বাবা তুমি আর এলে না : মামুনুর রশীদ এর কবিতা

67

দীর্ঘদিন থেকেই কবিতা লিখছেন কবি মামুনুর রশীদ। জাতীয় কবিতা পরিষদের একজন নিয়মিত সদস্য তিনি। এবার বাবা দিবসে বাবা’র স্মরণে ‘বাবা তুমি আর এলে না’ কবিতাটি লিখলেন কবি মামুনুর রশীদ। কবি নোয়াখালীর এক প্রথিতযশা সাহিত্যিক পরিবারের সদস্য। নিজে কবিতা লিখেন, সহধর্মীনি শিল্পী শাহনাজ হাশেম কাজল একজন খ্যাতিমান নোয়াখালীর আঞ্চলিক গানের ও বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত শিল্পী এবং নোয়াখালীর আঞ্চলিক গানের মুকুটহীন সম্রাট শিল্পী অধ্যাপক আবুল হাশেম এর জ্যোষ্ঠ কন্যা। 

বাবা তুমি আর এলে না

 

বাবা তুমি পাশে নেই
আমাদের ছেড়ে
না ফেরার দেশে চলে গেছো।
তোমার আদর,স্নেহ,ভালবাসা,শাসন খুব মনে পড়ে।
তুমি ছিলে
আমাদের শক্তি
অনুপ্রেরনা
বাবা আছে আর কি চাই!

তোমাকে ছাড়া থাকতে হবে
এই চরম সত্যির মুখোমুখি হবো
কখনোই ভাবিনি।
তোমার সততা এবং আদর্শকে বুকে ধারন করে পথ চলা।

তোমার সাথে শেষ কথা হয়েছিল টেলিফোনে।
চট্রগ্রাম গিয়েছিলে।
তোমার সদ্য লেন্স বসানো ডান চোখে কি যেন পড়েছিল।
ভয় পেয়েছিলে।
ডাক্তার সাহস যুগিয়েছিল।
এক নিঃশ্বাসে টেলিফোনে কথাগুলো বলেছিলে।

ঘরে ফিরার সে কি ব্যাকুলতা তোমার।
বলেছিলে আমি আসছি
কাজগুলো শেষ করে রেখো।
এসে দেখবো।
বাবা আমি ঠিকই কাজগুলো শেষ করে রেখেছি।
অপেক্ষায় থেকেছি।
তুমি আর এলে না।
চলে গেলে ফাঁকি দিয়ে
না ফেরার দেশে।

তোমার চশমা
যত্ন করে তুলে রেখেছি।
তোমার কথা মনে হলেই
চশমাটাকে পরম মমতায় স্পর্শ করি এবং অপলক দৃষ্টিতে দেয়ালে টাঙ্গানো তোমার ছবির দিকে তাকিয়ে থাকি।
কত স্মৃতি কত কথা মনে পড়ে যায়।
হু হু করে দুচোখের বাঁধভাঙ্গা জল টল টল করে বেরিয়ে আসে।

তুমি ছিলে সেতুবন্ধন
তোমাকে ঘিরে আমরা উৎসব মুখোর ছিলাম।
আজ তুমি নেই
বাড়ীটি যেন প্রাণহীন হয়ে গেছে।
এখন আর চাঁদের হাট বসে না।

তোমার রেখে যাওয়া চার বছরের আদরের নাতনী কাব্য
এখন সতের বছরে পা দিয়েছে।
তোমার প্রিয় তসবি ছড়া তার প্রার্থনার সঙ্গী হয়েছে।

বাড়ীর চারপাশে তোমার লাগানো গাছগুলো ফুলে-ফলে ভরে গেছে।
তোমার দেয়া রাস্তার দুপাশে আরো অনেক নতুন বসতি গড়ে উঠেছে।
শহরের নাগরিক ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণ।

তোমাকে স্বপ্নে দেখলাম।
সারা বাড়ী ঘুরে বেড়াচ্ছো
দেখভাল করছো ঠিক আগের মত।

যখন ঘুম ভাঙ্গল
হঠাৎ বুকের ভিতর এক অজানা কষ্ট দুমড়েমুচড়ে উঠল।
সত্যি তুমি নেই
কোথাও নেই তুমি।
স্বপ্নে এসেছিলে
আবার স্বপ্নেই মিলিয়ে গেলে।

 

কবির ফেসবুক লিংক: https://web.facebook.com/mamun.rashid.52493

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন