তরঙ্গিনী নাট্যকেন্দ্র যাত্রা শুরু করলো রাজধানী ঢাকায়

82
torongini_nattokendro

তরঙ্গিনী নাট্যকেন্দ্র ১৯৮৮ সালে কিছু নাটক পাগল তরুনদের উদ্যোগে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার প্রানকেন্দ্র মাইজদী শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়। তরঙ্গিনী নাট্যকেন্দ্র একসময় ছিলো নোয়াখালীর অন্যতম জনপ্রিয় নাট্য সংগঠন। কাঁদো নদী কাঁদো, নদী ফিরে এসো, বাঁচো এবং বাঁচতে চাও, ওরা কদম আলী, ন্যাশনাল টেরর গার্টেন, আড়াই হাজার সালের দিনকাল, বিফলে মূল্য ফেরত প্রভৃতি সাড়া জাগানো নাটক করে ছিলো আলোচনার উঠে আসে।

সম্প্রতি সংগঠনটি নতুন করে রাজধানীতে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। ৬ মে শনিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিরপুরে মেগাসোর্স করপোরেশন কার্যালয়ে বেশ কিছু নতুন মুখ নিয়ে এই নবযাত্রা শুরু করে তরঙ্গিনী নাট্যকেন্দ্র এর প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমানে চিত্রপরিচালক, টিভি নাট্যকার ও পরিচালক সাজ্জাদ রাহমান। এক প্রতিক্রীয়ায় তিনি জানান- টিভি নাটক বলুন আর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কথাই বলুন অভিনয় শেখার জায়গাটা কিন্তু থিয়েটারই। অনেকেই একথা জানেন না কিংবা জেনেও বুঝতে চান না। শুধু অভিনয় নয়, কোন পেশায়ই শর্টকার্ট কোন রাস্তা নেই। আর সে কারণেই অনেক নতুন মুখ ক্যামেরার সামনে গিয়ে হোচট খায়, অনেকে হতাশ হয়ে ক্যারিয়ার ছেড়ে দেয়। তাদের কথা বিবেচনা করে এবং থিয়েটারে নতুন প্রাণস্পন্দন সৃষ্টির লক্ষ্যে তরঙ্গিনী নাট্যকেন্দ্রের এই অভিযাত্রা।’

উল্লেখ্য, সাজ্জাদ রাহমান এর উদ্যোগেই ১৯৮৮ সালে নোয়াখালীতে তরঙ্গিনী নাট্যকেন্দ্র এর যাত্রা আরম্ভ হয় এবং ১৯৯৬ পর্যন্ত নিয়মিত নাটক মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি এলাকায় বিপুল জনপ্রিয়তার অধিকারী হয়। ১৯৯৬ সালে তিনি চাকুরিসূত্রে চট্টগ্রামে চলে গেলে সংগঠনের গতিপথ স্তিমিত হয়ে যায়। সেখানে তিনি ত্রিতরঙ্গ নাট্যদলের সাথে কাজ শুরু করেন এবং চট্টগ্রাম বেতারের জন্যে নিয়মিত নাটক লিখতে থাকেন। ২০১১ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউট থেকে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনায় ৬ মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেন। এরপর বেশ কিছুদিন টিভি নাট্য পরিচালক নরেশ ভুঁইয়া, এজাজ মুন্না, ফজলুর রহমান এর সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ২০০৬ সালে চ্যানেল আইতে ‘প্রফেসর’ ধারাবাহিক নাটকের পান্ডুলিপি রচনার মাধ্যমে টিভি নাটকের যাত্রা শুরু হয়। তাঁর রচনা ও পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ধারাবাহিক নাটক কান্ডকারখানা, শিউলী ভিলা, রহস্য অতঃপর রহস্য প্রভৃতি। একক নাটকের মধ্যে রয়েছে হাফলেট, কোন আলো লাগলো চোখে, আতর আলী, এখনও যায়নি আধার, নীল চুমুক, কল্পলোকের গল্প, ফিরে আসে বারবার, ধ্রুবতারা, ঘটৎকচ পিন্ডিচটকাই, পিঙ্কি, ইশতেহার, এক বলে এক রান, দাবার সংসার, নোনা জলের গল্প, প্রজাপতি ভালোবাসা প্রভৃতি। ২০১৫ সালে তিনি ‘সেই মেয়েটি’ শিরোনামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দেন যেটি মুক্তির মিছিলে। বর্তমানে তিনি ডিবিসি নিউজ চ্যানেলে কর্মরত আছেন।

সাজ্জাদ রাহমান এর প্রত্যাশা তরঙ্গিনী নাট্যকেন্দ্র দেশের মঞ্চনাটকের সুদিন ফেরাতে ভূমিকা রাখবে এবং দর্শককে মঞ্চনাটক দেখতে আগ্রহী করবে।

ফোবানি/হামিদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন