পুলিশ রিমান্ডে নারীর স্তন ও গোপনাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক !

156
police_investigation_cox's_bazar

ইয়াবা ব্যবসা সংক্রান্ত এক মামলায় রিমান্ডে নিয়ে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্পর্শকাতর স্থানে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন কক্সবাজারের এক নির্যাতিত নারী। পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনে ঐ নারী জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন।

এ ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে জীবন আরা নামের ওই নারী সংবাদ সম্মেলনও করেন। তাঁকে আইনগত সহায়তা দিচ্ছে কক্সবাজার ঝাউতলা নারী কল্যাণ সমিতি। জীবন আরা ইয়াবা-সংক্রান্ত একটি মামলার আসামি।

তবে রিমান্ডে নিয়ে এ ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানস বড়ুয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জীবন আরা লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ২ মার্চ তিনি ও তাঁর স্বামী আলী আহমদ কোম্পানিকে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর ১০ দিন পর তাঁকে একদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েই পুলিশ রিমান্ডের নামে নির্যাতন করেছে বলে দাবি করেন জীবন আরা।

‘রিমান্ডের দিন এসআই মানস আমার কাছে মোটা টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে এসআই নির্যাতন করেন। নির্যাতনের বর্ণনা দেওয়ার ভাষা আমার জানা নেই। পাষণ্ড ও বর্বরতার উদাহারণ মানস।’

জীবন আরা দাবি করেন, এ সময় তাঁর স্তন ও গোপনাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছে। আটকের দিন পুলিশ বাসা থেকে ব্যাংক চেক, স্বর্ণালংকার ও একটি প্রাইভেটকার নিয়ে আসে। বর্তমানে এসব জিনিসের হদিসও নেই। তিনি ২৩ মার্চ জামিন পান। পরে নির্যাতনের ব্যাপারে কথা বলার জন্য কক্সবাজার ঝাউতলা নারী কল্যাণ সমিতিতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে নুনিয়ারছড়া এলাকায় এসআই মানস আবারও আটক করেন এবং ইট দিয়ে আঘাত করে দেবরের পা ভেঙে দেন বলে অভিযোগ করেন জীবন আরা।

সংবাদ সম্মেলনে ঝাউতলা নারী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ফাতেমা আনকিজ ডেজী উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, নির্যাতিত নারীকে নিয়ে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরীর সহযোগিতায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

‘জীবন আরা শরীরের সর্বত্র ক্ষতের চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে রাস্তায় নামব’, যোগ করেন নারীনেত্রী

অভিযোগের ব্যাপারে এসআই মানস বড়ুয়া বলেন,‘জীবন আরা সদর থানার একটি নিয়মিত মামলার আসামি। সেই হিসেবে ১৩ মার্চ তাঁকে একদিনের রিমান্ডে আনা হয়। কিন্তু সেখানে তাঁকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। জীবন আরা অপরাধ ঢাকার ষড়যন্ত্র করছেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন।’

এ অভিযোগের তদন্তের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে অভিযোগকারীকে সাক্ষীসহ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আগামী ২১ এপ্রিল হাজির হতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এখন অপেক্ষা শুধু সময়ের। তদন্ত শেষে নারী নির্যাতনের অভিযোগের সত্যটা বেরিয়ে আসবে, প্রকৃত অপরাধির শাস্তি হবে পাবে- এই প্রত্যাশা সুধী জনের।

সূত্র: সম্পাদকডটকম

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন