কবি ও প্রাবন্ধিক কমরুদ্দিন আহমদের ৫৩ তম জম্মদিনে অফুরান শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা

17

বিদ্যাতলার পথিক : “কবি কমরুদ্দিন,জন্ম চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে। বাড়ির উত্তরে কুল কুল ধবনিতে বয়ে গেছে সুজলা শঙ্খ নদী। পু্র্বে কুন্ডুর পাহাড় এবং বাড়ীর পাশেই সবুজেঘেরা সুফলা চা বাগান। প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশে বেড়া ওঠা কৈশোর তাকে দিয়েছে অসাধরণ মাটিমুগ্ধ রোমান্টিকতা। সাহিত্য আচমন করেছে তাকে সেই কৈশোর থেকে।”তার কবিতায় কৈশোরের বেড়ে ওঠা  পরিবেশ পাহাড়ী ঝর্ণা হয়ে নেচে ওঠে। বাকভঙ্গিতে এনে দেয় বাংলাভাষার চট্টগ্রামের মুদ্রা চিহ্নিত শৈলী। এমন কি চট্টগ্রামের ভাষায় জনপ্রিয়  গদ্য ও পদ্য লিখেছেন সমানতালে।’  মাধ্যমিক পাসের পর থেকে নাগরিক জীবন যাপন করলেও  কবি স্বপ্নে জাগরণে কবিতায়,  কিংবা বাস্তবতায় বার বার শহরই ছেড়ে গিয়েছেন। কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ,” শহর ছেড়েই যাবো” গ্রন্থটি তার যাপিত জীবনের অসাধরণ বাঙময়তার  শৈল্পিক দৃষ্টভঙ্গির স্বাক্ষর দেখতে পাই। তার শহর ছেড়েই যাবো কাব্যের কবিতার যে পঙতিগুলো মনের মধ্যে বার বার দাগ কেটে যায় তা তুলে ধরার লোভ সামলাতে পারলাম না।

 যেমন-

…জাগলো আমার প্রান কবিতায়,

রাখাল ছেলের বাশির ধবনি/

বনের মাঝে সোনার খনি/

গায়ের মেয়ে কলসী কাঁখে

 পড়ে যাওয়ার ভান/

জাগলো আমার প্রাণ।

শ্রাবণ মাসে কবিতায়-

হে নিশিথি তেমার কাছে

একটি শুধু প্রার্থনা

উম দিয়ে যাও ঘুম দিয়ে যাও

হৃদয় বীণার শান্তনা।

অথবা কবিতার সংসার কবিতায়-

…মৃত বৎসা মৌসুমীর ঝুলন্ত স্তন থেকে নির্গত দুধের মতো বিষ্টি এলে –

গ্রীস্মের বিকেলে

কবিরা জাবর কাটে, মেঘদূত দর্শনের।

তাল পুকুর কবিতায়

তাল পুকুরে হাজার মাগুর নাচবে বারো মাস/ চন্দ্রপুরের কালুমাঝি মাথায় দিলো হাত/পারাপার আজ বন্ধ সবার, নৌকা হলো কাত।…

দ্বান্দিক সময় ২ এ

 প্রলয়ের সহোদরা উঁকি দেয় তোমার আঘাতে।/ উধাও শস্যের মাঠ অমূলক আচারে তোমার,/ আল্লাহর দোহাই প্রিয় খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার।

আবার অপূর্ন ইচ্ছার ভেলা কবিতায়

সবিতার রঙ ম্লান হয়ে এলো

পাকা মিষ্টি লাউয়ের মতো।…

…তোমার দ্বিধা কবিতায়

আমাকে বিশ্বাস করো পরাজয় তোমাকে ছুঁবেনা।

খয়েরী গাঁদার ক্ষেতে কবিতায়-

….

আমার সত্তার কাছে আমি প্রতারক

বিশ্বময় বারুদের কারখানা বাড়ে

শঙখের উদাস তীরে উড়ে গাঙচিল

অদৃশ্য হয় আকাশে উল্কার ফুল।

তুৃমি সেই রূপসী  কবিতায়-

শিমফুলের মতো তার বরফী যৌবন

এক সবুজ পৃথিবীর প্রতীক্ষায়

কামারের জ্বলন্ত কয়লার মতো

তুমি সেই রূপসী।

যার জন্য আমারও হৃদয় জ্বলে

অন্ধকার রাতে যখন একাকী।

ঘাসের দেশে কবিতার পঙতি গুলো বার বার পড়তে ইচ্ছা করে। যেমন

ভুলেছিলাম কাব্যকথা

ছেড়েছিলাম দেশ

ছলচাতুরীর ঘূর্নীঝড়ে

প্রেম জীবনের শেষ।

আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে

বাগানজুড়ে ঘাস

ঘাসের দেশে হৃদয় আমার

কাঁদছে বারোমাস।

স্বরবৃত্তের নৃত্য কবিতায় স্বরবৃত্তের বৈশিষ্ট্য নিয়ে লিখেছেন-

….শব্দ দেবীর লব্দ খবর

কানমলা আর খোঁচা

অনেকটা সে হাস্যকরের

ভাষা দিয়ে কাঁচা

পদ্যকারের বধ্যভুমি ছড়ার অবয়ব

কাব্যকলায় সে হবেনা

লক্ষিন্দরের শব।

….

হৃদয়ের যাদুঘর কবিতায় লিখেছেন-

হৃদয়ের য়াদুঘরে আর কোন পুরাকীর্তি নেই

শুধু তোমারই রূপময় স্মৃতির বিন্যাস ।

আমি যদি বিষ্ণু হই  বামপাশে তুমিই সারদা।….

এছাড়াও পান্নার হাসি, শ্লোগান সবুজ তরঙ্গ  কবিতাগুলো অনবদ্য। সুন্দর মায়্যা, হেজায় হায় মূলা কেতি চট্টগ্রামের বিশুদ্ধ আঞ্চলিক ভাষায় রচিত অনিন্দ্য সুন্দর দুইটি কবিতা।ভাষা প্রেমীদের নজড় কাড়ে। কবির পরের কাব্যগ্রন্থগুলিতে যেমন সবুজ সুখের পুলক, গন্ধরাজের গ্রাণ ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ গুলোতে কবিতার ভিন্ন স্বাদ পাওয়া যায়। “শহর ছেড়েই যাবো” কাব্যটি আমার বার বার পঠিত একটি কাব্য। অধিকাংশ কবিতা কবির যৌবনেই রচিত। তাই তার  কবিতায় প্রেম, দ্রোহ ও সমঝোতা বার বার শঙ্খের ঢেউয়ের মতো আমাকে উতাল পাতাল করে দেয়। আজ কবির  জন্মদিন। জন্মদিনে কবিকে অফুরান শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। বেঁচে থাকুন মানুষের হৃদয়ে।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন