মোটর বাইক চুরি, অবিশ্বাস্য পাঁচ কিশোর চোর, পুলিশী তৎপরতায় উদ্বার হলো মোটর বাইক

511
motor_byke

নগরীতে ইদানিং হরহামেশাই ঘটছে মোটর বাইক চুরি।শখের মোটর বাইকটি রেখে আপনি গেলেন প্রয়োজনীয় বাজার বা অন্যকোন জরুরী কাজে। এসে দেখেন রাস্তার পাশে পার্কিং করা নিজের সখের মোটর বাইক মুহুর্তেই হাওয়া।

তেমনই একটি ঘটনায় গত ১৯ মার্চ নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন প্রবর্তক মোড়ে চুরি হয় একটি fz-Fazer মোটর বাইক। বাইকটির মালিক স্থানীয় পিডিবির প্রকৌশলী কায়েস। অন্যান্য দিনের মতো প্রবর্তক মোড়ে কোকোলোকো রেষ্টেুরেন্টে কফি খেতে বসেন। সামান্য কফিইতো খাবেন। শখের মোটর বাইক স্টার্ট বন্ধ করে শুধুমাত্র চাবি নিয়ে নেমে পড়েন। কফি খেতে আর কত সময় লাগবে, এই ভেবে বাইকের হাইড্রোলিক লকটি না লাগিয়ে সোজা গিয়ে কফির অর্ডার দেন। কফি খেতে সময় নেন পাঁচ মিনিট। কিন্তু অবিশ্বাস্য মুহুর্তেই হাওয়া মোটর বাইক। না, নেই, কোথাও নেই শখের মোটর বাইকটি । নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না কায়েস। কি করবেন বুজে উঠতে পারছিলেন না। এখানেই তো ছিলো! এদিক-ওদিক অনেক খোঁজাখুজি করলেন। নেই, মোটর বাইকটি। এবং কোথাও পেলেন না মোটর বাইক। বুজতে আর বাকী থাকলো না। চুরি হয়ে গেছে সখের মোটর সাইকেল fz-Fazer।

অগ্যতা আইনের সহায়তা নিতে ছুটে গেলেন পাঁচলাইশ থানায়। জিডি এন্ট্রি করলেন। আবার ফিরে এলেন প্রবর্তক মোড়। চেনা-জানা কেউ যদি ফিরিয়ে নিয়ে আসে হারিয়ে যাওয়া মোটর বাইকটি! কিন্তু কোন আশার প্রদীপ জ্বলে উঠল না। এক সময় রাত হয়। কায়েস ফিরে যান গন্তব্যে। সারা রাত ঘুম আসে না। নিজেকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না। এটা কিভাবে সম্ভব! কষ্টের টাকায় কেনা মোটর বাইকটি এভাবে চুরি বা হারিয়ে যাবে। এটা হতে পারে না। যেভাবেই হোক মোটর বাইকটি খুজে বের করতেই হবে। যেই ভাবা সেই কাজ।

পরদিন ছুটে গেলেন ডিবি অফিসে। জিডির কপিসহ ডিবিতে অভিযোগ করলেন। নগর গোয়েন্দা অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টর রাসবি খান, একটানা ১২ দিন তথ্য সংগ্রহ করে, বিভিন্ন ছোট-বড় অভিযান চালিয়ে অবশেষে উদ্বার করেন মোটর বাইকটি। রাতের আঁধারে অভিযান চালাতে গিয়ে আহতও হন উদ্বার অভিযানের জনৈক পুলিশ সদস্য।হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় ঐ পুলিশ সদস্যকে।

কিন্তু আশ্চার্য হওয়ার মতো তথ্য হলো মোটর বাইকটি চুরি করেছেন পাঁচ জনের একটি কিশোর দল। নগরীর বায়েজীদ এলাকা থেকে এই চোরের দলকে গ্রেপ্তারও করা হয়। মোটর বাইক উদ্বার অভিযানের তদন্ত কর্মকর্তা একটি ভিডিও ফুটেজ খুজে পান। কোকোলোকো রেষ্টুরেন্টের পাশেই রয়েছে শেভরন। এই শেভরনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চোরদের সনাক্ত করেন। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হাটহাজারী থানার জনৈক চোরাই মোটর বাইক ক্রেতার কাছ থেকে মোটর বাইকটি উদ্বার করেন।

মোটর বাইক চুরির এই কিশোর দলের দলনেতা নাফিজুল ইসলাম জিহান। বয়স ২০ বছর। অন্য সদস্যরা হলেন যথাক্রমে নাফি (২১), আলামিন (২৫), রুপম(২৪) এবং অন্যজন চোরাই মোটর বাইক ক্রেতা ফটিক ছড়ির জনৈক এরশাদ(২৬)। মাত্র ৭৮ হাজার টাকায় কিনে নেন চুরি করা এই fz-Fazer মোটর বাইকটি, অথচ মোটর বাইকটির বর্তমান বাজার মুল্য প্রায় ৩ লক্ষ টাকার উপরে। পুলিশের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়,‘‘দলনেতা হিসেবে জিহান মোটর বাইক চুরির নেতৃত্ব দেন। নগরীতে চুরি যাওয়া অনেক মোটর সাইকেল চুরির সাথেই এরা জড়িত।” শুধু তাই নয় এদের প্রত্যেকের পারিবারিক পরিচয় জানলে আপনি অবাকই হবেন! দু’একজনের বাবা-চাচা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচ্চ পদে কর্মরতও আছেন।

সর্বশেষ খবর চোরের এই দল বর্তমানে জেল হাজতে জামাই আদরে আছেন। মোটর বাইক মালিক কায়েসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন,“আমি সর্বপ্রথম কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি মহান আল্লাহর দরবারে। এবং অবশ্যই আমি বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের নিকট কৃতজ্ঞ এবং অবশ্যই ধন্যবাদ জানাই শেভরন কর্তৃপক্ষকে।

কিশোর দলের সবার পরিচিতি সহ বিস্তারিত প্রতিবেদন আসছে খুব শীঘ্রই। চোখ রাখুন ফোকাস বাংলায়

ফোবানি/রানা সাত্তার

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন