সুইমিং পুল নির্মান ও সংঘর্ষের নেপথ্য কারন, ভিডিওসহ বিস্তারিত পড়ুন

১। সুইমিং পুল খেলার মাঠেরই একটি বড় অঙ্গ- সংবাদ সম্মেলনে সিজেকেএস” দৈনিক আজাদী ২। “মিলনের পরদিনই মহিউদ্দিন অনুসারী ছাত্রলীগের হামলা”- ঢাকা টাইমস ৩। চট্টগ্রামে হচ্ছে সুইমিংপুল কমপ্লেক্স - সমকাল ৪। “সুইমিং পুল নির্মান নিয়ে দ্বন্ধ”- যমুনা টিভি

194
swimming_pool_chittagong

সুইমিং পুল নির্মানকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে অন্তত:১৫ জন আহত হয়েছে। চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়িস্থ এম, এ, আজিজ ষ্টেডিয়ামের পাশে আউটার ষ্টেডিয়ামে সুইমিংপুল নির্মাণকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে কাজীর দেউড়ি মোড়ে আউটার স্টেডিয়াম এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আউটার স্টেডিয়ামে একটি সুইমিংপুল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। ছাত্রলীগ এ সুইমিংপুল নির্মাণে বাধা দেয়। রোববার এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সুইমিংপুল নির্মাণ বন্ধে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় ছাত্রলীগ নেতারা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে সড়ক অবরোধ করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ শটগানের গুলি ছুড়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ সময় ছাত্রলীগের দুই কর্মী গুলিবিদ্ধ এবং আরও অন্তত ছয়জন আহত হন বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি।

তিনি ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “খেলার মাঠ সংরক্ষণের জন্য আমরা আগে থেকেই আন্দোলন করে আসছি। আমাদের আজকের কর্মসূচিও পূর্বঘোষিত। কিন্তু পুলিশ আমাদের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা করেছে।”

‘দোষী’ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন জানান, সংঘর্ষে পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

সুইমিং পুল নির্মান ও সংঘর্ষের বিস্তারিত সংবাদ পড়ুন

দৈনিক আজাদী শিরোনাম করেছে “সুইমিং পুল খেলার মাঠেরই একটি বড় অঙ্গ- সংবাদ সম্মেলনে সিজেকেএস” সংবাদের বিস্তারিত..

সুইমিং পুল আর খেলার মাঠ একে অপরের পরিপূরক। যেন একে অপরের অন্তপ্রাণ। বলা যায়, একই মুদ্রার এপিট-ওপিঠ। কাজেই সুইমিং পুল হলে খেলার মাঠ নষ্ট হবে কিংবা খেলাধুলায় ব্যাঘাত ঘটবে সেটা একেবারে ভুল ধারণা। আধুনিক ক্রীড়ার যুগে সাঁতারের গুরুত্ব অপরিসীম। মাঠে দৌঁড়ে কিংবা অনুশীলন করে চার ঘন্টায় যতটা ফিটনেস আনা যায় সুইমিং পুলে এক ঘন্টা সাঁতার কেটে সেই ফিটনেস আনা সম্ভব। এটাই আধুনিক ক্রীড়া বিজ্ঞানের ধারণা। কাজেই আজকের দিনে খেলাধুলার অপরিহার্য একটি অঙ্গ সুইমিং পুল। গতকাল সুইমিং পুল নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এবং ভুল বুঝাবুঝি অবসানকল্পে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সিজেকেএস সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সিরাজুদ্দিন মোঃ আলমগীর, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিজেকেএস যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, আলহাজ্ব দিদারুল আলম চৌধুরী, আ.ন.ম ওয়াহিদ দুলাল, একেএম আবদুল হান্নান আকবর, মোহাম্মদ ইউসুফ, আছলাম মোর্শেদ, রেখা আলম চৌধুরী, রেজিয়া বেগম ছবিসহ সিজেকেএস কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার নুরুল আবেদীন নোবেল, ফজলে বারী খান রুবেলসহ বিভিন্ন ইভেন্টের ক্রীড়াবিদ এবং ক্রীড়া সংগঠকরা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, স্বাধীনতার প্রায় ৪ দশক পর দেশের ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশে চট্টগ্রামে কাঙিক্ষত সুইমিং পুল নির্মিত হতে যাচ্ছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন সিকদার ও উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে ঢাকার একটি স্বনামধন্য কনস্ট্রাক্টশন ফার্ম সকল নিয়মনীতি মেনে টেন্ডারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সুইমিং পুল নির্মাণের এ কাজটি ইতোমধ্যে শুরু করেছে। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুদানে এই সুইমিং পুলটি নির্মিত হচ্ছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত সিজেকেএস এর নিজস্ব মালিকানাধীন জায়গা আউটার স্টেডিয়ামের এক কোণে এই অপরিহার্য সুইমিং পুল নির্মিত হচ্ছে। আউটার স্টেডিয়ামটির মালিকানা দীর্ঘদিন সিজেকেএস এর হাতছাড়া থাকলেও বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বগুণে এটি ইতোমধ্যে সিজেকেএস এর নিজস্ব সম্পত্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ঢাকাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য জেলাসমূহে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মালিকানাধীন জায়গাতেই সুইমিং পুল নির্মিত হয়েছে। অন্যের কিংবা মূল স্টেডিয়াম থেকে বিচ্ছিন্ন কোন স্থানে সুইমিং পুল নির্মাণের কোনো নজির বাংলাদেশে নেই। কারণ এর রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্বক্ষণিক তদারকির প্রয়োজনেই সুইমিং পুল নির্মাণের স্থান নির্ধারণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রায় ১১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৭০৩৮০ বর্গফুট (৩০৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৩০ ফুট প্রস্থ) জায়গায় আধুনিক মানের এই সুইমিং পুলটি নির্মিত হতে যাচ্ছে। যা আমাদের ক্রীড়াবিদদের উৎকর্ষতা সাধনে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সাঁতারু গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, হ্যান্ডবল ইত্যাদির মত সাঁতারও অলিম্পিক গেমস্‌ভুক্ত একটি ইভেন্ট। সুতরাং, এই ইভেন্টগুলোর চর্চার জন্য যেমন মাঠের প্রয়োজন তেমনি সাঁতার চর্চার জন্যও সুইমিংপুলের প্রয়োজন। মূলত: এই জ্ঞানের অভাবে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট নয় এমন কিছু ব্যক্তি এবং সংগঠন শুধুমাত্র বিরোধিতার খাতিরেই এই সুইমিংপুল নির্মাণের বিরোধিতা করছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও চট্টগ্রাম ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধাও বটে। চট্টগ্রাম একটি বিভাগীয় শহর হওয়া সত্বেও স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও এখানে একটি সুইমিং পুল নেই, চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের সাঁতার শেখার সুযোগ নেই। এ লজ্জা আমাদের সকলের। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনস্ত প্রায় শতাধিক ক্লাবের খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদরা সাঁতার জানে না। এটি ভাবতেও কষ্ট হয়।

চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা নিজেদের অর্থে এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাব কর্মকর্তাদের নিঃস্বার্থ শ্রম ও অর্থের যোগান দিয়ে চট্টগ্রাম ক্রীড়াঙ্গনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। একমাত্র ক্রীড়া সংগঠকরাই অবৈতনিকভাবে ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেন। যা অন্যান্য যে কোনো ব্যক্তি/সংস্থার ক্ষেত্রে বিরল বললেই চলে। সুতরাং, ক্রীড়ার উন্নয়নে ক্রীড়া সংগঠকদের দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা বিবেচনা করারও আহবান জানান কর্মকর্তারা। এক প্রশ্নের জবাবে সিরাজুদ্দিন মোঃ আলমগীর জানান, আমাদের এই সংবাদ সম্মেলন কারো পক্ষে ও নয় আবার কারো বিপক্ষে ও নয়। আমরা আমাদের দাবিটা তুলে ধরছি। সে সাথে যারা মনে করছেন সুইমিং পুল হলে খেলার মাঠের তি হচ্ছে বা হবে তাদের সে ভুলটা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছি। সারা দেশে স্টেডিয়ামের পাশেই রয়েছে সুইমিং পুল। স্টেডিয়াম থেকে দুরে সুইমিং পুল করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ভাল এবং মানসম্পন্ন দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার জন্য ক্রীড়া অবকাঠামোর বিকল্প কিছু নেই। একটি স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে মাঠ, সুইমিং পুল, টেনিস কোর্ট, বাস্কেটবল কোর্ট, জিনেসিয়াম সব থাকবে সেটাই একটি পরিপূর্ণ ক্রীড়া কমপ্লেক্স। চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে প্রায় সবই আছে নেই শুধু একটি সুইমিং পুল। তিনি বলেন, এই সুইমিং পুল সরকারের পরিকল্পনা। এটি কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। সরকারের তত্ববধানে কাজটি করা হচ্ছে। যার সুফল ভোগ করবে চট্টগ্রামের ক্রীড়াবিদরা এবং চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ। সরকারের ক্রীড়ানীতির অংশ এই সুইমিং পুল। কাজেই এই সুইমিং পুল নির্মানের বিরোধিতা করা মানে সরকারেরই বিরোধিতা করা। তাছাড়া এভাবে বিরোধিতা করতে থাকলে হয়তো চট্টগ্রাম থেকে সুইমিং পুল চলে যাবে অন্যত্র। যেমনটি চলে গিয়েছিল অনেকবার। ফলে তিটা হবে এই চট্টগ্রামেরই। চট্টগ্রামের ক্রীড়াবিদদের। কাজেই আমরা বলতে চাই এটি একটি সরকারি সম্পদ। আর এই সম্পদটি চট্টগ্রামের মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার। তাছাড়া আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে এই সুইমিং পুল চট্টগ্রামে হওয়ার উচিত এবং এর বিরোধিতা করা মানে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা মতো বলে মত প্রকাশ করেন সিজেকেএস এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা।

“মিলনের পরদিনই মহিউদ্দিন অনুসারী ছাত্রলীগের হামলা”- ঢাকা টাইমস

abm_mohiuddin_chowdhuryভাই ডেকে কাছে নিয়ে তিক্ততার অবসানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নগরীর আউটার স্টেডিয়ামে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্মাণাধীন সুইমিংপুলে হামলা চালিয়েছেন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুসারী নগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

তবে এ সময় পুলিশের বাধায় সুইমিং পুলের নির্মাণ কাজের কোনো ক্ষতি না হলেও সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন ছাত্রলীগ নেতা এবং কয়েকজন পুলিশ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের কয়েকজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকাল ৫টা নাগাদ সুইমিংপুলের নির্মাণ কাজে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আউটার স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকে পড়েন নগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা টিনের বেষ্টনি উপড়ে নির্মাণসামগ্রী ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশের টিয়ারসেলে ছত্রভঙ্গ হয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা একপর্যায়ে নগরীর কাজির দেউড়ি থেকে আসকার দীঘির পাড় এবং পত্রিকাপাড়া জামালখানে সড়কে টায়ারে আগুন লাগিয়ে দেয়। ভাঙচুর করে গণপরিবহনের কয়েকটি গাড়ি।

নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন রণি ঘটনাস্থল থেকে ঢাকাটাইমসকে বলেন, হামলা নয়, আমাদের নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশে অনৈতিকভাবে আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিং পুলের নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবিতে ঘেরাও কর্মসুচি করেছিলাম। কিন্তু মেয়রের নির্দেশে পুলিশ গুলি ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে ছাত্রলীগের একজনের পায়ে গুলি এবং কয়েকজনের মাথায় ইটের আঘাত লেগেছে। পুলিশের পিটুনিতে আহত হয়েছেন ছাত্রলীগের ১৫-১৬ জন নেতাকর্মী। পুলিশের দুজন সদস্য গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে গেছেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে নগরীর পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন। এ সময় বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষ রাত আটটা পর্যন্ত থেমে থেমে চলে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার ঢাকাটাইমসকে জানান, সুইমিংপুলের নির্মাণ কাজে হামলা চালাতে গিয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ১৫-১৬ জন ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। দুইজন পুলিশও ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে সুইমিং পুলের নির্মাণ কাজে ছাত্রলীগের হামলা ও সংঘর্ষে হতভম্ব ও হতাশা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। এ ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও নগর আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা মো. ইসহাক মিয়া বিস্ময় প্রকাশ করে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘গতকালবিকালে দলীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে আয়োজিত ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে কাছে ডেকে কথা বলেন এ বিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তাতে মনে হয়েছিল, সপ্তাহজুড়ে দুই নেতার মধ্যে চলমান তিক্ততার অবসান হয়েছিল। এতে খুশি হয়েছিলেন দলের শুভাকাঙ্ক্ষী নেতারা।’

আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা বলেন, ‘কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই কী দেখালেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। দশ দিন আগে নগরীর লালদিঘী ময়দানে মেয়র নাছির উদ্দিনকে খুনি, লুটেরা, আখ্যা দিয়ে সুইমিংপুল নির্মাণ কাজ বন্ধে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। আর গতকাল নাছিরকে বুকে টেনে নিলেও আজ ছাত্রলীগ-যুবলীগকে তিনি সুইমিংপুল ভাঙার নির্দেশ দেন। তাতে এই এ কাণ্ড ঘটায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ।’

এ ব্যাপারে মুঠোফানে যোগাযোগ করা হলে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ প্রসঙ্গে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ও সুইমিং পুল বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক আলী আব্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘অনুসারী ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীকে লেলিয়ে দিয়ে তিনি নিশ্চিন্তে মুঠোফান বন্ধ রেখে আনন্দ-উল্লাস করছেন।’ তিনি বলেন, ‘খেলার মাঠ আর সুইমিংপুল বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। খেলার মাঠ আর সুইমিংপুল মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এই জ্ঞানের অভাবে কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন সুইমিংপুল নির্মাণের বিরোধিতা করছে।’

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সব নিয়মনীতি মেনে সিটি মেয়র ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আ জ ম নাছির উদ্দীনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুদানে টেন্ডারের মাধ্যমে চট্টগ্রামে সুইমিংপুল নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। ঢাকাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মালিকানাধীন জায়গাতেই সুইমিংপুল নির্মিত হচ্ছে। অন্যের কিংবা মূল স্টেডিয়াম থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো স্থানে সুইমিং পুল নির্মাণের কোনো নজির বাংলাদেশে নেই।’

সিরাজ উদ্দিন বলেন,‘কারণ, এর রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির প্রয়োজনেই সুইমিং পুল নির্মাণের স্থান নির্ধারণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রায় ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭০ হাজার ৩৮০ বর্গফুটের ৩০৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৩০ ফুট প্রস্থের এই আধুনিক মানের সুইমিং পুল নির্মাণ করা হচ্ছে। যা আমাদের ক্রীড়াবিদদের উৎকর্ষ সাধনে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সাঁতারু গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে।’

তিনি আরও বলেন,‘চট্টগ্রাম একটি বিভাগীয় শহর হওয়া সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও এখানে একটি সুইমিংপুল নেই, চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের সাঁতার শেখার সুযোগও নেই। এ লজ্জা আমাদের সবার। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনস্ত প্রায় শতাধিক ক্লাবের খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদ সাঁতার জানে না। এটি ভাবতেও কষ্ট হয়। সম্প্রতি একজন তরুণ সাঁতার না জানার কারণে অকালেই ঝরে গেছেন। এই দায় আমাদের সবার। দায়মুক্তির এ সুযোগের বিরুদ্ধে যারা বিরোধিতা করছে তারা নিজেদের বিবেককে একবার প্রশ্ন করুন।”

চট্টগ্রামে হচ্ছে সুইমিংপুল কমপ্লেক্স – সমকাল

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে উজ্জ্বলতম নাম চট্টগ্রাম। এই বন্দরনগরীর নান্নু-আকরাম ও হালের তামিম ইকবালসহ অনেক ক্রিকেটার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। চট্টগ্রামের মাটিতে বড় হওয়া আশীষ ভদ্র ও বর্তমান সময়ের ফুটবল তারকা মামুনুল ইসলামসহ অনেক ফুটবলার জাতীয় দলের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন। এমনকি একসময় এখানকার খ্যাতিমান সাঁতারু বজল আহমদসহ অনেক প্রতিভাবান সাঁতারু জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। ভাবা যায়, ক্রীড়াঙ্গনের এমন উর্বর ভূমি চট্টগ্রামে এখনও নেই সাঁতার প্রতিযোগিতার জন্য একটি সুইমিংপুল! অথচ, চট্টগ্রামে রয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত দুটি ক্রিকেট ভেন্যু।

অবশেষে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সরকারি উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানের একটি সুইমিংপুল কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে আউটার স্টেডিয়ামের ৭০ হাজার ৩৮০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত হচ্ছে এই সুইমিংপুল কমপ্লেক্স। এতে আন্তর্জাতিক সাঁতার প্রতিযোগিতারও যাতে আয়োজন করা যায়, সেভাবেই এই সুইমিংপুল কমপ্লেক্সটি নির্মিত হচ্ছে। এরই মধ্যে এই সুইমিংপুল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার একটি স্বনামধন্য কনস্ট্রাকশন ফার্ম এই সুইমিংপুল নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে। তারা সুইমিংপুল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য আউটার স্টেডিয়ামের নির্ধারিত স্থানে টিন দিয়ে অস্থায়ী বেড়া দিয়ে রেখেছে। খুব শিগগিরই তারা সুইমিংপুল কমপ্লেক্সের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও সিজেকেএসের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন সমকালকে বলেন, ‘চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল সরকারিভাবে একটি সুইমিংপুল নির্মাণের। যাতে চট্টগ্রামে নিয়মিত সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যায়, নগরীর শিশু-কিশোররা সাঁতার শিখতে পারে। তাদের এই দাবির ব্যাপারটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করার পর তিনি চট্টগ্রামে দ্রুত একটি আন্তর্জাতিক মানের সুইমিংপুল কমপ্লেক্স নির্মাণের নির্দেশ দেন। এটি নির্মিত হলে এখানে শুধু আঞ্চলিক কিংবা জাতীয় পর্যায়ের সাঁতার প্রতিযোগিতাই নয়, আন্তর্জাতিক সাঁতার প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা যাবে। এই সুইমিংপুল কমপ্লেক্স চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় একটি অর্জন। সে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে চট্টলাবাসীর জন্য এটি বড় একটি উপহারও।’

এছাড়াও যমুনা টিভির শিরোনাম “সুইমিং পুল নির্মান নিয়ে দ্বন্ধ” এছাড়া সংঘর্ষের ভিডিও ক্লিপ দেখুন

সুইমিং পুল নির্মানে সংঘর্ষের ঘটনায় সোস্যাল মিডিয়ায় পাবলিক প্রতিক্রিয়া

সোস্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুক জুড়ে সংঘর্ষের ঘটনায় পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাধারন মানুষ। এখানে উল্লেখযোগ্য কিছু উদ্বৃতির অংশ বিশেষ প্রকাশ করা হলো।

জনৈক নাজিম মুরাদ লিখেছেন, “চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের মিছিলে পুলিশের গুলি” বিস্তারিত পড়ুন:

এক নেতার নির্দেশে ‘ ছাত্রলীগ ‘ সুইমিং পুল নির্মান ঠেকাতে গেছে – আর এক নেতার নির্দেশে ‘ পুলিশ ‘ গুলি করেছে।। তবে নিরপেক্ষ বিচারে যে আউটার স্টেডিয়াম নান্নু – আকরাম – তামিমদের তৈরি করে সে মাঠে সুইমিং পুল তৈরি করা মোটেও উচিৎ নয়।।

অন্যজন অরুপ বড়ুয়া লিখেছেন, “আন্দোলন- ব্যক্তিস্বার্থ নাকি জনস্বার্থ?”

আরেক জন মাশরুর হোসাইন লিখেছেন, আন্দোলন – “ব্যক্তিস্বার্থে নাকি জনস্বার্থে

জনৈক এ এস এম জাহিদ হোসেন লিখেছেন,“মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবার ই নতুন নয়। যে স্থানটি তে বিজয় মেলার আয়োজন করা হয় সেখানে ইতোপূর্বে শিশু পার্ক নির্মান করেছিলো বিএনপি সরকার আর বর্তমান মেয়র একই উদ্দেশ্য নিয়ে সুইমিং পুল করার পায়ঁতারা করে চলেছেন..বিস্তারিত পড়ুন এখানে যান

 

ফোবানি/রানা সাত্তার/হামিদ

ছবি: রানা সাত্তার

 

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন