সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা আগে এমন হুমকির মুখে আর কখনো পড়েনি- রিউব

১। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা-কখনো কি সম্ভব? - দৈনিক আজাদী ২। নগ্ন ছবি প্রকাশ কি সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা? - বাংলা নিউজ২৪ডটকম

56
sangbad_potrer_shadinota

সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা এর আগে এমন হুমকির মুখে আর কখনো পড়েনি- বলছে, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স আজ বুধবার প্রকাশিত তাঁদের বাৎসরিক সংবাদ স্বাধীনতা সূচকে।

সংবাদ মাধ্যমের অধিকার নিয়ে মতাদর্শি সংগ্রামে প্রবৃত্ত এ গোষ্ঠি জানাচ্ছে-বিশেষ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী বলে পরিচিত দেশগুলোতে বিগত বছরটিতে সংবাদ স্বাধীনতার মাত্রা হ্রাস পেয়েছে।

বিতৃষ্ণাকর সব বিবৃতি-বয়ান,কঠোর-নির্মম আইন কানুন,স্বার্থের সংঘাত,এমনকি দৈহিক সহিংসতা দিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী বলে চিহ্নিত সরকারেরা ঐ স্বাধীনতাকে পদদলিত করছে।

রিপোর্টে বলা হয়- পোল্যান্ড,হাঙ্গেরী এবং তুরস্কের মতো দেশগুলোতে যেখানে কিনা স্বৈরশাসন-আদর্শের জয় জয়কার, সেসব স্থানে ঐ সংবাদ স্বাধীনতা হ্রাস সবচেয়ে প্রকট রুপে পরিদৃষ্ট হচ্ছে।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী দেশগুলোয় এই যে হারে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা হ্রাস পাচ্ছে, যাঁরা বোঝেন, তাঁরা উদ্বিগ্ন হয়ে অনুধাবন করছেন ঠিকই যে, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাই যদি সুরক্ষিত না হয় তাহলে অন্য আর কোনো অধিকারেরই নিশ্চয়তা বিধান সম্ভব নয়- বলেছেন, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (RSF)-এর মহা সচিব ক্রীসটোফে ডেলোইর।

তথ্যসূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা।

দৈনিক আজাদী, বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ইং উপসম্পাদকীয় পাতায় কামরুন নাহার বাদল লিখেছেন,

সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা-কখনো কি সম্ভব?

আধুনিক রাষ্ট্রভাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা প্রায় সবটাই পশ্চিম থেকে ধার করা এটা স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা থাকা বাঞ্ছনীয় নয়। রাষ্ট্রের সংজ্ঞা, রাষ্ট্রপরিচালনার নীতি, রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ তথা-আইন, বিচার ও শাসন বিভাগ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র এমন অনেক কিছুর সাথে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি ইত্যাদি। ভারত যখন বিভিন্ন রাজা-বাদশাহ কর্তৃক শাসিত হচ্ছিল তখনও পশ্চিমা বিশ্বে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছিল এবং কিছু কিছু রাষ্ট্র সুসংগঠিতভাবেই পরিচালিত হচ্ছিল।

আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকর শাসন পদ্ধতি বলে স্বীকৃত যে গণতন্ত্র তা-ও পশ্চিমা দেশের অবদান। গণতন্ত্রের ধারণা, সংজ্ঞা ও তা চর্চার-শিক্ষাটি পশ্চিমা দেশ থেকে আহরিত। সেই গণতান্ত্রিক ও আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংবাদ মাধ্যমের (আগে সংবাদপত্র বলা হতো। এখন তার মাধ্যম বিস্তৃত হওয়ায় সংবাদমাধ্যম বলাই সঙ্গত) অবাধ স্বাধীনতার কথা স্বীকার করে বলা হয় গণতন্ত্র ও সমাজ বিকাশের স্বার্থে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা জরুরি। গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলে খ্যাত ব্রিটিস পার্লামেন্টের গ্যালারিতে উপস্থিত সংবাদপত্রের প্রতিনিধিদের লক্ষ করে অ্যাডমন্ড বার্ক বলেছিলেন, ‘তারা এই রাষ্ট্রের ফোর্থ স্টেট।’ এই ফোর্থ স্টেট সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে, ‘কদণ এমলর্রদ র্ণ্রর্টণ ধ্র টর্ ণরবর্ দর্ট ম্রের্ধধমভ্রর্ দণ রেণ্র্র ট্র ট তমলর্রদ ঠরটভডদ মত থমশণরভবণর্ভ টভঢ মভর্ দর্ট ধ্র ধবযমর্রটর্ভর্ ম ট তলভর্ডধমভধভথ ঢণবমডরটডহ’ অর্থাৎ আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগের বাইরে সংবাদ মাধ্যমকেও চতুর্থ অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এর অর্থ দাঁড়ালো একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকতে হবে।

এখন প্রশ্ন হলো একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা আছে কি-না। এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে আগে জেনে নিই সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা কী এবং তা থাকা আদৌ সম্ভব কি-না। একটি সংবাদ মাধ্যম দুভাবে শাসিত হতে পারে। সব সময় সরকারই যে সংবাদ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন তা কিন্তু নয়। সংবাদ মাধ্যমের মালিক এবং কখনো কখনো কর্মরত সংবাদকর্মীরাও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। পশ্চিম যে রাষ্ট্রগুলো থেকে আমরা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার তালিম নিয়েছি সেখানের অবস্থা কী? এই জায়গায় এসে কোনো জরিপের ফলাফল তুলে দিতে পারলে ভালো হতো কিন্তু তা-ও তাদের দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের হবে বলে দিতে ইচ্ছে হলো না। বরং সাম্প্রতিক কিছু উদাহরণ দিয়েই বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাই।

আমরা বিশ্বের কিছু বাঘা বাঘা সংবাদ মাধ্যমের সাথে পরিচিত। যেমন বিবিসি, সিএনএন, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, ইউ এস এ টুডে, রয়টার্স, এ এফপি, এপি, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, দ্য টাইমস ইত্যাদি। এ সংবাদমাধ্যমগুলো শুধু তাদের দেশেই নয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এদের প্রভাব অপরিসীম। কিন্তু এরাও কি সবসময় নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশন করে থাকে? ইতিহাস বলে থাকেনি। আমরা স্নায়ুযুদ্ধের সময়কাল থেকে লক্ষ করে থাকব ন্যাটোজোটভুক্ত দেশগুলি ছিল ইঙ্গ-মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্বারা প্রভাবিত যা কার্যত পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার ঘোরতর সমর্থক। স্নায়ুযুদ্ধকালে এসব সংবাদমাধ্যমের অন্যতম কাজই ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও তাদের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে নানা প্রকার অপপ্রচার করা। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর ইঙ্গ-মার্কিন এইসব সংবাদমাধ্যমেরও চরিত্র বদল হয়। মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক মার্কিন নীতির পক্ষান্তরে যা যুদ্ধনীতি, তার অন্ধ সমর্থক হয়ে ওঠা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক অন্যায়ভাবে ইরান ও ইরাকের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে নির্লজ্জভাবে সমর্থন করে গেছে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো ‘ইরাকে পারমানবিক ও রাসায়নিক অস্ত্রের অস্তিত্ব ও মজুদ আছে’ এই অজুহাতে বছরের পর বছর সেদেশে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য অবরোধ আরোপ করে কয়েককোটি নিরপরাধ ইরাকবাসীর জীবন দুর্বিষহ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে শিশুখাদ্যের অভাবে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যুও হয়েছে ইরাকে। শেষ পর্যন্ত যে মিথ্যা অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাক আক্রমণ করে। ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে বিচারের নামে প্রহসন করে হত্যা করে। একটি অন্যায় ও অসম যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে হাজার হাজার বছরের এই ঐতিহ্যময় দেশটিকে ধ্বংস করা হয়। পরবর্তীতে একই আচরণ করা হয় লিবিয়ায়। সেখানেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে হত্যা করা হয় লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মোয়াম্মার গাদ্দাফিকে। সে দেশেও যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে অন্যতম সমৃদ্ধ একটি দেশকে। সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর লক্ষ্যে সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের হাতে অর্থ ও অস্ত্র তুলে দিয়ে সেখানেও গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই যুদ্ধের কারণে লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্ততে পরিণত হয়েছে। নারী-শিশুসহ অসহায় নিরপরাধ মানুষগুলো শুধু নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনাহার অর্ধাহারে প্রচণ্ড বৈরী আবহাওয়ায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সীমান্তে রাত কাটাচ্ছে। এইসব দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশ অর্থাৎ ন্যাটো যে অন্যায় অবিচার করেছে তার বিরুদ্ধে কি দুলাইন লিখেছে পশ্চিমা কোনো পত্রিকা? যুদ্ধের ভয়াবহতা, নৃশংসতার পাশাপাশি এই যুদ্ধ কার কারণে ও কাদের ইন্ধনে চলছে তা কি সাহস করে তুলে ধরতে পেরেছে কোনো টিভি মাধ্যম।

ইরাক যুদ্ধ ভুল ছিল বলে ব্রিটিশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ারের স্বীকারোক্তির পর বিবিসি কি স্বীকার করেছে তাদের সংবাদ প্রচারে তারা নিরপেক্ষ থাকতে পারেনি? সিএনএন কি বুশের যুদ্ধরিতির সমালোচনা করতে পেরেছিল কখনো? ইরাক লিবিয়া এবং অধুনা সিরিয়ায় অন্যায় যুদ্ধের কারণে ওসব মিডিয়ায় কি কাউকে জবাবদিহির জন্য ডাকা হয়েছিল? বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল? বর্তমানে মিডিয়ায় কী ঘটছে তার নিরপেক্ষ সংবাদ কি আমরা পাচ্ছি? ইঙ্গ-মার্কিন বার্তা সংস্থা ও বিভিন্ন টিভি চ্যানেল দাবি করছে একটি পরিষদের মাধ্যমে তারা সিরিয়ার যুদ্ধের খবরাখবর সংগ্রহ করে থাকে। এ নিয়ে যে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে এর সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। ইরাক-লিবিয়া আফগানিস্তানের পর সিরিয়ায় এসে ন্যাটো প্রথমবারের মতো চ্যালেঞ্জে পড়েছে রাশিয়ার হস্তক্ষেপে। সিরিয়ায় এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় জারিজুরী ফাঁস হয়ে গেল সেখানে রাশিয়ার নাক গলানোর কারণে। এখন পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে প্রচার করে রাশিয়ার বিমান হামলায় কতজন বেসামরিক লোক মারা গেল তা নিয়ে। আরো বিস্তারিত  এখানে

নগ্ন ছবি প্রকাশ কি সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা?

মঙ্গলবার ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ বাংলা নিউজ২৪ডটকম ব্লগ পাতায় রাফসানজানি প্রীতম প্রশ্ন তোলেন শিরোনাম নগ্ন ছবি প্রকাশই কি সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা?  লিখেছেন,

কালকে banglanews24.com এর ওয়াব সাইটে “ সাম্বায় উদোম উদ্দাম রিও, জিকায় সতর্কতা চুম্বনে!’’শিরোনামে একটি সংবাদ প্রতিবেদন দেখলাম (প্রতিবেদনটির লিংক=http://tinyurl.com/zrcmke4)। সংবাদ প্রতিবেদনটিতে সংযুক্ত ছবি গুলো সবগুলোই রুচিশীল পাঠকদের কাছে আপত্তিকর , আশলীল ও নগ্ন যা উপমহাদেশীয় সভ্যতা ও সমাজের বিকাশের সাথে সাংঘষিক । ঐ নগ্ন ছবি প্রদশর্ন সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা কোন অংশের মধ্যে পড়ে না ও সেটি একটি আপরাধ তা আমি নিশ্চিত ভাবেই বলতে পারি । বাংলাদেশ ও পশ্চিমবাংলার কিছু সংবাদ মাধ্যমই প্রায় প্রায় এই ধরনের কিছু ছবি প্রকাশ করে থাকে । বাংলাদেশ সরকারের উচিত সংবাদ মাধ্যমের এই সব আশু লীলা নিয়ন্ত্রনে নীতিমালা প্রনয়ন ।

ফোবানি/হামিদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন