ব্লগ কি? আসুন জানি ব্লগ ও ব্লগিং সম্পর্কে

ব্লগ কি এবং কেন? ব্লগ কত প্রকার? ব্যক্তিগত ব্লগ কি? ক্ষুদ্র ব্লগ কি? কর্পোরেট ব্লগ কি? মিডিয়া ব্লগ কি? ডিভাইস ব্লগ কি? কিভাবে ব্লগ তৈরি হয়? ব্লগ থেকে কি আয় করা যায়? ব্লগ করতে কি টাকা লাগে? কোথায় ব্লগ খুলবো? কিভাবে ব্লগ তৈরি করবো ? বাংলা ভাষায় কিছু জনপ্রিয় ব্লগ।

532
what_is_blog

প্রিয় পাঠক ভালো আছেন নিশ্চয়ই। আমরা কিন্তু প্রতিদিনই ব্লগিং করি অথচ ব্লগ ও ব্লগিং বা ব্লগার সম্পর্কে আমরা কতটুকুই বা জানি! আসুন একটু জানার চেষ্টা করি ব্লগ কি, কেন ব্লগিং করা হয় এবং ব্লগার কাকে বলে?

আলোচনাটি মুলত: ব্লগ কি? ‘ব্লগ কেন’? ‘ব্লগ কত প্রকার’? ‘কিভাবে ব্লগ তৈরী হয়’? ইত্যাদি প্রশ্ন গুলোর ছোট ছোট উত্তর। প্রথমেই বলে রাকতে চাই এই আলোচনাটি মুলত: সম্পূর্ন নতুনদের জন্য। কেন এই লেখা? একটা ভুমিকা দিতে চাই। একটি জনপ্রিয় ব্লগিং সাইটে জনৈক বন্ধুর সাথে চ্যাট করছিলাম। পারস্পরিক স্বার্থ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়ে ব্যক্তিগত কিছু মতামত ব্লগে লেখার প্রস্তাব দিলাম।সাথে সাথেই উপরোক্ত প্রশ্নবানে বন্ধু আমার জানতে চাইলো অনেক কিছুই । এখন আমি কিভাবে বলি এবং কোথা থেকেই বা শুরু করি! ভাবলাম এই বিষয়ে একটা ছোট-খাট লেখা হয়ে যেতেই পারে। আশা করি বন্ধুর পাশাপাশি যারা এই বিষয়ে নতুন তারাও কিছুটা উপকৃত হবেন।

বিষয়টি সম্পর্কে সাধারন কিছু ধারনা হয়তো ছিলো কিন্তু একেবারে বিষয়ের গভীরে যাওয়ার চেষ্টা কখনোই ছিলোনা।বন্ধুর প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই ইন্টার নেটে ব্লগ ও ব্লগিং সম্পর্কে যতটুকু জানতে পেরেছি আজকের আলোচনায় সেটাই শেয়ার করবো। কথা না বাড়িয়ে শুরু করলাম।

প্রযুক্তির উন্নয়ন, ইন্টারনেট সেবা ও ব্লগিং

প্রযুক্তি উন্নয়ন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে আজকের বিশ্ব।দিন যতই কমছে! অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংস্পর্শ মানুষের কাছে অনেক কিছুই সহজ থেকে সহজতর হচ্ছে। প্রযুক্তিগত এই উন্নয়নের অন্যতম নির্ধারক হিসেবে কাজ করছে ইন্টারনেট সেবা। ক্রমাগত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ব্যাপক পরিমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই সাথে পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের ধ্যান-ধারণা, আলোচনা-সমালোচনা, লেখালেখি, মতামত, মুক্তচিন্তা শেয়ারিংয়ের কৌশল। মানুষ আজকে Hard থেকে Soft এর দিকে ধাবিত হচ্ছে। এক সময় ছিল যখন কেউ লাইব্রেরী গঠন করতে চাইলে তার প্রয়োজন হতো বিশাল একটা রুমের, সেলফের এবং বিভিন্ন ধরনের বইয়ের যার বিস্তৃতি হত মোটামুটি অনেক বড় আকারের, কিন্তু আজকে ক্ষুদ্র একটা যন্ত্র কম্পিউটারের মধ্যেই গড়ে তোলা সম্ভব বিশাল আকারের ডিজিটাল লাইব্রেরী যা হয়তো হতে পারে একটি বড় আকারের লাইব্রেরীর চেয়েও শতগুন বড়। একসময় ছিল যখন একটা সংবাদ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছাতে লাগতো কয়েকদিন, আজকে তা কয়েক সেকেন্ডেই সম্ভব।এভাবেই পত্রিকায় একটা লেখা পাঠিয়ে তা প্রকাশ করে পাঠকের কাছে পৌছাতে লাগতো বেশ কয়েকদিন বা বেশ কিছুটা সময়। কিন্তু বর্তমান সময়ে আপনি আপনার চিন্তা, বক্তব্য, মতামত বা সমালোচনা দু’এক সেকেন্ডের মধ্যেই পাঠিয়ে দিতে পারেন পাঠকদের কাছে। হ্যাঁ ব্লগিংয়ের কথাই বলছি। এই কাজটিই সম্ভব ব্লগের মাধ্যমে।

ব্লগ কি ?

লগ শব্দটি এসেছে ওয়েব লগ থেকে এর অর্থ আলোচনা বা তথ্য সমৃদ্ধ সাইট বা ওয়েব সাইট। ১৭ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে জন বার্গার এটির নাম “weblog” নামকরন করেন। পরে পিটার মেরহোলস ১৯৯৯ সালে “Peterme.com” এর মাধ্যমে “weblog” অক্ষর দুটিকে আলাদা করে “blog” নাম দেন। তার পরই ইভান উইলিয়াম “Pyra Labs” এ প্রকাশ করেন “blog”  যেমন একটি “Noun” তেমনি একটি “Verb” ।সমসাময়িক সময়েই এটি “Blogger” শব্দে পরিনত হয় এবং বর্তমানে এটি পন্য হিসেবে বিবেচিত।

ব্লগ কি এবং কেন?

বর্তমান বিশ্বে তথ্যের চাহিদা খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। বই বা লাইব্রেরিতে হাজার হাজার বই ঘেটে প্রয়োজনীয় তথ্য খোজা খুবই সময়সাপেক্ষ এবং কষ্টকর একটি ব্যাপার। আর এই প্রয়োজনীয়তার ফলে অনলাইন ভিত্তিক ওয়েব লগ এর যাত্রা শুরু হয় যা পরবর্তীতে ব্লগ হিসেবে প্রচলিত হয়।

মানুষের তথ্য চাহিদা পুরনের লক্ষ্যে ব্লগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে । প্রতিদিন মানুষ অনলাইনে ব্লগের কল্যানে চাহিদার উপরে ভিত্তি করে তথ্য অনুসন্ধান করছেন এমনকি গবেষণা সহ বিভিন্ন জরিপ পরিচালনা করছেন ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার নতুন নতুন ব্লগের জন্ম হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে অনলাইনে লক্ষ লক্ষ নিবন্ধ ।

ব্লগকে আমরা আমাদের “অনলাইন ডাইরি” ও বলতে পারি । যারা ব্লগিং করেন তাদেরকে ব্লগার বলা হয়ে থাকে আর ব্লগাররা বিভিন্ন বিষয়ে ব্লগ লিখে থাকেন যেখানে উক্ত বিষয়ের উপর ভিত্তিকরে বিভিন্ন আলোচনা, সমালোচনা, মন্তব্য ইত্যাদি যুক্ত হতে থাকে । ফলে ব্লগের মাধ্যমে আমরা সহজেই সমস্যাগুলোকে উপস্থাপন করতে পারি। ব্লগকে  গণমাধ্যম হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

অনলাইনে ব্লগ জনপ্রিয় হওয়ার সাথে সাথে নতুন নতুন অসংখ্য বৈশিষ্ট যুক্ত হতে থাকে। বর্তমানে ব্লগের পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ বিভিন্ন ব্লগকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান । কেউ কেউ ব্যাক্তিগত ভাবে ব্লগ পরিচালনা করছেন। কেউ আবার প্রফেশনালি ব্লগিং করছেন।

বর্তমানে সামাজিক ব্লগিং এর নতুন নতুন বেশ কিছু প্লাটফর্ম তৈরি হয়েছে তার মধ্যে টুইটার খুব জনপ্রিয়। টুইটারকে সামাজিক মাইক্রোব্লগিং সাইট বলা হয়ে থাকে কারন এখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকারে ব্লগ প্রকাশ করা যায় যা ফলোয়ার বা বন্ধুদের কল্যানে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যুক্ত হয়েছেন এই প্লাটফর্মে । বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন টুইটার.কম

ব্লগ কত প্রকার?

ব্লগ কি এবং ব্লগ কেন? এই বিষয়ে মোটামুটি একটা ধারনা আশা করি পেয়েছেন।আসুন শুরু করি ব্লগ কত প্রকার?

সাধারণত দুই ধরনের ব্লগ হয়, একটি সিঙ্গেল ইউজার ব্লগ অন্যটি মাল্টি ইউজার ব্লগ। সিঙ্গেল ইউজার ব্লগে একজন ব্যবহারকারী লিখে থাকেন, যেখানে অন্য অনলাইন ব্যবহারকারীরা শুধু তাদের মন্তব্য করতে পারেন।

মাল্টি ইউজার ব্লগ হচ্ছে একটা সোশ্যাল মিডিয়া(কেউ আবার প্রশ্ন করে বসবেন না যেন সোস্যাল মিডিয়া কি? কেন করবেন সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং?) যেখানে কয়েক হাজার থেকে শুরু করে লক্ষ কোটি ব্যবহারকারি তাদের ব্লগ এবং মন্তব্য প্রকাশ করেন। তেমনি ফেসবুক.কম একটি মাল্টি ইউজার কমিউনিটি ব্লগ। প্রতিটি ব্লগই একটি নিজস্ব নীতিমালায় চলে।

এছাড়া বর্তমান বিশ্বে অনেক প্রকার ব্লগ আছে।কারন ইন্টারনেট প্রযুক্তির কল্যানে বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। প্রতিনিয়ত  অসংখ্য বিষয় আমাদের সামনে উঠে আসছে। প্রতিদিন ইন্টারনেটে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন ব্লগ। তাই ব্লগারের সংখ্যাও বাড়ছে। ব্লগ কত প্রকার এবং তার বিষয়বস্তুই বা কি কি এই বিষয়ে আরো কিছু তথ্য নিচে তুলে ধরার একটা প্রয়াস করছি।

ব্যক্তিগত ব্লগ কি (Personal blog)

ব্যক্তিগত ব্লগগুলো সাধারণত মতামত ভিক্তিক হয়ে থাকে এটি যে কেউ যে কোন বিষয়ে  লিখতে পারে।

ক্ষুদ্র ব্লগ কি (Micro blog)

ক্ষুদ্র ব্লগ এ সাধারণত একাধিক  বিষয়ের সংযুক্তি করা হয় যেমন-টেক্স,ছবি,লিংক,ছোট ভিডিও ক্লিপ ইত্যাদি  অথবা অন্যান্য যে কোন বিষয়ের উপর।এখানে সাধারণত মানুষের মনের চিন্তা চেতনা আরো অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা করা হয়।বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ,ব্যবসায়িক মিটিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় সমূহ শেয়ার এবং সেলিব্রেটির বা রাজনৈতিকবিদদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময়, লেকচার/নতুন বই এর প্রকাশনা/ভ্রমন ইত্যাদি বিষয় এর উপর প্রকাশিত হতে পারে।এটি ফেসবুক,টুইটার এর মতো বড় বড় ওয়েব সাইটেও হতে পারে।

কর্পোরেট এবং অর্গানাইজেশনাল ব্লগ কি (Corporate and organizational blogs)

মার্কেটিং এর জন্য ব্লগিং বর্তমান সময়ে অনেক জনপ্রিয় একটি বিষয়। এই সব ব্লগে যে কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং,ব্যান্ডিং অথবা ক্রেতা-বিক্রেতা সম্পর্কিত নানা তথ্য প্রকাশ পায়।একইভাবে ক্লাব বা সামাজিক ভাবে প্রকাশিত ব্লগ গুলোকে ক্লাব ব্লগ,গ্রুপ ব্লগ ইত্যাদি বলা হয় এবং সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ হয়ে থাকে।এছাড়া কিছু নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপরও ব্লগ প্রকাশিত হয় যেমন-  রাজনৈতিক ব্লগ,স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ব্লগ,ভ্রমন সম্পর্কিত ব্লগ বা ট্রাভেল ব্লগ,ফ্যাশন ব্লগ,প্রজেক্ট ব্লগ,শিক্ষা সম্পর্কিত ব্লগ ইত্যাদি । এছাড়াও হতে পারে মিউজিক ব্লগ এবং আর্ট ব্লক।

মিডিয়া ব্লগ কি

যখন একটি ব্লগ শুধু মাত্র বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করে তখন তাকে ভিলগ(vlog) বলে আখ্যায়িত করা হয়। তেমনি বিভিন্ন লিংক শেয়ার করে তাকে লিংকলগ(linklog) বলে। এরকম আরো অনেক ব্লগ আছে যেমন-টেমবললগ(tumblelogs),টাইপক্যাসটিং(typecasting (blogging)) ইত্যাদি।

ডিভাইস ব্লগ কি

যে সব ব্লগ মোবাইল ডিভাইস(mobile device),পিডিএ(PDA) সম্পর্কিত হয় তাকে মোব্লগ বলে এবং যে ব্লগ এর মাধ্যমে সরাসরি ভিডিও বা অডিও বা ছবি সেয়ার করে সেই সব ব্লগকে ভিডিও/অডিও/পিকচার ব্লগ বলে।

কিভাবে ব্লগ তৈরি হয়?

ভাবছেন নিশ্চয়ই ব্লগ কিভাবে তৈরী হয়? মনে রাখবেন ব্লগ এমনি এমনি তৈরী হয়না। যখন কোন ব্লগ তৈরি করতে হয় তখন আগে নির্দিষ্ট করে নিতে হয় কি বিষয়ে ব্লগ তৈরি করা হবে এবং তার বর্তমান,ভবিষ্যৎ চিন্তা করতে হবে এবং সেই ব্লগ কিভাবে সবার কাছে গ্রহন যোগ্য হবে? তাই প্রথমে ব্লগ এর বিষয় ঠিক করতে  হবে তারপর ব্লগটি খুলতে হবে।

কোন ব্লগ প্রকাশের পূর্বে অবশ্যই তার বিষয় বস্তু ছাড়া ব্লগ এর নাম দেওয়া যায় না। আর নামের সাথে ব্লগের বিষয় বস্তুর অমিল থাকলে তা কখনোই মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য হয় না। ধরুন আপনি যদি মোবাইল সম্পর্কিত কোন ব্লগ খোলেন এবং তাতে কম্পিউটার এবং আরো অন্যান্য বিষয় যোগ করেন তবে তা আপনার ব্লগ এর উপর খারাপ প্রভাব ফেলবে।তাই ব্লগের নামের সাথে বিষয় বস্তুর অবশ্যই মিল থাতে হবে।সুতরাং একটি ব্লগের বিষয় বস্তুই দিতে পারে একটি ব্লগের নাম। যেহেতু বর্তমানে  ব্লগের নিদির্ষ্ট সুন্দর নাম পাওয়া খুবই কঠিন তাই সর্বদা চেষ্টা করবেন ছোট এবং সবার থেকে একটু আলাদা নাম খুজতে। সেটা ফি ডোমেন এ হোক আর ক্রয় করা ডোমেন এ হোক।

ব্লগ থেকে কি আয় করা যায়?
এই প্রশ্নের উত্তর দু’ভাবে দিতে চাই।

এক। ব্লগিং করা সম্পূর্ন ফ্রি। কিছু অলাভজনক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা বিনামূল্যে ব্লগ তৈরি করার সুযোগ দিয়ে থাকে। ব্লগ করতে আপনাকে কোন টাকা ব্যয় করতে হবে না বরং আপনি আপনার ব্লগ থেকে টাকা উপার্জন করতে পারবেন। এখন মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, ব্লগ করলে কে এবং কেন আমাকে টাকা দেবে? বিষয়টা এমন। মনে করুন, আপনি একটা ব্যক্তিগত ব্লগ সাইট যে কোন প্লাটফরমে খুললেন এবং আপনি নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ের বা নিদ্দিষ্ট কোন বিষয়ের উপর লিখছেন। আপনার ব্লগে প্রতিদিন হাজার হাজার ভিজিটর পড়তে আসে।আপনি মুলত: এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছেন। অনেক প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি যেমন, মাইক্রোসফট, ইন্টেল, আইবিএম এসব কোম্পানি বিভিন্ন Ads Network এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। আপনি যদি কোন Ads Network এর পাবলিশার হয়ে যাবেন তারা আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপন দিবে। আপনার ব্লগের ভিজিটররা যদি সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে তাহলে একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ পাবেন। কি বিষয়টা বুজে আসলো?

দুই। আরেকটু সহজ করে বলি।মনে করুন। কলেজ বা ভাসির্টি পড়ার সময় শিক্ষা সফরে যাচ্ছেন। একটা বিশেষ ক্রোড়পত্র বের করছেন। খরচ সাশ্রয় করার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নিকট থেকে ক্রোড়পত্রে বিজ্ঞাপন নিলেন।এবার নিজেকেই প্রশ্ন করুন টাকাটা আপনি কেন পেলেন? আশা করছি বিষয়টা পরিস্কার করা হয়েছে।

ব্লগ করতে কি টাকা লাগে?

ব্লগ করতে টাকাতো একটু আপনার লাগবেই। যেমন আপনি ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করছেন, ইন্টারনেটে ডাটা ব্যবহার করছেন, বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। এখানে কিন্তু আপনার টাকা কিছুটা হলেও খরচ হচ্ছে। এ গুলো যদি আপনার কাছে খরচ মনে না হয় তাহলে বলবো ব্লগ বা ব্লগিং করতে আপনার কোন টাকা লাগবে না। আবার ব্লগ বা ব্লগিং করতে আপনার টাকাও লাগবে। বিষয়টা নির্ভর করছে আপনার নিজের উপর।

কোথায় ব্লগ খুলবো?

বর্তমান বিশ্বে অনেক ওয়েব সাইট আছে যারা ব্লগ খুলতে সহায়তা করে এবং তাও আবার ফ্রি ডোমেন এ। তবে আপনি টাকা দিয়ে তাদের কাছ থেকে ডোমেনও কিনতে পারেন বা বাহির থেকে ডোমেন কিনে তাদের সাথে যুক্ত করতে পারেন। এই রকম কিছু সাইট হলো:blogger.com, wordpress.com, blog.com  ইত্যাদি।এই সাইট গুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়। কোথায় ব্লগ খুলবো? নতুনদের জন্য আমার সাজেসন্স থাকবে blogger.com এ  কারন এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন google.com এর তাই আপনি অনেক সুযোগ সুবিধা পাবেন। আবার wordpress.com কিন্তু blogger.com এর চেয়ে কোন অংশে কম নয়।

কিভাবে ব্লগ তৈরি করবো ?
আমরা যদি ব্লগিং করার সহজ ও সুবিধাজনক প্ল্যাটফর্ম বেছে নিই তবে ব্লগার.কম কেই বেছে নিতে হবে। তা হলে চলুন ব্লগার.কম এ একটি ব্লগ তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিই। এখানে নিবন্ধন করার জন্য প্রথমে আপনার প্রয়োজন হবে একটি ইমেইল এড্রেসের। যা দিয়ে আপনাকে ব্লগার.কম এ নিবন্ধন করতে হবে।
ধরা যাক, আমাদের একটি ইমেইল এড্রেস আছে।

এই পেজ থেকে Start Blogging বাটনে ক্লিক করতে হবে। এর পরের পেজে আপনি আপনার ব্লগে পোস্ট সংযুক্ত করতে পারবেন এবং নিজের ইচ্ছামত কাস্টমাইজ করতে পারবেন।

বাংলা ভাষায় কিছু জনপ্রিয়  ব্লগ
২০০৬ সালের প্রথম মাস থেকে শুর হয় বাংলা ব্লগিং এর ইতিহাস। প্রথমে একটি বাংলা ব্লগিংসাইট তার যাত্র শুরু করার পরপরই আরও একাধিক সাইট অনলাইনে বাংলা ব্লগিং এর সুবিধা নিয়ে উপস্থিত হয়। এখন বেশ কয়েকটি ব্লগিং সাইট বাংলাভাষী অনলাইন ব্যবহারকারীদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে। কয়েক বছর পার হবার পরও এদের কেউ কেউ তেমন জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি, কেউ জনপ্রিয় হবার চেষ্টা করছে, আবার কেউবা নতুন শুরু করে জনপ্রিয়তা অর্জনের লড়াইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রণ করছে। স¤প্রতি বেশ কিছু সামাজিক ব্লগ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। নিচে কয়েকটি প্রসিদ্ধ সামাজিক ব্লগ সাইটের ঠিকানা দেয়া হল
http://www.sachalayatan.com/
http://www.somewhereinblog.net/
http://www.amarblog.com/
http://www.sonarbangladesh.com/blog/
http://www.techtunes.com.bd/
http://www.prothom-aloblog.com/
http://www.nirmaaan.com/blog/

http://www.focusbangladesh.com

http://www.biggani.com/
http://www.banglablog.bdnews24.com/
http://www.nishorga.com/
http://www.drishtipat.org/bangla/
http://www.bishorgo.com/
http://www.amarbornomala.com

পরিশেষে,
মানুষের তথ্য এবং গবেষনায় ব্লগ কি বা ব্লগিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। মানুষ তার প্রয়োজন, সুবিধা, অসুবিধা ইত্যাদি ব্লগের মাধ্যমে সহজেই উপস্থাপন করতে পারছে। ফলে দিন দিন বিশ্বব্যাপী ব্লগ সর্ববৃহৎ গণমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। আপনি যদি একজন ব্লগার হন!(আপনি নিজেই জানেন না আপনি একজন ব্লগার) তবে এ সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি নিচের মন্তব্যের ঘরে লিখুন। আমরা নতুনরা, আপনার কাছ থেকেই হয়তো শিখে নেব। ভাল থাকবেন সবাই।

ফোবানি/হামিদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন