বাংলাদেশ পুলিশ সম্পর্কে – বাবলু বড়ুয়া

192
bangladesh-police

বাবলু বড়ুয়া, নির্বাহী সম্পাদক : বাংলাদেশ পুলিশ বাংলাদেশের প্রধান অসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। সংস্থাটি বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। বাংলাদেশ পুলিশের প্রধানকে অধিকর্তাকে বলা হয় মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) বা “ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ”। চুরি-ডাকাতি রোধ, ছিনতাই প্রতিরোধ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ইত্যাদি সমাজ বিরোধী কর্মকান্ড প্রতিরোধসহ বিভিন্ন জনসভা, নির্বাচনী দায়িত্বে বাংলাদেশ পুলিশ অংশগ্রহণ করে থাকে। বাংলাদেশ পুলিশে পুরুষ-নারী উভয়ই চাকুরী করছে।

বাংলাদেশ পুলিশ এর পূর্নরূপ

পর্তুগীজ ভাষা হতে পুলিশ শব্দটির উদ্ভব হয়েছে। পুলিশ (Police) শব্দটি ভাঙ্গলে দাঁড়ায়

P = Polite (নম্র, ভদ্র)

O = Obedient (বাধ্য, অনুগত)

L = Loyal (বিশ্বস্ত)

I = Intelligent (বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান)

C = Courageous (সাহসী, নির্ভীক)

E = Efficient (দক্ষ)

এক নজরে বাংলাদেশ পুলিশ

বাংলাদেশ পুলিশের মূলনীতি হচ্ছে: শান্তি -শৃঙ্খলা-নিরাপত্তা-প্রগতি। এ পর্যন্ত ১১টি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশ নিযুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশের একমাত্র পুলিশ একাডেমী রাজশাহী জেলার চারঘাট থানার সারদায় অবস্থিত।

কনস্টেবলদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলোকে পি.টি.সি বা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার বলে। বাংলাদেশে ৪টি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পি.টি.সি) আছে। যথা: (ক) নোয়াখালী (খ) মহেড়া, টাংগাইল (গ) খুলনা ও (ঘ) রংপুর।

পুলিশ বাহিনীর জন্য ২ স্তরের পুরস্কার রয়েছে। যথা (ক) বীরত্ব পুরস্কার, (খ) জিএস মার্ক। বীরত্ব পুরস্কার ৩টি। যথা (ক) বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল, (খ) প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল, (গ) আই.জি ব্যাজ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের সেবায়

দৃষ্টান্তমূলক কাজের জন্য বীরত্ব পুরস্কার দেওয়া হয়। G.S Mark হল সার্ভিস বইতে প্রশংসাপূর্ণ মন্তব্য লিখন যা পুলিশ বা তদূর্ধ কর্মকর্তাগণ দিয়ে থাকেন।

পুলিশ বাহিনীর জন্য ২ প্রকার শাস্তির ব্যবস্থা আছে। যথা: (ক) লঘু দন্ড ও (খ) গুরু দন্ড।

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স-এর স্মৃতিসৌধটি ১৯৭১ সনের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাক বাহিনীর আক্রমণে নিহত পুলিশদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়। ১৯৮৯ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

গোয়েন্দা শাখা (ডিবি):

গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট। এটি অত্যন্ত দক্ষ, বাস্তবধর্মী ও প্রযুক্তি নির্ভর শাখা। প্রত্যেক মেট্রোপিলটন পুলিশ এবং জেলা পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা শাখা আছে।

ট্রাফিক পুলিশ:

ট্রাফিক পুলিশ ছোট শহরগুলিতে জেলা পুলিশের অধীনে এবং বড় শহরগুলিতে মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে কাজ করে। ট্রাফিক পুলিশ ট্রাফিক আইনকানুন মেনে চলতে যানবাহনগুলোর ড্রাইভারদের বাধ্য করে এবং অমান্য কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করে।

ইমিগ্রেশন পুলিশ:

বিদেশ হতে বাংলাদেশে আগত এবং বিদেশের উদ্দেশ্যে গমনরত বাংলাদেশী ও বিদেশী যাত্রীদের ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিসেবা প্রদান করে। ইমিগ্রেশন সেবা বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখা দ্বারা প্রদান করা হয়।

হাইওয়ে পুলিশ:

মহাসড়ক নিরাপদ করা এবং যানজটমুক্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার হাইওয়ে পুলিশ গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলে ২০০৫ সালে হাইওয়ে পুলিশ তার যাত্রা শুরু করে। হাইওয়ে পুলিশ রেঞ্জের প্রধান কর্মকর্তা জলেন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (হাইওয়ে পুলিশ)। হাইওয়ে পুলিশ রেঞ্জের অধীনে দুটি হাইওয়ে পুলিশ উইং আছে। ইস্টার্ন উইং এর সদর দফতর কুমিল্লায় এবং ওয়েষ্টার্ন উইং এর সদর দফতর বগুড়ায় অবস্থিত। প্রতিটি উইং এর নেতৃত্বে আছেন একজন সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (হাইওয়ে)।

শিল্পকৌশল পুলিশ:

শ্রম আইন, ২০০৬ বাস্তবায়নে এবং শিল্প এলাকায় অশান্তি প্রতিরোধ কল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ পূর্বক সম্ভাব্য শ্রম অসন্তোষ মোকাবেলার উদ্দেশ্যে ২০১০ সালের ৩১ শে অক্টোবর শিল্প পুলিশ যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এই ইউনিটের সদস্য সংখ্যা ২৯৯০ জন। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের চার কার্য অঞ্চল-

ইন্ডাস্টিয়াল পুলিশ-১, আশুলিয়া, ঢাকা।

ইন্ডাস্টিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুর

ইন্ডাস্টিয়াল পুলিশ-৩, চট্টগ্রাম

ইন্ডাস্টিয়াল পুলিশ-৪, নারায়নগঞ্জ

 বিশেষ নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা ব্যাটালিয়ন (SSPB):

২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, ভ্রমনরত বিদেশী রাষ্ট্রীয় অতিথিদের নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা ব্যাটালিয়ন নামে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্টা করা হয়। এপিবিএনের প্রধান অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শকের নিয়ন্ত্রনে একজন উপ মহা পরিদর্শক এই বাহিনী পরিচালনা করে থাকেন। প্রাথমিক ভাবে দুটি প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন দিয়ে এই বাহিনী যাত্রা শুরু করেছে।

বিমানবন্দর সশস্ত্র পুলিশ (AAP):

এপিবিএনের একটি বিশেষায়িত ইউনিট বিমানবন্দর সশস্ত্র পুলিশ (AAP) হিসাবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য বিমানবন্দর এলাকার মধ্যে নিয়োজিত আছে। বর্তমানে অষ্টম এপিবিএন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকার নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত আছে।

পর্যটন পুলিশ:

২০০৯ সালে বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাবেলা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভ্রমনরত স্থানীয় ও বিদেশী পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে গঠিত হয় পর্যটন পুলিশ। খুব শিগগির পর্যটন পুলিশের কলেবর বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় এর নিরাপত্তা বিধান কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা আছে। পর্যটন পুলিশ জেলা পুলিশের অধীনে কাজ করছে।

পুলিশ অভ্যন্তরীণ ওভারসাইট (PIO):

সারাদেশে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নজরদারী করতে ও তাদের উপর গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পুলিশ অভ্যান্তরীন ওবারসাইট নামে একটি বিশেষায়িত বিভাগ কাজ করে। ২০০৭ সালে এই বিভাগটি প্রতিষ্টিত হয়। সদর দপ্তরের একজন সহকারী মহা পুলিশ পরিদর্শক এই বিভাগের প্রধান এবং তিনি সরাসরি মহা পুলিশ পরিদর্শকের নিকট রিপোর্ট দাখিল করেন। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি পুলিশ ইউনিট পিআইও এর সরাসরি নজরদারির আওতাধীন। পিআইওর এজেন্টরা পুলিশ হেডকোয়ার্টারের পিআইওর ইউনিট এর সরাসরি তত্বাবধানে সারাদেশে ছড়িয়ে আছেন।

একজন পুলিশের দৈনিক ডিউটি কত ঘন্টা?

বাংলাদেশ পুলিশ, দেশের নিরাপত্তা, শৃংখলা,শান্তির দায়িত্ব নিয়ে জনগনের সেবায় নিয়োজিত একটি বাহিনী। আমরা দেশের সাধারন জনগনের একটা বদ্ধমুল ধারনা পুলিশ অসৎ,ঘুষখোর। কিন্তু তাদের কর্মকান্ড, দায়িত্ব পালনের সীমাবদ্ধতা এবং সর্বোপরি অমানুষিক পরিশ্রমের কথা কখনও ভেবে দেখিনা।

একজন সাধারন শ্রমিক যেখানে দৈনিক আট থেকে দশ ঘন্টা ডিউটি করেন সেখানে একজন পুলিশ বাহিনীর সদস্যের ডিউটির কোন সীমা-পরিসীমা নেই। দিন-রাত চব্বিশ ঘন্টা তারা অন ডিউটিতে থাকে। সারাদিন ডিউটি করে নিজের পরিবার-পরিজনকে পর্যন্ত সময় দিতে পারেন না।

পুলিশের নাম শুনলে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নেয়। অনেকেই আবার নাক সিটকায়। কেউ কেউ সুযোগ পেলে ঢিল মারতেও কার্পণ্য করে না। অথচ ইদানিং উচ্চ শিক্ষিত ও ভালো পরিবারের ছেলে-মেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেয়ায় পুলিশের প্রতি সাধারন মানুষের প্রত্যাশা ক্রমাগতই বাড়ছে।

তাই বলছি, পুলিশের ভেতর বাহির জানুন এবং মানুষের সেবা করার মনোভাব নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ এগিয়ে আসবে এমনই প্রত্যাশা থাকবে সবার।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন