তাসকিনকে চুমু খেলেন এক বিদেশিনী, সেমিফাইনাল হবে বাংলাদেশের

58
taskin_ahmed_kiss

না, এটা কোন সিনেমার দৃশ্য নয়। ইংল্যান্ডের রাস্তায় তাসকিনকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন এক বিদেশী ভক্ত।

জমে উঠেছে বিশ্ব ক্রিকেটের মর্যাদার লড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। কিছুটা বৃষ্টি ভাগ্য ও মাঠের খেলায় দাপুটে পারফরমেন্সে বাংলাদেশ টাইগার বাহিনী এখন সেমিফাইনালে। নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আত্মপ্রত্যয়ী ও দৃঢ়তায় ভরা পাফরমেন্সের পুন:রাবৃত্তি যদি ঘটাতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট টীম, তবে সেমিফাইনাল ডিঙ্গিয়ে সোজা স্বপ্নের ফাইনাল। বাংলাদেশী ক্রিকেট ভক্তরা সেই প্রত্যাশা করতেই পারে।

আনন্দে ভাসছে গোটা দেশ।

দেখুন তাসকিনকে চুমু খাওয়ার সেই ভিডিও

ভিডিওটি বিডিক্রিকটাইম ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহিত

বিদেশের মাটিতেও সেই আনন্দ থেমে নেই। টাইগার বাহিনীদের এক নজর দেখতে দেশী-বিদেশী হাজারও ভক্ত এখন হোটেলের সামনে প্রতিদিন ভিড় জমান। এমনই এক ভক্ত হঠাৎই পেয়ে বসলেন বাংলাদেশ দলের পেসার তাসকিনকে।

তাসকিন কিছু বুঝে উঠার আগেই জড়িয়ে ধরে বিদেশী ভক্তের চুমু, সরাসরি তাসকিনের গালে।তাসকিন ততক্ষনে কুপোকাত।

সেমিফাইনাল হবে বাংলাদেশের

শুক্রবারের ম্যাচান্তে মাশরাফির গর্জন বুঝিয়ে দিয়েছে আমরা ফিরেছি টুর্নামেন্টে। আমরা এখন জয় ছাড়া আর কিছুই দেখতে চাই না।

কোনও একটি দল তখনই খেলায় জেতে যখন তার প্রধান তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা যায়। টিম স্ট্রেংথ, হোম কন্ডিশন, কি প্লেয়ার্স। এর তিনটিই বাংলাদেশের রয়েছে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে।

ম্যাচগুলোর শুরুতে যখন লাল-সবুজের পতাকাতলে মাশরাফি বাহিনী গাইতে থাকে- আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি- তখনই তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে যায় দেশের ষোলো কোটি মানুষ। সুতরাং দলের একক শক্তিতো রয়েছেই সাথে গোটা দেশের শক্তি। ফলে টিম স্ট্রেংথে সামান্য ঘাটতি নেই।

আর এখনতো বলাই হয়, ক্রিকেটে দলীয় শক্তিতে বাংলাদেশ এখন তার সর্বকালের সেরা অবস্থানে রয়েছে।

হোম কন্ডিশন নিয়ে কথা হতে পারে। তবে লন্ডনে যত রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি আর তাদের যে উপস্থিতি আমরা প্রতিটি ম্যাচে দেখছি তাতে কার্ডিফ, লর্ডস কিংবা এজব্যাস্টন কোনওটিই আর ব্রিটিশদের মাঠ হয়ে থাকছে না। টাইগারদের কাছে ঘরের মাঠই মনে হয় এসব গ্রাউন্ডকে।

কি-প্লেয়ার্স বা স্পেশাল প্লেয়ার্সের বিষয়ে বাংলাদেশ পুরোপুরি সম্মৃদ্ধ বলা যাবে। আমাদের তামিম রয়েছে, রয়েছে সাকিব-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ। এরা দলের অভিজ্ঞতায় পূর্ণ চার সদস্য। এদের যেকোনও একজন যেকোনও টুর্নামেণ্টে জ্বলে উঠলেই দল জিতে যায়। সঙ্গে গড়ে ওঠা চাই একটি জুটি। সেতো গত কয়টি ম্যাচের সবগুলোতেই আমরা দেখেছি। হয় তামিম মুশফিক খেলছেন নয়তো সাকিব-মাহমুদুল্লাহ। চার-ছক্কায় তারা শত-অর্ধশত করছেন যখন তখন।

এর বাইরে রয়েছেন ইমরুল কায়েস- সাব্বির- সৌম্য। এরা তিনজনই এরই মধ্যে দলের পরীক্ষিত সেনা। পিঞ্চ হিটার বটে তবে, নির্ভরযোগ্যতাও দেখিয়েছেন নানা টুর্নামেন্টে। অভিজ্ঞদের পাশাপাশি এরাও যখন তখন দলকে দিতে পারেন বড় কিছু। সেটি তখন হয়ে ওঠে বাড়তি পাওনা।

ব্যাটিং লাইনে আমরা কখনো কখনো মাশরাফি-মোসাদ্দেককেও জ্বলে উঠতে দেখেছি।

আর বোলিংয়ে মাশরাফি নিজেই নিজের তুলনা। তার প্রতিটি বলই সমগ্র একাগ্রতা মেশানো। আরও একটি দারুণ বিষয় যেনো মিশে যায় তাতে-সেটা দেশপ্রেম। ফলে মাশরাফির বল মানেই বাংলাদেশের বল।

মাশরাফিকে বেশ পিটিয়েছেন বিশ্বের কোনও ব্যাটসম্যান এমন একটা নজির এ পর্যন্ত তৈরি হয়নি। বরং তার বোলিংয়ের তোড়ে অনেক মিডল স্ট্যাম্পের ডিগবাজি চোখের সামনে ভাসে।

বোলিং লাইনে আমরা তাসকিনকে পাচ্ছি। প্রতিটি বলই যার আগুনের গোলার মতো। বোলিংয়ের জন্য দৌড় শুরুর আগে সামান্য ঝুঁকে রুবেল যখন লক্ষ্য স্থীর করে নেন, তখন যে কেউ বুঝতে পারে এর যে কোনও বলে উড়ে যেতে পারে মিডল-অফ কিংবা অন স্ট্যাম্প। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ তার ফর্মে এসে গেছেন। একটা-দুটো করে উইকেট ঝোলায় নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন ইদানিং। আর গত ম্যাচে মোসাদ্দেকের ১৩ রানে তিন উইকেট দখলের পর তার সামনে ব্যাট নিয়ে সমীহ করবে না এমন বুকের পাটাওয়ালা ব্যাটসম্যান কে হতে পারে? অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বোলিংকে আগে থেকেই সমীহ করে সবাই। তার বলের ঘুর্ণিপাকে পড়ে কত বাঘা ব্যাটসম্যান বেঘোরে প্রাণ দিয়ে হয়েছেন সাজঘরমুখো সে দৃশ্য চোখে চোখে ভাসে।

আর তাই সবশেষে বলে রাখছি, “চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আগামী ১৫ জুন (বৃহস্পতিবার) এজব্যাস্টনে অনুষ্ঠেয় সেমি-ফাইনালটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের। কারণ সেরা খেলার সব বডি ল্যাঙুয়েজ এখন বাংলাদেশ দলে বর্তমান।”

সূত্র: বিডিনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন