ইউ আর দ্য পিপলস সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন: “এই সরকারের চুক্তির বৈধতা নেই”

57
you_are_the_people

আওয়ামী লীগ জনগনের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন না করায় ভারতের সাথে সরকারের চুক্তি করায় কোন অধিকার নেই এ দাবী করেছে ইউ আর দ্য পিপলস নামে বিএনপি’র ধারায় নিউইয়র্কের একটি সংগঠনের সংবাদ সম্মেলনে। খবর বাপস নিউজ।
গত ১৭ এপ্রিল সোমবার রাত ৮টায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ব্যলোজিলো পার্টি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহবায়ক ও সিইও জ্যাকব মিল্টন এ উক্তি করেন।

ইউ আর দ্য পিপলস এর সদস্য সচিব নিরু এস নিরা, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অধ্যাপক দিলোয়ার হোসেন, কাজী আজহারুল হক মিলন, আবু সুফিয়ান, জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী, সোহেল আহমেদ, মাহতাব উদ্দিন ও সবুজ প্রমুখ।

সঞ্চালনা করেন লেখক ও এক্টিভিষ্ট আলী ইমাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের প্রতিবাদে গত ৫ থেকে ৭ এপ্রিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সামনে সংগঠনটি তিনদিন বিক্ষোভ সমাবেশ করে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ও দু’ দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি সমূহের প্রতিবাদ জানাতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন জ্যাকব মিল্টন।

এছাড়াও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে জ্যাকব মিল্টন বলেন, উই আর দ্য পিপলস একটি মানবাধিকার সংগঠন। গণ দুশমনদেও তালিকা তৈরী করতে বাংলাদেশে ১০৯ জন সদস্য সার্বক্ষণিকভাবে কাজ কওে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও অষ্ট্রেলিয়া, জার্মানী ও যুক্তরাজ্যে সংগঠনটির কর্মকান্ড চলছে বলেও এক প্রশ্নের উত্তরে জানান জ্যাকব মিল্টন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আলী ইমাম বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতো আমরাও ভারতের সাথে বাংলাদেশের যেকোন প্রকার গোপন চুক্তি সার্বভৌমত্বেও প্রতি হুমকি স্বরুপ বলে মনে করি। জনগণের উপর সরকারের নিপীড়ন, হত্যাযজ্ঞ এবং অমানবিক কার্যকলাপের ফলশ্রুতিতে মানুষ যখন এই চুক্তির বিরোধিতামূলক কোনো কর্মসূচী নিতে পারছে না তখন আমরা নিশ্চুপ হয়ে থাকতে পারি না।

ইউ আর দ্য পিপলস এর আহবায়ক জ্যাকব মিল্টন বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কোনো চুক্তি ই বৈধ নয় যেহেতু বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেনি।

প্রিয় সাংবাদিক এবং উপস্থিত বন্ধুরা,
ভারতের সাথে বাংলাদেশ সরকার প্রধানের সম্পাদিত সামরিক চুক্তির বিরোধিতা করে আমরা নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদেরকে নিয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট এর সামনে লাগাতার তিনদিন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছি। প্রচন্ড বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আমাদের মানবাধিকার সংগঠন ইউ আর দ্য পিপলস এর ডাকে গত ৫ থেকে ৭ই এপ্রিল পর্যন্ত এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ইউ আর দ্য পিপলসএর ডাকা এই সমাবেশে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, তাদের অঙ্গসংগঠন  এবং বাংলাদেশ প্রগ্রেসিভ ফোরাম তাদের নিজস্ব ব্যানারে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ ছাড়াও দেশপ্রেমিক অনেক বাংলাদেশী এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। প্রবাসী বাংলাদেশীরা ছাড়াও মূল ধারার কয়েকজন আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে MR. JOHN P. DEMAIO,Esq এবং MR. DAVID KORNGOLD, Esq উক্ত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন। তারা বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সমাবেশে বক্তারা শেখ হাসিনা‘র ভারত সফর ঘিরে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির আশংকা প্রকাশ করেন এবং অভিযোগ করে বলেন যে বর্তমান অবৈধ সরকারের মেয়াদসীমা দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যে এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের কায়েমী স্বার্থরক্ষার্থে বাংলাদেশ বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড সহ দেশবিরোধী বহু কর্মকান্ড ঘটানো হচ্ছে। কিন্তু সবকিছুই হালাল করা হচ্ছে জঙ্গী হামলা নামের একটা নাটকের মধ্যে দিয়ে। আমরা মনে করি যে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে সংগঠিত সকল জঙ্গী নাটক ই আওয়ামী লীগ সরকার এবং তাদের স্পনসর ভারতের দ্বারা সংগঠিত। আমরা গভীর ভাবে লক্ষ্য করে দেখেছি যে শুধুমাত্র দুইটি মুহূর্তে তথাকথিত জঙ্গী হামলাগুলো হয়:

১. সরকারের অবৈধ এবং বেআইনী কর্মকান্ড যখন জনগণের সামনে প্রকাশ পায় আর পরিস্থিতি কন্ট্রোলের বাহিরে চলে যায় তখনি একটি জঙ্গী হামলা ঘটানো হয়।আমরা মনে করি যে এইসব হামলাগুলোর সাথে আওয়ামী লীগ সরকার এবং তাদের ভাড়া করা পোশাকধারী এমনকি দলীয় ক্যাডাররা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

২. ক্ষমতাসীন সরকারের সাথে তাদের প্রভু ভারতের সম্পর্ক টানাপোড়া শুরু হলেই জঙ্গী হামলা শুরু হয়।এই হামলা গুলো মূলত ভারতের দ্বারা পরিচালিত।ভারতের লক্ষ্য ক্ষমতাসীন সরকারকে ভয় দেখিয়ে তাদের স্বার্থ আদায়।
এযাবৎকাল যতগুলো জঙ্গী হামলা বাংলাদেশে ঘটেছে তার বেনিফিশিয়ারি ক্ষমতাসীন সরকার এবং তাদের প্রভু ভারত।

৫ থেকে ৭ই এপ্রিলের সমাবেশে বক্তারা বলেন ভারতের সাথে বাংলাদেশের সামরিক চুক্তি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার প্রতি হুমকি। বক্তাদের সাথে আমরাও একমত পোষণ করি এবং মনে করি যে “বাংলাদেশকে যদি কোনো দেশের সাথে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা রক্ষা করতে হয় তবে ইন্ডিয়া ই একমাত্র দেশ যাদের সাথে আমাদের যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হবে। যেহেতু ইন্ডিয়া ই একমাত্র দেশ যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার প্রতি হুমকি। ইন্ডিয়া’র সাথে যে কোনো প্রকার সামরিক চুক্তি বাংলাদেশের জন্য কোনো প্রকার কল্যাণ বয়ে আনবে না বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।আমাদের সকলেরই মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশকে তিনদিক থেকে ঘিরে রয়েছে ইন্ডিয়া। সামরিক চুক্তি করতে হলে আমরা ইন্ডিয়াকে বাদ দিয়ে পৃথিবীর যে কোনো দেশের সাথেই করতে পারি যেহেতু অন্য কোনো দেশই আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার প্রতি হুমকি না। সুতরাং এটা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সামরিক চুক্তি আর শৃগালের কাছে মুরগী বর্গা দেয়া একই কথা। ভারতের সাথে বাংলাদেশের যে কোনো প্রকার সামরিক চুক্তির অর্থই হচ্ছে দেশের সার্বভৌমত্ব ভারতের হাতে তুলে দেয়া।আমি এই প্রেস কনফারেন্স এর মাধ্যমেই যদি সরকারকে প্রশ্ন করি যে “স্বাক্ষরকৃত কোনো চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের মিলিটারি পার্সোনেল বা বিশেষজ্ঞরা কি ইন্ডিয়ান মিলিটারির সেন্ট্রাল কম্যান্ড কন্ট্রোল এন্ড অপারেশনাল স্ট্রাকচার সম্পর্কে জানার জন্য ভারতীয় মিলিটারি হেডকোয়ার্টার অথবা কোনো গ্যারিসন হেডকোয়ার্টারে প্রবেশ করার অনুমতি পাবে? অথচ ভারতীয়দেরকে বাংলাদেশে অবাধ প্রবেশাধিকার দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এবং রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব এখন কার হাতে আমরা তা জানতে চাই।
বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের সাথে আমাদেরও জানার অধিকার রয়েছে যে শেখ হাসিনা ভারতের সাথে কি ধরণের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন!

বাংলাদেশের মানুষ যদি তাদের ভাষার জন্য জীবন দিতে পারে, পশ্চিম পাকিস্তানিরা মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে পারে তবে তারা শেখ হাসিনার সাক্ষরিত দেশ বিরোধী  চুক্তি বাতিলের প্রশ্নেও জীবন দিতেও প্রস্তুত।আমরা এই সম্মেলনেই হাসিনা সরকারকে আহব্বান করবো যে অনতিবিলম্বে ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি ডিক্লাসিফাই করে জনগণের সামনে প্রকাশ করতে।

যে সকল লোকজন ইন্ডিয়াকে বাংলাদেশের বন্ধু মনে করে, আমি তাদের উদ্দেশ্য বলতে চাই,”আমরা ইন্ডিয়ার কি ধরণের বন্ধু যে ইন্ডিয়া প্রায় প্রতিদিনই আমাদের সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশীদের কুকুর বিড়ালের মতো গুলি করে মারছে?অথচ ইন্ডিয়া’র সবচেয়ে বড় শত্রু পাকিস্তান, সেখানে ইন্ডিয়া একজন পাকিস্তানিকে গুলি করে হত্যার চিন্তাও করতে পারে না!!! আর অর্থ কি দাঁড়ায়? ইন্ডিয়া’র বন্ধু হলে আমাদের মরতে হবে কিন্তু শত্রু হলে বেঁচে থাকে পারবো।চিন্তা করে দেখুন, “নেপাল সীমান্তে একজন নেপালীকে হত্যা করে ইন্ডিয়াকে মাফ চাইতে হয়েছে। অথচ অসংখ্য বাংলাদেশীদেরকে গুলি করে হত্যা করার পর ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা, বাংলাদেশীদের লাশ কাঁটাতারের উপরে ঝুলিয়ে রাখা হয় আর আমাদের BGB’র xxxx মহাপরিচালক বলে ” ইন্ডিয়ানরা আত্মরক্ষার্থে আমাদের উপর গুলি চালায়”!!!পরিস্থিতি যদি এই হয় তবে ১৭ কোটি মানুষ জানতে চায় যে ইন্ডিয়া’র সাথে আমাদের বন্ধুত্ব ইন্ডিয়াকে বহু কিছু দেয়া হয়েছে কিন্তু ইন্ডিয়া আমাদেরকে কি দিয়েছে?

বিভিন্ন নদীর পানি চুক্তি প্রসঙ্গে আমি বলতে চাই যে ১৯৭৭ সালে জিয়া সাহেব জাতিসংঘে ফারাক্কা প্রসঙ্গ উত্থাপনের পর ইন্ডিয়া একরকম বাধ্য হয়েই বাংলাদেশের সাথে পানি চুক্তি করে। ওই চুক্তিটি এজন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যেহেতু চুক্তিতে একটা GUARANTEE CLAUSE এর মাধ্যমে পানি প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছিল। ১৯৭৭ সালের পর আর এমন কোনো কোনো চুক্তিই হয়নি যে চুক্তির মাধ্যমে পানি প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ সার্ক এর মাধ্যমে প্রস্তাব দিয়েছিল যে
বাংলাদেশ যেহেতু সমতল ভূমি সেই হেতু বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্ডিয়া এবং ভুটান একত্রে  নেপাল এবং ভুটানের পাহাড়ি অঞ্চলে পানি মওজুদ করতে পারে। পরবর্তীতে যাদেরই পানি’র প্রয়োজন হবে, ওই মওজুদ থেকে পানি সরবরাহ করা হবে। নেপাল এবং ভুটান রাজী হলেও ইন্ডিয়া এক কোথায় ঐ  প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। কিন্তু পরে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে ইন্ডিয়া নেপালের এবং ভুটানের সাথে একই চুক্তি করে!!! এর পরেও ইন্ডিয়াকে কি করে বাংলাদেশের বন্ধু বলা যায়?

এই চুক্তি করতে গিয়ে শেখ হাসিনা জাতি হিসেবে আমাদেরকে ডিগ্রেডেড করেছেন । প্রধান মন্ত্রীর পদটিকে অসম্মান করেছেন। ভারতীয়রা একটি প্রাদেশিক সরকার প্রধানের ইচ্ছা অনিচ্ছার বরাত দিয়ে একটি স্বাধীন দেশের সরকার প্রধানকে অপমান করেছে। তার জবাবে শেখ হাসিনা আমাদের মাতৃ ভাষাকে বিসর্জন দিয়ে হিন্দি ভাষায় কিছুই না দেয়ার জন্য ভারতীয়দের ধন্য দিয়ে রান্না ঘরে গিয়ে সুস্বাদু ইলিশ মাছ পাক করে খাইয়ে এসেছেন। পৃথিবীর কোনো সরকার প্রধান বিদেশে অথিতি হিসেবে গিয়ে রাঁধুনি হয়েছে এমন নজীর আর নেই।

রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ভাষায় যে কোনো দেশের বিরোধী দলের প্রথম কাজ হলো ক্ষমতাসীন সরকারের পাশাপাশি একটি শ্যাডো গভর্নমেন্ট পরিচালনা করা। ছায়া সরকার পরিচালনা তো দূরের কথা, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করে দেখেছি যে বর্তমান বাংলাদেশে বিরোধী দলের সুস্থ রাজনীতি করার মতো কোনো সুযোগই নেই। লক্ষ লক্ষ মামলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্থন করেও জীবন বাঁচাতে পারছে না। যারা এযাবৎকাল আত্মসমর্থন করেছে তাদেরকে CROSS FIRE নামে এক বর্বরোচিত নাটকের দ্বারা হত্যা করা হয়েছে। বাবা’র বদলে মা, মা এর বদলে বাবা আবার বাবা মায়ের বদলে সন্তানকে পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে।আড়াই বছরের শিশু পর্যন্ত মাফ পায়নি। আগেকার দিনে দুধের শিশুরা যখন কান্না করতো, মা তাদেরকে ভুতের ভয় দেখিয়ে ঘুম পারতেন।আজ ঐ মা আর ভুতের ভয় দেখান না। মায়েরা এখন বলে “সোনা আমার, ঘুমিয়ে পর। কান্না করলে পুলিশ, RAB অথবা ছাত্র লীগ নামধারী রক্ষীবাহিনী এসে আমাদেরকে গুম করে ফেলবে।” আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে দেশবিরোধী এতবড়ো একটা কাজ হয়ে গেলো কিন্তু একটা লোক ও মাঠে নামার সাহস পাচ্ছে না। না দেশে না বিদেশে। বিদেশের মাটিতে থেকেও সবাইকে ভাবতে হচ্ছে দেশে তাদের আপন জনদের কথা। পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাধীন দেশে থেকেও বাংলাদেশীরা দেশের ব্যাপারে সত্যি কথা বলার সাহস পাচ্ছে না।

ভারতের সাথে সামরিক বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া’র বক্তব্য আপনাদের অনেকের মতো আমিও শুনেছি। অনেকের কাছেই এটা আশার বাণী মনে হয়েছে।আমরাও আশাবাদী। তবে শুধুমাত্র আশারবানী দ্বারা আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব টেকানো সম্ভব নয় বলেও আমরা মনে করি।

শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক বৃন্দ, ১৯৭১ সালে আমি তখন ছিলাম শিশু। মুক্তিযুদ্ধ করতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, ৩০ লক্ষ্ বাংলাদেশীদের জীবন ঝড়ে পড়েছে। কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা এসেছে বা পেয়েছি বলে আমরা তা মনে করিনা। আমরা মনে করি প্রকৃত স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশীদের আরেকটা ভয়াবহ যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হবে।ওই যুদ্ধে বাংলাদেশীরা জিতলে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতা অর্জন করবে।যুদ্ধ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে, বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার্থে আমরা ইউ আর দ্য পিপলস তিনটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সিদ্ধান্তগুলো হলো:

১.গণ দুশমনদের তালিকা প্রকাশ করা
নোট: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত বর্ষে রাজত্ব করেছে আমাদের লোকজনদের দ্বারা। বর্তমানের অবৈধ এবং অনির্বাচিত সরকার টিকে আছে পুলিশ, RAB, বিজিবি এবং প্রজাতন্ত্রের প্রথম কাতারের কর্মকর্তাদের পেশী শক্তির উপর নির্ভর করে।

২.ভারতীয় সামগ্রী বর্জন
নোট: ইন্ডিয়া বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে তাদের পণ্য ব্যাবহারকারী হিসেবে দেখতে চাচ্ছে।ইন্ডিয়া’র সাথে আমাদের COMMERCE DEFICIT আপনাদের অনেকেরই জানা আছে।

৩. এই সরকারের আমলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত সকল চুক্তি ডিক্লাসিফাই করে জনগণের সামনে প্রকাশ করা।
নোট: কোনো রাজনৈতিক দল যদি ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত সকল চুক্তি কার্যকর রেখে ক্ষমতায় যেতে চায় তারা জনগণের সমর্থন বা ভোট আশা করতে পারে না।

উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ, ইউ আর দ্য পিপলস এর ডাকা তিন দিনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ অনেকের জন্যই কষ্টসাধ্যে ছিল। দেশে আত্মীয় স্বজনদের উপর একদিকে সরকার এবং সরকারি দলের নিপীড়ন অন্য দিকে দেশে গেলে জীবনের নিরাপত্তা। তার উপরে আমাদের কর্মসূচি ছিল কর্মদিবসে এবং বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে। বিদেশের মাটিতে দেশের প্রয়োজনে তিনদিনের কর্মসূচি এই প্রথম।

এই তিনদিনের সমাবেশে ইউ আর দ্য পিপলস এর পক্ষে আমি জেকব মিল্টন, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ডক্টর শওকত আলী, আলী ঈমাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বৈদেশিক উপদেষ্টা জাহিদ এফ. সরদার সাদী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র অন্যতম নেতা প্রফেসর দেলোয়ার হোসাইন, আবু সুফিয়ান, জাহাঙ্গীর আলম, মোশাররাফ হোসাইন সবুজ,

একুশের টিভি’র বিশিষ্ট মডারেটর ইলিয়াস হোসাইন, বাংলাদেশী মার্কিন প্রগ্রেসিভ ফোরামের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্ধ সহ নাম না জানা অনেক দেশপ্রেমিক বাংলাদেশী এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।প্রতিকুল আবহাওয়ার মধ্যেও ইউ আর দ্য পিপলস WE ARE THE PEOPLE এর সচিব নিরু এস. নীরা’রব্যবস্থাপনায় এই প্রাণবন্ত কর্মসূচি বিক্ষোভস্থলের পথচারী এবং আশেপাশের সকলেরই দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে।

আপনাদের সকলকে ইউ আর দ্য পিপলস এর সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ইউএসএ নিউজ অনলাইন অবলম্বনে

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন