ব্রি হাইব্রিড-৩ ধানের পরীক্ষামুলক চাষে গোপালগঞ্জসহ তিন জেলায় সাফল্য

46
bri_hybrid_3_rice

গোপালগঞ্জ সহ তিন জেলায় পরীক্ষামূলক চাষাবাদে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রি হাইব্রিড-৩ ধান। প্রতি হেক্টরে এ জাতের ধানের ফলন পাওয়া গেছে ৯ দশমিক ৯২ মেট্রিক টন। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার ছিকটিবাড়ী গ্রামের কৃষক সমীর বাড়ৈর জমিতে উৎপাদিত ব্রি হাইব্রিড-৩ ধান কেটে পরিমাপ করে কৃষি বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

পরবর্তীতে ধান চাষের এই সাফল্য তুলে ধরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ছিকটিবাড়ী গ্রামের কৃষক ওলিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হরলাল মধু। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইখতেখার মাহামুদ আকন্দ, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃত্তিবাস পান্ডে, কৃষক সন্তোষ বাড়ৈ, কুটি রায় প্রমুখ।

চলতি বোরো মৌসুমে পিরোজপুর-গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট জেলার সাত বিঘা জমিতে ব্রি হাইব্রিড-৩ ধানের প্রদর্শনী প্লট করে।

ছিকটীবাড়ী গ্রামের কৃষক সমীর বাড়ৈ বলেন, বাজারে প্রচলিত হাইব্রিডের তুলায় ব্রি হাইব্রিড-৩ জাতের ফলন বেশি। এই ধান পাঁকতে কম সময় লাগে। এছাড়া রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতাও কম। ধান ঝরে পড়া ও চিটা হওয়ার পরিমাণও আমরা কম পেয়েছি। তাই এ ধানের আবাদে লাভ বেশি।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইখতেখার মাহামুদ আকন্দ বলেন, এটি আমাদের দেশে উদ্ভাবিত হাইব্রিড ধান বীজ। তাই এ ধান পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে অধিক ফলন দিতে সক্ষম। তিন জেলার কৃষক এ ধান চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এ ধানের বীজ সহজ লভ্য। আবার দামও কম। চীন থেকে আমদানি করা হাইব্রিড ধানের বীজ যেখানে কেজি প্রতি দুইশ থেকে আড়াইশ টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে এই ধানের বীজের দাম কেজি প্রতি একশ টাকা।

গোপালগঞ্জ কৃষি স¤প্রসারণের ডিডি সমীর কুমার গোস্বামী বলেন, গোপালগঞ্জ নিম্ন জলাভূমি বেষ্টিত একটি জেলা। এ জেলায় হাইব্রিড ধানের আবাদ বেশি হয়। ব্রি উদ্ভাবিত হাইব্রিড ধানের ফলন এ বছর ট্রায়ালে (পরীক্ষা মূলক চাষাবাদ) ভালো হয়েছে। আগামীতে এ জাতের ধানের আবাদ করে কৃষক লাভবান হবেন। এতে করে গোপালগঞ্জেও ধানের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছি।

এম.আরমান খান জয়


গোপালগঞ্জ থেকে

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন