সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের আনুষ্ঠানিকতা

47
armed_forces_day

২১ নভেম্বর ২০১৭ ইং তারিখে যথাযোগ্য মর্যাদায় সৌদি আরবের রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাস বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন করে। বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ও সৌদি আরবের জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে  আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ দুতাবাসের ইকনোমিক কাউন্সিলর ডঃ আবুল হাসান।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাত ঘটিকায় রিয়াদ বাংলাদেশ দুতাবাসের উদ্যোগে সশস্ত্র বাহিনী দিবস  উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা আরম্ভ করা হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন সৌদী আরব সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল গাজী মোহাম্মদ শেখ। এছাড়া বহু দেশের রাষ্ট্রদূতগণ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের এটাচী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শাহ আলম চৌধুরী, কার্যালয় প্রধান ডঃ ফরিদ উদ্দীন, শ্রম কাউন্সিলর সারোয়ার আলমসহ রাজনৈতিক, সামাজিক- সাংস্কৃতিক, শিক্ষক, চিকিৎসক,প্রকৌশলীসহ গন্যমান্য ব্যক্তিগণ।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ্ সশস্র বাহিনী দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে সারগর্ব বক্তৃতা প্রদান করেন।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস কি?

মুলত:১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী সম্মিলিতভাবে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সূচনা করে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও অতঃপর ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ-ভারতের সেনাদের নিয়ে গড়া মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর প্রায় তিরানব্বুই হাজার সেনা আনুষ্ঠানিকভাবে রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে। এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ-এর পরিসমাপ্তি ঘটে।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত শিখা অনির্বাণে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং তিন বাহিনীর প্রধানদের পুষ্পস্তবকের মাধ্যমে দিবসটি আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিকেলে সেনাকুঞ্জে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ, বিরোধী দলীয় নেতা এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ সংবর্ধনায় সমবেত হন। অন্যান্য সেনানিবাস, নৌ ও বিমানঘাঁটিতে অনুরূপ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ বেতার ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে অনির্বাণ নামীয় বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। দৈনিক সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদেরকে প্রধানমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধান কর্তৃক পুরস্কৃত করা হয়। সকল সেনা ঘাঁটিতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। সেনাবিভাগের প্রকাশনা থেকে যুদ্ধ ও সামরিক বাহিনী সম্পর্কীয় বিশেষ নিবন্ধ সহযোগে প্রকাশনা বের করা হয়।

রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দুতাবাস কর্তক সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতার শেষ পর্যায়ে কেক কাটা হয় এবং আগত অতিথিবৃন্দকে ক্রেস্ট প্রদানের মধ্য দিয়ে সম্মান জানানো হয়।

মুহাম্মদ ইউসুফ খাঁন


ফোকাস বাংলা নিউজ, সৌদী আরব প্রতিনিধি 

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন