মাইক্রোওয়েভ ওভেন কিভাবে ও কেন ব্যবহার করবেন।

কেন ব্যবহার করবেন মাইক্রোওয়েভ ওভেন? ১। সুবিধাজনক রান্না ২। যে কোন সময় গরম গরম খাবার পরিবেশন ৩। দ্রুত ও কম সময়ে রান্না ৪। স্বাস্থ্যকর রান্না ৫। তেলবিহীন রান্না

1251
how_to_use_microwave_oven

মাইক্রোওয়েভ ওভেন কি ?

জীবনধারনের দৈনন্দিন প্রয়োজনের অন্যতম খাদ্য এবং এই খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করে খাবার উপযোগী করতে গৃহস্থালী কাজে বিশেষত:রান্নার কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রের নাম মাইক্রোওয়েভ ওভেন। কিন্তু এই মাইক্রোওয়েভ ওভেন কিভাবে ব্যবহার করবেন ? কেন ব্যবহার করবেন?

ঝটপট খাবার গরম করতে মাইক্রোওয়েভ ওভেনের তুলনা হয়না। এই বৈদ্যুতিক যন্ত্রটি ব্যবহার করতে হয় খুব সতর্কতার সঙ্গে। যত্ন নিতে হয় সব সময়। অনেকেই দেখা যায় মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ব্যবহার ও যত্ন কিভাবে নিতে হয় , তা খুব একটা জানেন না। ফলে যন্ত্রে ত্রুটি দেখা দেয় এবং অনেক সময় যন্ত্রটি স্থায়ীভাবে বিকল বা নষ্ট হয়ে পড়ে।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন দিয়ে কেক, বিস্কুট,পেষ্ট্রি, পোলাও,বিরিয়ানী,রেজালা, মিষ্টিসহ নানা রকম বাহারী ও সুস্বাদু খাবার রান্না করা যায়। রান্নাতো সবাই করেন কিন্তু খাদ্যের পুষ্টিমান অক্ষুন্ন রেখে ক’জন রান্না করতে পারেন। মাইক্রোওয়েভ ওভেন দিয়ে খাদ্যের পুষ্টিমান সম্পূর্ন অক্ষুন্ন রেখে খুবই অল্প সময়ে এবং কম ঝামেলায় সবকিছুই রান্না করা যায়। এতে রান্না করতে যেমন সাধারন চুলার মতো তাপ, ধোঁয়া, কালির ঝামেলা নেই, তেমনি রান্না করার সময় তেল কম লাগে। কম তেলে রান্না হয় বলেই রক্তে কোলস্টোরলের মাত্রা বাড়তে পারে না। এ কারনেই সামর্থবান ডায়াববেটিক রোগীদের শতকরা ১০০ ভাগ মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করেন।

বায়োসিরামিক প্রযুক্তিতে তৈরী মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রান্না করা খাদ্যের গুন অর্থাৎ ভিটামিন, নিউট্রেশন সব ঠিক থাকে। প্রয়োজনমতো যে কোন খাবার সহজেই গরম করার পাশাপাশি স্বাদ ও পছন্দের যে কোন খাবার দ্রুত রান্না করা যায়। রেগুলেটর ও ইজিটাচ কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে সহজেই যেমন অপাররেট করা যায়, তেমনি ম্যানুয়াল দেখে নিজে নিজেও চেষ্টা করে মজার মজার খাবার প্রস্তুত করতে পারেন। মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রান্নার জন্য কিছু সহজ পদ্বতিও আছে, যা রান্নার সময় কমানোর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক খরচও কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। এ কারনে কর্মজীবি মানুষের প্রথম পছন্দ মাইক্রোওয়েভ ওভেন।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন এ রান্নার সুবিধা ।

সাধারনত মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ওভেনপ্রুফ পাত্রে রান্নার আগে সময় নির্ধারন করে দিলেন, তারপর আপনি অন্য কোন কাজ নিশ্চিন্তে করতে পারবেন। তবে মাঝে মাঝে দেকতে হবে রান্নার কি অবস্থা । নিদ্দিষ্ট সময়ের পরে ওভেন নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে। খাবার পুড়ে যাবার কোন সম্ভাবনা নেই। এটি ব্যবহারের সবচাইতে বড় সুবিধা হলো মাইক্রোওয়েভ ওভেন আপনার রুমের যে কোন সুবিধাজনক স্থানে বসানো যাবে। এমনকি সরাসরি বৈদ্যুতিক ফ্যানের নিচেও বসানো যাবে। তাই রান্না করার সময় গরম, ক্লান্তি ও দীর্ঘ সময় ধরে শুধু রান্না ঘরে বসে থাকার দিন শেষ। ওভেনে রান্না হবে নিমিষেই, আপনি পাবেন অনেক বাড়তি সময় যা দিতে পারবেন পারিবারিক অন্য কাজে। সাধারন চুলার তুলনায় মাইক্রোওয়েভ ওভেনে সময় ও শক্তি(জ্বালানি/বিদ্যুৎ) খরচ দুটোই বাঁচে। বিদ্যুৎ শক্তি ৬০% থেকে ৭০% এবং জ্বালানি শক্তি ৪০% সাশ্রয় হয়।  আপনার সনাতন পদ্বতিতে রান্না করতে যে সময় লাগে তার এক-তৃতীয়াংশ সময়ে রান্না করে সকলকে পরিবেশন করা যায়।  সাধারন রান্নায় খাদ্যের পুষ্টিগুন নষ্ট হয় কিন্তু মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাদ্যের স্বাভাবিক পুষ্টি মুল্য যুক্ত খাদ্যরস অপরিবর্তিত থাকে অর্থাৎ প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘বি’ ও ‘সি’ সহজেই নষ্ট হয় না। তেল খরচ কমেই না বরং তেল না দিলেও সুস্বাদু খাবার রান্না হয়।

১। সুবিধাজনক রান্না

২। যে কোন সময় গরম গরম খাবার পরিবেশন

৩। দ্রুত ও কম সময়ে রান্না

৪। স্বাস্থ্যকর রান্না

৫। তেলবিহীন রান্না

মাইক্রোওয়েভ ওভেন এ কিভাবে রান্না করবেন ?

আপনি এতদিন হয়তো সাধারন চুলা, গ্যাসের চুলা অথবা ইলেকট্রিক হিটারে রান্না করেছেন। কিন্তু যখনই আপনি মাইক্রোওয়েভ ওভেন এ রান্না করতে যাবেন তখন রান্নার প্রক্রিয়াটি কিছুটা ভিন্ন হবে। আমরা গ্যাসের চুলার কথাই ধরি, এখানে প্রথমে আগুনের তাপে পাত্রের নিচের দিকে গরম হয়। তারপর পাত্রের নিচের দিক থেকে উপরের দিকে তাপ ক্রমাগত সঞ্চারিত হয় বলেই একই সময়ে পুরো খাদ্যদ্রব্য সমানভাবে সিদ্ধ হতে পারে না। এছাড়া ইলেকট্রিক ওভেনে প্রথমে গরম হয় ওভেনের ভিতরের বাতাস, ওভেনের আভ্যন্তরীন অংশ, তারপর তাপ ধীরে ধীরে খাদ্যে পৌছে। এ কারনে এই দুই পদ্বতিতেই আমরা যা রান্না করছি তার কিছু অংশ সহজে সিদ্ব হতে পারেনা। যার ফলে খাবার বার বার নেড়ে দেখতে হয়। কিন্তু মাইক্রোওয়েভ ওভেনে এর ইলেকট্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রুপান্তরিত হয়ে সরাসরি খাদ্যের সবদিকে সমানভাবে সিদ্ব বা রান্না করতে পারে।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন কিভাবে কাজ করে ?

মাইক্রোওয়েভ ওভেন দুই ভাবে কাজ করে। মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ম্যাগনেটন থেকে মাইক্রোওয়েভ শক্তি উৎপন্ন করে তখন তা সরাসরি খাদ্যে দুই ভাবে প্রবেশ করে। সরাসরি এবং ওভেনের অভ্যন্তরীন ধাতব দেয়ালে প্রতিফলিত হয়ে যার যার জন্য মাল্টিওয়েভের সৃষ্টি হয়। ওভেনের টার্নটেবিল ক্রমাগত বৃত্তাকারে ঘুরতে থাকে বলে খাদ্যবস্তুর প্রতিটি অংশ সুষমভাবে রান্না হয়। একটি কথা মনে রাখা প্রয়োজন, মাইক্রোওয়েভ শক্তি ৪ সিন্টেমিটার বা দেড় ইঞ্চি পুরু খাদ্যের মধ্যে খুব সহজেই প্রবেশ করে রান্না করতে পারে। এজন্য মাংস, শাক-সবজি ইত্যাদি উপরোক্ত সাইজে কাটা উচিত।

সহজ ব্যবহারবিধি

মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করা খুবই সহজ। আপনি যখন ওবেনের দরজা খুলে রান্না পরখ করবেন তখন ওভেনের বিশেষ ধাতব গ্রীল মাইক্রোওয়েভ থেকে রাখবে সম্পূর্ন নিরাপদ। মাইক্রোওয়েভ ওভেনের সফট টাচ বাটন সিস্টেম এর ব্যবহারবিধি খুবই সহজ। এজন্য প্রথমেই আপনি মাইক্রোওয়েভ ওভেন কেনার সময় ইংরেজী ম্যানুয়েল বইটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং প্রাকটিস করে নিন।

এ সম্পর্কিত তথ্যসহ আরো তথ্য জানতে আমাদের সাথে থাকুন।

আরএসপি ইনোভেশন হোমসার্ভিস


ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দ্বারা মেরামত করা হয়।

ফোবানি/হামিদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন