প্রিয়তি – কবি মিন্টু সারেং

111
prioty_mintu_sareng

প্রিয়তি – কবি মিন্টু সারেং।

প্রিয়তি শিরোনামে মিন্টু সারেং রচিত কবিতাটির অংশ বিশেষসহ কিছু কবিতা প্রকাশ করা হলো আজ। ১লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে প্রকাশিত হবে আরো কিছু কবিতা।

কবি দেলওয়ার হোসেন মিন্টু জন্ম নোয়াখালী জেলার মধূসুদন পুর (মধুপুর) গ্রামে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর।উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নকালীন ১৯৭৭ সালে স্বরচিত কবিতা প্রতিযোগিতায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা কবিতা “আজন্ম স্বদেশ” লিখে ১ম স্থান অধিকার করেন। জীবনে প্রথম কবিতা লিখেন ১৯৭৫ সালের ১৬ আগষ্ট, তখন এসএসসি পরীক্ষা চলছিল, বঙ্গবন্ধুকে ঘাতকরা অমানবিকভাবে হত্যা করলো, কবির কিশোর হৃদয় প্রতিবাদি হয়ে উঠল, লিখলেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘বাংলার অযুত পাখি’। করলেন প্রতিবাদি মিছিল, গায়েবানা জানাজায় অংশ নিলেন। সেই থেকে লিখে চলেছেন। একই সাথে পেয়ে বসল রাজনীতির নেশা। কিছু স্বীকৃতিও পেলেন ১৯৮০ সালের দিকে। তথ্য মন্ত্রনালয়ের একটি প্রতিযোগিতায় একাংকিকা লিখে প্রথম হলেন। একই প্রতিযোগিতায় ৮১/৮২ সালে কবিতায় জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেলেন। জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত ২০০৮ সালে “নোয়াখালীর কবিতা পদক” গ্রহন করেন। আতাউস সামাদ সম্পাদিত পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক এখন’ সম্মাননা পেলেন। লিখে চলেছেন নিরবদি নিরন্তর। অসংখ্য কবিতা প্রকাশিত হয়েছে একাধিক লিটল ম্যাগাজিনে, দৈনিক “আমাদের সময়” দৈনিক জনকন্ঠ” দৈনিক “বাংলাদেশ সময়” সাপ্তিক”মৃদু ভাষন”সাপ্তাহিক জনতার চোখ, সাপ্তাহিক এখন” পত্রিকার সাহিত্য পাতায়। বের হয়েছে কবিতার বই “যন্ত্রনায় বিদগ্ধ স্বজন’’ ত্রিক প্রকাশনী থেকে। অন্যটি স্বরাজ প্রকাশনী, ৮৯ আজিজ সুপার মার্কেট থেকে ‘‘হলুদ পাখির সংসার’’।কবিতার বইটি প্রকাশে মরহুম রবিউল হোসেন কচি সহায়তা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত কবি দেলোয়ার হোসেন মিন্টু একমাত্র কন্যা সন্তান মিমতিন নূরের পিতা। সহধর্মীনি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। পাঁচ ভাই-বোনের সংসারে কবি সবার বড়। মরহুম বাবা ছিলেন সরকারি চাকুরীজীবি, মা গৃহিনী। দেলোয়ার হোসেন মিন্টুর কবি নাম “মিন্টু সারেং”।

প্রিয়তি

(ভাবিস না, তোর সাথে আমার দেখা হবে)

প্রিয়তি,

কি এতো ভাবছো, বেলা শেষে তো যেতেই হবে,নাকি কোন সুখের জবর
কাটছো,ভাবনার পানশিতে আজ অনেক ভীড় জমেছে

এসময় তোকে বড় বেশী অসহায় লাগছে,
জীবনে কিছু স্মৃতি থাকে বেদনার মতো বার বার বাজে
জীবনে কিছু স্মৃতি থাকে সুখের, যা বেদনার,
কিছু কিছু সুখ আছে, অন্ধকার রাতের মতো,
বেদনাকে হারিয়ে সুখের স্মৃতি গুলু কালো দাগ ফেলে
আজ সময় আমি বা তুই বড় অসহায়,
দেখ তুই যা বলিস,তোর মানচিত্র আমার পড়া হয়ে গেছে

প্রিয়তি,

পলাতক স্বপ্নরা বিদুষী নারীর মতো, ডাল পালা হীন
কেবলই আঁকড়ে ধরতে চায়,আমাকে স্মৃতির ভাবনায়
তুই কি ডুবাতে চাস?তোকে আমার দোহাই লাগে
জীবন শূন্যতায় যদি ভাসতে হয় এক সাথে ভাসবো,
তা হবে মহাশূন্যের সীমাহীন অন্তরালে

প্রিয়তি,

আমার কথা, আজ ভাবিস না,তখন ভাবিস
আমি যখন থাকবো না,সাদা কাপড়ে আবৃত এই আমি
কিছু ক্ষন পরই চলে যাবো,তোর দৃষ্টির বাহিরে,
ভাবিসনা তোকেও যেতে হবে,যেতে তো হবেই
ভাবনার পানশিতে আজ অনেক ভীড়,
এত ভীড়ে আমি তোর মুখ দেখতে পচ্ছিনা কেন?
বলতে পারিস? বলনা, তুই ছিলি আমার সরল কোন

প্রিয়তি,
,আমাকে বলছিস তুই?বৃষ্টি আর ঝরনার কথা?
সাদা মেঘ আর আকাশে ভাসা শরতের মূর্ত্যবিমূর্ত্য
রাশি রাশি চিত্রকলার অনেক না বলা কথা,
বলে যা, সময় কম বেলা যে চলে যায়,
সন্ধ্যার আগেই আমাকে নামিয়ে দিস,
যেতে তো হবেই, যত দ্রুত চলে যাওয়া যায়

প্রিয়তি,

ভাবিস না তোর সাথে দেখা হবে ভাবনার পানশিতে
যেখানে আমি আর তুই কেবলই ভাসবো শূন্যের মায়ায়

প্রিয়তি
( একটু ভাবিস)

প্রিয়তি,
জলের সূত্র ধরে ছোট বেলায় আর্কিমিডিসকে চিনেছি,আজ মধ্য বয়েসে এসেও প্রেমের সূত্র বুঝিনি,কতটুকু
প্রেম দিলে কতটুকু ভালবাসা উপচিয়ে পড়বে,কতটা জায়গা
দখল করবে,হৃদয়ের পাত্রটাতে?

তুই কি বুঝতে পারিস, প্রিয়তি

কখনো মেপে দেখেছিস,
আমি তোকে কতটা প্রেম দিয়েছি,
হৃদয়ের পাত্র থেকে, ঠিক সময়ে কতটুকু ভালবাসা
হ্যাঁ প্রিয়তি, কতটুকু ভালবাসা উপছে পড়ে ছিল?
তোর কি জানা আাছে?

প্রিয়তি,
আর্কিমিডিসের বস্তুুর জায়গা দখলের
সেই জলের পাত্রের সূত্রটি
এতদিন পরে, কেন মনে পড়লো একটু ভাবিস

প্রিয়তি
(চল যাই ভেসে জলে)

prioty_vabnaপ্রিয়তি,
কেমন আছিস অবেলায়
চৈতালি বর্ষায়,
চল যাই ভেসে জলে,
গন্ধরাজ ফুটেছে আঙিনায়
তোর খোঁপায় গুজে দেবো, বৃষ্টির জলে
চল যাই ভেসে

প্রিয়তি,
তোর মন খারাপ?
কেবল আমাদের জল পড়া শব্দে
কাদামাটির ভালবাসা,
একবার ধুয়ে নিবি
জল পড়া শব্দে, গড়িয়ে পড়বে শরীর বেয়ে

প্রিয়তি,
এমন অবেলায় অঝোর ধারা
আর পাবিনে,
চল যাই ভেসে, ভালবাসার জলে

এক দিন এই বৃষ্টি, এই জল হাওয়া
কিছুই তুই আর পাবিনে
তাই বলি কি,চল ভেসে যাই জলে
প্রিয়তি,চল ভেসে অমরাবতীর জলে

প্রিয়তি
(জীবন প্রতিবিম্বিত চাঁদ)

প্রিয়তি,
জয় পরাজয়ের মাঝখানে জীবন চলে না
আমার চারপাশে ভাঙ্গা কাঁচের গুড়ো
কংক্রিট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ
শান্ত নদীর বুকে গাঙ শালিকের মেলা বসে না।
প্রিয়তি,
পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধার ক্রাচের ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দে
বুকের ব্যাথার মতো চারদিকে দু: বাড়ছে
অন্ধকারে স্বপ্নে দেখা মরা নদীটা রাতে কাঁদে
আমার ভাল লাগা কবিতা গান হারিয়ে গেছে।
প্রিয়তি,
আমি এখন বৈষ্ঞব পদাবলী হাতড়ে ফিরি
হাজার বছর আগেকার জীবন ঘসে
আগুন জ্বালাতে চাই কিন্তু নিভে যায়
ভালবাসা সুূুদুরে হাতছানি দেয়।
প্রিয়তি,
তোমার ভালবাসা বড় নিষ্ঠুর
নিষেধ মানেনা আমাকে কাছে ডাকার
কুয়াশায় স্বপ্ন চাদর মুড়ি দিয়ে মানুষ ঘুমায়
জানেনা মৃত্যু তার নিশ্চিত অপেক্ষায়।
প্রিয়তি,
আাজ সূর্য তাপ দিয়ে ধরনীকে তপ্ত করে না
বাতাস ছুটেনা খরবেগে,নিকটে জল নাই
দিন শেষে সন্ধ্যা,গৌধুলির রঙ নিয়ে ফিরছো তুমি
কি হবে দীপ জ্বেলে নৈবদ্ধ দিয়ে।
শোন প্রিয়তি,
মোক্ষ কি লাভ হয় জলে স্নান করে
তীর্থে তপোবনে যেয়েই বা আমাদের কি হবে
জলে প্রতিবিম্বিত চাঁদের মতো আামদের জীবন
সত্যও নয় মিথ্যাও নয় কাঁদে হাসে প্রতিক্ষন

জানেন একমাত্র অন্তর্যামী

(একজন বীরাংগনা কে নিয়ে)

রূপজান এখন আর কাঁদে না
শুধু তাকিয়ে থাকে উদাস চোখে
আমাদের বীরাংগনা,

prioty_birongonaসেদিন ছিল ভাদ্রের এক তারিখ শুক্রবার
মসজিদে আজানরত মুয়াজ্জিনের কন্ঠে,

লা ইলাহহা ইল্লালাহা

চারদিকে চিৎকারগুলিআগুন
হায়নাদার পাকিস্তানি সেনা
গর্ গর্ যন্ত্র দানব নিয়ে দিয়েছে হানা,
সবার মতো দৌড়ে মসজিদে ঢুকে
রূপজান, সাথে ছিল তার মা
তড়ি গড়ি পুরুষরা নামাজে দাঁড়ায়
এক কোনে জমে জমে থাকে বিপর্যস্থ
গুটি কতেক গ্রামীন মহিলা

শুন শান নিরবতা

দেয় হাঁক পাকিস্তানি সেনা
ছবকো মার দো,”
ছোটে মেশিনগানের গুলি,
নামাজরত মুসল্লি লুটে পড়ে মসজিদ্ মিম্বারে

গুঠি শুটি রূপজান, আঁকড়ে ধরে মাকে,
বৃদ্ধা জননী, শত চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেনি,
বুটের তলায় পিষ্ট জননী

তারপর শুধুই চেয়ে থাকা
এই চেয়ে থাকার শেষ কোথায়
জানেন, একমাত্র আমাদের অন্তর্যামী

তুমি আমার নীলকষ্টের বেদনার বাঁশি

তোমার বেদনাই, আমার সমুদ্র, নীল কষ্টের
সমুদ্র দেখিয়েছে,আমি অনেক উত্তুংগ ঢেউ ভেংগে
prioty_nil_kostoতোমার কাছেই ফিরেছি বারংবার
যখন দেখেছি গাং চিল পারিযায়ী, ভেবেছি
তুমি কত কাছে, বলেছি, প্রিয়তমা এইতো
আমি এসে গেছি,’ তোমার কাছাকাছি,
দুর আকাশ দেখে দেখে জাহজের ছাদে
নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি,বলেছি কথা তারাদের সাথে,

কতযুগ তোমাকে দেখিনি পথ হারা নাবিক আমি
তোমার সংগে মন আনন্দে,অবিচ্ছেদী জীবনের
ভাবনার রঙে রাঙিছে সংগী, তবু তোমার বেদনার নীল সূতো বাসরের মেরুন রঙে বুনেছে নকশি
কোথায় ছিলে কোন দারুচিনি দ্বীপে
পালছেঁড়া মাস্তুলে কত অমাবষ্যা,
কেটেছে চাঁদনী রাত,সমুদ্রের মায়াবী পথ
ভুলাতে চেয়ছে তোমাকে,

সমুদ্রের সফেদ ফেনা,জলের নোনা
আর দিগন্তের বাতিঘর,
মায়াজালে ডেকেছে বারবার
তুবু তোমাকে ভোলাতে পারেনি
তুমি আমার চির চেনা অনেক দিনের সাথি,
তোমার সাথেই বেঁধেছি রাঁখি
তুমি আমার নীল বেদনার বাঁশি

অনেক দুর হেঁটেছি পথ,ছিলাম যখন ডাঙায়
প্রজাপতি হাওয়ায় ভেসে কেটেছে নীল সমুদ্রে
তারপর কেটেছে অনেক সকালবিকাল, তারাভরা সন্ধ্যায়,বাজে বেদনা হয়ে গাংচিল ধ্বনি,
এবার ফিরতে হবে সারেং
লগ্ন পেরোবার অবেলায়
ডাক দিয়েছে নীল কষ্টের, নীল বেদনারবাঁশি।

আমার বড় ইচ্ছে করে শালিক হতে

এক বন্ধুকে লিখেছিলাম,
আমার শালিক হতে ইচ্ছে করে,
সে উত্তরে লিখেছে, ‘তাই নাকি

prioty_salikযখন ছিলাম কিশোর, সারা দিন আমার কেটেছে
শালিকের বাসার খোঁজে,
মায়ের বকুনি, বাবার পিটুনি আমাকে নিবৃত্ত করেনি, শালিক ছানা পোষার আনন্দে,
কেটেছে সময়, একদিন তুমি এসে
খাঁচার শালিক উড়িয়ে দিলে আকাশে,
তোমার খিল খিল রিনিঝিনি হাসি ছড়িয়ে গেল
হৃদয়ের ঝুলবারান্দায়, তুমি পালালে শেষে
আমি দুঃখ পেলাম খুব,তবু কি যেন এক শিহরন
শালিক হারানোর দুঃখ মন থেকে মুছে দিল
মস্তিষ্কের প্রতিটি শিরায় জাগরিত হলো
শালিক নয় কেবল তোমার কিশোরি মুখ

শালিক সময় পেরিয়ে এখন বয়সের মধ্য গগনে
তোমার কিশোরি মুখ আমাকে বারবার ডাকে
ঘাসবন ঝোপঝাড় নিস্তব্ধ দুপুর,
বিকেলে পড়ন্ত বেলার ঝাঁকবাঁধা উড়ন্ত ফড়িং
তোমার আমার ছুটে চলা গ্রামীন মেঠোপথ,
এরপর অনেক দেখেছি শালিক
মায়াবী পথ হেঁটে,
কোথাও আর দেখেনি, দেখিনি তোমার মুখ

এইতো সেদিন বিনর্ম ভালোবাসায় দেখছি
আদরে মগ্ন জোড়া শালিক,
আমি হারালাম তোমাতে আবার
যেমন এখনো হারায়, কোন এক অবুঝ কিশোর

আমাদের শালিক ভালোবাসা চলুকনা কিছুদিন
যদি ভালোবাসো, আমি থাকবো চিরদিন
তোমারি আশে তোমারি পাশে
শালিকের মতো কথা বলা কানে কানে
আমার বড় ইচ্ছেকরে শালিক হতে

 

ফোবানি/হামিদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন