শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে টাকা বানানোর মেশিনে পরিনত করবেন না – ক্যাব চট্টগ্রাম

81
education_institutions_ctg

চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সাথে মতবিনিময় সভায় ক্যাব চট্টগ্রামের প্রতিনিধিবৃন্দ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে টাকা বানানোর মেশিনে পরিনত করার পদ্ধতি রহিত করার এ আহবান জানান। ক্যাব চট্টগ্রামের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়,

এক সময় জমিদার, বড় বড় শিল্পপতিরা শিক্ষার আলো বিস্তারের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে গ্রামে শিক্ষা আলো জ্বালিয়েছেন। আর বর্তমানে চালের আড়ত, মাছের আড়ত, রিয়েল স্টেট, গামেন্টস ও অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা করছে কিছু ব্যবসায়ী। আর এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের মালিকরা কথায় কথায় বলেন, আমি এতো টাকা বিনিয়োগ করেছি, আর সে টাকা আমাকে তুলতে হবে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পকেট থেকে। যার কারনে প্রতিষ্ঠানগুলি ভর্তিতে সরকারী নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে গলাকাটা ফিস আদায়, উন্নয়ন ফিস, ল্যাব ফিস, টিসির নামে পুরো বছরের ফিস আদায়সহ নানা নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে। এ অবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে টাকা বানানোর মেশিনে পরিনত করার বর্তমান পদ্ধতি থেকে বের হয়ে আসার জন্য দেশের শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও সচেতন জনগনের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। একই সাথে সরকারী-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম দূরীকরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের মাঝে নিয়মিত কার্যকর সংলাপ আয়োজনে অভিভাবক ফোরাম কার্যকর করা, শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় তদারকিতে নিয়োজিত সরকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি জোরদার এবং সেখানে ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে ক্যাব এর অংশগ্রহন নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বআরোপ করা হয়েছে। ১৮ এপ্রিল বিকালে নগরীর চট্টগ্রাম মাধ্যামিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রামে ভর্তি বানিজ্যে গলাকাটা ফিস আদায়, ভর্তি বানিজ্যে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিলের কারনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন, শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করনীয় নিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলামের সাথে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটির সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত আহবান জানানো হয়।

সভায় চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম, ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, সহ-সভাপতি সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, ক্যাব মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক এ এম তৌহিদুল ইলসাম, ক্যাব নেতা হাজী আবু তাহের, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, জানে আলম, জান্নাতুল ফেরদৌস, মোনায়েম বাপ্পি, ফারহানা জসিম, ক্যাব নেতা অধ্যাপক শাহনেওয়াজ আলী মির্জা, ইসমাইল ফারুকী, আবু ইউনুচ, ঝর্না বড়ুয়া, চকরিয়া সমিতির সাধারন সম্পাদক হামিদ হোসাইন, জহিরুল ইসলাম প্রমুখ আলোচনায় অংশনেন।

শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম ক্যাব এর দাবির প্রেক্ষিতে অতিদ্রুত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতায় নিবন্ধীকৃত এবং একাডেমিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সমুহের তালিকা বোর্ডের ওয়েব সাইটে ও পত্রিকায় প্রকাশ করা, প্রতিষ্ঠান সমুহে অনুমোদিত আসনের বিপরীতে নির্ধারিত পরিমান শিক্ষার্থীকে বোর্ডের পরীক্ষায় জন্য নিবন্ধন নিশ্চিত, একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিলকৃত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে যেন কোন প্রকার বিগ্ন না ঘটে সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের মাঝে যেন নিয়মিত কার্যকর সংলাপ হতে পারে সে জন্য অভিভাবক সভাকে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের আশ্বাস দেন। একই সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সমাজের অংশগ্রহনের অংশ হিসাবে ক্যাব এর কার্যকর অংশগ্রহন নিশ্চিত করার ঘোষনা দেন। প্রফেসর শাহেদা ইসলাম আরো বলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে টাকার গাছে পরিনত করেছে, তেমনি কিছু কিছু শিক্ষকও নীতি নৈতিকতা ভূলে শিক্ষকতা পেশাকে টাকার মেশিনে পরিনত করেছে। যার কারনে কোচিং বানিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় শিক্ষক নামের কিছু কলংক জড়িয়ে যাচ্ছে। যা পুরো শিক্ষক সমাজের জন্য লজ্জাজনক।

সুচনা বক্তব্যে ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন ভর্তি বানিজ্যে গলাকাটা ফিস আদায়, সরকারের কোন প্রকার স্বীকৃতি না নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, একাডেমিক স্বীকৃতি না থাকায় অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বোর্ড পরীক্ষা প্রদান, অভিভাবকদের সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন সংলাপ ও মতবিনিময়ের সুযোগ না থাকা, শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শক, জেলা, থানা শিক্ষা অফিসার ও পরিদর্শকরা বিদ্যালয়ের রুটিন পরির্দশনের স্থলে অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে যাবার কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়লেও তার সমাধান হচ্ছে না। অন্যদিকে চট্টগ্রামে কতগুলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে তার প্রকৃত তালিকা কারো কাছে নাই, কতগুলি অনুমোদিত বা অনুমোদিত নয়? যে যার ইচ্ছামতো পান-বিড়ির দোকানের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করছে। এ কারনে ভর্তি বানিজ্যে অভিযুক্ত ন্যাশনাল ইংলিশ স্কুলের একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিলের নির্দেশ দেয়া হলে জানা যায় এটি সম্পুর্ন অবৈধ প্রতিষ্ঠান যার কোন ধরনের স্বীকৃতি নাই। এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে চিন্হিত করা প্রয়োজন। আর এ ধরনের শত শত প্রতিষ্ঠান শিক্ষা বানিজ্য নিয়োজিত আছে। এরকম অনুমোদনহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চলমান থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, মাঝপথে অনেকেই নানা বিঢ়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। আর শিক্ষা প্রশাসনের লোকজন একে অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে দিবা স্বপ্নে বিভোর।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন