ঈদের সম্প্রীতি : তেমন প্রতিফলন নেই দেশের রাজনীতিতে!

39

ঈদের খুশি-আনন্দ, ঐক্য আর সম্প্রীতির বন্ধনে পুরো বাংলাদেশটাই যেন এক হয়ে যায়। ঈদ সম্প্রীতি আর ঐক্যের সবচেয়ে অধিকতর বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যায় ধনী গরিবের মিলন মেলায় পরিণত হওয়া দেশের প্রতিটি ঈদগাহে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে। কিন্তু এই খুশির দিনের ঐক্য আর ভ্রাতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে কতটা সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারে? আদৌ পারে কি?

মুসলমানদের দুইটি বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। আজ থেকে কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশে ঈদের খুশির দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের একে অপরকে দাওয়াত করার রেওয়াজ ছিল। কিন্তু আজকাল রাজনৈতিক হীনমন্যতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ভিন্ন মতের কারণে ব্যক্তি বিদ্বেষ বেড়ে গেছে। সেই ব্যক্তি বিদ্বেষ শেষ পর‌্যন্ত গিয়ে ঠেকে রাজনৈতিক হানা-হানি আর রেষারেষির মাঝে। আর এই সকল কারণেই ঈদের মতো উৎসবেও বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির রেওয়াজটি আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

ঈদের ঐক্য আর সম্প্রীতির বন্ধন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেই। ঈদে এই সম্প্রীতির কোনো চিহ্নই আজ আর দেখা যায় না! বর্তমানে আমাদের দেশের রাজনীতি এমন এক অবস্থায় পৌঁছে গেছে যে, রাজনৈতিক অঙ্গনে সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে আবার সম্প্রীতির সংস্কৃতি চালু হতে আরো সময় লাগবে বলে মনে করি। কিন্তু যতদ্রুত আমাদের দেশের জাতীয় রাজনীতিতে এই সংস্কৃতির পুনঃপ্রচলন ঘটবে ততই সকলের জন্য তা মঙ্গল বয়ে আনতে সক্ষম হবে।

আবার ঈদের সময় এক দলের লোকজন আরেক দলের লোকজনের বাড়ি যাবে সেটাকেই ঈদের সম্প্রীতি বলা যাবে সেটাও এমন কিছু না। আসলে পুরো বিষয়টাই হলো একটা সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ঈদের সম্প্রীতি আর ঐক্যের শিক্ষা নেয়া উচিত।

ঈদের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ পুনরায় দুইটি ঈদের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিফলিত হোক এটা দেশের সকল স্তরের মানুষ কামনা করে। বছরের দুইটি সেই সুযোগটি এনেও দেয় কিন্তু। শুধু হীনমন্যতা পরিহার করে এগিয়ে এলেই হয়।

আগামী দিনগুলোতে ঈদের হাসি-আনন্দ, সম্প্রীতি-ঐক্য আর ভাতৃত্ববোধ পুরো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনের মতই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আবার ফিরে আসুক, আবার সবার মাঝে সম্প্রীতির একটা বন্ধন তৈরি করুক- এমনটাই আশা আমাদের সকলের। একমাত্র রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছাই এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম।

 

আহমেদ মাসুদ বিপ্লব, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান, ফোকাসবাংলানিউজ