শহরবানু -পান্থজন জাহাঙ্গীর রচিত ছোট গল্প

248
shohorbanu_story

শহরবানু – পান্থজন জাহাঙ্গীর রচিত গল্প।

পান্থজন জাহাঙ্গীর, তরুন কবি, ব্লগার এবং গল্পকার। জন্ম: ১৫ ইঅক্টোবর, ১৯৮২,বাঁশখালীতে। লেখাপড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিলোসফিতে স্নাতকোত্তর। শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখি করেন। একজন মননশীল লেখক হিসেবে ইতিমধ্যে কুঁড়িয়েছেন প্রশংসা। স্বনামধন্য সংবাদপত্র ও লিটলম্যাগে প্রকাশিত হয়েছে অসংখ্য কবিতা, ছোটগল্প। বর্তমানে সক্রিয়  আছেন অনলাইন, নিউজ পেপার এবং ব্লগে। তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্প ” স্বপ্নগুলির মৃত্যু।”( দৈনিক পূর্বকোণ), প্রথম প্রকাশিত কবিতা “ফিরে থাকা”(লিটল ম্যাগ, মালঞ্চ), প্রথম প্রকাশিত অনুবাদ গল্প “রাজা” ( দৈনিক প্রথম আলো) ও রথম গ্রন্থিত কবিতার বই ( সম্মেলিত) : শূন্যের কবিতা( প্রকাশনায়: বাঙলায়ন, ঢাকা) — সম্পাদক।

চারদিকে পাহাড়। কোথাও উচুঁ,কোথাও নিচু। কোথাও কোথাও এরকম দু সারি পাহাড়ের মাঝখানে সমতল জমি। বেশির ভাগ জমি আগে খিল পরে থাকত। এখন জমিগুলো আবাদ হচ্ছে। বলা যায় নব্য আবাদ। নদীর করাল গ্রাসে সবকিছু হারিয়ে আসা মানুষদের এই জমিগুলো বছরে অন্তত একবার ফসল দেয়। তাও বর্ষাকালে। বর্ষায় পাহাড়ের ঢলে যখন জমিগুলো টুইটুম্বুর থাকে। এই এক ফসলা জমি;পাহাড়ের ঢালে পানের বরজ আর অদূরে কর্ণফূলী চা-বাগানে দিন-মজুরের কাজ-ই হচ্ছে নতুন লোকালয়ের মানুষের একমাত্র জীবিকা কিংবা বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন। এখানে বসতি তেমন ঘন নয়। পাহাড়ের টিলায় টিলায় এক একটি গোষ্ঠীর আবাস। কোন কোন  গোষ্ঠি সমুলে আসেনি। তবে সেখানেও কোন কোন পরিবার নদীর মায়া ছিন্ন করে চলে এসেছে। নদীর ঘোলাটে জলের কাদা আর মেছো আশঁটে  গন্ধের মায়া আজও ছাড়তে পারেনি।ছাড়বেই বা কি করে এই পাহাড় চূড়ার মাটি আজও টকটকে লাল, খানিকটা এটেল ও প্রচুর নুড়ি পাথরযুক্ত যা শস্য ফলানোর অনপযুক্ত।পাহাড়ী গাছ-গাছালি ছাড়াএই ভিটেমাটি এখনও নিষ্ফলা।এই পাহাড়ী মহল্লায় এ রকম পরিবার অনেকটা নির্জন, একঘরে। যেমন শহর বানুর পরিবার। স্বামী মাজেদ মিয়া আর বৃদ্ধ শ্বাশুড়ীকে নিয়ে নদীর করাল গ্রাসে সবকিছু তুলে দিয়ে বুকে অনেক সাহস নিয়ে এই কুন্ডুর পাহাড়ে আশ্রয় নেয়। তারপর দিন-রাত-তিন জনই হাড় ভাঙ্গা খাঁটুনি পাহাড়ের টিলায় ঝোপ ঝাড় পরিষ্কার করে, লাল, শক্ত পাহাড়ী মাটির সাথে পানি মিশিয়ে মাটির দেয়াল ও বাঁশ বেত দিয়ে তৈরী করেছিল একখানা কুটির। শহরবনুর এই কুটিরের বয়স এখন দু-বছর। তবে ভিটে মাটিতে পূর্ব থেকে থাকা কিছু পাহাড়ীবৃক্ষ এবং দু’চারটি বয়সী কাঠাঁল গাছ শহরবানুর কুটিরকে নতুনের মধ্যেও প্রাচীনত্বের ছায়া দান করেছে। এর মধ্যেই কাটছে মাজেদ-শহর বানুর মান অভিমানের লাল নীল সংসার। শ্বাশুড়ী মারা যাওয়ার পর থেকে তাদের সংসারে পরস্পরের প্রতি মান অভিমান ক্রমেই বাড়ছে।

দুই

 কাল সারা রাত শহর বানুর ঘুম হয়নি। একতো ভ্যাপসা গরম ও সাংসারিক মনো-মালিণ্য তার ওপর আবার যৌন ক্ষুধার তীব্র যন্ত্রনাও। তাই সকাল সকাল ওঠে,প্রতি দিনের রুটিন অনুযায়ী ঘরকর্ম সেরে,স্বামীকে প্রস্তুত করে কাজে বের করে দেয়। তারপর চাপকলের ঠান্ডা জল দিয়ে সমস্ত অঙ্গ ধুয়ে হাল্কা স্নো-পাউডার মেখে, ব্লাউজবিহীন সুতির শাড়িটি পরে চিৎ হয়ে শুয়ে পরল শহরবানু। নির্ঘুম সারারাতের ক্লান্ত দেহটি যখনই ঠান্ডা জলের স্পর্শে প্রান ফিরে পেল তখনই শহরবানুর বুক থেকে শাড়ির আঁচল খসে পরল। অন্যদিকে মাজেদ বদির পাহাড়ী বাগানে দা-কোদাল নিয়ে জঙ্গল পরিস্কার ও মাটি কর্ষনে ব্যস্ত। বিলাসী কোন মালীর চাকরী নয় বরং পেশির জোরে ঘাম ঝরানো সকাল সন্ধ্যা দিন মজুরের কাজ। মাঝখানে মধ্যহ্নে একবেলা আহারের বিরতি। তাও আবার নিজ ঘরে। দুই  প্রস্থ কাজ শেষ করে তৃতীয় প্রস্থের জন্য যখনই মাজেদ কোদাল তুলল ঠিক তখনই বদি বলল,“ মাজেদ মিয়া তুই হাম্ চালাই যা। আঁই তরলাই এককানা চা-পানি লই আইয়্যি।” এই বলে বদি দোকানে না গিয়ে সোজা সুজি মাজেদের বাসায় চলে আসে। এসে দেখে মাজেদের ঘরের দরজা খোলা। উঠানে কয়েকটা মুরগী ছানা চাল কুটছে আর খোপের মধ্যে একজোড়া কবুতর একটা আর একটার বুকে মাথা দিয়ে ডাকছে। বদি আর ডানে-বায়ে তাকাল না। ঘরে ঢুকে দেখে শহরবানু অর্ধাবস্ত্রাবস্থায় চিৎ হয়ে শোয়া। উদোম বুকে দুটি নগ্ন স্তন নিঃশ্বাসের তালে তারে উঠানামা করছে। পলকহীন চোখে বদি কিছুক্ষন বুঁদ হয়ে থাকে। এ রকম কত স্বপ্ন তার দু:স্বপ্নে পরিণত হয়েছে তার ইয়াত্তা নেই। সে এরকমই শহরবানুকে স্বপ্নে দেখতো। যেন উর্বর সবুজ বাগানের ফলজ বৃক্ষের ডালে মৃদু সমীরনে দোল খাওয় দুটি পরিপক্ক লক্ষণভোগ।বদি মূহুর্তের জন্যও আর দেরি করল না। ধবধবে সাদা মোলায়েম ধুতিসম লুঙ্গিখানা খুলে চিৎহয়ে থাকা ঘুমন্ত শহরবানুর বুকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। যৌনযুক্তির আনন্দে আদো জাগরণ শহরবানু বদি কে অক্টোপাসের মতো আকঁড়ে ধরে। বহুদিন পর শহরবানু অনুভব করে এক নরম মাংসপিন্ড যেন তার দেহের গভীরতম পথের অতল বিন্দু স্পর্শ করার চেষ্টা করছে। মিলনকাতর মৃতপ্রায় নদী যেন হঠাৎ করে তার গতি ফিরে পেল।

তিন

সঠান দেহ। তেজোদীপ্ত অসাধারণ পেশি বহুল বদির যৌন উদ্দামতায় শহর বানুর দেহ যখন ধীরে ধীরে শীতল হয়ে আসতে লাগল তখন শহরবানু বুঝতে পারল এ যেন তার হালকা পাতলা গড়নের মরুভূমির মৃতপ্রায় আগাছা সেই মাজেদ নয়। মাজেদের এ রকম হওয়ার তো কথা নয়। এ যেন ক্ষুধার্ত ব্যাঘ্র যে তার বহু প্রত্যাশিত শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এই ফাঁদ টপকানো সহজ নয়। এ হচ্ছে পাড়ার কুখ্যাত প্রভাবশালী বদিউজ্জামান ওরফে বদি। যাকে এলাকার লোক মনে মনে ঘৃনা করে বিভিন্ন অপকর্মে যুক্ত থাকার জন্য। অবৈধ চর দখল,এলাকার গরীব দুঃখী মানুষদের ফাঁদে ফেলে তাদের ভিটেমাটি দখল,মানব পাচার সর্বোপরী গাদ্দারী ও জোরপূর্বক প্রভাব বিস্তারের জন্য এলাকায় সে বিকৃত নাম বইদ্দ্যা ডাকাইত খ্যাতি পেয়েছে। দুর্বৃত্ত,দস্যু,লম্পট সেই শহরবানুর দেহ স্পর্শ করল। অবিশ্বাস্য, দুর্লভ,চটুল যৌন পুলক মূহুর্তেই মাটি হয়ে শহরবানুর সমস্ত শরীর ক্ষোভে অপমানে ,ঘৃনায় রিরি করে উঠলো।তাহলে কি এ মিলনে শহরবানুর সাই ছিলনা? সে কি খেয়ালে অ-খেয়ালে বদির চোখের ভাষাকে আশকারা দেয়নি? কারণে-অকারণে বইদ্দ্যার বদ নজরকে সে কি আগে প্রশ্রয় দেয়নি? বদি য়খন এই পাহাড়ে তার বাগানে আসতো তখন কি শহরবানুর কুটিরে সে উকিঁ দেয়নি? শহরবানু বদির চোখে চোখ কি রাখেনি? তাহলে একি চোরের মার বড় গলা? সে বইদ্দ্যার বুক থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে প্রশ্নবান ছুড়েঁ দিল “তরে এড়ে হনে পাঠাইয়্যে দে? তুই ন জানছ ইয়্যান হাঁর ঘর?” বদি লাম্পট্যের হাসি দিয়ে বলল, “আঁরে তর নেক্ মাজেইত্তা পাঠাইয়্যে দে। মাজেইত্তা নাকি তরে ভালা গরি চুদিত ন পারে,আঁরে চুদি বল্যাই …” বইদ্দ্যার এই কথা শুনে শহর বানু নিজেকে সতি সাজানোর আর মাজেদকে বশ করার মোক্ষম হাতিয়ার পেয়ে গেলে। সে আর দ্বিতীয় কোন প্রশ্ন করল না। সে উঠানে কাঠাল গাছে কপাঁল ঠেকিয়ে নিচের দিকে চেয়ে থাকে। বইদ্দ্যা বের হয়ে যাওয়ার পর সে আবার ঘরে ঢোকে। “নিজের মধ্যে বউ পোষার ক্ষমতা ন থাকিলে আঁওে ছারি দিত, এত বছর আঁইন থাকিনে , আঁই কি ধাই গিয়েইয়্যেনে? আজিয়া মাজেইত্তা আইওক্। আঁই ইতাত্তু পোছার লইয়্যম কিয়ল্লাই বইদ্দ্যারে আঁর হাচে পাঠাইয়্যে? নিঃসন্তান শহরবানু মাজেদের ওপর ভিষণ অভিমান করে। এ এক মিথ্যা অভিমান।সে স্বামীকে যেন রিমান্ডে নেয়ার জন্য জেদ ধরে। তাছাড়া সংসারে প্রায় দাম্পত্য কলহের জের ধরে এক অপরকে সন্দেহ করত। বিশেষ করে মাজেদের চেয়ে শহরবানুর যৌবন জীবনে তেজ বেশী থাকায় মাজেদ কথায় কথায় তাকে পর পুরুষের সাথে তুলনা দিত। সেই সন্দেহ যে ভুল ছিল তা প্রমান করতেই আজ নিজের সতীত্বের জলাঞ্জলি দিয়ে অপ্রকাশিত গোপন তথ্যকে ফাঁস করে কলঙ্কের তক্মা মাজেদের গায়ে মাখানোর জন্য শহরবানু বসে আছে। কিন্তু অকর্মা, আহাম্মক,দূর্বল,অক্ষম এই পুরুষের কাছে এই চটুলা নারীর ভবিষ্যত কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা এক মূহুর্তের জন্যও ভাবলনা। তাছাড়া উপায়ও নেই। আফ্রিকার এই কালা বন্য যে ফাঁদ পেতেছে বরঞ্চ অপ্রকাশের গোপন যন্ত্রণয় দলছুট হরিণীর মতো তাকে মাঝে মাঝে যে শিকার হয়ে থাকতে হবেনা তার নিশ্চয়তা বা কোথায়? তখন মাজেদের কাছ থেকে বাঁচতে পারলেও শরীয়তের পাথর থেকে যে বাঁচতে পারবে না। সুতরাং এসপার ওসপার যাই হবে তা এখনই হোক।

চার

অর্ধদিনের ক্লান্তি মাথায় নিয়ে কোদাল কাঁধে করে মাজেদ যখন ঘরে ঢুকছে তখন দেখলো শহর বানু ঢুক গিলছে। পা দু’টো দরজায় ছড়িয়ে দিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। কি অভিমানে শহরবানু কাদছে তার গুরুত্ব না দিয়ে মাজেদ প্রশ্ন করে ‘‘তর কি অইয়্যে আবার? হাঁদর ক্যা?” সাথে সাথে গোপনীয়তার সকল আবরন ছিন্ন করে একটি  শ্লেষযুক্ত উত্তর বেরিয়ে আসলো ,“না হাঁইমদোমনে যে অষ্ট্রেলিয়ান বলদ পাঠাইয়্যচ”।এবার মাজেদ ভাল করে শহর বানুর দিকে তাকাল। আলু-তালু চুল , অগোছালো কাপড়ে শহরবানুকে দেখে মাজেদ আর বিলম্ব করল না , কাঁধের গামছাটা কোমরে শক্ত করে বেঁধে কোঁদাল উঁচিয়ে হালার পুঁত বলে বইদ্দ্যার বাড়ীর দিকে ছুটে গেল। আর এতেই শহরবানুর কলঙ্কের কথা কাহিনী হয়ে বৃহৎ রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ল। ফলশ্রুতিতে শহরবানু আর সতী থাকতে পারল না।

প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বইদ্দ্যার বাড়ী। বাড়ির চারদিএক পাকা দেয়াল। একটাই গেইট। গেইটে গ্রিলের দরজা। ভেতরের দিকে তালা । দুই সন্তানের জনক বইদ্দ্যা বেশ সময় মধ্যপ্রা”্যওে কাটিয়েছে। মাজেদ বইদ্দ্যার আলীশান ভবনের সামনে গিয়ে শক্তি হারিয়ে ফেলে। সে দেখে ভেতরের দিকে ইয়া বড় একটা ষ্টিলের তালা ঝুলছে। বিকালের কড়া রোদে চিক্ চিক্ করছে তালাটির গাঁয়ের আরব্য বিয়ালের মেদ। নিরূপায় মাজেদ দরজায় দমাদম দু’টা বারি দিয়ে বৃথা আস্ফালন করে চলে আসে।বাড়ি ফিরে সে শহরবানুকে বেদম প্রহার করে। সাথে চলে  অজস্র গালি গালাজ“ মাগির জাত, ছুতমারানী,পেট ভাজানী হউত্তো। তুই আঁর হান্দানর গৌরব নাশ গইজ্জচ, তুই এহন আর গরত্তো বাইর অইজা। আঁই ছুদানীর পোঁয়া মাড়ত্ হাম্ গইত্তে গইত্তে মরি জাইর গই, রতরে রত ন চাইর আর তুই গরত আলগা বেড়াল্যাই খেলা হর। যা, যাগই, তর এরইম্যা বউ আঁর তো ন লাইব।

প্রতিবেশী সোফিয়া শহরবানুর মাথায় পানি ঢালে। হুঁশ ফিরলে তাকে লেবুর শরবত খাওয়ায়। মাজেদ আস্তে আস্তে ঠান্ডা হয়। এবার শহরবানু চিৎকার করে ওঠে “যাইয়াম বয়ই, তর ভাত না হাইয়্যাম। আর কেয়ালত দুখ আচ্ছিল যেই তর এরইম্য বেড়ারে বিয়া গজ্জিলাম যে। তর মদ্দামী আছে না বেড়া? চঁইয়্যা ছারা গওঁর। আগে দুয়া বিয়া গই্জ্জচ। এ দুনোয়াও দাইয়্যে। এনে দাইয়্যে নে বেড়া? তর শরম ন লাগে? মরি যইছনা?”। এই বলে ফুঁপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদে।

মাজেদ আর কাজে গেল না। সে দু’ চোখের জল ছেড়ে দেয়। সে এবার ভাবতে থাকে। তাহলে কি বইদ্দ্যা বেকার দিনের সেই দু এক সের চাল কিংবা আশি- একশ টাকা বাজার খরচের অগ্রিম মজুরি পাওনার সুযোগ নিল? নাকি শহর বানুর ই এই কামকান্ডে পূর্ব সাই ছিল? একি ফাঁদ নাকি পরকিয়া? নাকি বানু লীলা? না হলে সে মাজেদ কে কেনই বা নপুংসকের তুলনা দিল?শান্ত শিষ্ট, নিরীহ স্বভাবের মাজেদ। ক্ষিণ-কায়,দুঃখী শরীর। এলাকার কারো সাথে তার বিবাদ নেই । এই দুঃখ-দারিদ্রে জর্জরিত সংসারে আগেও দু’টা ববিয়ে করছিল। একটাও টিকেনি। বিদায় নিয়েছে। শেষমেষ তার বাবা সয়ফুল মূলুক কর্নফুলীর দক্ষিণ পার থেকে তৃতীয় বউ হিসেবে শহরবানুকে নিয়ে আসে। সয়ফুল মুলুক যখন কর্নফুলী নদীতে সাম্পান বাইতো তখন শহরবানুর মায়ের পান তামাকের আবদার ফেলতো পারতোনা। তাদের মধ্যে এত ভাল খাতির ছিল যে মাঝে মধ্যে গাছের ডাব ও ঝুনা নারিকেল ও সয়ফুল মুলুকের জন্য রেখে দিত। বিয়াইনের মর্যদা দিয়ে সয়ফুল মুলুকও তার প্রতিদান দিয়েছিল। এ দু’ জন মাজেদ-শহরবানু কেও ওয়াদা করিয়েছিল যে একজন যেন আরেকজনের গেলাসের সরবত খেয়ে মরে। কিন্তু ক্ষুধা দারিদ্রের সংসারে যেখানে ক্ষুন্নিবৃত্তি ও বনিবনা মহা দায় সেখানে সুখের কাটির নাগালপাওয়া বড়ই দুঃসাধ্য হয়ে যায়। মাজেদের ভিতর থেকে কিছু অজগরি নিঃশ্বাস বের হয়ে যায়।

পাঁচ

রাতে মাজেদ খেয়ে ঘুমাতে যায়। কিন্তু শহরবানু খায়নি। সে বসে রইল। হঠাৎ তার মধ্যে শোক উতলায় উঠল। সে মা’র নামে বিলাপ ধরল। তার বিলাপের সাথে সাথে খোপের কবুতর জোড়াও ডেকে ওঠে। মাজেদ ও ঘুম আসেনা। সে পান চিবায়। শহরবানুর বিলাপে তার মনটাও কোমল হয়ে আসে। তার জন্য মাজেদের সহানুভূতি ও অনুতাপ প্রকট হয়। অবশেষে মাজেদ ডাক দেয়‘‘ শহরবানু এই শহরবানু…” শহরবানুর কান্না আরো বেড়ে যায়।

শহরবানুর বিলাপ দীর্ঘতর হতে দেখে মাজেদ বিছানা থেকে উঠে শহরবানুর পাশে এসে দাড়াঁয়। তার পর বলে “অইয়্যে আর না হাঁদিচ। উঠ ভাত হায় ল। ভাত হায় রে ঘুমাইতে আয়।” অবশেষে তার কান্না থামে কিন্তু ভাত খায় না। সে বিছানার এক পাশে গিয়ে শুয়ে থাকে। সারাদিন উত্তপ্ত রোদ টেনে পাহাড় ঘুমায় আর সেই পাহারের টিলায় নির্মিত শহরবানুর কুটিরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে ধেয়ে আসা ঝিরঝির বাতাসে নিরবতা নেমে আসে। মাজেদ ধীরে ধীরে গা ঘেষে শহরবানুর কপালের ওপর হাত তুলে দেয়। সাথ সাথে শহরবানু চেঁচিয়ে ওঠে।“আঁই তো বেশ্যা মাগি। আঁর কোয়ালত হাত রাখি লাভ নাই।”

মাজেদের চেয়ে লম্বা ,ছিমছাম,বুক উচা গায়ের রং ফর্সা একহারা চেহারার গড়ন ,বড় লাস্যময়ী ,রাজহাঁসের মত গ্রীবা।এই হচ্ছে শহরবানুর দেহ রূপ । গরীবের ঘরের অতি সুন্দরী মেয়ে। মাজেদ জানে একমাত্র বাবার কারনে তার সাথে এই মেয়ের জোড় বন্ধন হয়েছে। তাই আগের গুলোর চেয়ে এই বউয়ের প্রতি তার ভালবাসা ও অন্যরকম। এই বউয়ের প্রতি সে যথেষ্ট দূর্বল। তার পরেও মাজেদের সংসারে এই শহরবানু কিছু একটার অভাব বোধ করে।বিশেষ করে আজকের ঝগড়ার পর থেকে এই অভাব বোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

শহরবানু জানে মাজেদ তাকে কিছুতেই ছাড়বেনা। মাজেদও প্রায় তাকে বলত,“তুই অয়দ্দে আঁর শেষ বউ। তুই জীবনেও আঁর, মরণেও আঁর। শেষ হাড়াইল্লা তুই যদি  হনোদিন আঁরে ফেলাই যচ্গই তইলে আঁই ন বাইচ্চ্যম।” পরের দিন  হোসেন মাষ্টার, বইদ্দ্যা ও শহরবানুর ঘটনার বিচার করে দেয়। এ বিচার হচ্ছে আপসের বিচার অর্থাৎ এ যাত্রায় তাদেরকে সংসার করতে রাজি করাল।তবে শহরবানুর প্রতি ভবিষ্যতের জন্য কঠোর হুশিয়ার বাণী উচ্চারণ করল হোসেন মাষ্টার।বিচারে মহল্লার আরো দুইজন  লোক উপস্থিত ছিল। তাদের একজন হচ্ছে আবুল ও এয়াকুব। এরা দু’জন মাষ্টারের দুইপাশের চেয়ারে বসে মাষ্টারের সাথী হিসেবে তার  ফয়সালাকে সায় দিয়ে যায়। বিচার শেষে দু’টি পাঁচশ টাকার নোটও তারা শরবানুর হাতে গুঁজে দিয়ে চোঁখ টেপে দেয়। শহরবানু চোখের এই ভাষা ভাল করেই বোঝে।সে জানে তার হারানো ইজ্জতের দাম কখনো এক হাজার টাকা হতে পারেনা। সে এই দু’জনকে চেনে। আবুল চালের ব্যবসায়ী। ঘরে বউ আছে কিন্তু নিঃসন্তান । নিঃসন্তান এই লোক এয়াকুবের ভাল বন্ধু। জুয়াখেলা ও মদ্যপানের সাথি। এয়াকুব হচ্ছে বিদেশ ফেরত। বিবাহিত।দুজনই বিত্তশালী ও এলাকার স্ব ঘোষিত মোড়ল। রাতে জুয়ার আসরে যাওয়ার সময় সিগারেটের আগুনের বায়না ধরে শহরবানুর নিকট আসত। শহরবানু চুলার পাশ থেকে দেয়াশলাইটা সযত্নে তাদের হাতে তুলে দিত।

পর পর মাজেদ বহু চেষ্টা করেও শহরবানুর অভিমান ভাংতে পারেনি। সে এখন ভাবছে এটা কোন অভিমান নয় বরং এ হচ্ছে তার প্রতি চরম ঘৃনা। মাজেদ ভাবে এই ঘৃনার উদ্রেককারী কি  নাকি অন্য কেউ? মাজেদের সন্দেহ তীব্র থেকে তীব্র হয়।

পরের রাতে মাজেদ ঘুমায়না। সে ঘুমানোর ভান করে শুয়ে থাকে। এদিকে শহরবানুর ভেতরে যৌন আকাঙ্খা চাঙ্গা হয়ে ওঠে। সে তার প্রতিটি লোম কূপ ঘষে ঘষে বইদ্দ্যার সাথে সেই বিরল সঙ্গমের কথা কল্পনা করে আর তার সাথে যোগ করে এয়াকুব ও আবুলের চোখ টেপার নতুন রহস্য। তার জন্য মাজেদের সংসার এখন বড় ফাঁদ। তার ভেতরের চড়–ই পাখি মাজেদের পিঞ্জর থেকে বের হওয়ার জন্য ডানা ঝাপ্টায়। মাজেদ তারকাছে এখন ধোয়া তুলসিপাতা।

ছয়

চাঁদনী পসর রাত। কাঁঠাল পাতাগুলি বাতাসে পতপত করছে। বেড়ার ফোকর দিয়ে চাঁদ রশ্মি তির্যকভাবে ঘরে ঢুকে পরছে। শুনশান নিরবতা। এক কাব্যিক রাত। শহর বানু উদ্ধত গোখরার মতো মাথাতুলে একবার মাজেদের দিকে তাকায়। মাজেদের অভিনয়ের শ্বাস-প্রশ্বাস তাকে স্বাভাবিক ঘুম এনে দেয়। এবার শহরবানু কোমরে আঁচল বাধেঁ। অদূরে এয়াকুব টর্চের আলো ফেলে তার অবস্থান পরিস্কার করে। এয়াকুব রাতের জুয়াখেলায় অনেক হেরেছে কিন্তু এই জুয়ায় সে হারতে চায়না। শহরবানুর উপর অনেক আগ থেকেই তার চোখ পরেছে। কিন্তা দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে পারেনি। আজ রাত হবে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ জুয়াখেলার রাত। এ খেলায় আবুলও আছে। তবে প্রতিপক্ষ নয়; পক্ষ।

শহরবানু বদনাটা  হাতে নিয়ে বের হয়। মাজেদ চোঁখ খুলল। “আসলেই কি শহরবানু পায়খানায় যাচ্ছে? মাজেদ নিজের হ্যাঁ না ভোটে কালক্ষেপন করে। কিন্তু ততক্ষনে শহরবানু চম্পট দিল। যে রাস্তায় পিপড়া একবার চিনির স্বাদ পেয়েছে , সেই রাস্তায় সে তো হাঁটবেই। এয়াকুব সআদরে শহরবানুর গালে একটা চুমু বসিয়ে দেয়। তারপর প্রপ্তির দূর্লভ আনন্দে গনিমতের মালের মতো তাকে কাধে তুলে বীরদর্পে হেঁটে উম্মুক্ত আকাশের নিচ দিয়ে গোপনদূর্গে নিয়ে যায়।

মাজেদ বিছানা থেকে প্রথমে দরজায় দাঁড়ায়। এরপর উঠানে পায়চারী করতে থাকে। না বিলম্ব আর সয়না। এবার মাজেদ লন্ঠন জ্বালিয়ে পায়খানায় উঁকি মারে। দেখে শহরবানু পায়খানায় নেই। এ বার মাজেদের রক্ত মাথায় ওঠে। টেনশনে সে মাথার চুল ছিড়ে। অবশেষে সে আরেকবার ঘরের চারদিকে খোঁজাখুঁজি করে। না, শহরবানু মাজেদের ত্রিসীমানায়ও নেই। মাজেদের মাথা থেকে যেন আগ্নেয়গিরির অগ্নি বাষ্প বের হচ্ছে। মাজেদ বুঝতে পারে এবার আসল নাটের গুরুকে।

অবশেষে মাজেদ পাহাড় সম কৈফিয়তের মিথ্যার বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুমাতে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দু’জনের মধ্যে এক প্রস্থ ঝগড়াঝাটি হয়ে যায়। প্রতিবেশি সুফিয়াকে মাজেদ তার জ্বালা-যন্ত্রনার সাতকাহন শুনতে বাধ্য করে। কিন্তু সুফিয়া তেমন গুরুত্ব দেয় না। কারণ সে মনে করে আগের ঘটনার রেশ দু’জনের আজও রয়ে গেছে। তাই তারা পরস্পরকে দোষারোপ করছে। তাই গতরাতের ঘটনার ঘটনার সত্যতা মানতে সে রাজি নয়। তবে বিধবা সুফিয়া শহরবানুকে মাজেদের কাছ থেকে মাফ চাওয়াই নেয়। মাজেদ ক্ষমা করে দেয়। তারপর দু’দিন শহরবানুর সাথে মাজেদের সম্পর্ক ভাল যায়। তবে মাজেদের বামপাশে থাকি থাকি বিষযন্ত্রনা উপচাই ওঠে। একতো লোক সমাজে পুরুষত্বের খর্বতা তারপর শহরবানুর অবাধ্যতা। তাছাড়া শহরবানুর কলঙ্ক মানেই তো মাজেদের কলঙ্ক।

সাত

আজ রাতে মাজেদের প্রতি হঠাৎ শহরবানুর দরদ যেন বেড়ে গেল। সে অন্য দিনের চেয়ে আজ ফুরফুরে মেজাজে ভাত-পানি রান্না করে। মাজেদ আসার সাথে সাথে তাকে গামছা, পানি হাতে তুলে দেয়। তারা অনেকদিন পর খেতে বসে। খাওয়ার পর পানের বাটাটা কাছে টেনে নিয়ে শহরবানু সুপারি বের করে। এরপর সে একটা সুপারির চিল্কা ছাঁচে আর মাজেদের সাথে বিয়ের স্মৃতি-বিস্মৃতির কথা তোলে। মাজেদ পান চিবায় আর মাঝে মাঝে শহরবানুর কথায় সায় দেয়। কিছুক্ষন পর শহরবানুও এক খিলি পান মুখে পুরে দেয়। তারপর তর্জনী দিয়ে চুনের বোতল থেকে চুন খসে মুখে দেয়। পান রসে তার ঠোট আনারের মত লাল হয়ে যায়। মাচা থেকে সে সুগন্ধি তেলের বোতলটা নামায়। এরপর দুইবার হাতের তালুতে তেল নিয়ে সে মাথায় মালিশ করে আর বলতে থাকে ; বদ্দিন অই  গিয়্যেগই মাথায় তেল ন দিতদে।” এরপর মাথায় চিরুনি চালিয়ে চুলগুেিক পেছনে ফেলে  ফিতা দিয়ে বাঁধে। একগুচ্ছ অসম চুল শহরবানুর কপালে আচড়ে পরে। ফর্সা মুখের এক কোনায়  একটি ছোট্ট তিল তার অবস্থান পরিস্কার করে। কানের লতিতে মাজেদের দেয়া একমাত্র নিশানা একজাড়া দুল ঝিলিক দিচ্ছে। মাজেদ বিছানায় দুই হাতের বন্ধনীর ওপর মাথা রেখে অপলক দৃষ্টিতে শহরবানুর দিকে চেয়ে থাকে। শহরবানু জিজ্ঞেস করে ,“কি চাইতো লাইগ্য দে?” মাজেদ কোন উত্তর দেয়না।একটু মুচকি হাসি দেয়। আর এই হাসির মধ্যেই গুম হয়ে রইল রাজ্যের যতসব দাম্পত্য কলহের গোপন সন্দেহ। এই সন্দেহের দূর্গ ভেদ করা শহরবানুর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ল।

অবশেষে শহরবানু মাজেদের পাশে গিয়ে শোয়। একটি হাত মাজেদের বুকে রাখে। নির্মেদ হাড্ডিসার মাজেদের বুকের কোমল লোমগুলেতি সুড়সুড়ি দেয়। মাজেদের হার্টবিট টের পাচ্ছে সে। কিছুক্ষন নিরব থাকার পর সে খুঁনসুটি দেয় কিন্তু তা নিতান্তই একতরফা। কিন্তু সে বুঝতে পারেনা যে মাজেদ আজ রাতে তার  অতন্দ্র প্রহরী।

আট

রাত চলে যাচ্ছে। মাজেদের  আরামের ঘুমের রাত । কর্ম-ক্লান্ত মাজেদের চোঁখের পাতায় ঝরঝর করে ঘুম ঝরে। উপায়ান্তর না দেখে মাজেদ অতি সন্তর্পনে তার লুঙ্গির সাথে শহরবানুর আঁচল দিয়ে গিট্টু দেয়। তার পর আরামে ঘুম নাক টান দেয়।এদিকে আবুল-এয়াকুবের অপেক্ষার যন্ত্রনা শেষ হয়না। তারা ঘরের চালে টর্চের আলো ফেলে। শহরবানু টের পায়। মাজেদ নাক ডাকতে শুরু করলে শহরবানু উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করে। কিন্তু মাজেদের লুঙ্গির সাথে তার শাড়ীর আচলের বন্ধন তাকে শুয়ে থাকতে বাধ্য করে। ফলে সে আবার বালিশে মাথা দেয়।

এবার শহরবানু তার জীবনের ঝুঁকি নেয়। এ ঝুঁকি লাভ ক্ষতির দুটোরই  আশংকা রয়েছে। এই ঝুঁকি জীবনের শ্রেষ্ঠ ঝুঁকি। সে উঠে বসে। সাথে সাথে একটি নেঁটি ইঁদুর মাজেদের উপর দিয়ে দৌড় মেরে অদূরে খালি টিনের জগের সাথে ধাক্কা খায়। শহর বানুর বুকটা ধকপক করে ওঠে। তারপর সে আবার মাজেদের বুকের পোষ্ট মর্টেম করে । তারপর লুঙ্গি থেকে তার আচলের বন্ধন ছিন্ন করে। এরপর  সিঁধেল চোরের মত এক পলক স্বামীর দিকে তাকিয়ে দরজা খুলে অতিসন্তর্পনে খালি পায়ে কাঠাল গাছের তল দিয়ে গিয়ে আবুলদের সাথে মিলিত হয়। সাথে সাথে মাজেদও বিছানা থেকে উঠে শহরবানুর গতি বিধি লক্ষ্যকরে। কিন্তু তেমাথায় আবুল  এয়াকুবদের দেখে সে আর আগানোর চেষ্টা করে না। তাদের শক্তির কাছে মাজেদ নিতান্তই একটা মাকড়সা। একটা ঢলা দিলেই শেষ। একথা মাজেদের বুঝতে আর বাকি থাকেনা। অবশেষে সকল আশংকা ,সন্দেহ,দূর্বলতা ও কলঙ্কের তক্মা এক বিন্দুতে মিলিত হয়ে মাজেদের ভেতরের খুনের নেশাকে গাঢ়তর করে তুলল। আত্মলজ্জার অসহ্য যন্ত্রনায় নিরূপায়, সর্বশান্ত মাজেদ এবার বারুদের মতো জ্বলে উঠল। তফাজ্জলদের পাহাড়ে কাজ করার জন্য পিটিয়ে রাখা চকচকে ধারালো দা-টা সে বের করল।  তারপর শান্ত্রী প্রহরীর মতো ঘরের দরজার আড়ালে বসে রইল।

হার জিতের যুদ্ধে যেদিন থেকে হারছে মানুষ, মাঠে-ময়দানে, শৌর্ষ-বীর্যের কাছে,পরাজিতের সে বেদনা প্রকারান্তরে সামষ্টিক স্রোতে ব্যবৃত হয়ে যায়। কিন্তু ব্যর্থতার যে প্রকট বেদনা নগ্ন চোরের মত লজ্জার পাহাড় ডিঙ্গায়; যাতনার সে দহন যতদিন প্রশমিত হবে না ততদিন তার আবরনে নগ্ন চোরের চৌর্য প্রবৃত্তির তক্মা লেগে থাকবে।

নয়

জোছ্না রাত। শুকতারা ধীরে ধীরে পূর্বাকাশে হেলে পরছে। ঝিঁ-ঝিঁ পোকার মৃদু ডাক ও পাহাড়ী বাতাসের তীব্রতা কম্ছে। কাঁঠাল গাছে একটি ঘু-ঘু পাখির নিরবিচ্ছিন্ন আর্তনাদের পরিসমাপ্তি একটি রাতের শেষ প্রহরের ঘোষাণা করছে এবং তার সাথে শেষ হলো মাজেদেরও একটি প্রতীক্ষার প্রহর।

(এছাড়াও পূর্বে প্রকাশিত গল্প লালু ও কাঠবিড়ালী পাঠকদের জন্য)

পান্থজন জাহাঙ্গীর


লেখক, গল্পকার

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন