নিঝুম দ্বীপ : নোয়াখালী জেলার ব্র্যান্ডিং প্রতীক

234
Nijhum-Dwip

নোয়াখালী জেলার ব্র্যান্ডিং এর জন্য নির্বাচিত হয়েছে নিঝুম দ্বীপ । শ্লোগান “নিঝুম দ্বীপের দেশ নোয়াখালী।” লোগো প্রস্তাব করা হয়েছে। নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের একটি ছোট্ট দ্বীপ। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অর্ন্তগত নিঝুম দ্বীপ। একে ‘দ্বীপ’ বলা হলেও এটি মূলত একটি ‘চর’। নিঝুম দ্বীপের পূর্ব নাম ছিলো চর-ওসমান। ওসমান নামের একজন বাথানিয়া তার মহিষের বাথান নিয়ে প্রথম নিঝুম দ্বীপে বসত গড়েন। তখন এই নামেই এর নামকরণ হয়েছিলো। পরে হাতিয়ার সাংসদ আমিরুল ইসলাম কালাম এই নাম বদলে নিঝুম দ্বীপ নামকরণ করেন।মূলত বল্লারচর, চর ওসমান, কামলার চর এবং চুর মুরি- এই চারটি চর মিলিয়ে নিঝুম দ্বীপ। প্রায় ১৪,০৫০ একরের দ্বীপটি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে জেগে ওঠে। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের আগ পর্যন্ত কোনো লোকবসতি ছিলো না, তাই দ্বীপটি নিঝুমই ছিলো।বাংলাদেশের বনবিভাগ ৭০-এর দশকে বন বিভাগের কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চার জোড়া হরিণ ছাড়ে। নিঝুম দ্বীপ এখন হরিণের অভয়ারণ্য। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দের হরিণশুমারি অনুযায়ী হরিণের সংখ্যা ২২,০০০। নোনা পানিতে বেষ্টিত নিঝুম দ্বীপ কেওড়া গাছের অভয়ারণ্য। ম্যানগ্রোভ বনের মধ্যে সুন্দরবনের পরে নিঝুম দ্বীপকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বলে অনেকে দাবী করেন। তথ্য সূত্র : উইকিপিডিয়া

নিঝুম দ্বীপ ব্রান্ডিং হবে কিন্তু জেলা ব্র্যান্ডিং কি?

ধরুন, আপনার মাথায় হঠাৎ করেই আসলো দুবাইয়ের কথা। সাথে সাথে মানসপটে ভেসে উঠবে বিশাল আকাশচুম্বী সব বিল্ডিং। কিংবা প্যারিস বলার সাথে সাথেই যেন মনে পড়ছে সংস্কৃতির এক মিলনমেলা, শিল্পের আরাধনা। ব্যাঙ্গালোর কিংবা হায়দ্রাবাদ, শিকাগো কিংবা ফ্লোরিডা, মাদ্রিদ কিংবা বার্সেলোনা সবার ক্ষেত্রেই এরকম স্বতন্ত্র কিছু বলা যায় যা ঐ শহরটিকে অনন্য করেছে।

আমরাই কেন পিছিয়ে থাকবো! রূপসী বাংলার আনাচেকানাচে ছড়িয়ে থাকা বৈচিত্র্য ভরা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সম্ভাবনাময় পণ্য ও সেবাগুলোকে জেলাভিত্তিক ব্র্যান্ডিং করে দেশে বিদেশে তুলে ধরা যেন সময়ের দাবী। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই দেশের সব জেলাগুলোকে নিয়ে জেলা ব্র্যান্ডিং-এর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ব্র্যান্ডিং এর বিষয়

প্রতিটি জেলার সম্ভাবনাময় যে কোনো বিষয় যেমন: পর্যটক আকর্ষণ, পণ্য, খাদ্যদ্রব্য, সাংস্কৃতিক ও লোকজ ঐতিহ্য, উদ্ভাবন, বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগকে ব্র্যান্ডিংয়ের বিষয় হিসেবে নির্বাচন করা যেতে পারে।

অফিসিয়াল ভিত্তি

জেলা-ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রাম ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সহায়তা প্রদান করছে এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সার্বিক তত্ত্বাবধান করছে। এছাড়া এ কার্যক্রমটি বর্তমান সরকারের ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কর্ম-পরিকল্পনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।

মাঠ পর্যায়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন

জেলা ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমে শুরু থেকেই জেলার সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা জরুরি। সামগ্রিক মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে প্রতিটি জেলার জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হবে। এ পুরো কর্মযজ্ঞটি জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে।

জেলা প্রশাসন, নোয়াখালী হতে সংগৃহীত

আহমেদ মাসুদ বিপ্লব, ঢাকা ব্যুরোচীফ, ফোকাস বাংলা নিউজ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন