মাশরাফি বিন মুর্তজা:অবসর প্ররোচনাদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা

141
masrafee_bin_murtaza

মাশরাফি বিন মুর্তজা শুধুমাত্র একটি নাম নয়; একটি অনুপ্রেরণার প্রতীকও। কোটি কোটি মানুষের আর্শীবাদে পায়ে সাতটি অপারেশনের ধাক্কা নিয়েও ২২ গজে গর্জে ওঠেন মাশরাফি। গতবছর বেশ কিছুদিন খারাপ সময় পার করতে হয় তাকে। তখন ‘বারোমেসে ছিদ্রান্বেষীদের’ কেউ কেউ মাশরাফির দলে থাকার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল পর্যন্ত! এই গোবর গণেশদের আবার স্বভাব খুবই অধৈর্য্য প্রকৃতির হয়।

সেই সময় বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সাহসের সঙ্গে বলেছিলেন, ম্যাশ শুধুমাত্র ক্যাপ্টেন হিসেবে খেললেও তার কোনো আপত্তি নেই।

না, মাশরাফি শুধুমাত্র ক্যাপ্টেন হিসেবে কারো দয়া ভিক্ষা নিয়ে খেলেননি। পায়ে টেপ আর হাঁটুতে নি-ক্যাপ লাগিয়ে খেলা এই শার্দুল ওয়ানডেতে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২২৫ উইকেট নিয়েছেন। এজন্যই সাবেক কোচ ডেভ হোয়াটমোর বলেছিলেন, মাশরাফির তুলনা মাশরাফি নিজেই। দলের সবাইকে আগলে রাখার; ঐক্যবদ্ধ করে রাখার এক অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে ম্যাশের।

সবার বিপদে তিনি পাশে দাঁড়ান। শত্রুর পক্ষেও হয়তো মাশরাফিকে অশ্রদ্ধা করা কঠিন। এই শ্রীলঙ্কা সফরেই রিয়াদকে তিন সংস্করণ থেকেই বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো। তখন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন মাশরাফি। প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন, রিয়াদ না খেললে তিনি খেলবেন না।

এটাই মাশরাফির চারিত্রিক দৃঢ়তা। হারতে হারতে খাদের কিনারায় চলে যাওয়া একটি দলকে নেতৃত্ব এবং পারফর্মেন্সের গুণে শক্তিশালী দলে পরিণত করেছেন। ওয়ানডেতে তার নেতৃত্বে টানা ৬টি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। টেস্ট তো অনেকদিন খেলেন না। টি-টোয়েন্টিতে আশাব্যঞ্জক সাফল্য এখনও দেখতে পায়নি বাংলাদেশ। এজন্যই কি ম্যাশের টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর?

না, বিষয়টার এত সরলীকরণ করা ঠিক না। ম্যাশের বয়স হয়েছে ৩৩; আজ হোক কাল হোক তিনি অবসরে যেতেন। কিন্তু আজ যেভাবে মাঠে নামার কিছুক্ষণ আগে সবাইকে হতভম্ব করে অবসরের ঘোষণা দিলেন, তার পেছনে কোনো কারণ থাকবে না এটা হতেই পারে না- ওয়াকিবহাল মহল এমনই মনে করছেন।

মনে রাখা দরকার যে সেই নিউজিল্যান্ড সফর থেকেই ম্যাশের অবসর নিয়ে গুঞ্জন উঠেছিল। তখন বিসিবি সভাপতি বলেছিলেন, ম্যাশ সফর শেষে দেশে গিয়ে অবসরের বিষয়ে ভাববেন। এ বিষয়ে মাশরাফি কোনো মন্তব্য করেননি। শুধু বলেছিলেন, আমি তো কিছু জানি না। তারপর থেকেই চাপ আসতে থাকে মাশরাফির ওপর। শ্রীলঙ্কা গিয়ে তো কোচ সরাসরি বলেই বসলেন, তারুণ্যনির্ভর দল চান তিনি। খুব ভালো কথা। তরুণরাই আগামীতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু এসবের সঙ্গে মাশরাফির অবসরের সম্পর্ক নেই তো?

masrafee_bin_murtazaমাশরাফি তো দলের মোস্ট সিনিয়রদের একজন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, তার এই অবসরের সিদ্ধান্ত নাকি বিসিবি ক্রিকেট কমিটির প্রধান আকরাম খানও জানতেন না! অবশ্য টসের পর আগামী ম্যাচেই অবসরের ঘোষণা করে মাঠের বাইরে যাওয়ার সময় তাকে বুকে জড়িয়ে নেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, ব্যাটিং পরামর্শক থিলান সামারাবীরা, ম্যানেজার খালেদ মাহমুদসহ অন্যরা।

সবকিছু মিলিয়ে ম্যাশের অবসর নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এই ধোঁয়াশা দূর করা অবশ্যই প্রয়োজন। কারণ আগেই বলেছি- মাশরাফি বিন মুর্তজা কেবলমাত্র একটি নাম নয়; কোটি কোটি মানুষের জন্য একটি অনুপ্রেরণার নাম। এই অনুপ্রেরণার প্রতীককে এভাবে ভাঙা মনের ভার নিয়ে চলে যেতে প্ররোচনা দিচ্ছেন যারা, তাদের নামে যদি একটা মামলা করা যেতো! যেমন হয় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা..

ফোবানি/মৃত্তিকা

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন