সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেছে ফুড মনষ্টারস

94
underprivileged_children's_ifter_program

ফেইসবুক ভিত্তিক জনপ্রিয় ফুড গ্রুপ ফুড মনস্টারস এবং বিতর্কের অন্যতম সংগঠন দৃষ্টি চট্টগ্রাম এর যৌথ উদ্যোগে আগামী ১৬ই জুন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে আয়োজন করতে যাচ্ছে ইভেন্ট ইফতার মাহফিল ও ঈদের শুকনো খাবার বিতরণের। নগরের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন কিছু সংগঠনের প্রায় সহস্রাধিক শিশুদের নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এ আয়োজন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে- বিশিষ্ট কবি ও সংগঠক জিন্নাহ চৌধুরী, বারকোড রেষ্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুরুল হক,রিভারিন রেষ্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ রেজওয়ান,দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক আশরাফ রুবেল, সেভেন ডেইস রেষ্টুরেন্টের মালিক জি.এম. মনোয়ার

নিয়ম অনুসারে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন- বিশিষ্ট ব্যাংকার ও দৃষ্টি চট্টগ্রামের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফ চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন- ফুড মনস্টারস গ্রুপের তিন এডমিন মোহাম্মদ ইমরান চৌধুরী, মোহাম্মদ রাইয়ানবৃষ্টি ইসলাম এবং কাজী আরফাত, ডিরেক্টর, হুইজ কমিউনিকেশন্স।

ফুড মনস্টারসের এ মহৎ আয়োজনে সাড়া দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আনন্দ সহকারে ইফতার প্যাকেট বিতরণ করছেন চট্টগ্রামের স্বনামধন্য ও জনপ্রিয় বেশ কিছু রেষ্টুরেন্ট। যারা হলেন-বার্গউইচ টাউন, সাদিয়া’স কিচেন, সেভেন ডেইস, চট্টমেট্রো, রিভারাইন, বুম টাউন ক্যাফে,দমফুঁক, জেলেপিনো, হাঙ্গার গেম, সিএফসি রেষ্টুরেন্ট, ক্যাফে আল বাইক, দি সিগনেচার, সিক্সটিন ক্যাফে এন্ড বিস্ট্রো, ফিউশন ক্যাফে, ক্যাফে বোনাফাইড, ক্যাফে ইথোপিয়া, দাবা ও হোমমেইড ভিত্তিক ফুড গ্রুপ নিসেল ফিড প্রমূখ।

এছাড়াও ঈদের শুকনো খাবার যেমন- সেমাই, পায়েস, নুডুলস, দুধ, চিনি ইত্যাদি পণ্যসমূহ দিয়ে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন ফুড মনস্টারস গ্রুপের লক্ষাধিক সদস্যবৃন্দ ও দৃষ্টি চট্টগ্রাম সংগঠনের সদস্যরা।

ফেসবুকভিত্তিক এ গ্রুপে প্রায় ৩ লক্ষ সদস্য রয়েছে।গ্রুপ পরিচালনাকারী এডমিনদের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ইফতার ও ঈদের সেমাই-চিনি বিতরনের এমন একটি কার্যক্রমে সাড়া দিয়ে চট্টগ্রামের স্বনামধন্য রেষ্টুরেন্ট মালিক ও গ্রুপের সদস্যরা তাদের সাধ্যমতো সহযোগীতা করছেন। ইভেন্টটি সার্থক করতে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন গ্রুপের লক্ষাধিক সদস্য। উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে।

ফুড মনস্টার যাত্রার পর হতেই প্রতি বছর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে এমন আয়োজন করে আসছে। কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় বারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ইভেন্টটির।চলবে পুরো রমজান মাস পর্যন্ত।

কেন এবং কি উদ্দেশ্য নিয়ে তারা এরকম কাজ করছেন এমন প্রশ্নে এডমিনবৃন্দ বলেন- রমজান মাস পবিত্র, সংযম ও সিয়াম সাধনার মাস। এই মাসে আমরা অনেকে নানারকম মুখরোচক ইফতার করে থাকি এবং ঈদে পরিবার-পরিজন নিয়ে সেমাই-পায়েস খেয়ে আনন্দ সহকারে ঈদ উদযাপন করি। কিন্তু আমাদের সমাজে এমন অনেক হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত শিশু আছে যারা শুধু এসব মুখরোচক খাবার দূর থেকেই দেখে থাকে। ইচ্ছা থাকলেও সে খাবার খাওয়ার মতো সাধ্য তাদের থাকে না। আর ঈদে সবার বাসায় সেমাই পায়েস রান্না হলেও তাদের ঘরে এ সবের আমেজ থাকে না। এমন ভাবনা থেকেই সে সকল ইচ্ছাপূরণের জনই আমাদের এ প্রয়াস। আমরা চাই আমাদের এ কার্যক্রমে আরো অনেকে যেন উৎসাহিত হয়ে শিশুদের পাশে এসে দাড়াবে। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে সচেষ্ট থাকবে।

আজ  যদি আমরা এ সকল বাচ্চাদের পাশে এসে দাড়াই, তাদের আনন্দের অংশ হই, একটু স্নেহ ও আদরের পরশ বুলিয়ে সহযোগীতা করি, একদিন এই সকল শিশুরাও বড় হয়ে অন্যদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। অন্যদের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগীতা করবে। এ যেন হিন্দি সিনেমায় সালমান খানের জনপ্রিয় সেই ডায়ালগের কথা মনে করিয়ে দেয়,

“একটা ভালো কাজের বিনিময়ে থ্যান্ক ইউ না বলে আপনি বরং অন্যের জন্য তিনটা ভালো কাজ করে দিন। এভাবে আপনার উপকারের ঋণ শোধ করুন।”

আসুন নিজেদের সাধ্যমতো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাড়াই। এই শিশুরা আমাদের সমাজ ও পরিবেশেরই অংশ।

ফোবানি/ হামিদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন