ন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট সম্পন্ন। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে আইটি প্রকৌশলীদের ভূমিকা রাখতে হবে:সিটি মেয়র

66
programing_contest

দু’দিন ব্যাপী ন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (এনসিপিসি-২০১৭) আজ ১০ মার্চ সন্ধ্যায় সমাপ্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪৯টি টিমের মধ্যে প্রথম স্থানে বুয়েট দল ‘BUET Rayo’, দ্বিতীয় স্থানে স্বাগতিক চুয়েটের টিম ‘CUET Pyro’ এবং তৃতীয় স্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘JU_MSMÕ ’ বিজয়ী হয়। এছাড়া শুধুমাত্র মেয়েদের ৫ টি টিমের মধ্যে প্রথম হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘JU Girls’।

ন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট কি?

কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রোগ্রামিং, যা সফটওয়্যার নির্মাণ কৌশলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বিষয়টি অন্যান্য লেখাপড়ার মতো নয় যে বই পড়লাম, কিছু প্রশ্নের উত্তর শিখে ফেললাম, পরীক্ষা দিয়ে সব ভুলে গেলাম। প্রোগ্রামিং হচ্ছে একটি দক্ষতা (skill)। ব্যাপারটিকে সংগীতের সাথে তুলনা করা যায়। প্রোগ্রামিং চর্চার মাধ্যমেই ভালো প্রোগ্রামার হওয়া যায়, প্রোগ্রামিংয়ে উৎকর্ষ সাধন করা যায়। সুতরাং ন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট হচ্ছে একটি প্রতিযোগিতা।

এ উপলক্ষে নগরীর ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি), চট্টগ্রাম সেন্টারে আয়োজিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ. জ. ম. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রূপকল্প-২০৪১’ অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে আইটি প্রকৌশলীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে তথ্য-প্রযুক্তি (আইটি) কে সর্বোচ্চ স্থানে নিয়ে যাওয়া আবশ্যক। এ লক্ষ্যে সরকার দক্ষ আইটি প্রকৌশলী গড়া এবং আইটি পার্ক স্থাপনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর এনসিপিসি-২০১৭ আয়োজনে চুয়েটকে নির্বাচিত করায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চুয়েট তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়ন তথা উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রনী ভূমিকা রাখবে।

ন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের ইইই অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, বেসিস সভাপতি জনাব মোস্তফা জব্বার এবং বিডিওএসএস এর সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির সভাপতি ও চুয়েটের সিএসই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হক এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক কমিটির সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শামছুল আরেফিন। আরো বক্তব্য রাখেন, এনসিপিসি এর চীফ জাজ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহিম খান, কনটেষ্ট এর জাজিং ডিরেক্টর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ শিপলু হাওলাদার এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সিএসই বিভাগের প্রভাষক ফারজানা ইয়াসমিন।

প্রসঙ্গত, জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত এ সর্ববৃহৎ কম্পিউটার প্রোগামিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য মোট ২৬টি পুরস্কার দেয়া হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে ১৫ টি র‌্যাংকিং ঘোষণা করা হয়। এছাড়া দেশের আটটি বিভাগের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে ৮টি, মেয়েদের মধ্যে একটি এবং উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে ২টি পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৮৪টি দল অংশ নেয়। তবে চূড়ান্ত পর্বের জন্য ৬৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, দুটি কলেজ ও একটি স্কুল থেকে ১৫০টি দল মনোনীত করা হয়।

এনসিপিসি ২০১৭ এ স্পন্সর হিসেবে ছিল বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, IPVISION LTD এবং শিওর ক্যাশ।

ফোবানি/হামিদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন