গনতান্ত্রিক শান্তিপূর্ন আন্দোলনে এ কেমন আচরন?

1155

গনতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ন আন্দোলন করার অধিকার রাষ্ট্রই দিয়েছে।গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নাগরিক মাত্রই আইনের প্রতি শ্রদ্বা রেখে যে কোন ঘটনার গনতান্ত্রিক শান্তিপূর্ন প্রতিবাদ করতে পারে। সভা-সমাবেশ করতে পারে। মিছিল-মিটিং করতে পারে। কোন প্রতিবাদ সমাবেশ যদি আইনসিদ্ধ না হয়, এ জন্য আইন সম্মতভাবেই আইন-শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি বা ব্যক্তি সমষ্টি তা দমন করতে পারে। কিন্তু খাগড়াছড়ির একটি গনতান্ত্রিক শান্তিপূর্ন সমাবেশে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য কর্তৃক এ কেমন আচরন?

খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর বাজারে আজ যা ঘটে গেল তার প্রতি ধিক্কার জানালেও বুজি কম বলা হয়! হিল উ্ইমেন্স ফেডারেশন নেত্রী কল্পনা চাকমা অপহরণের ২১ বছর পূর্তি, গত ২রা জুন রাঙামাটির লঙগদুতে নয়ন নামের একজন সেটেলার মটরচালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া প্রলয়কান্ড এবং গতকাল পরশু হতে বিরাজমান খাগড়াছড়ির উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রতিবাদে আজ খাগড়াছড়ি স্বনির্ভর বাজার এলাকায় হিল উইমেন্স ফেডারেশন কর্তৃক আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে এক পর্যায়ে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় অতি উৎসাহি সদস্য অতর্কিতে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা মিছিলে উপস্থিত আদিবাসী মেয়েদের উপর চড়াও হয়ে চরমভাবে তাদের লাঞ্চিত করতে থাকে। স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ধারণকৃত কয়েকটি ভিডিওতে সেই হামলার চিত্রটি পরিস্কার ফুটে উঠে। তাতে দেখা যায় যে একটি বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা মেয়েদের এলাপাতাড়ি লাথি, টানাটানি করছে। মেয়েদের ওড়না ধরে টানাটানি করতেও কয়েকজনকে দেখা যায়। অপর দুটি স্থির চিত্রের একটিতে দেখা যায় পুলিশ দুইজন আদিবাসী মেয়েকে আটক করে টেনেহিঁছড়ে নিয়ে যাচ্ছে, অন্যটিতে দেখা যায় যে ঐ দুটি মেয়েকে লোকচক্ষুর অন্তরালে নিয়ে বেদমভাবে মারছে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা! এটি কোন স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশের স্বাভাবিক চিত্র হতে পারেনা । মেয়েদের আটক করে তাদের থানায় না নিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে নিয়ে এভাবে অত্যাচার করাটা আদৌ কি শোভনীয়? দেশের সংবিধানের কত নম্বর ধারায় বা অনুচ্ছেদে এমন আচরণের ক্ষমতা দেয়া আছে?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সে দিনের ঘটনাটি দেখুন। ফেসবুকে ভিডিওটি সর্বাধিক শেয়ার হয়েছে:

আজকের এই মিছিল থেকে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতি উৎসাহি কতিপয় সদস্যরা হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী এন্টি চাকমা আর সুমিতা ত্রিপুরাসহ রুপা চাকমা, কেটি চাকমা, বিশাখা চাকমা, সোনালী চাকমা, মেকিনা চাকমা, জনতা চাকমা, রুমিতা ত্রিপুরা এবং নাম না জানা আরো কয়েকজনসহ মোট ২৫ জন কে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরে ৬ জনকে আটক রেখে বাকী ১৯ জনকে ছেড়ে দেয়। এটা যে কোন গনতান্ত্রিক শান্তিপূর্ন প্রতিবাদের পথকে রুদ্ধ করে দেয় এবং একই সাথে রাষ্ট্রকে ক্রমাগত দুর্বল করে তোলে। রাষ্ট্র যেখানে গনতান্ত্রিক শান্তিপূর্ন আন্দোলন করার স্বীকৃতি দিয়েছে, সেখানে এমনটি কেন হবে?

ভিডিওটিতে দেখা যায়, পাহাড়ি মেয়েদের ওড়না ধরে টান দিতে জনৈক আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য একটি বারের জন্যও দ্বিধা করছেন না। পাহাড়ি মেয়েদের লাথি ঘুষি মারতে এরা একটুও অপরাধবোধে ভোগেন না! কেন?

সেটেলার বাঙ্গালীরা আদিবাসিদের বাড়ি-ঘরে আগুন দিয়েছে, প্লিজ কিছু করুন

আমাদের মনে রাখতে হবে, এই রাষ্ট্রটি সবার। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী জনগনের স্বার্থে রাষ্ট্র নিয়োগ দিয়েছেন। এই বাহিনীগুলো রাষ্ট্রের মর্যাদা বহন করে। সুতরাং রাষ্ট্রের সুনাম রক্ষা করা এই বাহিনীগুলোতে কর্মরত প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব।

এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। এতে রাষ্ট্রেরই কল্যান।

আহমেদ মাসুদ বিপ্লব, ঢাকা ব্যুরো চীফ, ফোবানি

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন