ভুয়া পুলিশ চেনার উপায় এবং হয়রানি এড়াতে কিছু নির্দেশনা

225
Bhuya_police

প্রত্যেকের দৈনন্দিন জীবনে পুলিশের ভুমিকা ও প্রয়োজন যেমন রয়েছে তেমনি পুলিশ কর্তৃক ঘটে যাওয়া কিছু কিছু ঘটনা আমাদের ব্যথিতও করে তোলে। কিন্তু কিভাবে বুজবেন আপনার সাথে যেই পুলিশ এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে(!) সে আসলে পুলিশ না ভুয়া পুলিশ? একটি ঘটনার কথা শুনলাম। রিকশা থামিয়ে সিভিল পুলিশ পরিচয় দিয়ে আইডি দেখিয়ে জনৈক এক মহিলাকে হয়রানি করা হয়েছে। পরে খোজ নিয়ে জানা যায়, এই ঘটনা কোন সাধারন পুলিশের দ্বারা ঘটেনি, পুরো ঘটনাটা একজন ভুয়া পুলিশ ঘটিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ঘটছে। ভুয়া পুলিশ কর্তৃক এরকম অবস্থায় বেশ কিছু কাজ করা যেতে পারে যা একে একে লিখছি:

কিভাবে চিনবেন ভুয়া পুলিশ?

১) প্রথম কাজ হচ্ছে, কোন অবস্থাতেই সাহস হারানো যাবেনা। মনে রাখুন, অপরাধী মনের দিক থেকে আপনার চেয়ে দুর্বল।

২) সাহসের সাথে তার নাম, বিপি নং (বাংলাদেশ পুলিশ নং- অনেকটা রোল নম্বরের মত) জিজ্ঞাসা করুন। এই বিপি নম্বরটি দশ ডিজিটের, যার প্রথম দুই ডিজিট জন্মসাল ও পরের দুই ডিজিট পুলিশে যোগদানের সাল হবে, বাকি ছয় ডিজিট হবে পুলিশের দেয়া নম্বর। যেমন, আমার প্রথম চার ডিজিট হচ্ছে বিপি- 8410****** এখানে,1984 জন্ম সাল, 2010 পুলিশে যোগদানের সাল। যদি দেখেন চল্লিশ বছরের দেখতে কারো আইডি শুরু হয়েছে 95 দিয়ে, বুঝবেন ভূয়া। চাকুরি কতদিন এটা জিজ্ঞাসা করবেন। যদি বলে বিশ বছর, অথচ চাকুরি যোগদানের সাল 2015- বুঝবেন সে মিথ্যা বলছে।

৩) যে থানা থেকে এসেছে সে থানার ওসি এবং ওই এলাকার ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের নাম জিজ্ঞাসা করবেন। এরপর ওই থানায় কল দিয়ে সেটা ভেরিফাই করে দেখবেন। বাংলাদেশ পুলিশের সব নাম্বার সম্বলিত এ্যাপ পুলিশ ফোনবুক সহজেই প্লে স্টোর থেকে নামাতে পারবেন। গুগল করে যে কোন থানার নম্বর পাওয়া যায়।

৪) সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং তার আইডি- দুটোরই ছবি তুলুন। বাধা দিলে বুঝবেন ঘাপলা আছে।

৫) প্রয়োজনে কাল্পনিক পুলিশ আত্মীয়ের সাথে জোরে জোরে ফোনে কথা বলুন। ভূয়া পুলিশ হলে ভয় পাবে।

৬) আইনে স্পষ্ট বলা আছে, গ্রেপ্তারে বাধা না দিলে কোন অবস্থাতেই কারো উপর শক্তি প্রয়োগ করা যাবেনা। আর মহিলার তল্লাশী মহিলা পুলিশ ছাড়া কেউ করতে পারবে না। কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউরে বিস্তারিত পাবেন। আসল হোক আর ভূয়া হোক, আপনার গায়ে বিনা প্ররোচনায় হাত দেবার এখতিয়ার কোন পুলিশের নেই। এরকম আচরণ করলে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করুন।

৭) নিজ থানার ফোন নম্বর ইমারজেন্সিতে সেভ করে রাখুন। ডিউটি অফিসারের সরকারী মোবাইল নম্বর এবং ওসির নম্বর আপনার ফোনে থাকাটা জরুরী। ওসি (তদন্ত) এর নম্বরও রাখুন। অন্য এলাকায় বিপদে পড়লেও নিজ থানায় জানালে তারা সহায়তা করবে।

৮) চিৎকার করুন, বাধা দিন, লোক জড়ো করুন। DO NOT become an easy prey.

৯) সেল্ফ ডিফেন্স শিখুন। এটা বিলাসিতা নয়, প্রয়োজনীয়তা। রোপ্পোংগিতে আমার ক্রাভ মাগা জিমে একটা কথা লেখা ছিল:
Exercise can add years in your life but self defense techniques can add decades “সিটিং ডাক” এর মত বিপদের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজেকে প্রস্তুত করুন।

১০) স্পেশাল টিপস:
ভুয়া পুলিশ বা আসল পুলিশ কর্তৃক খারাপ আচরণ করার সময় সেটা ঠেকাতে একটা মজার বুদ্ধি আছে। ফেসবুক লাইভ অপশন আছে না? ওটা চালু করুন এবং বলুন,”আপনার আচরণ লাইভ দেখছে সবাই”। ম্যাজিকের মত কাজ দেবে।

সবশেষে, পাহাড়কন্যা বান্দরবান জেলায় কোন বিপদ হলে আপনাদের সেবায় এই গরীব তো আছেই! সোস্যাল মিডিয়ায় এ লেখাটি অন্তত: ১০০০ বার শেয়ার করা হয়েছে। লেখকের ফেসবুক ঠিকানা পাওয়া যায় নি। তাই শুধুমাত্র বান্দরবান পুলিশ সুপার অফিসের ঠিকানা দেয়া হল। খুজে নিন।।

মাসরুফ হোসেন


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, বান্দরবান

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন