চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মানববন্ধনে বক্তারা:নগরীর জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চাই, দূর্নীতিমুক্ত চট্টগ্রাম ট্রাফিক বিভাগ চাই, ট্রাফিক বিভাগ ডিজিটালাইজড চাই

58
chattagram_nagorik_forum

৮ এপ্রিল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম সম্বলিত পোষ্টার ও ব্যানার নিয়ে সুনিদ্দিষ্ট কিছু দাবী উথ্থাপন করেন। নগরীর জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চান, দূর্নীতিমুক্ত চট্টগ্রাম ট্রাফিক বিভাগ চান, ট্রাফিক বিভাগ ডিজিটালাইজড চান।

মানববন্ধনে বক্তারা বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম থেকেই একদিন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূত্রপাত ও যবনিকাপাত ঘটে। চট্টগ্রামের লালদীঘির পাড় থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীকার ও মুক্তির আন্দোলন শুরু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে ৭৫ পরবর্তি থেকে সব সরকার চট্টগ্রামকে অবহেলা ও অবজ্ঞা করে এসেছে। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রাচীন শহর হওয়া সত্বেও প্রতিটা সরকারের সময় অবহেলিত হয়ে এসেছে। চট্টগ্রামবাসী এই বিতামাসুলভ আচরনের অবসান দেখতে চায়।

চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের উপদেষ্টা সাবেক এমপি মাজহারুল হক শাহ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের সিংহভাগ রাজস্বের যোগানদাতা এই চট্টগ্রাম। বর্তমান সরকার প্রধান জাতীর জনকের কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকে চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের প্রতিটা অঞ্চলে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে, যাহা দৃশ্যমান। তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের দুঃখ, নগরের জলাবদ্ধতা এবং যানজট। ৫ বছর অন্তর অন্তর চট্টগ্রামের নগর মেয়র পরিবর্তন হয় জলাবদ্ধতা ও যানজটের সুরাহা (পরিবর্তন) হয় না। এই দুইটি যেন জমজ দুঃখ হয়ে চট্টগ্রাম নগরবাসীর আষ্ঠে-পৃষ্ঠে লেগে আছে।মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী সমন্বিতভাবে নগরীর উন্নয়ন কাজ করলে নাগরিক জীবনে আজকের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।”

নাগরিক ফোরামের মহাসচিব মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, “চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ মোটরযান আইনের বিভিন্ন ধারায় প্রতিদিন প্রায় হাজার অধিক মামলা করে থাকে। এসব মামলায় মোটরযান চালক ও মালিকদের কাছ থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হলেও সিংহভাগ অর্থ সুক্ষ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশন শাখার সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকায় গ্রাহকদের যথাযথ মেমো বা রশিদ না দিয়ে নগদ টাকা আদায় করারও অভিযোগ রয়েছে। সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রশিকিউশন শাখার কতিপয় দুর্নীতিবাজ পুলিশ সদস্যরা অর্থ বাণিজ্য চালাচ্ছে। গ্রাহকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকায় তারা দীর্ঘদিন এমন কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ট্রাফিক বিভাগের সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকায় মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বহু আগে ডিজিটাল / অনলাইন ব্যবস্থা চালু করে পান্সিং পদ্ধতিতে মামলা প্রদান ও জরিমানার অর্থ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আদায় করছে। এছাড়াও রবি ও ইউক্যাশের মাধ্যমে ট্রাফিক বিভাগের মোটরযান আইনে রুজুকৃত মামলার জরিমানার অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।”  তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “ঢাকা মহানগরীতে যে ধারায় মামলা ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় চট্টগ্রামে একই ধারায় ৫০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। একটি গাড়ি ‘টু’ বা আটকের ক্ষেত্রে ১০,০০০ (দশ) হাজার থেকে ২০,০০০ (বিশ) হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার আদায় করা হচ্ছে। অথচ ডিএমপিতে আটককৃত যানবাহনে মাত্র রেকার ভাড়া আদায় করা হয়।”

যানবাহন থেকে আদায়কৃত এ অর্থ পরোক্ষভাবে যাত্রী সাধারণের কাঁধে এসে পড়ছে বলে দাবী করেন সংগঠনটি।এতে যাত্রী হয়রানী ও ভাড়া নৈরাজ্য বাড়ছে, রাস্তায় চলছে ফিটনেস বিহীন লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি, যাত্রী সাধারণকে ঝুকিতে ফেলছে। মালিক চালকরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগস্থ হচ্ছে। সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। এতে করে গোটা পরিবহন ব্যবস্থার উপর একটি বিরুপ প্রভাব পড়ছে।

এ সকল সমস্যা থেকে উত্তোরনে সিএমপির ট্রাফিক সিষ্টেম ডিজিটাল/অনলাইন করার দাবী জানিয়ে কামাল উদ্দিন আরও বলেন, “ট্রাফিক বিভাগকে ডিজিটালাইজ করে দূর্নীতি মুক্ত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট টিআই ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের দূর্নীতির মাধ্যমে আয়ের কোটি কোটি টাকার হিসাব প্রকাশ করতে হবে।”

মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক স ম জিয়াউর রহমান, আন্তঃজেলা পরিবহন সংস্থা ও ট্রাক, কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মনির আহমদ, বি আই ডব্লিউ ‘সিবিএ’ এর সভাপতি আব্দুর সবুর খান, সাংবাদিক পুলক সরকার, নাগরিক ফোরাম নেতা মো.আবুল বসর, মো. আবু জাফর, চট্টগ্রাম বেকারী মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন,আওয়ামী মোটর চালক লীগ চট্টগ্রাম মহানগরের প্রস্তাবিত সভাপতি মো. আকরাম হোসেন, সাধারন সম্পাদক মো. ইমরান মিয়া,যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান, মো. শাহাদাত হোসেন, এম দিপু চৌধুরী, জাতীয় পাটি (জেপি) ইপিজেড থানার সভাপতি এ কে এম জামাল উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক অ্যাভোকেট বরাকাত, মোঃ ওসমান গনি, মহিলা নেত্রী শাহিনুর আক্তার, নুর জমাদার, কাজী মুরাদ, মো.ইব্রাহীম বাদশা, মো. আলী, ইয়াসমিন আক্তার শারমিন, মোচ্ছাম্মৎ হাসিনা আক্তার,রহিমা আক্তার ডলি, মোচ্ছাম্মৎ দীপা, দিলোয়ারা বেগম প্রমূখ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন