ইউসেপ বাংলাদেশ : অনিয়ম ও দুর্ণীতির প্রতিকার চেয়ে খোলা চিঠি

393
underprivileged children education program

সম্প্রতি জাতীয় পর্যায়ের এনজিও সংস্থা ইউসেপ বাংলাদেশ এর চাকুরীচ্যুত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বিশেষ করে শিক্ষক-শিক্ষিকারা ইউসেপ বাংলাদেশ এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনৈতিক ও শিষ্টাচার বহির্ভূত কতিপয় স্বেচ্চাচারি সিদ্বান্তের প্রতিবাদে দেশব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে।শুধু তাই নয় মানববন্ধন কর্মসূচী পালনের পাশাপাশি ইউসেপ বাংলাদেশ এর সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা সরকার, দাতা সংস্থা, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তাগনের বরাবরে কিছু অনিয়ম বিষয়ে তথ্য উপাত্তসহ বেশ কিছু দাবী উপস্থাপন করে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনস্বার্থে তা হুবহু প্রকাশ করা হলো:

বিষয়ঃ ইউসেপ বাংলাদেশ এর দুর্নীতি,অনৈতিক ভাবে কর্মী অপসারণ, অনিয়ম ও তার প্রতিকার প্রসঙ্গে।

যথাবিহীত সম্মান পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা নিন্মস্বাক্ষরকারী ইউসেপ বাংলাদেশ এর চাকুরী বঞ্চিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অতীব দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ইউসেপ এর কতিপয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পরিচালকের (তাহসিনা আহমেদ, Chief Executive Officer  এবং মোঃ হাবিবুর রহমান, Chief Program Officer) অযোগ্যতা, স্বজনপ্রীতি, অদক্ষতাও চক্রান্তের কারণে বাংলাদেশের স্বনামধন্য প্রথম শ্রেণীর একটি বেসরকারী সমাজ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

আপনাদের মত মহানুভব ব্যক্তিবর্গের স্বেচ্ছা অবদানের জন্য ১৯৭২ সাল থেকে দীর্ঘ প্রায় ০৪ দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি তার সুনাম অক্ষুন্ন রেখে এগিয়ে চলছে। কিন্তু  অতীব দুঃখের বিষয় উপরিলিখিত ব্যক্তিবর্গের দূর্ণীতি, পক্ষপাতিত্ব, অযোগ্যতা, অদক্ষতা ও আত্ম¡ীয়করণের মাধ্যমে ইউসেপ বাংলাদেশ এর বর্তমান করুণ অবস্থা নিন্মে আপনাদের সদয় অবগতি ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রদত্ত হল:-

১। অনৈতিক, অমানবিক ও অযৌতিকভাবে দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রায় পাঁচশতাধিক কর্মীদেরকে সুকৌশলে চাকুরী থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অথচ এরাই বর্তমান ইউসেপ এর বর্তমান স্থপতি।

২। চাকুরী থেকে অভিজ্ঞ ও নিবেদিত কর্মীদের চাকুরী বঞ্চিত করার ক্ষেত্রে কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। উল্লেখ্য যে অভিজ্ঞ কর্মীদের বঞ্চিত করে কম যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মীদের অধিক বেতনে চাকুরীতে ইচ্ছামত নিয়োগ দান করা হয়েছে।

৩। সহকারী প্রধান শিক্ষক (রিসোর্স টিচার ও মনিটরিং এন্ড ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট) কর্মকর্তাদের অনৈতিকভাবে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আকষ্মিকভাবে স্বীয় স্বার্থে পদ বিলোপ সাধনের মাধ্যমে সকলকে চাকুরী থেকে বঞ্চিত করা হয়। অথচ তাদের পারফরমেন্স ভাল থাকা সত্তে¡ও কোন প্রকার সুযোগ প্রদান করা হয়নি।

৪। দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের যথোপযুক্ত যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও তাদেরকে চাকুরী বঞ্চিত করা হয়েছে। অথচ  প্রয়োজনীয় পেশাগত যোগ্যতা না থাকা সত্তে¡ও অনেককে স্বজনপ্রীতি করে  চাকুরীতে বহাল রাখা হয়েছে।

৫। দীর্ঘদিনের কর্ম অভিজ্ঞ পিয়ন, গার্ড ও ক্লিনারদের চাকুরী থেকে বঞ্চিত করে স্বীয় স্বার্থে অধিকতর আর্থিক খরচে সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানীর সাথে যোগসাজশে একজন গার্ডের পরিবর্তে শিফট অনুসারে তিনজন গার্ডকে নিয়োগ দান করা হয়েছে। যা পূবের্র তুলনায় অধিকতর ব্যয়বহুল।

৬। প্রোগ্রাম প্রধান জনাব হাবিবুর রহমান একজন দূর্ব্যবহারকারী, বদমেজাজী, ষড়যন্ত্রকারী ও অসৎ লোক। উল্লেখ্য যে, পূর্বে ঢাকা টেকনিক্যাল স্কুল ডিভিশন -০২ এর বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর থাকা কালীন অর্থ আত্মসাতজনিত কারণে তৎকালীন ম্যানেজমেন্ট তাকে চাকুরী থেকে ইস্তফা(Resign) দিতে বাধ্য করেন। অথচ পরবর্তীতে সুকৌশলে কোন এক মহলের সহযোগিতায় উচ্চতর পদে যোগদান করেন। এখানে আরও উল্লেখ্য যে, তিনি কিছু কিছু মহিলার কাছে Women Favourite  বস হিসাবে যথেষ্ট সুপরিচিত। আথ লোলুপতার কারণে টিএ.ডি এর মাধ্যমে আধিক আয়ে তার কোন জুড়ি নেই।

৭। এস এম টি (সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম) এর অদক্ষতার কারণে ইতোমধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত ২২ টি সাধারণ স্কুল বন্ধ করা হয়েছে এবং চলতি বছর শেষে আরও ১২-১৫টি স্কুল বন্ধের প্রক্রিয়াধীন। এরই কারণে হাজার হাজার শ্রমজীবি সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ শিশুরা লেখাপড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং হচ্ছে । অথচ এস এম টি (সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম) এর সদিচ্ছা থাকলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,ইউসেপ কর্মকর্তা,কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষিকাবৃন্দ,  কমিউনিটি এলিট, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের  সহযোগিতা ও অনুদানের মাধ্যমে স্কুলগুলি অনায়াসে সচল রাখা যেত।

৮। ইউসেপ এর নিজস্ব সম্পদ ও জনশক্তি থেকে দীর্ঘদিন ধরে অর্জিত শত শত কোটি টাকার সঠিক হিসাব ও ব্যবহার মুষ্টিমেয় কয়েকজন ব্যতিত প্র্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ অবগত নয়। অদ্যাবধি এর অডিট সম্পাদনের কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

৯। ইউসেপ এর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত অর্থ সম্পদ সুকৌশলে লুন্ঠন করা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে প্রাক্তন Chief Executive Officer মোঃ জাকি হাসান ও Chief Personnel and Admin Officerআয়শা পারভীন মজুমদারকে ইউসেপ পরিচালনা পষদ চাকুরীথেকে জবংরমহ করতে বাধ্য করেছেন। অথচ ঐ একই অপরাধের সাথে জড়িত মি. হাবিবুর রহমান Chief Programme Officer এখনও বহাল তবিয়তে এবং দাপটের সাথে কর্মরত আছেন- কোন অপশক্তির জোরে তা আমাদেরকে বিস্মিত করে।

১০। ইউসেপ থেকে ২০১৮ সালে অভিজ্ঞ ও নিবেদিত যে সকল কর্মীগণকে চাকুরী থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তাদের Provident Fund এবং Gratuity Fund এর প্রাপ্ত টাকার হিসাব এখনও সঠিকভাবে প্রদান করা হয়নি। যা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতামূলক।

১১। বর্তমানে ইউসেপ এ কর্মীগণের PF এবং GF এর টাকা প্রাপ্তির জন্য আবেদন করতে বলা হয়। কিন্তু পক্ষপাতমূলকভাবে তাদের পছন্দের ব্যক্তিবর্গকে PF এবং GF এর টাকা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে অবশিষ্ট কর্মীদের টাকা প্রদান না করার জন্য দাপ্তরিকনির্দেশ প্রদান করা হয়। এটা কি বর্তমান এস.এম.টি এর অযোগ্যতা, অদক্ষতা ও স্বজনপ্রীতি নয় কী? এ ঘটনা কর্মীদের মধ্যে মারাত্বক ক্ষোভ এর সৃষ্টি করেছে।

১২। ইউসেপের তথাকথিত সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম সব সময় মুখে মুখে ফান্ড ক্রাইসিস এর কথা বলেছেন কিন্তু এই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে রিজিওন পর্যায়ে কোন প্রকার আলোচনা করা হয়নি বা আলোচনার প্রস্তাব দেয়াও হয়নি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস রিজিওন পর্যায়ে এই বিষয়ে আলোচনা করলে অবশ্যই বতমান বিদ্যমান ফান্ড দ্বারা সকলকে কর্মে রেখে সুষ্ঠুভাবে ইউসেপকে পরিচালনা করা সম্ভব হতো। কিন্তু নিজেদের অধিক আর্থিক সুবিধা লাভের জন্য নিবেদিত ও অভিজ্ঞ কর্মীদের স্বেচ্ছাচারিতামূলকভাবে চাকুরী থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তা না হলে কিভাবে বর্তমানে কর্মরত কমীদের চলতি বছর ২০১৮ সালে ৮%-১০% বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে?

১৩। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে বর্তমান ইউসেপ বাংলাদেশ এর উর্ধ্বতন মহলের কর্মকর্তারা ইউসেপের কার্যক্রমের দোহাই দিয়ে উচ্চহারে টিএ, ডিএ এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাধি ভোগ করছেন। পূর্বে যেখানে ব্যবস্থাপক লেভেলের কর্মীদের বিমানে যাতায়াত নিষিদ্ধ ছিল সেখানে তারা বিমানে যাতায়াত করছেন এবং বিলাসবহুল হোটেলে তথাকথিত সভার আয়োজন করে অন্যায়ভাবে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে আর্থিক সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন।অথচ এসব মিটিং ঢাকাস্থ হেড অফিসে খুব অল্প খরচে করা যেত। এছাড়া এস এম টি এর প্রতি সদস্য গাড়ির ফুয়েলিং, ড্রাইভারের ওভারটাইম, টেলিফোন, ইন্টারনেট ও অন্যান্য সবকিছু মিলে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করছেন। শুধু তাই নয় তাদের ব্যক্তিগত কাজে সময় অসময়ে সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করছেন।

১৪। চীপ প্রোগ্রাম অফিসার হাবিবুর রহমান বিগত অল্প কয়েক বছরে কিভাবে  বিপুল ধন সম্পত্তির মালিক হলেন? উল্লেখ্য যে ঢাকায় সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণ, গাজীপুরে দামী জমি ক্রয়, নামে বেনামে ব্যাংক ব্যালান্স এসব টাকার উৎস কোথা থেকে এসেছে? তিনি এত প্রভাবশালী যে ঢাকা হেড অফিসে অনেক ভালো গাড়ি পড়ে থাকা সত্তে¡ও কয়েকদিন পূবে ৪২ লক্ষ টাকা একখানা নতুন গাড়ি ক্রয় করেছেন, এতে কি ইউসেপের ফান্ডের ক্রাইসিস হয় না? নাকি ইউসেপের ফান্ডের ক্রাইসিস মিথ্যা কথা?

১৫। ইউসেপ বাংলাদেশ প্রথম থেকেই নারীদের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। তাছাড়া বাংলাদেশ সরকার এর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারীদের সাবিক উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। এমতাবস্থায় অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অমানবিকভাবে সুকৌশলে মহিলা শিক্ষকদের বিতাড়নের উদ্দেশ্যে অনেক দূরবর্তী বিভাগে বদলি করেছে যাতে করে তারা স্বেচ্ছায় চাকুরী ছেড়ে দেয়। এর ফলশ্রুতিতে প্রায় ৩০-৪০ জন নিবেদিত মহিলা কর্মী ছোট ছোট সন্তান, অসুস্থ বাবা মা, শ্বশুর শ্বাশুড়ির জন্য ইচ্ছার বিরুদ্ধে অত্যন্ত বেদনার সাথে চাকুরী থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন এবং হচ্ছেনও। এটা মানবতার চরম লঙ্ঘন এবং কতটা নিষ্ঠুর তা ভাবা যায় না। এটি ইউসেপ বিধিমালার পরিপন্থী ও মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

১৬। বিগত অল্প দিনে কর্মীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ১০ রিজিওনে প্রায় ৩০০ কর্মীকে বদলী করা হয়েছে। যার ফলে কর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে পড়েছে। অনেকে চাকুরী থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাছাড়া বদলী জনিত কারণে অহেতুক লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় হচ্ছে অথচ বলা হচ্ছে ইউসেপ এ ফান্ড ক্রাইসিস।

১৭। বর্তমানে কর্মীদের উপর নির্যাতনমূলক আচরণ ও চাকুরী হারানোর ভয় দেখিয়ে প্রায়ই শাসানো হচ্ছে। এ কারণে কর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে গেছে। চাকুরী হারানোর ভয়ে সকলে মুখ বন্ধ করে আছে এবং কাজ কর্ম প্রায় ছেড়ে দিয়েছে। ফলে বর্তমানে প্রোগ্রামের অবস্থা খুবই সংকটময় এবং শিক্ষার মান সর্বনিন্ম পর্যায়ে। যে কেউ যাচাই করলে তা ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

১৮। অভিজ্ঞ নিবেদিত কর্মীদের বাদ দিয়ে তদস্থলে Chief Program Officer Chief হাবিবুর রহমান এবং Chief Executive Officer তাহসিনা আহমেদ এর নিজস্ব, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনকে অধিকতর বেতনে নিয়োগদান করা হয়েছে। অথচ ফান্ড ঘাটতি কারণ দেখিয়ে পূর্বের অভিজ্ঞ কর্মীদের বঞ্চিত করা হয়েছে এবং হচ্ছে। উল্লেখ্য বর্তমানে চাকুরীতে নিয়োগের শর্তাবলীতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এমন ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করেছেন যাতে ইউসেপ এর  বঞ্চিত অভিজ্ঞ কর্মীরা আবেদন করতে না পারেন। অথচ ম্যনেজমেন্ট এর সদিচ্ছা থাকলেঅসংখ্যক শূণ্য ও নতুন সৃষ্ট পদে এ সকল অভিজ্ঞ কমী ও কর্মকতাদের কম বেতনে সমন্বয় (Adjust) করা যেত।

১৯। ইউসেপ যে সকল নিবেদিত কর্মীদেরকে চাকুরী বঞ্চিত করা হয়েছে তাদের সাথে বেতন ভাতা কমানো প্রসঙ্গে কোন আলোচনা করা হয়নি। অথচ এই নিবেদিত কর্মীগণ যে কোন বেতনে বা শর্তে চাকুরী করতে রাজি ছিলেন। এমনকি একাধিক রিজিওন থেকে যে কোন বেতনে চাকুরী করতে লিখিতভাবে Chief Executive Officer এবং Chief People and Admin Officer বরাবর মানবিক আবেদন করেছিলেন। যা SMT ( Senior Management Team কোন আমলেই নেয়নি।

২০। বর্তমান SMT ইউসেপ এর ফান্ড কালেকশনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। অদ্যাবধি দেশের ভিতরে অথবা বাইরে থেকে কোন ফান্ড কালেকশন করতে পারেননি। অথচ মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের উপর তহবিল সংগ্রহের জন্য কঠোর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

২১। চাকুরী মানে শুধু অর্থ উপার্জন নয়। এটি একটি সামাজিক মর্যাদা। আমাদের দীর্ঘ দিনের অবদানকে মূল্যায়ন না করে অযৌক্তিকভাবে কর্মবঞ্চিত করে সামাজিকভাবে ও পারিবাকিভাবে আমাদের মর্যাদা হানি করেছেন ও অপমান করেছেন।

২২। ইউসেপ এসএমটি আমাদের পরিবার পরিজন, সন্তান সন্ততি ও মা বাবাকে অসহায় করে, ছেলেমেয়েদেরকে উপযুক্ত পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন।

২৩। বর্তমান ইউসেপ তার উদ্দেশ্য থেকে সম্পূর্ণ সরে এসে সুবিধা বঞ্চিত শিশু কিশোরদের বঞ্চিত করে সচ্ছল পরিবারের উচ্চ ডিগ্রীধারী ছেলেমেয়েদেরকে প্রশিক্ষণ দান করছে। অনেক ক্ষেত্রে একই শিক্ষার্থীকে একাধিক ট্রেডেও প্রশিক্ষণ দান করা হচ্ছে।

২৪। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুবক যুবাদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অসত্য তথ্য প্রদান করা হচ্ছে এবং দাতা গোষ্ঠিকে প্রায় ৬০-৮০ ভাগ মিথ্যা তথ্য ও উপাত্ত প্রদান করা হচ্ছে।

উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে আমাদের দাবি সমূহ আপনাদের সদয় সহানুভুতি ও মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করার জন্য নিন্মে পেশ করা হল:

১। ইউসেপ এর বর্তমান এসএমটি সদস্য Chief Executive তাহসিনা আহমেদ,Chief Program Officer রহমান সহ অন্যান্য দোষী ও অযোগ্য ব্যক্তিদের চাকুরী থেকে অতিসত্বর টার্মিনেশন করতে হবে।

২। নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক ইউসেপ বাংলাদেশ এর সমস্ত অনিয়ম ও ফান্ড এর যথেচ্ছ ব্যবহার সম্পর্কিত সঠিক তথ্য উদঘাটন এবং এ ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩। উপযুক্ত যোগ্যতা সম্পন্ন, সৎ ও নিরপেক্ষএসএমটি নিয়োগ করতে হবে অথবা সরকারি প্রতিনিধি/প্রশাসক নিয়োগ করতে হবে।

৪। ইউসেপ ফান্ড এর সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে সকল পর্যায়ের বেতন কাঠামো পুনঃনিধারণপূর্বক চাকুরী বঞ্চিতকর্মকর্তা, শিক্ষক ও অন্যান্য সকল কর্মচারীদের চাকুরীতে পুনঃবহাল করতে হবে।

৫। ইউসেপ বাংলাদেশ এর নিজস্ব ফান্ড ও দাতাগোষ্ঠির প্রদত্ত ফান্ড এর সঠিক চিত্র ও আয় ব্যয় সম্পর্কে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।

৬। সকল কর্মী বিশেষ করে মহিলা কর্মীদের সুবিধাজনক কর্মস্থলে ট্রান্সফার করতে হবে।

৭। বন্ধ সকল স্কুল পুনরায় চালু করতে হবে।

৮। ইউসেপ Conflect of Interest পলিসি ভঙ্গ করে (অর্থাৎ স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে) যে সকল নূতন কনট্রাক্ট বেসিসে নিয়োগ দান করা হয়েছে তা সম্পূণ বাতিল করতে হবে।

৯। যারা কর্মে নিয়োজিত আছেন এবং কর্মবঞ্চিত হয়েছেন তাদের সকলের পি.এফ ও জি.এফ এর সর্বশেষ অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী আর্থিক হিসাব নিকাশ প্রদান করতে হবে।

ইউসেপ বাংলাদেশ গরীব-দুঃখী, সুবিধা বঞ্চিত শিশু-কিশোরসহ আপামর জনগণের একটি প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান। যার ছায়াতলে আমরা আমাদের জীবনের অধিকাংশ মূল্যবান সময় কাটিয়েছি। আমরা হয়তো এখন ইউসেপ চত্ত¦রে নেই। কিন্তু ইউসেপ-বাংলাদেশ আমাদের হৃদয়ে দীপ্যমান। যে প্রতিষ্ঠান লক্ষ লক্ষ সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠির প্রতিষ্ঠিত পথের দিশারী তা নিয়ে কোন রকম চক্রান্ত, বেদখল, ক্ষতি সাধন বা আত্মসাতের কোন ঘটনা কিছুতেই আমরা মেনে নেব না। আমাদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও এই প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করবো।

অতএব উপরিলিখিত দাবিসমূহ অতিসত্বর বাস্তবায়ন করার জন্য নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ সবিনয়ে নিবেদন করছি।

বিনীত নিবেদক-

চাকুরী বঞ্চিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ

ইউসেপ বাংলাদেশ।

অনুলিপি:

১.  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার – দ্রুততম সময়ে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

২.  শিক্ষাসচিব, শিক্ষামন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা

৩.  মাননীয় সিটি মেয়র(ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর , গাজীপুর ও সিলেট সিটি করপোরেশন)- সংশ্লিষ্ট এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনায় জননেতৃত্বের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে।

৪.  চেয়ারম্যান, দূরনীতি দমন কমিশন, সেগুনবাগিচা, ঢাকা- জনস্বার্থে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করা হইল।

৫.  চেয়ারম্যান ,জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, ঢাকা

৬.  মহাপরিচালক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ঢাকা।

৭.  কান্ট্রি ডিরেক্টর, ডি.এফ.আই.ডি

৮.  আই.জি.পি, বাংলাদেশ পুলিশ

৯.  জেলা প্রশাসক(ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর , গাজীপুর ও সিলেট)

১০. পুলিশ কমিশনার(ঢাকা,চট্টগ্রাম,খুলনা,রাজশাহী,রংপুর,গাজীপুর ও সিলেট সিটি করপোরেশন)

১১. পুলিশ সুপার(ঢাকা, চট্টগ্রাম খুলনা, রাজশাহী, রংপুর , গাজীপুর ও সিলেটজেলা)

১২. সভাপতি, প্রেস ক্লাব (ঢাকা, চট্টগ্রাম খুলনা, রাজশাহী, রংপুর , গাজীপুর ও সিলেট জেলা) ও সম্পাদক/সভাপতি, বনপা/জাতীয় অনলাইন প্রেস ক্লাব/রিপোটার্স ইউনিটি/সাংবাদিক ফোরাম

 ্১৩. ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট থানা/উপজেলা

১৪. ওয়াড কাউন্সিলরগণ , সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন