চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে অসাম্প্রদায়িক ভাবধারার সংমিশ্রন আগামী নির্বাচনে কতটুকু প্রভাব ফেলবে?

51
chittagograme-bnpr-rajniti

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র রাজনীতিতে অসাম্প্রদায়িক ভাবধারা ও চেতনার সংমিশ্রন আগামী নির্বাচনে কতটুকু প্রভাব ফেলবে। বিএনপিকে একটি বিশেষ ধর্মের (মুসলিম সম্পদায়ের আধিক্য)ভাবধারার মানুষের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিবেচনা ও চিন্তা করার সময় অন্তত: চট্টগ্রামের দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। বিএনপির রাজনীতি বিরোধী রাজনৈতিকগন বিএনপিকে মৌলবাদী চেতনার বলয়ে আবদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে যতই প্রচার করুন না কেন বিগত সময়গুলোতে বিএনপির রাজনীতিতে বিশেষ করে চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে অনেকটা নীরবেই একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটেছে ।

দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার নজরুল ইসলামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (বর্ষ-৭,সংখ্যা ২৪১ সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮) অনুসারে জানা যায়, “চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্বক্রিয় অংশ গ্রহণ করছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ও উপজাতি সম্প্রদায় ও পরিবারের সদস্যদের শতাধিক নেতা-কর্মী। অথচ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ও উপজাতি সম্প্রদায়কে যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশ আওয়ামালীগ নিজস্ব ভোট ব্যাংক হিসেবেই বিবেচনা করে আসছে। সময় কি বদলেছে? কিন্তু কেন এই বিপরীতমুখীতা? চট্টগ্রামের আওয়ামালীগ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিকগনকে এই নিয়ে ভাবনার অবকাশ বের করতে হবে!

প্রতিবেদন অনুসারে জানা যায়,চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে  স্থানীয় ও কেন্দ্রিয় পর্যায়ে চট্টগ্রামের একাধিক নেতা গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। বিরোধী দলেও না থাকা একটি রাজনৈতিক দলে হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও উপজাতি সম্প্রদায়ের লোকজনের সম্পৃক্ততা আগামী দিনে যে কোন ভোটের রাজনীতির হিসেব-নিকেশ পাল্টে দেবে নি:সন্দেহে!

তথ্য মতে,চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরাম, জাতীয়তাবাদী হিন্দু ফোরাম, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, জাতীয়তাবাদী হিন্দু ছাত্র ফোরামসহ একাধিক সংগঠন বিভ্ন্নি পাড়ায়-মহল্লায় সক্রিয় রয়েছে । বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এসব সংগঠনের মাধ্যমে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে প্রায় ২০ হাজার হিন্দু বৌদ্ধ স্বাক্ষর করেছেন।সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন সব সময় নিজেদের খোলসে আবদ্ধ রাখেন। ঝামেলামুক্ত জীবন-যাপনই তাদের পছন্দ। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে ২০ হাজার স্বাক্ষর কিন্তু কম কথা নয়!

পরিসংখ্যানে জানা যায়, “চট্টগ্রামে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-চাকমা-মার্মা সম্প্রদায় থেকে জাতীয় ও চট্টগ্রামের স্থানীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা সক্রিয় রয়েছেন। আর নেতা যেখানে থাকেন সেখানে কর্মীর সংখ্যাতো থাকবেই! বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.সুকমল বড়ুয়া, বিএনপির চেয়াপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সঞ্জিব কুমার চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া,চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে বিএনপির কর্মসূচিতে স্বক্রিয় রয়েছেন এ রকম কয়েকজনের মধ্যে মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক টিংকু দাশ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতা অধ্যাপক ঝুন্টু বড়ুয়া, রনজিত বড়ুয়া, বিঞ্চু বড়ুয়া, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল নেতা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কুইন্টাল রিভারো, জাতীয়তাবাদী হিন্দু ছাত্র ফোরাম চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল নেতা রাজিব ধর তমাল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল নেতা সঞ্জয় চক্রবর্ত্তী মানিক, মহানগর ছাত্রদল নেতা সৌরভ প্রিয় পাল, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল নেতা মান্না দেব,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি বিনয় চাকমা, যুগ্ম সম্পাদক মং জেসিং মার্মা ইমন,সহ সাধারন সম্পাদক রাহুল ধর,চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর জেলা ও দক্ষিণ জেলায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের প্রায় কয়েক হাজার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পরিবারের লোকজন বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ও এবং স্বক্রিয়ভাবে মিটিং মিছিলেও দেখা যা।”

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য মতে, “সংখ্যালঘু পরিবারের শিক্ষিত যুবক ছেলে মেয়েরা খুবই সচেতন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান,উপজাতি সম্প্রদায়ের সদস্যরা কোনো দলের ভোট ব্যাংক হিসেবে কাজ করতে চায় না। নিজের বিবেক-বুদ্ধি ও নিজস্ব চিন্তাধারা থেকে যে কোন দলকে সমর্থন দেয়ার অধিকার তাদের রয়েছে এবং যেকোন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী হওয়ার মত যোগ্যতা তাদের আছে”-এমন ভাবনা থেকেই চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে সকলে সম্পৃক্ত হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন এবং কারন যাই হোক না কেন আগামী নির্বাচনে এর সূদুর প্রসারী প্রভাব যে পড়বে এতে কোন সন্দেহ নেই! চট্টগ্রামে আওয়ামালীগের রাজনীতি সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারনী পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে ভাববার সময় এসেছে বলে রাজনীতি সচেতন অনেকেই মনে করেন।

ফোকাস বাংলা নিউজ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন