কর্ণফুলী পেপার মিল বাঁচাতে সোস্যাল মিডিয়ায় অভিনব প্রতিবাদ

426
karnafuli_paper_mills

আজ  সরকারি বন্ধ বিধায় ঘুম থেকে একটু দেরীতেই উঠলাম। প্রযোজনীয় কাজ সেরে সোস্যাল মিডিয়ায় দেখি কর্ণফুলী পেপার মিল বাঁচাতে ফেসবুক বন্ধুদের অভিনব প্রতিবাদ।কর্ণফুলী পেপার মিল (কেপিএম) বাঁচাতে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রোফাইল পিকচারে একটি প্রতিবাদী ছবি জুড়েছেন অনন্ত সহস্রাধিক ব্যক্তি।কৌতুহলী না হয়ে পারলাম না।

গত ৮ জানুয়ারী ২০১৭ দৈনিক পূর্বকোনের রিপোর্ট বলছে,

কর্ণফুলী পেপার মিল অর্থ সঙ্কটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে

এক সময়ে এশিয়া মহাদেশে বিখ্যাত, দেশের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত কর্ণফুলী পেপার মিল (কেপিএম) চরম অর্থ সঙ্কটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় এই কারখানা থেকে ৩০২ জন শ্রমিক কর্মচারী কর্মকর্তাকে বিসিআইসি’র অন্যান্য কারখানায় গণবদলি করা হয়েছে। কারখানা বন্ধের প্রক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে এই গণবদলির আদেশ কারখানায় ছড়িয়ে পড়ার পর শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আর্থিক সঙ্কটের কারণে এই গণবদলি করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করেছে বিসিআইসি। আর্থিক সঙ্কটের কারণে গণবদলির তালিকায় থাকা শ্রমিক কর্মচারী কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৫২ জনকে চট্টগ্রামের টিএসপি সার কারখানা এবং অন্যান্যদের চট্টগ্রামের ডিএপি সার কারখানা ও সিইউএফএল কারখানায় বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, পাকিস্তান শাসনামলে ১৯৫৬ সালে দাউদ শিল্পগ্রুপের মালিকানায় কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা এলাকায় কর্ণফুলী পেপার মিলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই কারখানাটি ছিল এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম কাগজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কারখানাটি বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণন এলে বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থার (বিসিআইসি) অধীনে কারখানাটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। দৈনিক ১১০ থেকে ১৩০ মে. টন কাগজ উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন এই কারখানাটিতে গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে অব্যাহত লোকসান দিয়ে চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখোমুখি হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঁশ কাঠের কাঁচামালে উৎপাদন নির্ভরশীল কর্ণফুলী পেপার মিল অর্থাভাবে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সাম্প্রতিক কয়েক বছরে এই কারখানার দৈনিক উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ মেট্রিক টনে নেমে আসে। কারখানায় বর্তমানে কর্মরত থাকা দেড় হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মচারী কর্মকর্তার মাসিক বেতন পরিশোধেও ব্যর্থ হয় মিল কর্তৃপক্ষ।
মিলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ বছর ধরে কারখানা থেকে অবসর নেওয়া ২ শতাধিক শ্রমিক কর্মচারী তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাসহ অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। মিলের সকল শ্রমিক কর্মচারীর প্রভিডেন্ট ফান্ড শুণ্য করে কাঁচামাল কিনে কারখানার চালানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারখানা সূত্র জানায়, বন বিভাগ কেপিএম’র কাছে ২ কোটি টাকা পাওনা থাকায় বন বিভাগ কর্ণফুলী পেপার মিলকে কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। অবসরে যাওয়া শ্রমিক কর্মচারী এবং মিলে কাঁচামালসহ অন্যান্য মালামাল সরবরাহকারী ঠিকাদাররা কেপিএম’র কাছে পাওনা রয়েছেন ১৫ কোটি টাকার বেশি। এই অবস্থায় চরম আর্থিক সঙ্কট আর অব্যাহত লোকসানের মুখে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলী পেপার মিলটি বন্ধ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
কর্ণফুলী পেপার মিল সিবিএ সভাপতি তৌহিদ আল মাহবুব জানান, বেতন ভাতা না পেয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে থাকা শ্রমিক কর্মচারীদের ৩০২ জনকে বৃহস্পতিবার বিসিআইসি’র চট্টগ্রামের বিভিন্ন কারখানায় গণবদলি করা হয়েছে। আরও কয়েকশ শ্রমিক কর্মচারীকে বদলির আদেশ অপেক্ষমান রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। কেপিএম’র এই সিবিএ নেতা জানান, কারখানা বন্ধের প্রক্রিয়া হিসেবে মিলের শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের গণবদলি করা হচ্ছে। এই গণবদলির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে কেপিএম’র মূল ফটক অবরুদ্ধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্ণফুলী পেপার মিলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আনোয়ার হোসেন জানান, মিলের আর্থিক সঙ্কটের কারণে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ কারখানা থেকে ৩০২ শ্রমিক কর্মচারী কর্মকর্তাকে বিসিআইসি’র অন্যান্য কারখানায় বদলি করেছে। এর মধ্যে মিলের কর্মকর্তা রয়েছেন ৩৬ জন। কর্ণফুলী পেপার মিলের চরম আর্থিক সঙ্কটের কথা স্বীকার করে এই কর্মকর্তা জানান, মিলের তহবিলে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় শ্রমিক কর্মচারীদের ডিসেম্বর মাসের বেতন ভাতাদিও পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। মিলের মাস্টার রোলে কর্মরত শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা যাচ্ছে না তিন মাস ধরে। এই আর্থিক সঙ্কট বিবেচনায় বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ মিলের জনবল কমানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চট্টগ্রামের সর্বোৎকৃষ্ট ও বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ পেপার মিল কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেড। ১৯৫৩ সালে স্থাপিত হওয়া এই পেপার মিলের কমার্শিয়াল উৎপাদন শুরু হয় ১৬ অক্টোবর ১৯৫৩. পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই পেপার মিল ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকে এর উৎপাদন ক্ষমতা। বর্তমানে পেপার মিলটির উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০০০ মেট্রিকটন।

১৯৭২ সালে তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ২৭ এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের অধীনে হস্তান্তর করা হয়, যা পূর্বে ১৯৬০ সাল থেকে ব্যাক্তি মালিকানাধীন ছিল। শুধুমাত্র ঐতিহ্যে নয়, গুনে ও মানে কর্ণফুলী পেপার মিল এর রয়েছে যথেষ্ট সুনাম। বিখ্যাত কর্ণফুলী কাগজ এই মিলেই তৈরী হয়। এছাড়া উৎপাদিত হয় নিউজপ্রিন্ট সহ নানান মানের কাগজ।

কাপ্তাই এর চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত এই পেপার মিল প্রায় ৪২৪ একর জমির উপর স্থাপিত। মূল কাগজ তৈরীর কারখানা ছাড়াও রয়েছে একটি প্রাইমারি স্কুল, শ্রমিকদের থাকার স্থান, আবাসিক এলাকা সহ সুবিশাল খেলার মাঠ, যা পর্যটকদের ও আকর্ষন করে সমান তালে। সবচেয়ে মজার বিষয় হল, দামী ও গুনী এই পেপার তৈরীর মূল কাঁচামাল হল শুধুমাত্র বাঁশ। বাঁশ থেকে চিপস, পরিষ্কারকরণ, ক্যমিকেল মিশ্রন, মন্ড তৈরী করে ধাপে ধাপে কাজ শেষে বেরিয়ে আসে বড় বড় কাগজের বান্ডিল। যা থেকে পরে রিম কাগজ বানানো হয় ও সবশেষে বাজারজাত করা হয়।

গত ২৮ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় কাজী মোশাররফ হোসেন ও মোহাম্মদ আলীর  রিপোর্টের শিরোনাম ছিলো,

সংকটে কর্ণফুলী পেপার মিল, শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তারা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। কাঁচামাল সরবরাহকারী ঠিকাদারদের বিলও আটকা পড়ে আছে। সংকট উত্তরণে আজ শিল্প মন্ত্রণালয়ে বৈঠক

রিপোর্টে বলা হয়, কেপিএম উৎপাদিত কাগজের সর্বত্র যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে কাগজ বিক্রি করতে হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সরকারের ইচ্ছার বাইরে কেপিএমের কাগজের মূল্য বৃদ্ধি করার কোনো সুযোগ নেই। কাগজ উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল বাঁশ ও গাছ চড়া দামে কিনতে হয়। কাগজ উৎপাদনের উপকরণ- বিভিন্ন কেমিক্যাল, লবণ, টেলকম পাউডার, চুন ইত্যাদিও অধিক মূল্যে কিনতে হয়। এর পাশাপাশি সরকারের কোষাগারে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা কর দেয় কেপিএম। চড়া দামে গ্যাস ও বিদ্যুৎ কিনতে হয়। প্রায় ৬৪ বছরের পুরাতন কেপিএম কারখানার যন্ত্রাংশগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। নিয়মিত অবসর গ্রহণের কারণে দক্ষ লোকবল অনেক কমেছে। সর্বোপরি ২০১৫ সালে সরকার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ করলে ঘোষিত বেতন প্রদান করতে গিয়ে কারখানা আরো বেশি আর্থিক সঙ্কটে পড়ে। একটি সূত্র জানায়, কারখানার আর্থিক সঙ্কট কিছুটা হলেও দূর করতে ২০১৬ সালে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ তিন শতাধিক শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে সংস্থার অন্যান্য কারখানায় বদলি করে। স্বেচ্ছায় বদলি হতে ইচ্ছুক তিন শতাধিক শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আবার বদলি করা হয়। আরো কিছু কর্মকর্তা কর্মচারী বদলির প্রক্রিয়ায় আছেন।

রিপোর্ট অনুসারে জানা যায়, কেপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ড. এম. এম. এ. কাদের বাজারে যেসব দামি কাগজের চাহিদা আছে সেই কাগজ উৎপাদনে জোর দিচ্ছেন। উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কিভাবে মূল্যবান কাগজ তৈরি করা যায় সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ড. এম. এম. এ. কাদের কারখানার আর্থিক সঙ্কটের কথা স্বীকার করে বলেন, সঙ্কট কাটিয়ে কিভাবে কেপিএমকে লাভজনক করা যায় সেই চেষ্টা অব্যাহত আছে।

কেপিএম শ্রমিক কর্মচারী পরিষদ (সিবিএ) সভাপতি মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান মুক্তার ইত্তেফাককে বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক যেসব নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছেন তাতে অল্প সময়ের মধ্যে উৎপাদন বৃদ্ধি করে কেপিএম লাভের মুখ দেখবে বলে আশা করা যায়। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, ৬৪ বছরের পুরাতন কারখানা হলেও কেপিএম এখনো দৈনিক ৭০ মেট্রিক টনেরও বেশি কাগজ উৎপাদনে সক্ষম। কিন্তু আর্থিক সঙ্কটের কারণে অধিক পরিমাণে উৎপাদনে যেতে পারছে না কারখানাটি। সঙ্কট উত্তেরণে তারা প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে দেশের বৃহত্তম কাগজ কল কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত কর্ণফুলী পেপার মিল (কেপিএম)। শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তারা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। কাঁচামাল সরবরাহকারী ঠিকাদারদের বিলও আটকা পড়ে আছে। সংকট উত্তরণে শিল্প মন্ত্রণালয়ে আজ মঙ্গলবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, প্রাচীনতম হিসেবে স্বাভাবিক ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও কর্ণফুলি মিলে যন্ত্রপাতি এখনো পুনর্মাত্রায় উত্পাদনে সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই মিল চরম দুরাবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। পর্যাপ্ত পুঁজি বিনিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনাকে দুর্নীতিমুক্ত করা গেলে মিলে শতভাগ উত্পাদন দেওয়া সম্ভব। এতে লাভজনক হবে মিল।

রাঙ্গামাটি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, কর্ণফুলী পেপার মিলের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাহাড় ও সমতলের হাজার হাজার পরিবার জড়িত। কারখানার উপর সংশ্লিষ্ট শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তা ছাড়াও পাহাড়ে বসবাসকারী অনেক পরিবারের জীবিকা নির্ভরশীল। কেপিএমকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিলে কারখানাটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে জাতীয় সংসদে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন বলেও জানান সংসদ ফিরোজা বেগম চিনু।

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙ্গামাটির প্রাক্তন সাংসদ দীপঙ্কর তালুকদার বলেন, কেপিএমের সংকট উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ২৮ মার্চ শিল্প মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য দীপঙ্কার তালুকদার আরো বলেন, বর্তমান সরকার কেপিএমসহ দেশেরk_p_m_kaptai কোনো কলকারখানা বন্ধের পক্ষে নয়। বরং বিএনপি জোট সরকারের সময় যেসব কারখানা বন্ধ করা হয়েছিল সেগুলোকে সচল করতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. প্রকৌশলী এম এম এ কাদেরও বলেন, পুরোদমে মিলের উৎপাদন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। ২৮ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বোর্ড মিটিংয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।

দৈনিক সমকাল পত্রিকায় শেখ আবদুল্লাহ রিপোর্ট করেন,

কর্ণফুলী পেপার মিল অর্থ সংকটে

ক্রমাগত লোকসানের ফলে বন্ধ হওয়ার পথে সরকারের একমাত্র কাগজ কল কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেড (কেপিএমএল)। কাগজের চাহিদা বাড়লেও কেপিএম ক্রমাগত লোকসান দিচ্ছে। ধারাবাহিক লোকসানের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক আর্থিক সংকটে পড়েছে। মিলটি চালিয়ে নিতে সরকারের কাছে ৭১ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি অর্থ সচিবকে লেখা এক চিঠিতে এ সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

এর আগে কেপিএমের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে অর্থ সহায়তা চেয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন বিসিআইসি চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ ইকবাল। বিসিআইসি বলেছে, উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় নিয়মিত লোকসান হচ্ছে। এর ফলে বাড়ছে পুঞ্জীভূত লোকসান।

বিসিআইসি চেয়ারম্যানের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কেপিএম ১২ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের কাগজ উৎপাদন করে। বছর শেষ হওয়ার আগেই সব কাগজ বিক্রি হয়। কাগজ বিক্রিতে আয় হয় ১০২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। কাঁচামাল ক্রয়, গ্যাস বিল, যন্ত্রপাতি কেনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির অর্থ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৭৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। বছর শেষে প্রতিষ্ঠানটি ৭০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা লোকসান করেছে। এখন মিলটির দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানোর জন্য এই লোকসানের টাকা ভর্তুকি হিসেবে সরকারের কাছে চাচ্ছে মিল কর্তৃপক্ষ। তা না পেলে চলতি মূলধনের অভাবে মিলটির উৎপাদন কার্যক্রমসহ সামগ্রিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিসিআইসি চেয়ারম্যান।

বিসিআইসির তথ্য মতে, রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনায় ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কেপিএম ১৯৭০ সাল পর্যন্ত লাভজনক ছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মিলের ক্ষয়ক্ষতির ফলে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায়। বার্ষিক উৎপাদন ৩০ হাজার টন থেকে ২২ হাজার টনে নেমে যায়। ফলে কারখানাটি লোকসানের আবর্তে পড়ে। স্বাধীনতার পরে ৪৪ বছরের মধ্যে ২৬ বছর লোকসান দিয়েছে এই মিল। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে কারখানাটি ক্রমাগত লোকসান দিয়ে আসছে। বর্তমানে কারখানাটির উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ১২ হাজার টন। ২০১৫ সালের জুন শেষে কর্ণফুলীর পুঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩৬৫ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছর শেষে ৩৯৩ কোটিতে গিয়ে ঠেকবে বলে মনে করছে বিসিআইসি। আগামী অর্থবছরেও লোকসান হবে বলে মনে করে সংস্থাটি।

কর্ণফুলী পেপার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান জাভেদ আনোয়ার সমকালকে বলেন, ‘উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় লোকসান হচ্ছে। বাজারে তাদের কাগজের অনেক চাহিদা থাকলেও মজুদ নেই।’

দেশের বাজারে কাগজের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগও বেড়েছে। বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ৭২টি পেপার মিল রয়েছে। এসব মিলে বছরে ১০ লাখ টনের বেশি কাগজ উৎপাদন হয়। কয়েকটি পেপার মিল বর্তমানে কাগজ রফতানিও করছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির নির্দিষ্ট ক্রেতা রয়েছে। ফলে বাজার প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয় না। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা মেটাতে পারলেই লোকসান হওয়ার কথা নয়। কিন্তু কেপিএম সেই কাজও ঠিকমত করতে পারে না। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), বাংলাদেশ স্টেশনারি অফিস, নির্বাচন কমিশন, সকল শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী পেপার মিলে উৎপাদিত কাগজ কিনে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক চাহিদা পূরণ করতে পারছে না কেপিএম। এনসিটিবি ভারত থেকে বই ছাপিয়ে আনছে।

দেশের সবচেয়ে বড় কাগজের বাজার নয়াবাজারে প্রায় সব মিলের ডিলার থাকলেও সেখানে কেপিএমের কোনো ডিলার নেই। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর দেশ থেকে প্রায় চার কোটি ডলার মূল্যের কাগজ ও কাগজজাত পণ্য রফতানি হচ্ছে।

কর্ণফুলী পেপার মিল প্রসঙ্গে ফোকাস বাংলা নিউজ

কর্ণফুলী পেপার মিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের অংশ

আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে কর্ণফুলী পেপার মিল এর উৎপাদিত কাগজের কিছুটা ভুমিকা ছিলো বৈকি ! খুলনা নিউজপ্রিন্ট গেছে,আদমজী গেছে কিন্ত কোন অবস্থায়ই আমরা কর্ণফুলী পেপার মিল বন্ধ হোক এটা চাইবেনা। সুতরাং আসুন কর্ণফুলী পেপার মিল বাঁচাতে আসুন সবাই যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করি।

ফোবানি/হামিদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন