নির্মিত হবে তথ্যচিত্র । আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী রয়্যাল ডিস্টিক্ট ভাই -শিল্পী অধ্যাপক মোহাম্মদ হাসেম

65
artist-professior-mohammed-hasem

 আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী রয়্যাল ডিস্টিক্ট ভাই

কিংবা

রিকসাওয়ালা কুচকাই চালা ইষ্টিশন যাইয়ুম

আবারও দিন আইবো বাঙ্গালী গান গাইবো

চান্নি হর কিয়ের ডর চোখগা মেলি চা

এমন অজস্র গানের রচয়িতা ও সুরকার নোয়াখালীর আঞ্চলিক গানের কিংবদন্তী শিল্পী অধ্যাপক মোহাম্মদ হাসেম। এ প্রজন্মের নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সাজ্জাদ রাহমানের নির্দেশনায় শিল্পী অধ্যাপক মোহাম্মদ হাসেম এর জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত হবে তথ্যচিত্র। এ যেন শিকড়ের সন্ধানে ফিরে আসতে হয়! একটু ঘুরিয়ে বললে ফিরে আসা।

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারী নোয়াখালীর বিভিন্ন লোকেশনে চিত্র ধারনের কাজ চলবে। তথ্যচিত্রটি নির্মানের পর নোয়াখালী ও রাজধানী ঢাকায় প্রিমিয়ার শো করার পরিকল্পনা করছেন সাজ্জাদ রাহমান। তথ্যচিত্রটিতে চিত্রধারন করবেন বৃহত্তর নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলনের সমন্বয়ক ও নোয়াখালী পেইজ এর অন্যতম সংগঠক মিজানুর রহমান এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইথার মাল্টিমিডিয়া। অনলাইন মিডিয়া পার্টনার ফোকাস বাংলা নিউজজার্মান বাংলা নিউজ

তথ্যচিত্রটি নির্মান বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে সাজ্জাদ রাহমান বলেন, ‘শিল্পী অধ্যাপক মোহাম্মদ হাসেম মূলতঃ তাঁর সৃজনী শক্তি দ্বারা রচনা, সুর এবং কন্ঠদানের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বে নোয়াখালীর আঞ্চলিক গানকে তুলে ধরেছেন, জনপ্রিয় করেছেন। যেখানে আবহমান নোয়াখালীর সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য ব্যপ্ত হয়েছে। এছাড়াও তাঁর রচিত পল্লিসঙ্গীতেও বাংলার চিরায়ত প্রকৃতি ও সংস্কৃতি যেভাবে ব্যক্ত হয়েছে, এমন দৃষ্টান্ত বিরল। সহজ সরল সাদাসিধে এই মানুষটি নোয়াখালী তথা বিশ্ব সংস্কৃতির কতো বড়ো রত্ন,এখন হয়তো অনেকে উপলব্দি করতে পাছেন না। কিন্তু এমনও দিন আসবে, যেদিন নোয়াখালী তথা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষা-ভাষী মানুষ তাঁর অমর সৃষ্টিকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে। কিন্তু পূজার ডালি হাতে পূজারীকে ফিরে যেতে হবে সেদিন খালি হাতেই। কারণ তিনি হয়তো সেদিন থাকবেন না এই ধরাধামে’ ।

ফোনে কথা হয় চিত্রগ্রাহক মিজানুর রহমানের সাথে।তিনি বলেন,“বাংলাদেশের আঞ্চলিক গানের জগতে নোয়াখালীর গান একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে রেখেছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই এই অঞ্চলের গান শুধু আঞ্চলিকতায়ই সীমাবদ্ধ থাকেনি,দেশের নানা অঞ্চলের মানুষের মন জয় করেছে। এই অঞ্চলের আঞ্চলিক গানের শিল্পী আছেন প্রচুর। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে নোয়াখালীর আঞ্চলিক গানের সম্রাট হয়ে আছেন মোহাম্মদ আবুল হাসেম। স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দিতে শিল্পী হাসেম লিখেছেন, ‘আবারও দিন আইব বাঙালি গান গাইব, চান্নির হর কিয়ের ডর? চোখগা মেলি চান। এমন একজন জীবন্ত কিংবদন্তীর উপর তথ্যচিত্র নির্মান করা হবে এবং চিত্রধারন করার প্রস্তাব পেয়ে একবাক্যে রাজি হই। সত্যি বলছি, কাজটাকে আমি চ্যালেন্জ হিসেবে নিত চাই। নিজের শতভাগ দিয়ে কাজটা করতে চাই। তাছাড়া সাজ্জাদ রাহমানের নির্দেশনায় এটি অনবদ্য একটি শিল্পকর্ম হবে এই বিশ্বাস রাখি।”

ফোকাস বাংলা নিউজ এর সার্বিক তত্বাবধানে নির্মিত হবে এই তথ্যচিত্রটি। এ প্রসঙ্গে সম্পাদক হামিদুর রহমান বলেন,“ সেই ছেলেবেলা থেকেই সকলকে ছাড়িয়ে আমার হৃদয়ে নোয়াখালীর আঞ্চলিক গানের সুর সম্রাট হয়ে আছেন শিল্পী অধ্যাপক মোহাম্মদ হাসেম।এখনও মনে পড়ে সৈরাচার সরকারের পতনের দিনে নোয়াখালী শহরের প্রধান সড়ক জুড়ে বিশাল বিজয়ের গনজমায়েতে শিল্পী হাসেম স্টেজে উঠলেন, তাঁর অমর সৃষ্টি সুর করা গান,আল্লায় দিছে বল্লার বাসা নোয়াখাইল্ল্যা মাডি। সেদিনই প্রথম শিল্পীকে কাছ থেকে দেখা! আবারও তথ্যচিত্রটি নির্মানের উপলক্ষ্যে কিংবদন্তী এই শিল্পীকে কাছ থেকে দেখার একটা সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি কোনেভাবেই। সাজ্জাদ রাহমানে প্রস্তাবে তাই রাজি হয়ে গেলাম। বাকীটা তথ্যচিত্রটি নির্মান শেষে সবার কাছ থেকেই শুনবো”।

অপেক্ষায় থাকুন আসছি আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী রয়্যাল ডিস্টিক্ট ভাই

রানা সাত্তার


বিশেষ প্রতিবেদক, ফোকাস বাংলা নিউজ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন