মিল্কভিটা দুগ্ধ শীতলীকরণ-নোয়াখালীতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তিন বছরেও নির্মাণ হয়নি স্থায়ী কারখানা

86
milk_vita_noakhali_project

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ হয়নি মিল্কভিটার দুগ্ধ শীতলীকরণ প্রকল্পের আওতায় স্থায়ী কারখানা। ফলে এখনও ভাড়া টিনের ঘরেই অস্থায়ীভাবে চলছে দুগ্ধ শীতলীকরণ কারখানার কার্যক্রম। এতে প্রতি মাসে সংশ্লিষ্টগন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপশি স্থানীয় ছোট-বড় খামারিদের লালিত স্বপ্ন পুরণ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। নতুন করে অনেকের খামার গড়ার ইচ্ছেটাও দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে মনে করেন এলাকার জনগন। এলাকায় সরেজমিন ঘুরে রিপোর্টটি করেছেন দ্বীপ আজাদ।

মিল্ক ভিটা দুগ্ধ শীতলীকরণ কারখানা

মিল্কভিটা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড-মিল্ক ভিটার অধীন ২০০৮ সালে ‘সুবর্ণচর দুগ্ধ শীতলীকরণ কারখানার যাত্রা। সুবর্ণচর উপজেলার ২নং চরবাটা ইউনিয়নের স্থানীয় তোতা মিয়ার বাজারে একটি ভাড়া টিনের ঘরে এটি স্থাপিত হয়। তৎকালীন তত্ত¡াবধায়ক সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. আনোয়ারুল ইকবাল এর উদ্বোধন করেন। বর্তমানে এখানে প্রায় এক হাজার সদস্য পরিবার দুধ দিচ্ছে। ৫ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার এ দুগ্ধ শীতলীকরণ কারখানায় গড়ে প্রতিদিন এক হাজার লিটার দুধ আসছে। এছাড়া মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩ হাজার লিটার দুধ আসছে। কখনও কখনও ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশিও চলে আসে। মৌসুমে সপ্তাহে গড়ে দুই দিন পর পর গাড়ির মাধ্যমে এ কারখানা থেকে দুধ ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সূত্র জানায়, একাধিকবার এ কারখানাকে ১০ হাজার লিটারে উত্তির্ণ করার অনুরোধ জানিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি লেখা হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে দেখা গেছে মৌসুমে সদস্যদের দুধ ফিরিয়েও দিতে হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানান, চরবাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মোশারফ হোসেন নিজে স্থায়ী কারখানা ও ভবন নির্মাণের জন্য বর্তমান ভাড়া কারখানার কয়েকগজ উত্তরে ২০ শতাংশ জায়গা মিল্কভিটাকে দান করেছে। যা ২০১৩ সালের ৪ মে ওই স্থানে ভবন ও স্থায়ী কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি। তখন স্থানীয় সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী ও জমি দাতা মোশারফ হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তিন বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত নির্মাণ কাজের কোনো আলামত দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিল্কভিটার এক কর্মকর্তা জানান, স্থায়ী কারখানাটি নির্মাণ হলে হয়তো ধারণ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হতো। বর্তমানে ভাড়া ঘরে নানা সমস্যা রয়েছে। একটি কক্ষে অফিস প্রধান, সুপারভাইজারসহ কর্মকর্তা-কর্মচারিরা বসছে। অন্য কক্ষে শীতলীকরণ প্রক্রিয়া চলে। টেনসেড হওয়ায় দাপ্তরিক কাগজপত্র ও নগদ অর্থ খোয়া যাওয়ার ভয় থাকে। একই সাথে নিজস্ব স্থায়ী কারখানা না থাকার পাশাপাশি লোকবল সংকটও রয়েছে। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম ও ফিল্ড ওয়ার্ক করতে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। দেখা গেছে কারখানায় একজন ব্যবস্থাপকের পদ থাকলেও তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সুপারভাইজার পদে ২জন থাকার কথা, রয়েছে একজন। ল্যাব সুপার একজন থাকলেও সহকারি নেই। হিসাবরক্ষকের দুটি পদই শূন্য। ৫জন শ্রমিক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র একজন। নিরাপত্তাকর্মীর ২টি পদই শূন্য। অপর দিকে অন্যের ঘরে ভাড়া থাকায় প্রতি মাসে কারখানা ভাড়া বাবদ প্রায় ১০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুক্ষীন হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক খামারি জানান, একদিকে দিন দিন গবাদিপশুর বিচরণ ক্ষেত্র বিলুপ্তির দিকে। বসতি বেড়েই চলছে। অপর দিকে উৎপাদিত দুধ প্রক্রিয়াজাত কারখানার ধারণ ক্ষমতাও পর্যাপ্ত না। সুবর্ণচরে স্থায়ী কারখানা নির্মাণ করে শীতলীকরণ কারখানার ধারণ ক্ষমতা আরো বাড়ানোর দাবী করেন তাঁরা।

আবুল কালাম নামে স্থানীয় খামারি বলেন, মিল্কভিটার তত্বাবধানে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের খাস জমিতে একাধিক গোচারণ ক্ষেত্র করলে এ অঞ্চলে নতুন নতুন খামারি সৃষ্টি হবে। তাহলে দুধের চাহিদা পুরণ হবে। একই সাথে গোচারণ ক্ষেত্রের পাশাপাশি কারখানার ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোও জরুরী বলে মনে করেন তিনি।

জানতে চাইলে সুবর্ণচর দুগ্ধ শীতলীকরণ কারখানার ব্যবস্থাপক আক্তার হোসেন নিজস্ব স্থায়ী কারখানা ও ভবন না থাকায় নানা সমস্যায় রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘যতটুকু জানি কারখানা হবে, যা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। তবে কবে নাগাদ তা নির্মাণ হবে এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো সঠিক তথ্য নেই।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, ‘১০ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার প্ল্যান নির্মাণের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।’

নোয়াখালী জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল বিশেষ করে চরাঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞজনের অভিমত।

নোয়াখালী থেকে

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন