আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী। ইতিহাসের পম্পেই নগরী, পুরাতন শহর ভুলুয়া। নোয়াখালী বিভাগ চাই। এই প্রশ্নে আপোষ নাই।

বৃহত্তর নোয়াখালীর আয়তন ৪২০২ বঃকিঃমিঃ আর কুমিল্লার ৩০৮৫ বঃকিঃমিঃ, প্রায় এক হাজার বর্গ কিলোমিটার ব্যবধান। বাড়ছে বাংলাদেশ - নোয়াখালীর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সমান চর ভেসে উঠছে যা ভবিষ্যতে নোয়াখালী বিভাগ গঠনের প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতাকে এগিয়ে রাখবে।

1687
noakhali_tour_map

নোয়াখালী বাড়ছে, বাড়ছে বাংলাদেশ।

আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী । শুনতে, বলতে এবং গর্ব করে বলতেই আমি স্বাচ্ছন্দবোধ করি। অ্যাই নোয়াখাইল্ল্যা। আমার বা আপনার চেনা-জানা এমন অনেকেই আছেন নোয়াখালীর পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। বাংলাদেশের এমন কিছু জেলার লোকজন আছেন, যারা নোয়াখাইল্ল্যা বলে গালি দিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। বিষয়টা আমার কাছে রাতের অন্ধকারে আরিচা পাড়ি দিয়ে বাসন্তীর শারীরিক উত্তাপে পুড়ে নির্ঘুম কামাল সাহেব। সকালে অফিসে ফুলবাবু সেজে ক্যাফেটেরিয়ায় বাসন্তীর সমালোচনায় একহাত নেয়ার মতো। হায়রে কামাল সাহেব। এই নোয়াখাইল্ল্যা বলে আর কতদিন গালি দিবেন! যাকগে, আলোচনার বিষয়বস্তু কিন্তু এটা নয়। আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী, ইতিহাসের পম্পেই নগরী, সাগরের উত্তাল গ্রাসে হারিয়ে যাওয়া পুরাতন শহর, আদি নাম ভুলুয়া। নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরাই এই লেখার অবতারনা।

নোয়াখালীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

আমরা পৃথিবীর সমৃদ্ধশালী সভ্যতার দিকে তাকালে দেখতে পাই, সে সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো কোনো নদী কিংবা সমুদ্রতীরে। নোয়াখালীর ভৌগোলিক অবস্থানই একটি সমৃদ্ধশালী জনপদ গড়ে উঠার জন্য যথেস্ট অনুকূলে ছিলো। হাজার বছর ধরে তিল তিল করে গড়েও উঠেছিলো। প্রাচীন কাব্যে নানা ভাবে নোয়াখালীর স্তুতি নিয়ে নানান স্লোক গাঁথা হয়েছে।

‘পূর্ব দিকে চট্টগ্রাম ত্রিপুরা পাহাড়
পশ্চিমে মেঘনা নদী ভীষম আকার
উত্তরে ত্রিপুরা জেলা দক্ষিনে সাগর
মধ্যে শোভে নোয়াখালী কিবা মনোহর’।

এই মনোহর শহর একদিনে গড়ে উঠেনি। সুদূর অতীত কালেও চির হরিতের দেশ ছিলো এই সমুদ্র-মেখলা নোয়াখালী। বিশাল সমতল প্রান্তর ছিলো এই অঞ্চল। মধ্য যুগের কবিরা সেই প্রান্তরকে তুলনা করতেন স্বর্গের মস্রিন সবুজ গালিচার মতন। প্রথিতযশা সাংবাদিক সানাউল্লা নূরী এ অঞ্চল নিয়ে গবেষনা ধর্মী লেখায় বর্ণনা করলেন, ‘আবহমান কাল থেকেই এই মাটির বুকে জুড়ে ছিলো কনকচূড় ধানের স্বর্ণালী সমারোহ। ছায়া ঢাকা পাখি ডাকা গ্রাম গুলি ছিলো তাল তমাল আর নারিকেল সুপারি কুঞ্জ খচিত একেকটি আদিগন্ত অরণ্য। সাগরের ললাটে কাঁচ-টিপের মত শোভা পেতো এই ভূ-খন্ডের ফসল সম্ভারে ভরা শ্যামল দ্বীপ মালা। সপ্তম শতকে এই উপকূলের দেশের সমৃদ্ধি বর্ণাঢ্য নৈসর্গিক সৌন্দর্য আর জনগনের সুখময় জীবনের রূপ দেখে বিস্ময় বিমূঢ় হয়েছিলেন চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন-সাঙ। সাত শ’ বছর পরে চতুর্দশ শতকে এই উপকূলীয় দেশ হয়ে দূর প্রাচ্য সফরে গিয়েছিলেন প্রখ্যাত আরব পর্যটক ইবনে বতুতা। মহান এই পরিব্রাজক আফ্রিকা মধ্যপ্রাচ্য মধ্য এশিয়া প্রাচীন ভারত দক্ষিন-পূর্ব এশিয়া এবং দূর প্রাচ্যের বহু দেশ আর জনপদ ভ্রমন করেছেন। কিন্তু বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী এই ভূখন্ডের মত আর কোনো অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সম্পদ সমারোহ তার মনে অমন গভীর ভাবে রেখাপাত করতে পারেনি’।

নোয়াখালীর আদি নাম ছিলো ‘ভুলুয়া’। নানা ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায় ভুলুয়া ছিলো বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী অঞ্চলের প্রাচীনতম ইতিহাসের স্নায়ু কেন্দ্র। এটি ছিলো একসময়ের বর্ধিষ্ণু সামুদ্রিক বন্দর। কিংবন্তিতে বঙ্গোপসাগরকে ক্ষীরদ সাগর বা ক্ষীর সাগর বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। খৃষ্টের জন্মের বহু পূর্ব থেকেই ভূলুয়া বন্দর ছিলো প্রাচীন পৃথিবীর একটি আন্তর্জাতিক আত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বানিজ্য বন্দর। এই বন্দরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ছিলো মিসর, লবানন, জাঞ্জিবার, বসরা, শ্রীলঙ্কা, তাম্রলিপি, সুমাত্রা, জাভা প্রভৃতি সমুদ্র বন্দরের সাথে। আসাম আরাকান সহ দূর প্রাচ্যের সাথে ছিলো এর ঘনিষ্ট যোগাযোগ।

সুপ্রাচীন কাল থেকে যোগাযোগের কারনে এ অঞ্চলে একটি স্বাতন্ত্র সভ্যতার সৃষ্টি হয়। ভাষা সংস্কৃতি কৃষ্টিতে ছিলো পৃথিবীর নানান জাতীর একটি মিশ্র সংস্কৃতি। গড়ে উঠেছিলো একটি উন্নত নগর। পরবর্তীতে যা হয়ে উঠেছিলো ঐতিহ্যবাহি ঐতিহাসিক নগরীতে। ধীরে ধীরে গড়ে উঠে পর্তুগীজ, স্পেনীয়, ইংরেজ ও আরবীয় স্থাপত্যের বহু ইমারত ও ভবন। নোয়াখালী টাউন হল ছিলো জার্মান গ্রীক ও রোম সভ্যতার মিশ্রনে অপূর্ব স্থাপত্যকলার নিদর্শন। একটি সুপরিকল্পিত নগর হিসাবে গড়ে উঠে সমগ্র শহর। ছিলো ঘোড়দৌড়ের মাঠ। ছিলো কালেক্টরেট ভবন, জর্জকোর্ট, পুলিশ লাইন, জেলখানা, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, স্কুল, মাদ্রাসা। ছিলো সুপ্রসস্ত রাস্তা। শহরে যান বাহনের মধ্যে ছিলো মূলত: ঘোড়ার গাড়ি। সুপ্রস্ত রাস্তার দুধারে ছিলো নয়নাভিরাম ঝাউ বীথিকা। সারা নগর জুড়ে ছিলো নানা ফল আর সুবৃহৎ বৃক্ষের সাজানো স্বর্গীয় বাগানের মত উদ্যান। না, সে অনিন্দ্য সুন্দর নগরীর সামান্যতমও আপনি এখন আর দেখতে পাবেন না। খুঁজে পাবেন না কোনো ধংসাবশেষের চিহ্ন। যা প্রত্নতাত্বিকদের মনোবাঞ্ছনা পূরণ করেত পারে। দৈব দুর্যোগে পম্পেই নগরী ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো আজ থেকে প্রায় দু’হাজার বছর আগে। সব কিছু ধ্বংস হলেও কিছুটা চিহ্ন খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো যার সূত্র ধরে প্রত্নতাত্বিকরা খুঁজে পেল অতীত সভ্যতার ইতিহাস। মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা, ব্যাবিলন, ক্যালাডিয়া, মেম্পিস, প্রভৃতি নগরী ইতিহাসের বিস্মৃতির অধ্যায় থেকে ফের উঁকি দেয় সেখানে কুড়িয়ে পাওয়া চিহ্ন গুলোর রেশ ধরে ধরে। বেড়ি বাঁধের উপর দাঁড়িয়ে দক্ষিনে তাকিয়ে দেখুন। আদিগন্ত সবুজের সমারোহ। ছোট ছোট খড়ের ঘর। ঘর গুলোকে ঘিরে আছে নানান ছায়া বৃক্ষ। আপনি একে একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম বলেই ভ্রম করবেন। এই এখানেই ছিলো এক সময়ের কোলাহলময় ছিমছাম নোয়াখালী শহর। এখন তার কিছুই বুঝার উপায় নেই। প্রায় হাজার বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে উঠা তিলোত্তমা এই নগরী প্রায় দু’শ বছর ধরে ভাঙ্গা গড়ার খেলা খেলেখেলে শেষ বারে যেন হঠাৎই একেবারে এক ঝাপটায় চিরতরে হারিয়ে গেলো। নোয়খালী শহর যখন ভাঙ্গনের শেষ প্রান্তে তখন চলছিলো বিশ্বযুদ্ধ। ইতিহাসের এক বিশেষ ক্রান্তিকাল। বৃটিশ সাম্রাজ্যের টিকে থাকার মরণপন লড়াই। প্রতি মুহুর্তে জাপানী বোমার আতঙ্ক। উপমহাদেশে চলছিলো বৃটিশ বিরোধী রক্তক্ষয়ী আন্দোলন। নেতাজী সুভাষ বসুর আজাদহিন্দ ফৌজের সশস্ত্র লড়াই। স্বদেশী আন্দোলন। নোয়াখালীর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। গান্ধিজীর অহিংস আন্দোলন। বাজছিলো বৃটিশ বিউগিলের শেষ করুণ নিনাদ। রাজনীতি আর প্রকৃতির ভাঙ্গাগড়ার এক অভুতপূর্ব মিশ্রন। সেই সাথে মিশেল হলো দক্ষিণ-পূর্ববাংলার সমুদ্রোপকূলীয় সাহসী লোনা মানুষদের ভিটে মাটি রক্ষার এক প্রাণপণ লড়াই। মাত্র ষাট সত্তর বছর আগে শেষ চিহ্ন টুকুও হারিয়ে গেলো। তখনও বিজ্ঞান প্রযুক্তি প্রায় সবই ছিলো। হয়তো একটু শেষ চেষ্টা করলে কিছুটা রক্ষা পেতো কিন্তু তখনকার বৃটিশ শাসকদের সীমাহীন ঔদাসিন্য আর অবহেলায় চির অভিমানি সাগর পাড়ের রূপসী জলকন্যা সাগরেই বিসর্জন দিলো নিজেকে। সে সময এলাকার মানুষরা নিজেরা নিজেদের মত করে স্বেচ্ছাশ্রমে শেষ চেস্টা করেছিলো। সাগরকে রুখতে চেয়েছিলো তারা। সাগরের মধ্যে বাঁধ দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকাতে চেয়েছিলো। কিছুটা সফলকাম হয়েওছিলো। সেটি এখন ওবায়দুল্লা ইঞ্জিনিয়র বাঁধ নামে এলাকার মানুষের মুখে মুখে কিংবদন্তি হয়ে আছে। কিন্তু শেষ রক্ষাটি আর হয়নি।

স্থান শহীদ মিনার। তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারী ভাষার মাস।

হ্যালো হুইনছেন নি! ময়নামতি নামে বোলে নোয়াখালীর বিভাগ অইবো। অ্যাই অন কিত্তাম। কিচ্ছু করন লাইগতো ন। বালিশে মোড়া দি লেপের নিচে ঘুমান। কালই বাদে হরু নোয়াখালীর শহীদ মিনারের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ আছে। জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দিবো। অ্যাই যাইতাম হাইরতাম ন, হেডে খাউয়া মানুষ। বকলম ন, নাম লিখতাম হারি। ভালা মন্দ বুঝি। নোয়াখালী বিভাগ লই এতো শয়তানী চইলতো ন।

ভালা করি বুঝি লন নোয়াখালী বিভাগ কিল্লাই চাই !

বিভাগ গঠন নিয়ে নোয়াখালী আর কুমিল্লার দ্বন্দ্বকে ‘ময়নামতি’ নাম দিয়ে প্রশমিত করার চেষ্টাকে সরকারের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশল বলেই মনে হচ্ছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের বৈঠকের পর সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রীর মুখে বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী নিয়ে ‘ময়নামতি’ বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানার সাথে সাথেই সামাজিক মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া।

‘ময়নামতি’ নামে হলেও কুমিল্লার বেশীর ভাগ জনগন হতাশ কুমিল্লা নামে বিভাগ না হওয়ায়। তাদের বক্তব্য এটা এক ধরণের অপমান, “আমাদের ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা নামে বিভাগ হলেই আমরা সবচেয়ে বেশী খুশি হতাম।”

বৃহত্তর কুমিল্লার অন্য অংশের মতামত হল, “নাম পরিবর্তনে কোনও আপত্তি নাই- যদি তা না হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। ময়নামতি নামটা আমাদের খুব পছন্দ। ময়না নামটা কী মিষ্টি। ও– আমার ময়নারে তোর কারণে আমি…এই টাইপের ফিলিংসও কাজ করে। আহা কী মিষ্টি ফিলিংস। তা ছাড়া কুমিল্লা নামটা যে কারণেই হোক কিছুটা পঁচে গেছে। নামটা শুনলেই কেমন যেন লাগে।”

বৃহত্তর নোয়াখালীর আয়তন ৪২০২ বঃকিঃমিঃ আর কুমিল্লার ৩০৮৫ বঃকিঃমিঃ, প্রায় এক হাজার বর্গ কিলোমিটার ব্যবধান।

অন্য দিকে বৃহত্তর নোয়াখালীর গণমানুষের দাবী হল, বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তর জেলা হল নোয়াখালী। কুমিল্লার আগে নোয়াখালী জেলার প্রশাসনিক ও ভৌগলিক ভিত্তি তৈরী হয়, আয়তনের দিক দিয়েও বৃহত্তর কুমিল্লার চেয়ে বৃহত্তর নোয়াখালীর আয়তন বড়। বৃহত্তর নোয়াখালীর আয়তন ৪২০২ বঃকিঃমিঃ আর কুমিল্লার ৩০৮৫ বঃকিঃমিঃ, প্রায় এক হাজার বর্গ কিলোমিটার ব্যবধান। আবার নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা বাংলাদেশের অনেক জেলা থেকেও আয়তনে বড়, তাই হাতিয়াকে প্রশাসনিক জেলা ঘোষনা করে প্রস্তাবিত নোয়াখালী বিভাগের অন্তর্ভূক্ত করা যায়।

নোয়াখালী বড় হচ্ছে। বাড়ছে বাংলাদেশ

একসময় নোয়াখালী বঙ্গোপসাগরের অতল গহবরে তলিয়ে ক্রমাগত ভাঙ্গনের শিকার হয়।সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ’র কালজয়ী উপন্যাস “লালসালু”তে সে সময়কার সামাজিক জীবন-যাত্রায় বিষয়টি কালের স্বাক্ষী দেয়। কিন্তু এখন অবস্থা পাল্টেছে। নোয়াখালীর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে আরেক বাংলাদেশের সমান চর ভেসে উঠছে যা ভবিষ্যতে নোয়াখালী বিভাগ গঠনের প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা এগিয়ে রেখেছে। সার্বিক বিবেচনায় জাতীয় অর্থনীতির প্রায় ৩০%এর বেশি অবদানের দাবীদার নোয়াখালীবাসীরা বৃহত্তর নোয়াখালী নিয়ে একটি স্বতন্ত্র বিভাগের দাবী থেকে সহজে ফিরে আসবো বলে মনে হয় না।

এবার অ্যাকশন: নোয়াখালী বিভাগ বিষয়ে প্রস্তাবনা

একই ভাষা ও সাংস্কৃতিক অঞ্চলের বৃহত্তর জেলা নোয়াখালী তথা ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর নিয়ে এবং হাতিয়াকে জেলা ঘোষণা করে প্রস্তাবিত ‘নোয়াখালী বিভাগ’ গঠন হবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সহ গোটা দেশের জন্য অর্থনৈতিক ও ভৌগলিক মাইলফলক। অন্য দিকে প্রশাসনিক সুবিধা, যাতায়াতের অভিমূখিতা ও নৈকট্য বিবেচনায় কুমিল্লা জেলাকে ঢাকা বিভাগের সাথে এবং আর কৃষ্টি-কালচার ও নৈকট্য বিবেচনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে সিলেট বিভাগের সাথে এককীভূত করা যায়। ঢাকার নিকটবর্তী কুমিল্লায় প্রশাসনিক বিভাগের কোন প্রয়োজন নেই।

এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকারের প্রশাসনিক ব্যয় কমবে এবং দুটি বিভাগ গঠন থেকে দেশ রক্ষা পাবে। এ সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনাটির বিষয়ে ব্যাপক চিন্তাভাবনা চলছে, এটিকে আরো ব্যাপক তথ্য সমৃদ্ধ ও সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করা যায় কিনা সে বিষয়ে সবার উস্মুক্ত মতামত প্রত্যাশা করছি।

ফোবানি/হামিদ