সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে নাগরিক পরীবিক্ষনের জোর দাবি-ক্যাব চট্টগ্রাম

40
cab_chittagong

নিন্ম আয়ের দেশ এলডিসি থেকে উত্তরনের পর উন্নয়নশীল দেশে পর্দাপন উপলক্ষে সরকারি সেবা সংস্থা কর্নফুলী গ্যাস কোং, বাংলাদেশ রেলওয়ে,চট্টগ্রাম ওয়াসা, বিদ্যুৎ, চট্টগ্রাম পুলিশ বিভাগ, পোস্ট অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সরকারী বিভিন্ন বিভাগ কর্তৃক ২০ থেকে ২৫ মার্চ যাঁকজমক সাজসজ্জা করে সেবা সপ্তাহ উদযাপন করছে। এ উপলক্ষে আলোক সজ্জা, ব্যানার, ফেস্টুনসহ নানা প্রচারনা কর্মসুচি গ্রহন করা হলেও সেবা গ্রহীতাদের ভাগ্যে কিছুই জুটছে না। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সেবা বিভাগে প্রকাশ্যে চলছে স্বেচ্ছাচারিতা, নগদে উৎকোচ গ্রহন বা অার্থিক লেনদেনসহ নানা অনিয়ম।

ক্যাব কর্তৃক বাংলাদেশ রেলওয়ে, কর্নফুলী গ্যাস ও চট্টগ্রাম ওয়াসায় সেবা গ্রহিতাদের সেবার মান পর্যবেক্ষনে দেখা যায় সেবা সপ্তাহের বিষয়টি সরকারী নির্দেশনা মাত্র। সেবার মানের কোন উন্নয়ন হয়নি অধিকন্তু ভোগান্তির মাত্রা অনেক জায়গায় বেড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ রেলওয়েতে গিয়ে সেই পুর্বের চিত্র, কাউন্টারে টিকেট নাই, টিকেট সব কালোবাজারীদের হাতে। কোটা সংরক্ষনের নামে কাউন্টারে টিকেট হাওয়া কিন্তু কালোবাজারীর হাতে সব টিকেট। ট্রেনে পরিস্কার পরিছন্নতা ও কর্মচারীদের আচরণ সেই আগের মতোই।

একই অবস্থা কর্নফুলী গ্যাস কোম্পানীতে পুরো শহরে সেবা সপ্তাহের ফেস্টুনে ভরে গেলেও কার্যালয়ে গিয়ে সেবা মিলছে না। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিজ টেবিলে নাই। গ্যাস বিল অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। সেকারনে অনলাইনে তালিকাভুক্তিতেও গুনতে হচ্ছে টাকা। অনলাইনে তালিকাভুক্ত না হলেও ব্যাংকেও টাকা জমা দেয়া যায় না। অনেকে মোবাইল ব্যাংকিং এ টাকা পরিশোধ করলেও কোম্পানীর খাতায় সে তথ্য আসেনি। আগের বকেয়া যা কোম্পানীর খাতায় নথিভুক্ত হয়নি বছরের পর বছর পার হলেও সে বিষয়ে গ্রাহককে কোন ভাবে নোটিশ করা হয়নি। ফলে গ্রাহকদেরকে গুনতে হচ্ছে বিপুল জরিমানার অর্থ। আবার অনলাইনে তথ্য নেবার জন্য আসলে টাকা ছাড়া কোন কাজ হচ্ছে না। তারা খুব ব্যস্ত সেবা সপ্তাহ নিয়ে, কাজেই গ্রাহকদেরকে সমস্যা সমাধানে তাদের সময় নেই।

সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে গ্রাহক সেবার এই নমুনা যদি গুরুত্বপুর্ন দুটি সেবা সংস্থায় হয় তাহলে জনগনের সেবা পাবার অধিকার সুদুর পরাহত হচ্ছে কিনা তা ভেবে দেখতে হবে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় সেবা সপ্তাহ পালন করা হলে স্বাভাবিক ভাবে সরকারী সেবা সংস্থাগুলি থেকে জনগন সহজে অধিক সেবা পাবে, এটা রীতি হলেও চট্টগ্রামে তার বিপরীত চিত্র ক্যাব চট্টগ্রামের পর্যবেক্ষনে। তাই সেবা সপ্তাহ পালনের সত্যিকারের নির্দেশনা জনসমক্ষে প্রকাশ করে সেবার মান নিশ্চিত করা, জনগনের সেবা পাবার অধিকার সুনিশ্চিত করা, কোন কারনে সেবা পেতে ভোগান্তি হলে উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকে অবহিত করার সহজ উপায় বের করা, জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের প্রতিনিধি হিসাবে জেলার সকল সেবা সংস্থায় ভোগান্তি হলে জেলা প্রশাসককে জানানো এবং জেলা প্রশাসক সাপ্তাহিক ভাবে জেলায় সরকারী সেবা সংস্থাগুলির সেবা পাবার ভোগান্তি নিরসনে সংস্লিষ্ট বিভাগ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, ক্যাব প্রতিনিধির সমন্বয়ে গণশুণানীর আয়োজন করা ও সরকারী নির্দেশনাগুলি সঠিক পন্থায় মাঠে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নাগরিক পরীবিক্ষন জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও নগর কমিটি।

নিন্ম আয়ের দেশ এলডিসি থেকে উত্তরনের পর উন্নয়নশীল দেশে পর্দাপন উপলক্ষে সরকারি সেবা সংস্থাগুলির উদ্যোগে সেবা সপ্তাহ পালনে জনগনের সেবা পাবার চিত্র পর্যবেক্ষন করে এক বিবৃতিতে উপরোক্ত দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারী দপ্তরগুলিতে একসময় সিটিজেন চার্টার বড় করে ঝুলানো হলেও নিদিষ্ঠ সময়ে উপরোক্ত সেবা পাবার পথ প্রশস্ত হয় নি। সরকার জনগনের সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, সেবার মান নিশ্চিত করা ও ভোগান্তি নিরসনে হেলপ ডেস্ক স্থাপন, সিটিজেন চার্টার প্রকাশ, তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার নাম প্রকাশ, ওয়েব সাইটে যাবতীয় কার্যাবলী উপস্থাপনের ব্যবস্থা করা, ই-ফাইলিং, ই-টেন্ডারিং, দপ্তরগুলির সাথে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সাথে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি করা, সর্বশেষ গণশুণানীর আয়োজনসহ নানা উদ্যোগ নিলেও সরকারী সেবা সংস্থাগুলির সেবার মান বাড়েনি। সেবা গ্রহীতাদের পদে পতে ভোগান্তি, সেবা পেতে নানা ঠাল বাহনা, জঠিলতা সৃষ্টি, আর্থিক লেনদেন ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। নি¤œ আয়ের দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে সেবা সপ্তাহ নাম দিয়ে জনগনের কাছে সহজে সেবা পৌঁছানোর সরকারের আন্তরিকতা বহিঃপ্রকাশ হলেও কিছু কিছু সরকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীন আচরন, উদাসীনতার কারনে তৃণমুল পর্যায়ে সরকারের সে নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে না। তাই মাঠ পর্যায়ে সরকারী দপ্তর গুলির সেবার মান নিয়ন্ত্রণে আরো জবাব দিহিতা বাড়ানো, জেলা ও উপজেলা পযায়ে আন্তঃ দপ্তর সমন্বয় জোরদার করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সরকারী নির্দেশনাগুলি সঠিক পন্থায় মাঠে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তার জন্য নাগরিক পরীবিক্ষন জোরদার করা, সেবা সংস্থাগুলির ব্যবস্থাপনায় ক্যাবসহ নাগরিক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটি ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু ও ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান ও সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক এস এম শাহনেওয়াজ আলী মির্জা প্রমুখ।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন