নলের চর। সেতুর দুই পাশে কোনো খালের চিহ্ন নেই। গড়ে ওঠেছে বাড়ি-ঘর। এক ফসলী বিধায় আমন মৌসুমে এখানে আমন ধান আবাদ হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।

আবুল হোসেন নামে এক বাসিন্দা জানান, গত বছর দু’য়েক পূর্বে এলজিইডি সেতুটি মামুর খালের উপর নির্মান করে। কিন্তু সেতু দেয়ার পর থেকে খালটি পুরোই শুকিয়ে যায়। এখন আর খালের চিহ্ন নেই। এখানে আবাদ হয়। ফলে এ সেতুর এখন আর কার্যকারিতা নেই। তবে কিছুদিন আগে কিছু লোকজন এসে বলেছে পুনরায় নাকি ওই খালটি খনন করবে।

noakhali_suborno_charবিশিষ্টজনরা বলছেন, একটি নতুন সড়ক করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হয়। একই সাথে সড়কের উপর কোনো সেতু নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি লাগে। খালের উপর সেতু নির্মাণের ফলে খালের পানি প্রবাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে, আর এতে পর্যায়ক্রমে খাল শুকিয়েও যেতে পারে। মামুর খাল শুকানোর পেছনে সেতু নির্মাণ একটি বড় কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে নোয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র কেমিষ্ট মো. মিজানুর রহমান বলেন, মামুর খালের উপর সেতু নির্মাণে এলজিইডি কোনো অনুমতিই নেয়নি। শুধু ওই সেতুটিই নয়, এলজিইডি বেশিরভাগ সেতুই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া নির্মাণ করছে।

তিনি বলেন, নতুন কোনো সড়ক নির্মাণ করতে হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি লাগে। কিন্তু কেউ নিয়মের তোয়াক্কা করছে না।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের হাতিয়া উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী তপন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, তিনি হাতিয়ায় যোগদান করেছেন মাত্র কিছুদিন হলো। এখনও অনেক বিষয়ে অবগত নন তিনি।

নোয়াখালী থেকে দ্বীপ আজাদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন