পরিবেশ রক্ষায় আনোয়ারা উপজেলায় কার্যকরী উদ্যোগ প্রয়োজন

33
save_nature

আনোয়ারা উপজেলায় পরিবেশ রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। আনোয়ারা উপজেলা ঘুরে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন ফোকাস বাংলা নিউজের বিশেষ প্রতিবেদক রানা সাত্তার। অনুসন্ধানে জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলার ৩ নং রায়পুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড ও ২নং বারশত ইউনিয়ন সংলগ্ন গহিরা ও পারকি, বাতিঘর এলাকায় দীর্ঘ ফেরাবন ও ঝাউবন অবস্হিত। এ বন বঙ্গোপসাগরের পাশ ঘেষে হওয়ায় অনেকটা নিরাপদেই আছেন গহিরাবাসী। ১৯৯১ সালের বন্যার পর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয় থেকে এই গাছ লাগানো হয় । বার আউলিয়া,ঘাঠকুল, ফকিরহাট ও হাড়িয়াপাড়া ভাঙ্গনের কবলে পড়লেও ফেরাবন আর ঝাউবাগানের কারণে ভাঙ্গনের কবলে পড়েনি দক্ষিণ গহিরা,পারকি বাজার। ৩০০ একর  বিস্তৃত এ ঝাউবন ও ফেরাবন কাটার কারণে এই বনভুমি এখন  ৩ কি.মি এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সৃজিত বন প্রতিদিনই ধ্বংস হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় প্রায় প্রতিদিনই কাটছেন ফেরাগাছ ও ঝাউবন। বনদস্যু চক্রটি এতই শক্তিশালী যে কোন বাধাই তারা মানছে না। চক্রটির ভয়ে কেউ মুখ পর্যন্ত খুলছেন না। সরেজমিন ঘুরে প্রতিবেদক কিছু ছবি তুলেছেন। ছবিতে দেখা যায়, বনদস্যুদের কেটে নেয়া গাছের অবশিষ্টাংশ বা ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে।

বাঁচাও কর্ণফূলী, আসুন কলম ধরি- সফিকুল আলম

এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ২নং বারশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ কায়ূম শাহ এর সাথে। তিনি জানান, এলাকার এই গাছ না কাটার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা করে সকলকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।গাছ কাটার অপকারিতা ও পরিবেশ রক্ষায় নিজেদের করনীয় সম্পর্কে একাধিক সভা সেমিনার করা হয়েছে। কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। দিনের পর দিন গাছ কেটে বিলীন করা হচ্ছে আনোয়ার প্রাকুতিক পরিবেশ। তিনি পরিবেশ রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে জনৈক এলাকাবাসী জানান,গত কয়েক বছর ধরে গাছ কাটার পরিমান বেড়ে গেছে। এ নিয়ে বনবিভাগ একাধিক মামলা করেছে কিন্তু কোন আসামী ধরা না পড়ায় গাছ কাটা বন্ধ হচ্ছে না।

এদিকে ঝাউবন কাটার কারণে অচিরেই বড় ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন এলাকাবাসী! এমনটাই আশংকা করছেন সচেতন মহল। বারশতবাসী ও গহিরাবাসীর আসন্ন বিপদ সম্পর্কে এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

দুর্যোগ কি? বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি ও মোকাবেলায় জনসচেতনতা প্রয়োজন

একসময় বার আউলিয়া মাজার সংলগ্ন বিশাল ঝাউবন ছিলো।কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এ ঝাউবন কেটে ফেলার কারণে আজ সম্পূর্ণ বার আউলিয়াবাসী হুমকির মুখে। মানুষজন কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বলেন, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি এই ফেরাবন ও ঝাউবনকে সংরক্ষণ করে রাখার জন্য। কিন্তু রাতের বেলার কিছু অসাধু লোক গাছ কাটছে। এরা কারা সবাই জানে কিন্তু কোন পদক্ষেপেই এই শক্তিশালী চক্রটিকে গাছ চুরি থেকে নিবৃত রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে ৩ নং রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানে আলম বলেন, বন বিভাগের লোকজন একসময় ফরেস্ট অফিস গহিরায় থাকতেন কিন্তু এখন তারা এখানে থাকেন না।সবাই থাকেন কাফকো সংলগ্ন সেন্টারে।সুতরাং গাছ চুরি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও  আমরা এই ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে আছি। কিন্ত পরিষদের লোকবলের যথেষ্ট অভাব আছে। এ বনভুমি রক্ষায় সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রশাসন এর সহযোগিতা ও কঠোর মনোভাবই এ বন রক্ষা পেতে পারে।

পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নিয়ে মাঠে নামতে হবে। অপরাধী যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন আইনের লম্বা হাত দিয়ে এদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় পরিবেশ ধ্বংস হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভবিষ্যত প্রজন্ম। পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে হলে এ ফেরাবন ও ঝাউবন সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব।

রানা সাত্তার


বিশেষ প্রতিবেদক

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন