কাপ্তাই হ্রদে দুর্লভ প্রজাতির ক্যাটফিস ‘সাকার মাউথ’

98
kaptai_lake_sakker_mouth

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে বিরল প্রজাতির মাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। দুর্লভ প্রজাতির ওই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম ‘সাকার মাউথ’ ক্যাটফিস। সোমবার কাপ্তাই উপজেলা নৌবাহিনী ক্যাম্পের পাশে হ্রদে জেলেদের জালে আড়াই কেজি ওজনের ওই মাছটি আটকা পড়ে। খবর পেয়ে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপক ও নৌবাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মাছটি নিজেদের জিম্মায় নিয়ে যান। এই মাছটির ওজন আড়াই কেজি।

বা নৌ জা শহীদ মোয়াজ্জেম কাপ্তাই ঘাঁটির কমান্ডার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান “রবিবার সকালে দুর্লভ প্রজাতির একটি মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়েছে এমন খবর পেয়ে আমি আমার কাপ্তাই অফিসের মাধ্যমে মাছটি জেলেদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে রাঙামাটিতে নিয়ে আসি।” তিনি আরও জানান,“এই মাছটি মূলত দুর্লভ প্রজাতির এবং এটি কয়েকটি দেশে পাওয়া গেলেও আমাদের দেশের কাপ্তাই হ্রদে এতোটা বড় সাইজের মাছ এই প্রথম পাওয়া গেল।”

আসাদের মতে,“হ্রদের তলদেশে বাস করা এই মাছটি দেখেই আমরা বুঝতে পারছি যে কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ জলে এই দুর্লভ মাছটি এতোটা বড় হওয়ার ঘটনায় আমার ধারণা এই জাতীয় মাছের উৎপাদন এই হ্রদেই সম্ভব। এই বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখার জন্যই আমরা মাছটিকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছি। দুর্লভ এই মাছটি নিয়ে গবেষণার জন্য রাঙামাটিস্থ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট এর নিকট হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।”

এই মাছটি মূলত দুর্লভ প্রজাতির। বহির্বিশ্বের কয়েকটি দেশে এই মাছ পাওয়া যায়। তবে কাপ্তাই হ্রদে এই মাছ এত বড় আর পাওয়া যায়নি।

রাঙামাটির বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আবুল বাসার বলেন, “তিন বছর আগে এই প্রজাতির মাছ কাপ্তাই হ্রদে জেলেদের জালে ধরা পড়েছিল। তবে সেটি আকারে খুব ছোট ছিল। এবার দ্বিতীয়বারের মতো এই মাছটি পাওয়া গেল। বিভিন্ন কাগজপত্র দেখে মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘সাকার মাউথ’ ক্যাটফিস পাওয়া গেছে। তবে অন্যান্য বিষয়ে তেমন জানা যায়নি।”

আবুল বাসার বলেন আরও বলেন,বাংলাদেশে এই মাছ এ্যকুরিয়াম ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায়না। এ্যকুরিয়ামের এই মাছগুলো আরও অনেক ছোট আকারের হয়। এই মাছ হ্রদের তলদেশে বাস করে এবং তলদেশে জন্মানো শ্যাওলা জাতীয় উদ্ভিদ খেয়ে থাকে। এরা খুবই শান্ত স্বভাবের হয়।”

এটি মিঠা পানির মাছ। কাপ্তাই হ্রদের পানিতে মাছটি প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার বড় হওয়ার ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, এখানে এ জাতীয় মাছ চাষ করা যেতে পারে। তাই মাছটি নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।”

তারেক সিদ্দিক


কাপ্তাই থেকে

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন