অধ্যক্ষ আবদুল জলিল স্মরণে নোয়াখালী জেলায় দাবা টুর্নামেন্ট

93
principal_abdul_jalil

নোয়াখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এর সাবেক অধ্যক্ষ আবদুল জলিল স্মরণে নোয়াখালী জেলায় উদ্বোধন করা হলো দাবা টুর্নামেন্ট ২০১৭।নোয়াখালী জেলার একতা ক্রীড়া সংসদ এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে।

শনিবার বিকেলে জেলা শহরের মাইজদী বাজার সংলগ্ন মাষ্টার পাড়ায় ক্লাবটির কার্যালয়ে নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ মিন্টু এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন। একতা ক্রীড়া সংসদের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন রুবেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর প্রসূন মজুমদার, একতা কমিউনিটি পুলিশিং ও সামাজিক উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম আকবর অধ্যক্ষ আবদুল জলিল স্যারের সুযোগ্য সন্তান লেখক ও কবি হাবীব ইমন উপস্থিত ছিলেন।

টুর্নামেন্টে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী সরকারি কলেজ, নোয়াখালী জিলা স্কুল সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৩ জন দাবাড়ু অংশগ্রহণ করে। ছয়টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এই টুর্নামেন্ট চলবে আজ থেকে ছ’দিন পর্যন্ত।টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ীদের মাঝে জাকজমকপূর্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুরস্কার দেয়া হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু বলেন,“অনেক দেরীতে হলেও আমার প্রিয় শিক্ষক অধ্যক্ষ আবদুল জলিল স্মরণে দাবা টুর্নামেন্টটি আয়োজন করতে পেরে নিজেকে অনেক হালকা মনে হচ্ছে। বহু গুণে গুনান্বিত নোয়াখালী জেলার সর্বজন শ্রদ্বেয় অধ্যক্ষ আবদুল জলিল ব্যক্তিগত জীবনে একজন সফল ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ভাষা আন্দোলনের সৈনিক ও শিক্ষার কারিগর ছিলেন।”

বাবার স্মৃতিচারন করতে গিয়ে লেখক ও কবি হাবীব ইমন তাঁরই লেখা ‘নোয়াখালী জেলায় ভাষা আন্দোলন’ নিবন্ধ থেকে উদ্বৃতি তুলে ধরেন। যেখানে তিনি লিখেছেন ‘The fate of India will be decided on the soil of Noakhali. নোয়াখালীর মাটিতেই ভারতের ভাগ্য নির্ধারিত হবে – মহাত্মা গান্ধী।’ পড়ুন এখানে । এ কারনেই নোয়াখালীবাসি বিভাগ আন্দোলনে অনেকটাই এগিয়ে চলেছে আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী, নোয়াখালী বিভাগ চাই, এই প্রশ্নে আপোষ নাই।

এছাড়াও ফোকাস বাংলা নিউজ এ মে দিবসের ভাবনায় হাবীব ইমন লিখেছেন নিবন্ধ “মানুষ পৃথিবী গড়েছে নিজেদের শ্রমে-ঘামে” পড়ুন।

তিনি আরও বলেন, ‘নোয়াখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ আবদুল জলিল, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা, সাংবাদিক ফজলুল করিমের নেতৃত্বে স্কুলে ছাত্রাবস্থায় ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তখন তিনি মাইজদীর অরুণ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। দেয়াল লিখন করেছেন। পোস্টার লিখেছেন। স্কুল থেকে মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তৎকালীন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট শামছুদ্দিন আহমেদ সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকিয়ে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে প্রতিশ্রুতি আদায় করেন।’

প্রসঙ্গত, অধ্যক্ষ আবদুল জলিল নোয়াখালী সরকারি কলেজের উন্নয়ন রূপকার ও সাবেক অধ্যক্ষ ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি তুখোড় ক্রীড়াবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ক্রীড়বিদ ছাড়াও ১৯৫৯-৬০ ও ১৯৬০-৬১ শিক্ষাবর্ষে আন্তঃ বিভাগ ও আন্তঃ হল ক্রীড়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ব্লু মর্যাদা লাভ করেন। এছাড়া নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালীন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে শ্রেষ্ঠ ক্রীড়া সংগঠকের মর্যাদা লাভ করেন।

ফোবানি/হামিদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন