চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান, সময় দিন-বদলে যাবে নগরীর চেহারা: সিটি মেয়র

83
city_mayor_a_j_m_nasir_uddin

জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা’র অর্থায়নে সিটি গভর্নেন্স প্রকল্পের অধীনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন কাজ দুশ্যমান। চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও ইনক্লুসিভ নগর পরিচালনা কর্মসূচী (ICGIAP) সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য বিভিন্ন শ্রেনী ও পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ১০৩ সদস্য বিশিষ্ট সিভিল সোসাইটি কো-অর্ডিনেশন কমিটির (CSCC) ৬ষ্ঠ সভা ২২ মার্চ বুধবার, দুপুরে নগর ভবনের কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কমিটির সদস্য সচিব ও সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন, কমিটির সদস্য কাউন্সিলর, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর,চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার, সুপ্রভাত বাংলাদেশের সহযোগী সম্পাদক এম নাসিরুল হক, বিজিএমইএ’র প্রথম সহ সভাপতি মঈন উদ্দিন আহমদ মিন্টু, চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, আই ই বি’র সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন, আইইবি’র চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এম এ রশিদ, চেম্বার পরিচালক অহিদ সিরাজ স্বপন, সিজিপি’র প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ডেপুটি টিম লিডার মো. মুজিবুর রহমান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, প্রনয়ন এর প্রধান স্থপতি সোহেল মাহমুদ শাকুর, এডিশনাল পিপি মিলি চৌধুরী, সিডিসি’র টাউন ফেডারেশনের চেয়ারপার্সন ঊষা দে, ওমেন চেম্বার পরিচালক রেখা আলম চৌধুরী, কাউন্সিলর মো. হাবিবুল হক, হাসান মুরাদ বিপ্লব, সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টু, তারেক সোলায়মান সেলিম সহ কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় ৫ম সভার কার্যবিবরনী অনুমোদন এবং ৬ষ্ঠ সভার এজেন্ডা সমূহের মধ্যে সেক্টর ভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করন ও অগ্রাধিকার বিষয়ে আলোচনা, জাইকার অর্থায়নে অবকাঠামো উন্নয়নের অগ্রগতি ও সমস্যা সমূহ হালনাগাদ বিষয়ে আলোচনা, রাজস্ব আদায় গতিশীল করার লক্ষ্যে রাজস্ব আদায়,অগ্রগতি ও হালনাগাদ তথ্য সমূহ আলোচনা, নাগরিক সমস্যা সমাধানে নারীদের ভুমিকা সম্পর্কে আলোচনা, ডব্লিউ এল সিসি চিহ্নিত ওয়ার্ড ভিত্তিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সমস্যা চিহ্নিত করণ বিষয়ে আলোচনা, সিআরসি জরীপ ও সিআরসি রিপোর্টকার্ড এর অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা, নাগরিক সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা এবং বিবিধ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন জাইকা’র অর্থায়নে চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন এর অধীনে নগরীর এয়ারপোর্ট রোডে নির্মাণাধীন ৩টি ব্রিজের যাবতীয় তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, প্রথম ধাপে জাইকা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ২ শত ১ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। দ্বিতীয় ধাপে ৪ শত ৩৪ কোটি টাকার প্রকল্প বিবেচনাধীন রয়েছে। তন্মধ্যে পোর্ট কানেকটিং রোড এবং আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, ফ্লাইওভার এবং ৬টি স্কুল কাম কমিউনিটি সেন্টার অন্যতম। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র আগ্রহ ও আন্তরিক স্বদিচ্ছার কারনে জাইকা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে উন্নয়নের আওতায় নিয়েছে।

প্রসঙ্গক্রমে মেয়র কমিটির অবগতির জন্য বলেন, তিন অর্থ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন চলছে, ৪১ টি ওয়ার্ডের সবগুলো সড়ক, রাস্তা ও বাইলেইন কার্পেটিং করা হবে। নগরীর সবগুলো খাল ও নালার মাটি উত্তোলন করা হবে। শহরকে এলইডির আওতায় এনে শতভাগ আলোকিত করা হবে। নগরীর ফুটপাত,মিডআইল্যান্ড ও গোলচত্বর বিউটিফিকেশনের আওতায় দৃষ্টি নন্দন ও গ্রীন করা হবে। নগরীর যানজট নিরসন সহ ট্রাফিক সিষ্টেমকে আধুনিকায়ন করা হবে। মেয়র বলেন, নগরীর ৪১টি ওর্য়াডে জরিপ করে ভিডিও ফুটেজ দেখে অবৈধ স্থাপনা অপসারন এবং সৌন্দর্য রক্ষা – যানজট নিরসন ও জনসাধারনের চলাচলের স্বার্থে অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে। প্রকৃত হকারদের পরিচয় পত্র সরবরাহ করা হবে। সিটি কর্পোরেশন ফুটপাত চিহ্নিত করে চলাচলের জন্য ৩/২ অংশ বাদ দিয়ে ৩/১ অংশের মধ্যে সু-শৃঙ্খলভাবে হকারদের ব্যবসার সুযোগ দেয়া হবে। তবে হকার’রা ব্যবসা করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেয়া হবে।

সিটি মেয়র বলেন, সিভিল সোসাইটি কো-অর্ডিনেশন কমিটির সদস্যদের সু-চিন্তিত প্রস্তাব ও পরামর্শকে নাগরিক স্বার্থে কাজে লাগানো হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৭শত ১৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। প্রি-একনেকের অপেক্ষায় আছে আরোও ২টি প্রকল্প এবং ১ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাছাড়াও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে বিএমডিএফ ১৫০ শত কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করার সুযোগ দিয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে আরো বলেন, সিটি কর্পোরেশন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রতিবছর ৫৬ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।

অন্য এক প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বিপুল পরিমান অংকের টাকার দায় দেনা এবং পাহাড় সমান দুর্নীতি ও অনিয়ম কাঁধে নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে নিয়ম শৃংখলার মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তরিকতা, সঠিক পরিকল্পনা ও দৃঢ়তা থাকলে কঠিনকে জয় করা যায়। তার প্রমান স্বরূপ মেয়র বলেন, বিলবোর্ড উচ্ছেদ একটি জলন্ত প্রমান।

তিনি বলেন, রাতে বর্জ্য অপসারনের কাজ চলছে তা অব্যাহত থাকবে। আশা করা যায় ডোর টু ডোর আবর্জনা সংগ্রহ প্রকল্পটির সুফল আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যেই জনগন ভোগ করবে। ব্যয় বহুল এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর পরিবেশ অনেক উন্নত হবে। তিনি বলেন, আগামী ৩ বছরের মধ্যে চট্টগ্রামে দৃশ্যমান পরিবর্তন হবে। তিনি নগরবাসীর কাংখিত চাহিদা, উন্নয়ন ও তাঁর ভিশন বাস্তবায়নে সিভিল সোসাইটি সহ নগরীর সর্বস্তরের নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন