পানি বিষয়ক বেদনা বিধুর গল্প -ড.শাখাওয়াত এইচ ভুঁইয়া

41
pani_bishoye_golpo

পানি বিষয়ক বেদনা বিধুর গল্পটি মুলত: আমার বন্ধুবর পান্ডিত্যের অধিকারী ড.শাখাওয়াত হোসেন ভুঁইয়া রচিত কিছুটা আত্মকথন ও স্মৃতিচারনমুলক একটি রচনা। অনেকদিন থেকেই চাওয়া ছিলো অনিয়মিত হলেও তিনি মাঝে মাঝে লিখবেন ফোকাস বাংলা নিউজ এর পাতায়। পেশাগত ব্যস্ততায় প্রায় বৎসরকাল সময় পেরিয়েও কেন জানি সময় আর হয়ে উঠেনি। সেই কবে তাঁর একটি ভ্রমনকাহিনী প্রকাশ হয়েছিলো এখানেই

সেইন্ট মার্টিন আইল্যান্ড ভ্রমন: ইউল্যাব এ্যাডভেঞ্চার ক্লাব

একজন নিরব পাঠক হিসেবে নিয়মিতই পড়ি তাঁর লেখা। এই রচনাটিও লেখকের টাইমলাইনে সদ্যই প্রকাশিত। অনুমতি না নেয়ার ত্রুটি বন্ধু ক্ষমা করো সম্পাদক।

পানি আমাকে টানে। যদিও সাঁতার জানি না, কিন্তু ঝাঁপিয়ে পরা থেকে নিজেকে আটকে রাখতে পারিনা। ছোটো বেলায় ডুবতে ডুবতে ডুবে যাই নি। গেলে এতো রূপ রস গন্ধ পেতাম না, আবার মুক্তি পেতে পারতাম অনেক দুঃখ কষ্ট অভিমান থেকে। বড় বেলাতেও ডুবতে বসে ছিলাম এক সন্ধ্যায় গ্রামের নদীতে, টলটলে পানির লোভ সামলাতে না পেরে। সুইডেন যাওয়ার আগে বাড়ী গিয়েছিলাম বাবার কবর জিয়ারত করতে। চাচাতো ভাইকে নিয়ে বাজারে গেলাম বিকেল বেলায়। ফেরার পথে মাগরিবের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হতেই দেখি নদীর ঘাটে কিছু কর্মক্লান্ত মানুষ গোসল সেরে নিচ্ছে। নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না। চাচাতো ভাইয়ের হাতে পাঞ্জাবি খুলে দিয়ে পায়জামা সহ নেমে গেলাম নদীর ঠান্ডা জলে সন্ধ্যা পার হওয়া আধো অন্ধকারে। একটু পর দেখলাম ঘাটলার ভিত নেই পায়ের নীচে। ডুবে যাচ্ছি আমি। হাত পা ছুঁড়তে ছুঁড়তে কিছু পানি নাকে মুখে গিলে পাকা ঘাটের শেষ প্রান্ত ধরতে পারলাম। তারপরও একবারের জন্যও মনে হয় নি যে ঘোর সন্ধ্যায় নদীতে নামা ঠিক হয় নি। বরং নাচতে নাচতে বাড়ী ফিরলাম ভেজা জামা গায়ে।

পানি দেখলেই নেমে গিয়ে এক নিশ্বাসে সাত ডুব দেয়ার একটা অভ্যাস দাঁড়িয়ে গেছে। এটা একরকম রিচুয়ালে পরিনত হয়েছে আমার। মেঘনা, পদ্মা, তিতাস, কর্ণফুলী নদী, কাপ্তাই লেইক, বঙ্গোপসাগর, সুইডেনের ধারে বল্টিক সী, ইংলিশ চ্যানেল অংশে নোর্থ সী, এমন কি নামা নিষিদ্ধ সংসদ ভবনের ক্রিসেন্ট লেইকও বাদ যায় নি। টেমসের লন্ডন অংশের পাড় বাঁধানো থাকায় ডুব দিতে পারিনি। তা না হলে আমাকে ঠেকায় কে! নোর্থ সীর পানি সামারেও অনেক ঠান্ডা। অনেকক্ষণ গা ডুবিয়ে না থাকতে পারলেও কোনো রকমে সাত ডুব দিয়ে উঠে এসেছি। গিয়েছিলাম আজমির শরীফে। গিয়ে দেখি খুব কাছেই এক অসাধারণ সুন্দর ম্যান মেইড লেইক। নাম ‘আনা সাগর’। এলাকাটা দেখতে ঠিক কাপ্তাইরই মতো। যথারীতি নিজেকে আটকে রাখতে পারলাম না। চোখের নজরে ব্যাকপ্যাকের উপর পাঞ্জাবি খুলে রেখে পায়জামা সহ আমার নামার ধরণ দেখে আরেকজন স্নানার্থী টের পেয়ে গেলো যে আমি সাঁতার জানি না। তাই বললো ঘাটের সাথে লাগানো চেইন ধরে রাখতে। তাই মেনে নেমে গেলাম নীলচে রঙের টলটলা শীতল পানিতে। অনেক ক্ষণ গা ভিজিয়ে এক নিশ্বাসে সাত ডুব দিয়ে পরে ভেজা জামায় আরো বেশ ঘুরে বেড়ালাম আজমিরের আশেপাশে। অফ কউরস, খুশী মনে!

তবে ইদানিং হয়েছেটা কি। ভদ্র হয়ে গেছি। ভদ্র মানুষ মানেই ভীতু মানুষ। ভাবছেন সাঁতার জানিনা বলে পানিতে নামা ছেড়ে দিয়েছি? কাভি নেহি! নামি। আলবৎ নামি। তবে নামার সময় লাইফ জ্যাকেট সাথে নিয়ে নামি। এই হচ্ছে বাঘ মামার বিড়াল হয়ে যাওয়ার বেদনাবিধুর গল্প।

সেইন্ট মার্টিন দ্বীপ রক্ষায় ভুটানের মতো রেষ্টিকটেড ট্যুরিজম বাংলাদেশেরও চালু করা উচিত

 

ড. মোহাম্মদ শাখাওয়াত এইচ ভুঁইয়া


সহকারি অধ্যাপক, ইউনির্ভাসিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন