চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকদের লাগাতার ধর্মঘট

35
bangladesh-shikhok-somity

দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করনের দাবিতে সব পক্ষের শিক্ষকেরা আজ থেকে আবারো আন্দোলনে নামছেন। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি আনোয়ারা শাখার নেতৃত্বে আনোয়ারা উপজেলার ২৫ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়,২ টি কলেজ ও ১০ টি মাদ্রাসা এ ধর্মঘট পালন করবেন বলে জানা গেছে।

আজ শনিবার থেকে শিক্ষক সমিতি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচী শুরু করবেন। মাধ্যমিক স্কুল মাদ্রাসা ও উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক তাঁদের চাকুরী জাতীয়করণের দাবিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্দোলন ও রাজপথে নামছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্বারকলিপি প্রদানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু করবেন। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের একক বৃহৎ সংগঠন শিক্ষক কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির আহবানে আজ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দেয় সংগঠনটি। শিক্ষক কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি ১৪ মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে বলে জানা যায়। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকদের এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করনের দাবি ছাড়াও শিক্ষকদের অন্যান্য দাবিগুলো হচ্ছে ফি বছর সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মতো ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখীভাতা, চিকিৎসা ভাতা, পূর্ণাঙ্গ উৎসবভাতা, পেনশন ব্যবস্থা চালুকরণসহ অন্যান্য দাবি।

এসব দাবিতে ইতোমধ্যে সারা দেশে শিক্ষক সংগঠন গুলো সমাবেশ মানববন্ধন স্মারকলিপি পেশ করেছেন। ইতিপূর্বে ঢাকায় শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন অবস্থান ধর্মঘটও পালন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে দাবিগুলো বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

বর্তমান সরকারের মেয়াদ আর মাত্র কয়েক মাস,এ অবস্থায় ওই দাবিগুলোর ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বারবারই অর্থ মন্ত্রণালয়কে দায়ী করছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা বা বক্তব্য নেই। এমন প্রেক্ষাপটে শিক্ষক সংগঠনগুলো এ মুহর্তে রাজপথে থেকে আন্দোলনে নেমে সমাধান খোঁজার পথে যাচ্ছেন।

শিক্ষক সংগঠন ও সংগ্রাম কমিটির নেতারা বলেন, এ কর্মসচি সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। এ কর্মসচি সরকারবিরোধী কোনো কর্মসচি নয়। চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি এম ওসমান গণি বলেন, কোনো সরকারের আমলেই শিক্ষকেরা রাজপথে না নামার আগে দাবি পরণ হয়নি। তাই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ ও চাপ দিতেই কর্মসচি ঘোষণা করতে হচ্ছে। এ আন্দোলন শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন মাত্র।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এবং শিক্ষক নেতারা জানান, সারা দেশে সরকারি মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে ৩৬৫টি এবং উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ রয়েছে ২৫৬টির মতো। অপর দিকে, বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে, ২৮ হাজারের বেশি আর কলেজ প্রায় দুই হাজারের মতো। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা হচ্ছে পৌনে ৫ লাখ।

শিক্ষক নেতাদের দাবি সরকারি শিক্ষকদের সমযোগ্যতা নিয়েই তারা বছরের পর বছর মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু তারা বেতনের শতভাগ পেলেও, অন্যান্য কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো সুবিধা তারা পান না। সরকারি বেতনই তাদের ভরসা।

অপর দিকে, সম-যোগ্যতা এবং একই পাঠ্যক্রমে পাঠদান এবং পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মেধা তালিকার শীর্ষে থাকছেন। কিন্তু সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হয়েও সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মেধা তালিকার নিচে অবস্থান করছেন।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দাবি বেসরকারি শিক্ষকরা সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় বৈষম্যের শিকার। এ বৈষম্যের অবসান না হলে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

আন্দোলনরত এক শিক্ষক নেতা বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বহু বছর থেকে চলতে থাকা দুর্নীতি বন্ধ হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতির মল শিকড় হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য, এমপিওভুক্তি । সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এসব অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণই এখন সময়ের দাবি।

আনোয়ারা উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন,এ মুহর্তে সর্বাগ্রে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক নিয়োগে একটি শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। লেখাপড়ার মান বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ হলে সরকারকে এ খাতে নতুন করে বড় ধরনের কোনো বরাদ্দ দিতে হবে না। এমপিও খাতের বরাদ্দের সাথে সামান্য কিছু বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

জে, জাহেদ


বিশেষ প্রতিবেদক

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন