কনজাংটিভাইটিস Conjunctivitis বা রেড আই Red Eye বা চোখ লাল হওয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা

326
conjunctivitis_red_eye

কনজাংটিভাইটিস(Conjunctivitis)বা রেড আই (Red Eye) বা চোখ লাল হওয়া খুবই সাধারণ ও পরিচিত একটি রোগ। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অ্যালার্জিজনিত কারনে চোখ ওঠা রোগ হতে পারে। ভাইরাসে আক্রান্ত চোখ কিছুদিন পর ভালো হয়ে যায়। কিন্তু এটা আশপাশের অনেককেই আক্রান্ত করতে পারে। ভাইরাসের ধরণ এবং রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর রোগের স্থায়িত্ব নির্ভর করে। চোখ ওঠা রোগের কারনে কর্নিয়ায় প্রদাহ হতে পারে। সেক্ষেত্রে  সময়মতো চিকিৎসাসেবা না নিলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। এছাড়া এটিকে অনেকে রেড আই বা চোখ লাল হওয়া রোগ বলেও জানে। রেড আই বা চোখ লাল হওয়া নিয়ে আমাদের দেশে অনেকের মধ্যেই ব্যাপক ভুল ধারণা রয়েছে। সাধারণত কারো চোখ লাল হলে এবং চুলকালে চোখ উঠেছে বলে ধরে নেয়া হয়। ডাক্তারি ভাষায় যাকে বলে কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis)। এক্ষেত্রে অনেকে নিজে নিজেই ফার্মেসি থেকে চোখের ড্রপ কিনে ব্যবহার করা শুরু করে দেন। আমাদের দেশে ব্যাক্টেরিয়া জনিত কারনে চোখ ওঠা বা ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস (Bacterial Conjunctivitis) বেশি হয়ে থাকে। এজন্যই ওষুধের দোকানদাররা বেশিরভাগ সময় রোগীকে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ড্রপ দিয়ে থাকেন। এতে হয়ত সমস্যাটি ৪-৫ দিনের মধ্যেই সেরে যায়। তবে আশঙ্কার ব্যাপারটি হলো শুধুমাত্র কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis)-এর কারনেই চোখ লাল হয় না। আরো অনেক রোগের কারনেই চোখ লাল হতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ড্রপ ব্যবহার করলে চোখের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।তাই জরুরিভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

facts_for_red_eyeকনজাংটিভাইটিস(Conjunctivitis) বা রেড আই (Red Eye) বা চোখ লাল হওয়ার কারন সমূহ:

১। যেকোন ভাবে কর্নিয়া আঘাতপ্রাপ্ত হলে। কর্নিয়া হলো চোখের মণির ঠিক সামনের স্বচ্ছ পর্দা। এক্ষেত্রে চোখের ড্রপ ব্যবহার করলে চোখের মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকতে পারে।

২। চোখের অ্যালার্জি জনিত কারনে।

৩। ব্লেফ্রাইটিস (Blepharitis) বা চোখের পাতায় প্রদাহ।

৪। ড্রাই আই (Dry Eye) বা চোখে পানির পরিমাণ হ্রাস পেলে।

৫। আইরাইটিস (Iritis) বা আইরিশের প্রদাহ।

৬। ক্যারাটাইটিস (Keratitis) বা কর্নিয়ার প্রদাহ।

৭। গ্লুকোমা হলে বা চোখের আভ্যন্তরীণ চাপ বেড়ে গেলে।

৮। একট্রপিওন (Ectropion) ও এনট্রপিওন (Entropion) হলে। অর্থাৎ চোখের পাতার যথাক্রমে বাইরের এবং ভেতরে দিকে বেঁকে গেলে।

৯। ইউভিআইটিস (Uveitis) বা চোখের মধ্যপর্দায় প্রদাহ।

১০। ক্যালাজিওন।

কনজাংটিভাইটিস( Conjunctivitis) বা রেড আই (Red Eye) বা চোখ লাল হওয়ার লক্ষণসমূহ:

১। চোখের ভেতর অস্বস্তি বা খচখচে ভাব হওয়া।

২। চোখ চুলকানো এবং চোখে জ্বালা পোড়া করা।

৩। চোখ দিয়ে অতিরিক্ত পানি পড়া।

৪। চোখের কোনায় ময়লা বা পুঁজ জমা হওয়া।

৫। চোখের পাতা ফুলে যাওয়া।

৬। চোখের সাদা অংশ লাল বা গোলাপি হয়ে যাওয়া।

৭। আলোর দিকে তাকাতে কষ্ট হওয়া।

কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis) বা রেড আই (Red Eye) বা চোখ লাল হওয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা :

১। চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis) বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে, যেমন: ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, অ্যালার্জি, বিভিন্ন কেমিক্যাল-এর প্রভাব ইত্যাদি। ভিন্ন ভিন্ন ধরণের কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis) এর লক্ষণ এবং চিকিৎসা পদ্ধতিও ভিন্ন।

২। চোখ উঠলে সব সময় সানগ্লাস পড়ে থাকুন।

৩। চোখ মোছার জন্যে রুমালের পরিবর্তে নরম ও পরিষ্কার টিস্যু ব্যবহার করুন।

৪। বাইরে থেকে এসে পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন।

৫। কখনই চোখে খালি হাত দেবেন না। হাত সব সময় পরিষ্কার এবং শুকনো রাখুন।

৬। এক চোখে কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis) হলেও দুই চোখেই চোখের ড্রপ ব্যবহারের করা ভালো। এতে অপর চোখে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

৭। এই ধরণের সমস্যায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা। মনে রাখা প্রয়োজন ওষুধ যেমন রোগ সারায়, জীবন বাঁচায়, ঠিক তেমনি ভুল ওষুধ ব্যবহারে অঙ্গহানি হতে পারে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে জীবন।

পরিস্থিতি যাই হোক না কেন জরুরিভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। পড়ুন তথ্য অধিকার আইন ভালো থাকুন সবসময়।

ডা: শায়রীন আক্তার


প্রভাষক, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।

ফোবানি/হামিদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন